সাক্ষরতা এবং স্বাক্ষরতা

হারুন ইবনে শাহাদাত
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪০

৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস

বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয় জান, ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সচেতন করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের Educational, Scientific and cultural organization (UNESCO) ১৯৬৫ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে K International Literacy Day বা সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। কিন্তু জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৯০ সাল থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
সাক্ষর এবং স্বাক্ষর
সাক্ষরের সহজ অর্থ অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন,শব্দটির ইংরেজি Literate আর সাক্ষরতা ইংরেজি হলো-Literacy| স্বাক্ষর অর্থ সই ,ইংরেজি হলো-signature । তোমরা হয় তো ভাবছো এই কথা তো সবার জানা, তারপরও কেন বললাম ? হ্যা, ঠিক ধরেছো, কেউ যেন ভুল করে গোলমাল পাঁকিয়ে সাক্ষরতার ‘স’ এর সাথে ‘ব’ এর বোঝা না চাপিয়ে দেয়, তাই।
এ এক যাদু
নিরক্ষরদের কাছে সাক্ষর মানুষরা হলেন এক আশ্চর্য যাদুকর। কেন এ কথা বললাম সেই গল্পই বলছি, আবিষ্কারের নেশায় একদল আমেরিকান গেছেন আফ্রিকার কোন এক গহীন বনে। বনের ভিতর ঘুরে বেড়ানোর জন্য আফ্রিকান একজন জংলিকে গাইড হিসেবে সাথে নিয়েছেন। গাইডকে সাথে নিয়ে কয়েকজন গেলেন বনের আশপাশ ঘুরে দেখতে, বাকীরা রইলেন তাবুতে ক্লান্তি কাটাতে তাঁবুতে বিশ্রাম নিতে। যারা ঘুরতে বের হয়েছেন ,কিছু দূর যাওয়ার পরই তাদের মনে পড়লো, তাঁবুতে ঘড়ি ফেলে এসেছেন। অথচ বনের ভিতর ঘড়ি ছাড়া সময় দেখার কোন কী উপায় নেই,তাই একটি চিঠি লিখে গাইডের হাতে দিয়ে তাকে তাঁবুতে পাঠালেন । গাইড তাবুতে গেল। অভিযাত্রী দলের যারা তাঁবুতে ছিল গাইড তাদের একজনের হাতে চিঠিটি দিলো, সে তার হাতে ঘড়িটি দিয়ে বলল যাও । জংলি গাইড তো আশ্চর্য! এ কাগজে কি এমন যাদু ছিল আছে, কিছু না বলতেই তারা তাকে সে যে জিনিসটির জন্য গেছে তা দিয়ে দিলো। গাইড এ যাদু শিখার জন্য বায়না ধরলো ।
তোমরা যখন কোন নিরক্ষর লোকের সামনে হর হর কোন কিছু পড়, তখন তার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখেছো, কি? ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখবে, বিস্ময় ভরা চোখে সে তোমার দিকে তাকিয়ে আছে। অব্যক্ত ভাষায় সে বলছে আমি কেন পারি না, হায়! আমি কেন পড়ালেখা শিখিনি। আফ্রিকার জংলি মানুষটি মুখফুটে এ যাদু শেখার ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারলেও তোমার কাছের মানুষটির বুক ফাটলেও লজ্জায় সে মুখ ফুটে হয় তো বলতে পারছে না। নিজের পোড়া কপালের দোষ দিয়ে সে মনকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। অথচ শিক্ষা সুযোগ নয় অধিকার। রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল তার এ অধিকার নিশ্চিত করা। তার নিরক্ষরতার জন্য শুধু সেই দায়ী নয়,রাষ্ট্র এবং সমাজও দায়ী।
নিরক্ষরতা একটি অভিশাপ
উন্নয়নের জন্য সবার আগে প্রয়োজন শিক্ষা, যে জাতি যত শিক্ষিত তারা তত উন্নত। নিরক্ষরতার অভিশাপ মুক্ত হতে না পারলে আমরা জাতি হিসেবে কোন দিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো না। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এখনো নিরক্ষরতার অভিশাপ মুক্ত হতে পারেনি। মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪৬.১৫ জন এবং পুরুষ ও মহিলা জনসংখ্যার যথাক্রমে শতকরা ৫০.২৬ জন ও ৪১.৭৯ জন অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন বা সাক্ষর (সূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান পকেট বই ২০০৭, প্রকাশকাল:এপ্রিল’২০০৮)। এ জাতিকে নিরক্ষরতার অভিশাপ মুক্ত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তোমরা যারা কিশোর এ ক্ষেত্রে তাদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তুমি তোমার বাড়ির কাজের ছেলেটিকে তোমার পড়ার ফাঁকে ফাঁকে লেখা পড়া শিখাতে পার, তোমার খেলার সাথীদের মধ্যে যারা স্কুলে যায় না, তাদেরকে স্কুলগামী করতেও তুমি রাখতে পার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এমনি করে প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তি যদি অন্তত একজন শিশু-কিশোরের দায়িত্ব গ্রহণ করে তাহলে দেশ একদিন অবশ্যই নিরক্ষরতার অভিশাপ মুক্ত হবে।
অক্ষর জ্ঞানের রাজ্যে প্রবেশের পাসপোর্র্ট
পবিত্র কোরআনের সূরা যুমার ৯ নং আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, ‘ হে নবী বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা উভয়ে সমান হতে পারে না।’ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য বিদ্যা অর্জন করা ফরয।’ অক্ষর হলো জ্ঞানের পরমাণু বা ক্ষুদ্রতম খণ্ড। অক্ষর জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সাক্ষর হয়ে মানুষ জ্ঞানের রাজ্যে প্রবেশের অনুমতি লাভ করে। পাসপোর্ট ছাড়া যেমন এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া যায় না, ঠিক তেমনি জ্ঞানের রাজ্যে পরিভ্রমণের জন্য প্রয়োজন অক্ষর জ্ঞান।
এ কথা কারো অজানা নয় অক্ষর জ্ঞান ছাড়া মানবতার বিকাশ সম্ভব নয়। পরিপূর্ণ মুসলমান হওয়ার জন্য ইসলামের বিধিবিধান জানা অপরিহার্য। আর অক্ষর জ্ঞান ছাড়া কারো পক্ষে সরাসরি কোরআন হাদীস থেকে জ্ঞান অর্জন করা অসম্ভব।

সমৃদ্ধির জন্য চাই আলোকিত মানূুষ
অক্ষর জ্ঞান অর্জনের করে মানুষ জ্ঞানের রাজ্যের দুয়ার খোলার সুযোগ পায়। যাদুকর হয় না। আসলে সে আলোকিত মানুষে পরিণত হয়। আলোকিত মানুষরাই পারে পৃথিবীকে বদলে দিতে। কুসংস্কার আর অজ্ঞতাকে দু’পায়ে দলে তারাই দেখাতে পারে সমৃদ্ধির সুউচ্চ সোপনের আলোকিত পথ।
এসো নতুন শপথে সামনে এগিয়ে যাই
সাক্ষরতা দিবসের আজকের এই দিনে এসো নতুন করে শপথ নেই, আমাদের সোনার বাংলাদেশকে আমরা সবাই মিলে নিরক্ষরতার অভিশাপ মুক্ত করব— ইনশাআল্লাহ। শরীক হবো উন্নয়নের মহা সড়কে। জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াব। Email:harunibnshahadat@gmail.com

হারুন ইবনে শাহাদাত

সাক্ষরতা এবং স্বাক্ষরতা
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪০

সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৫২

সম্পর্কিত খবর