গোপালগঞ্জে ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দের ওপর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জেলা জামায়াতের প্রতিবাদ
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:১৩
গোপালগঞ্জে ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দের ওপর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জেলা জামায়াতের প্রতিবাদ
গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গোপালগঞ্জ জেলা শাখা। ৮ সেপ্টেম্বর সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর এম এম রেজাউল করিম ও জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মাদ আল মাসুদ খান উক্ত হামলার প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “গত ৮ সেপ্টেম্বর আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের অদূরে বলাকইড় পদ্মফুল বিল এলাকা ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা কার্যক্রম সম্পাদক মো. ইসমাইল ইলাহী, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাইফুল্লাহ বিন হাবিব, গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি ফোরকান খানসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল, পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালালে কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা কার্যক্রম সম্পাদক মো. ইসমাইলসহ তিনজন গুরুতর আহত হন।
হামলার পর গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। হামলাকারীরা একটি মোটরসাইকেলেও অগ্নিসংযোগ করে এবং হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে উল্লাস করে।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “এই বর্বরোচিত হামলা আবারও প্রমাণ করে যে, নিষিদ্ধ হলেও ছাত্রলীগ এখনো তাদের খুনি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে এক চুলও বিচ্যুত হয়নি এবং জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার জনরোষ থেকে ন্যূনতম শিক্ষা গ্রহণ করেনি। আমরা হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”
নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলাকারী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি এর পেছনে থাকা মদদদাতাদেরও শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে গোপালগঞ্জসহ দেশের প্রতিটি এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।