জনগণ ঐক্যবদ্ধ : ভুল পথে সরকার
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৭
পারবে না ভারত ও সন্ত্রাসী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ
‘কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না, গাধা পেটালে মানুষ হলেও আ’লীগের চরিত্র বদলায় না’— সব কথার শেষ কথা তো মরহুম সাংবাদিক খন্দকার আবদুল হামিদ স্পষ্টভাষী বলে গেছেন, ‘ভণ্ডামি তোমারই নাম আওয়ামী লীগ’। কথাটি বারবার প্রমাণ করতে করতে গণহত্যার দায়ে দলটি আজ নিষিদ্ধ। তারপরও স্বভাব পাল্টাচ্ছে না। অস্ত্রের শক্তি নয়, নিরস্ত্র গণবিস্ফোরণে তারা পালিয়েছে। রাষ্ট্র শক্তির অপব্যবহার, পুলিশ, সেনা, বিজিবিসহ সংবিধান স্বীকৃত জনগণের বন্ধু বাহিনীগুলোকে তাদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর ব্যর্থতা স্বচক্ষে দেখার পরও তারা, ‘অস্ত্রই ক্ষমতার উৎস’ দর্শনে জঙ্গিবাদের মাধ্যমেই আগ্রাসী শক্তিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে করদরাজ্যের রাজা হওয়ার নির্লজ্জ দুঃস্বপ্ন আবারও দেখছে। নিজ দেশের জনগণকে পুড়িয়ে মারতে অগ্নিসন্ত্রাস চালাচ্ছে। একাধিক গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে, হাসিনার ডিসেম্বরে ফিরে আসার টেম্পু তুলে সম্প্রতি সারা দেশে ঝটিকা মিছিলের নামে হাতবোমার বিস্ফোরণ, ট্রেন-বাসে আগুন দিয়ে ত্রাস সৃষ্টির নেপথ্যে আছে একটি প্রতিবেশী দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোড়া জারজ রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার বিশাল বাজেট। গ্রেফতার জঙ্গিরা স্বীকার করেছে, তারা টাকার বিনিময়ে আগুনসন্ত্রাস করছে।
নিষিদ্ধ লীগ কর্মীরা টাকার বিনিময়ে আগুনসন্ত্রাস চালাচ্ছে
গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে জনমনে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করতে মাত্র ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে ককটেল বিস্ফোরণের কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতার হওয়া সন্ত্রাসীরা।
পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, শাহজাহানপুর থানা-পুলিশ বিস্ফোরণে সরাসরি জড়িত দুই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে। অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে, গ্রেফতারকৃতদের একজন রেলওয়ের কর্মচারী ও ছাত্রলীগের সাবেক স্থানীয় নেতা এবং অন্যজন যুবলীগের সক্রিয় কর্মী।
সূত্রটি আরো জানিয়েছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ২৯ ও ৩০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে হঠাৎ পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুষ্কৃতকারীরা কেটে পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় প্ল্যাটফর্মে থাকা সাধারণ যাত্রী ও রেল কর্মচারীদের মধ্যে চরম ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের খবর পেয়েই সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিশ্বস্ত সোর্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ দ্রুততম সময়ে জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার সাখাওয়াত হোসেন রায়হান (৩২) বাংলাদেশ রেলওয়ের কমলাপুর রেলস্টেশনের এমওডি শাখায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের শাহজাহানপুর থানা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। অন্যদিকে মো. সাইমুন (২৩) শাহজাহানপুর থানা এলাকার যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী।
ককটেল বিস্ফোরণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি এরা পুলিশের কাছে এই চুক্তির পেছনে থাকা মূল অর্থদাতা ও সমন্বয়কারীদের বিষয়ে বেশকিছু নাম ও তথ্য প্রকাশ করেছে।
এদিকে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফ (২৩) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা রমনা বিভাগ।
গোয়েন্দা রমনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর নাশকতা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেলসদৃশ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় তার কাছ থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চারটি ককটেলসদৃশ অবিস্ফোরিত বস্তু উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সালমান ইসলাম সাকিব নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের মতিঝিল থানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা যায়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, ঢাকা একটি মেগাসিটি। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের নানামুখী নাশকতামূলক তৎপরতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পুলিশের অধিকাংশ পদক্ষেপই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং এর ফলেই অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে।
রেলওয়েতে কর্মরত একজন আওয়ামী লীগের কর্মী আগুনসন্ত্রাসের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ার বিষয়টি আতঙ্কজনক। কারণ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনো অনেক আওয়ামী নেতা-কর্মী আছে। চিহ্নিত করে তাদের ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ দলের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার প্রকাশ্যে ঘোষণার পর নজরদারিতে না রাখলে ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। কিন্তু সরকার ও বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এখনো তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। বরং সরকার চিহ্নিত অপরাধীদের পুরস্কৃত করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেয়া শাস্তি বাতিল করে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাচ্ছে। বিরোধীদল ও জুলাই চেতনা ধারণকারী সত্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। এটি শুধু অভিযোগ নয়, প্রমাণিত সত্য বলে দাবি করেছেন অনেক ভুক্তভোগী। সরকারের এ ভুল নীতির কারণে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে।
সরকারের ভুল নীতি
সরকার ক্ষমতা গ্রহণের শপথ নেওয়ার পর এর আগে জনগণকে দেয়া ওয়াদা ভুলে গেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা মুখেও আনছে না। গণভোট ফ্রিজে পাঠিয়ে দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পেছনে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য বা আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রভাব ও ভারতের চাণক্যনীতির ফাঁদে পড়ে সরকার দেশকে ভয়াবহ সঙ্কটে ফেলছে বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন সরকারকে বিব্রত এবং জঙ্গি ট্যাগ লাগাতে ভারত এ দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে নামের সাথে মিলিয়ে ‘জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ’ (জেএসবি) নামে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের অপতৎপরতা শুরু করেছিলো। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, এ সংগঠনটি গঠিত হয়েছিলো ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিচার্স এন্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)-এর তত্ত্বাবধানে। উল্লেখ্য, সেই সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নাম ছিলো- ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।’
২০০১-২০০৬-এ ভারত ও জেএমবি
২০০১-২০০৬ মেয়াদে জেএমবিকে ব্যবহার করে ভারত সারা দেশে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছিলো। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে একসাথে বোমা বিস্ফেরাণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, এ বছরেরই ৩০ এপ্রিল সরকার পতনের ডেটলাইন ঘোষণাসহ দেশের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও আদালতে বোমা হামলার ঘটিয়ে দেশে আতঙ্ক এবং বিদেশে জঙ্গিবাদের বার্তা দেয়ার ষড়যন্ত্র চালিয়েছে। বর্তমান সরকার মনে হয় সেই কলঙ্কিত ইতিহাস ভুলে গেছে। তাই রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা জাতিকে ভুলিয়ে দিতে পতিত ফ্যাসিস্ট দানবকে আশকারা দিচ্ছে। বিএনপির এ ভুল থেকে সরে না এলে খাল কেটে কুমির আনার বিপদে পড়বে। হাসিনা আসবে না সত্য। কিন্তু অন্য বিপদের আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক সহিংসতা সেই অশনিসংকেত।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক সহিংসতা
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও পরবর্তী রাজনৈতিক রূপান্তরের পর দেশে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষনেতা এখন দেশের বাইরে আশ্রয়ে রয়েছেন এবং সেখান থেকে দলীয় কার্যক্রম বা রাজনৈতিক বক্তব্য পরিচালনা করছেন। বিরোধী পক্ষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পলাতক বা ক্ষমতাচ্যুত গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি বা সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং জনগণের মনে অস্থিরতা তৈরি করাও আধুনিক কৌশলের অংশ।
বাংলাদেশকে ভারত করদরাজ্যের মতো অনুগত রাখতে তাদের অনুগত আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কাউকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই অন্য কোনো দল ক্ষমতায় বসলে চাণক্যদর্শন অনুসারে শত্রু রাষ্ট্রের তালিকায় ফেলে সবসময় অস্থিতিশীল রাখতে নানা ষড়যন্ত্রের জাল ফেলে।
ভারত চাণক্যদর্শন মান্য করে তাদের ধর্মীয় আদেশের মতো করে। অনেক সময় এ ক্ষেত্রে তারা আধুনিক দুনিয়ার বাস্তবতা, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক ও ন্যায়নীতির তোয়াক্কা করে না। বিশেষ করে বর্তমান ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার এক্ষেত্রে এক কাঠি এগিয়ে।
‘চাণক্যদর্শন’ ও প্রতিবেশী নীতি
প্রাচীন রূপকার কৌটিল্যের (চাণক্য) কূটনীতিতে শত্রুর শত্রু বন্ধু এবং প্রতিবেশীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা সাম-দান-ভেদ-দণ্ড নীতির উল্লেখ রয়েছে। আধুনিক ভূরাজনীতিতেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে অনেক সময় প্রভাব বিস্তারকারী রাষ্ট্রগুলো প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকে কাজে লাগায়।
কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র যখন ভূরাজনৈতিকভাবে স্বাধীন অবস্থান নিতে চায়, তখন সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হতে পারে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া এবং তাদের মাধ্যমে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে সেই দেশের জনগণের কাছে অসন্তোষ তৈরি করে। তবে আধুনিক দুনিয়ার রাজনীতি বদলে গেছে। ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমর্যাদায় ধস নেমেছে। তাই ভারতের উচিত তার নীতিতে পরিবর্তন আনা। প্রতিবেশী দেশ মানেই শত্রু নয়। এ সত্য স্বীকার করে সমমযার্দার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারলে এ অঞ্চলে শাস্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে। যার সুফল সবাই দুই দেশই পাবে।
ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমর্যাদা সংকট
গত কয়েক বছরে বিশ্বদরবারে ভারত নিজের প্রভাব বৃদ্ধি করলেও, কয়েকটি সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ঘটনা তাদের পররাষ্ট্রনীতি ও গোয়েন্দা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বড় বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রে গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (জঅড) সংশ্রবের যে অভিযোগ উঠে এসেছে, তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনীতিতে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন বিচার বিভাগ এ নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে কৌশলগত বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর (যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা কানাডা) সঙ্গে সম্পর্কে কিছুটা টানাপড়েন তৈরি করেছে। এই ধরনের অভিযোগ বা বিতর্ক প্রতিবেশী দেশগুলোয় ভারতের যেকোনো পদক্ষেপকে বিশ্ববাসীর কাছে আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও সমালোচনার সুযোগ করে দেয়।
দক্ষিণ এশিয়ায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এখন আর একক কোনো রাষ্ট্রের হাতে সীমাবদ্ধ নেই। চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক উত্থান, পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থান এবং বাংলাদেশের ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে।
বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতিতে বিশ্বাসী। তবে যদি কোনো রাষ্ট্র অতিমাত্রায় হস্তক্ষেপ বা দাদাগিরি জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতে চায়, তবে আঞ্চলিক অন্যান্য রাষ্ট্র; যেমন— চীন, পাকিস্তান ইত্যাদি সঙ্গে বাংলাদেশ নিজের সম্পর্ক জোরদার করে একটি কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করে। তাছাড়া ২০২৪ বিপ্লবের পর দেশে জনগণের মধ্যে যে চেতনার উন্মেষ হয়েছে এতে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। জনগণের প্রতিরোধে সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
জনগণের প্রতিরোধ ও জাতীয় ঐক্য
একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার জনগণ ও জাতীয় ঐক্য। যেকোনো বহিরাগত অস্থিতিশীলতা বা সন্ত্রাসী কর্মতৎপরতা রুখে দিতে রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করে।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং একটি স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি। কোনো দেশের পক্ষ থেকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা কিংবা সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠলে তার সঠিক তদন্ত ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জোরালো কূটনৈতিক উপস্থাপন অপরিহার্য। আধিপত্যবাদী নীতির বিপরীতে আঞ্চলিক শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জনগণের সার্বভৌম মতামতকে সম্মান জানানোই দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ।