সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধি, প্রতিবাদে ডাকসুর বিক্ষোভ


৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:১৬

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক— দুই পরীক্ষারই নম্বরের মান বণ্টনে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে পরীক্ষার নম্বর বণ্টনে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান কম থাকলে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ১১-১২তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় ১০০ ও মৌখিক পরীক্ষায় ৫০, ১৩-১৬তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় ৬০ ও মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ এবং ১৭-২০তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক— দুই পরীক্ষাই ২৫ করে নম্বর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে সরকারের এ উদ্যোগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ডাকে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাকা ডাকসুর মিছিলটি শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি ডাকসু ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা বলতে শুরু করেছেন, ‘রিটেনটা কোনোভাবে পাস করো, ভাইবাতে আমরাই দেখছি।’ তার মানে হলো, বিএনপি সরকার আপনাদের জন্য ভাইবা কার্ড করেছে। এই ভাইবা কার্ড পাওয়ার মাধ্যমে আপনাদের আর মেধা লাগবে না। এই কার্ডের মাধ্যমে টাকা, ঘুষ, চাঁদা, মামা-খালু এবং আত্মীয়-স্বজনের পরিচয়ে এখন থেকে আপনাদের চাকরি দেওয়া হবে।
দেশে ২৭ লাখ বেকার থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বেকারদের পেটে বিএনপি সরকার লাথি মারবে। আমরা বিএনপি সরকারের ইতিহাস দেখেছি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সীমাহীন স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা দেশের মেধাকে ধ্বংস করেছিল।