আগামী প্রজন্মকে নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কর্মমুখী শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে: এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি

সোনার বাংলা অনলাইন
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:০৪

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে। এর মাধ্যমেই তারা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বদরগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ হলরুমে ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের কেয়ারটেকার ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বদরগঞ্জ, রংপুর এ সভার আয়োজন করে।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে প্রায় ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। তাহলে দেশে কত টাকা আছে, ধারণা করুন। তাহলে এত টাকা যে দেশের আছে, সেই দেশ গরিব হয় কীভাবে? বোঝা যায়, আমাদের দেশ গরিব নয়; আসলে গরিব হল যারা দেশ চালায়, তাদের চরিত্র। তাদের কোনো নৈতিকতা নেই, তাদের মধ্যে জবাবদিহিতা নেই। অতএব দেশ যদি সৎ লোকেরা চালায়, যদি জায়গামতো খরচ করে, দেশের উন্নয়ন হতে বাধ্য।

তিনি বলেন, তাই দেশে নৈতিকতা কায়েম করতে হবে। আপনারা সেই কাজটি একেবারে গোড়া থেকে শুরু করেছেন। আপনারা ছোট শিশুদের শিক্ষা দিচ্ছেন। শিশুদের কাদার সঙ্গে তুলনা করা হয়—কাদাকে যেমন ইচ্ছেমতো আকৃতি দেওয়া যায়, তেমনি শিশুদেরও আপনারা যেভাবে শিক্ষা দেবেন, তারা সেভাবেই গড়ে উঠবে।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা প্রাথমিক পর্যায়ে সুশিক্ষা পেলেও পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গিয়ে সেই শিক্ষা ধরে রাখতে পারে না। তাই দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তন আনা সরকারের দায়িত্ব। তিনি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও নৈতিকতাভিত্তিক, ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ও কর্মমুখী করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াত আমরা একসাথেই চলেছি, তবে আমরা বর্তমানে ‘বিরোধী দল’ নামের মধ্যেই বিরোধী। অতএব, আমরা বিরোধী দল হিসেবে সংসদে সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের বিরোধিতা করি। তবে অতীতের আওয়ামী লীগের মতো বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা বা উচ্ছৃঙ্খলতা করব না। আমরা সরকারের ভালো কাজে শুধু সহযোগিতা নয়, বরং কাজ আরও এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করব। তবে দেশ ও জাতির জন্য খারাপ হয়—এমন সিদ্ধান্ত নিলে তার প্রতিবাদ করব। সংসদেও করব, সংসদের বাইরেও করব। এটা শুধু দলের নয়, ঈমানেরও কাজ।

সম্প্রতি সরকারের ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল’ পাসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনের সময় বলেছিল, তারা মদিনার ইসলাম চায়, ক্ষমতায় গেলে কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন করবে না। তবে সম্প্রতি সরকার ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল’ পাস করেছে। এই আইন শরিয়াহ বিধান বা কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী। শুধু জামায়াত নয়, সকল আলেমের বিরোধিতা করেছে, কিন্তু তারা কথা শোনেনি। তাহলে তাদের কথা আর কাজে মিল থাকল? এটাই ধর্মের নামে রাজনীতি করা। তারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগে ধর্মের কথা বললেও ক্ষমতায় গিয়ে আর তা মানছেন না।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা ধর্মের কথা যেমন বলি, তেমনি মেনেও চলি। আমরা অতীতেও ধর্মের কথা বলেছি, এখনো বলছি, ভবিষ্যতেও বলব। সুতরাং আমরা ধর্মের নামে রাজনীতি করি না, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করি। আর যারা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী কাজ করে, সেটিই ধর্মের নামে রাজনীতি। তিনি ইসলাম ও দেশের স্বার্থে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জনাব অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী, বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুজ্জামান কবির, নায়েবে আমীর জনাব শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এম আজিজুল হক প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব এ এস এম শাহাদাত হোসেন।

গণপ্রত্যাশা পূরণে অনীহা সরকারের
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:০৩