সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৫২
উত্তরাখণ্ডে বন্ধ হচ্ছে মাদরাসা ইতোমধ্যে ১৭টি সিলগালা
ভারতের উত্তরাখণ্ডে অনুমোদন ও নির্ধারিত শিক্ষাব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগে মাদরাসার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত রাজ্যটিতে ২০টি মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি সিলগালা করা হয়েছে এবং বাকি তিনটির কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এতে বলা হয়েছে, উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুন ও হালদাওয়ানিতেও প্রশাসনের অভিযান বিস্তৃত হয়েছে। রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সচিব পরাগ মধুকর ধাকাতে জানিয়েছেন, নির্ধারিত স্বীকৃতি ও শিক্ষার মানদণ্ড পূরণ না করা মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি নিয়ম ও স্বীকৃতির শর্তপূরণ ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। সর্বশেষ অভিযানে দেহরাদুনে তিনটি মাদরাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আজাদ কলোনির মাদরাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়াকে সিলগালা করা হয়েছে। একই এলাকার মাদরাসা দার-ই-আরকাম ও মাজরার মাদরাসা দারুল উলুম রহিমিয়ার কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে হালদাওয়ানিতে দুটি মাদরাসা সিলগালা করা হয়েছে। এগুলো হলো গৌজা জালি নর্থের শনি বাজার রোডের মাদরাসা জামিয়া নুরিয়া বারকাতে আমিনা এবং বানভুলপুরার ইন্দিরা নগরের একটি অননুমোদিত মাদরাসা। প্রয়োজনীয় স্বীকৃতির নথি দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগে গত জুলাইয়ে উত্তরাখণ্ড সরকার রাজ্যের আইনগত মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্ত করে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করে। নতুন এ ব্যবস্থার অধীনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ ও স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিষ্টান, শিখ, পারসি, জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এর আওতায় রয়েছে। সরকারের নতুন ব্যবস্থায় আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নির্ধারিত নিয়ম ও স্বীকৃতি ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেছেন, শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যারা নির্ধারিত আইন ও নিয়ম মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। রাজ্য সরকারের তথ্যানুযায়ী, নতুন কাঠামো চালুর আগে উত্তরাখণ্ডে মাদরাসা বোর্ডের স্বীকৃত ৪৫২টি মাদরাসা ছিল। এর আগে স্বীকৃতির জন্য আবেদন না করা ২০০টির বেশি মাদরাসার বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়ে সেগুলো সিলগালা করা হয়েছিল। এদিকে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার মান নির্ধারণের বিষয়ে ২০২৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের একটি মামলায় আদালত জানিয়েছিল, সংখ্যালঘুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার থাকলেও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় রেকর্ড পতন ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় রেকর্ড পতন হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) জন্য ফোকালডাটার করা সর্বশেষ জরিপে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের অনুমোদন ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এফটির জরিপে এটিই এখন পর্যন্ত তার সর্বনিম্ন অনুমোদন। এক মাস আগের তুলনায় এই হার কমেছে ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমেছে। এই ভোটারদের মধ্যে তার কাজের অনুমোদন নেমে এসেছে ৭২ শতাংশে, যা এফটির জরিপে আরেকটি রেকর্ড সর্বনিম্ন। অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম কারণ বলে জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে। ৫৭ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। ট্রাম্পের শুল্ক ও বাণিজ্যনীতির বিরোধিতাও করেছেন ভোটারদের বড় একটি অংশ। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ এবং নতুন শুল্ক নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এসব শুল্কের কারণে ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক ভোটার। এদিকে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনেও ট্রাম্পের ভূমিকা রিপাবলিকানদের জন্য কতটা সুবিধাজনক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জরিপে ৪৬ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের সক্রিয় ভূমিকা রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন করে তুলছে। ৪৭ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন— এমন কোনো প্রার্থীকে তারা সমর্থন করতে কম আগ্রহী। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের জন্য লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফোকালডাটা ২৮ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে জরিপটি পরিচালনা করে। এতে ১ হাজার ৯১৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। জরিপের ফলাফলে ২ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত হেরফের হতে পারে।
ইমরান খানকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে : অভিযোগ দুই পুত্রের
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানকে কারাবন্দী রেখে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান খান। যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারা এই মারাত্মক অভিযোগ তোলেন। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আয়োজিত এই সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলাইমান বলেন, তাদের ৭৩ বছর বয়সী বাবাকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের অত্যন্ত সংকীর্ণ (৬ ফুট বাই ৮ ফুট) কক্ষে একাকী কারাবাসে রাখা হয়েছে। তিনি এক চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং তাকে অনিরাপদ পানি পান করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ‘পাকি শাসনগোষ্ঠী তাকে স্রেফ নীরব করে দিতে চায় এবং ধীরে ধীরে যেন তিনি নিঃশেষ হয়ে যান সেই পরিস্থিতি তৈরি করছে।’ ইমরান খানের ছেলেরা অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়নি, বরং একটি সরকারি হাসপাতালে স্রেফ লোকদেখানো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে আবার নির্জন কারাবাসে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কাসিম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা স্পষ্টভাবে চেষ্টা করছে যেন তিনি ভেতরেই মারা যান। এরপর প্রশাসন দায় এড়াতে বলবে যে, তিনি একজন বয়স্ক মানুষ ছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবেই মারা গেছেন।’ সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইমরানের সন্তানরা। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে কাসিম বলেন, যুক্তরাজ্য সরকার তাদের কোনো সাহায্য তো করেইনি, বরং পাকিস্তানে গিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা না করার পরামর্শ দিয়েছে। এমনকি লর্ডস টেস্টের সময় একটি টিভি চ্যানেলে দুই ভাইয়ের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট দল খেলা বন্ধের হুমকি দিলে, পিসিবি (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড)-র এই আচরণকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দেন তারা। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইমরান খানের এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সুর চড়ছে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এবং ইমরানের সাবেক সতীর্থ জাভেদ মিঁয়াদাদও ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। সব বাধা সত্ত্বেও নিজেদের বাবার বার্তা ও লড়াই বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর দুই ভাই। তবে বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রতি মুহূর্তেই এক চরম আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। দ্য টেলিগ্রাফ।
১৪ বছরের কম বয়সীদের স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ অস্ট্রিয়ায়
অস্ট্রিয়ায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের জন্য স্কুলে হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। দেশটির সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুলে মুসলিম মেয়েদের হিজাব বা বোরকার মতো ঐতিহ্যবাহী মাথা ঢাকার পোশাক পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশটির রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন জোট সরকার বলছে, আইনটি লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠা এবং তরুণীদের অধিকার রক্ষার পদক্ষেপ। দেশটির একীভূতকরণমন্ত্রী ক্লাউডিয়া বাউয়ার হিজাবকে ‘নিপীড়নের চিহ্ন’ এবং ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে আইনটির সমালোচনা করেছে দেশটির মুসলিম সংগঠনগুলো। অস্ট্রিয়ার ইসলামিক কমিউনিটি আইনটির কঠোর বিরোধিতা করে বলেছে, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করছে এবং মুসলিম মেয়েদের ওপর অসম প্রভাব ফেলবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী ও পরিবার মনে করবে তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তাদের সাংবিধানিক আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে সহায়তা করা হবে। নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী হিজাব পরে স্কুলে এলে শিক্ষক প্রথমে শিক্ষার্থী ও তার আইনগত অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করবেন। নিয়ম ভঙ্গ অব্যাহত থাকলে শিশু সেবা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। শেষ ধাপে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ ৮০০ ইউরো জরিমানা করা হতে পারে। আইনটি কার্যকর করার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর পড়ায় তাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিরোধী গ্রিন পার্টির নেতা সিগি মাউরার অভিযোগ করেছেন, সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপছে এবং তাদের অনেকটা পুলিশের ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থী ফ্রিডম পার্টি বর্তমান নিষেধাজ্ঞাকে অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছে। দলটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য স্কুলে হিজাবের পাশাপাশি মুখঢাকা পোশাকও নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধের একটি আইন বাতিল করেছিল। আদালতের মতে, ওই নিষেধাজ্ঞা দেশটির ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের মতো ইউরোপের কয়েকটি দেশে স্কুলে দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক পরার ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে অস্ট্রিয়ার নতুন আইনটি বিশেষভাবে মুসলিম মেয়েদের মাথা ঢাকার পোশাককে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। বিবিসি।
ধরপাকড়ের ভয়ে মালয়েশিয়া ছাড়ছেন অবৈধ অভিবাসীরা
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযান যত জোরদার হচ্ছে, ততই বাড়ছে দেশে ফেরার প্রবণতা। গ্রেফতার, মামলা ও কারাবন্দিত্ব এড়াতে সরকারি সুযোগ নিয়ে নিজ দেশে ফিরছেন কাগজপত্রহীন বিদেশিরা। ব্যাপক ধরপাকড়ের মধ্যেই মালয়েশিয়া সরকারের অভিবাসী প্রত্যাবর্তন কর্মসূচি-২ (পিআরএম ২.০)-এর আওতায় নির্দিষ্ট শর্তে জরিমানা দিয়ে আইনি জটিলতা এড়িয়ে দেশে ফেরার সুযোগ মিলছে। পিআরএম ২.০ চলবে ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত। ফলে দেশটিতে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের সামনে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ আরও আট মাস থাকছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ৩০ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকা কর্মসূচি ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কর্মসূচিটির কার্যকারিতা এবং বিপুলসংখ্যক বিদেশির সাড়া বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগের হিসাবে, ২০২৫ সালের ১৯ মে থেকে ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১১২ দেশের ২ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৬ জন অনিবন্ধিত অভিবাসী এ কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেছেন। এ সময় সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১২৭ কোটি রিঙ্গিত। তবে নিবন্ধনকারী ও দেশে ফিরে যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা এক নয়। ইমিগ্রেশন বিভাগের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রকাশিত সর্বশেষ বিস্তারিত হিসাবে, ওই সময় পর্যন্ত দুই লাখ ৪ হাজার ৫২৩ জন বিদেশি কর্মসূচির আওতায় স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। একই সময়ে নিবন্ধন করেছিলেন দুই লাখ ২৮ হাজার ৯৬১ জন। অর্থাৎ ২৯ এপ্রিলের দুই লাখ ৫৪ হাজার ১৮৬ জন হলো কর্মসূচিতে নিবন্ধনকারী, আর ১৫ এপ্রিলের ২ লাখ ৪ হাজার ৫২৩ জন হলো বাস্তবে দেশে ফিরে যাওয়া বিদেশি। দুটি সংখ্যা একই সময়ের নয় এবং একই বিষয়ও নির্দেশ করে না। ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক সবচেয়ে বেশি। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশিরা। ফলে কর্মসূচিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ অন্যতম বড়। তবে এ পর্যন্ত ঠিক কতজন বাংলাদেশি পিআরএম ২.০-এর আওতায় দেশে ফিরেছেন, সে বিষয়ে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রকাশ্য পরিসংখ্যানে পৃথক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। পিআরএম ২.০ মূলত অনিবন্ধিত বিদেশিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়ার কর্মসূচি। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধের মাধ্যমে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ পাস ছাড়া দেশটিতে প্রবেশ বা অবস্থান এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানের ক্ষেত্রে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা এবং পাসের শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে ৩০০ রিঙ্গিত জরিমানা নির্ধারিত রয়েছে। তবে আগের প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেও যারা দেশে ফেরেননি, ইমিগ্রেশন বিভাগের কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তি এবং কর্তৃপক্ষের খোঁজে থাকা ব্যক্তিরা এ সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারেন। স্ট্রেইট টাইমস।
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম পর্যটক পরিবারকে বেধড়ক মারধর
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বজবজের একটি মুসলিম পরিবার গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মন্দারমণির একটি রিসোর্টের কর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গাড়ি পার্কিং এবং ঘরের খোঁজখবর নেওয়া নিয়ে বিবাদের জেরে এই ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের সময় বয়স্ক, নারী ও শিশুসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে লাঠি দিয়ে পিটানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারটির কথা অনুযায়ী, মোহাম্মদ আসিফ তার আত্মীয়দের নিয়ে ছোট একটি সফরে মন্দারমণিতে গিয়েছিলেন। সৈকত এলাকায় পৌঁছানোর পর, তারা একটি রিসোর্টের বাইরে গাড়ি পার্ক করে ঘরের খোঁজ নিতে ভেতরে যান। তবে ঘরগুলো পছন্দ না হওয়ায় অন্য হোটেলে খোঁজ নেওয়ার জন্য সেখান থেকে বের হয়ে যান। পরিবারটির অভিযোগ, তারা ফিরে এসে দেখতে পান রিসোর্টের নিরাপত্তা রক্ষী তাদের ড্রাইভারের সাথে তর্ক করছেন এবং গাড়িটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর পরপরই পরিবার এবং রিসোর্ট কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পর্যটকদের দাবি, নিরাপত্তা রক্ষী যখন লাঠি দিয়ে তাদের গাড়িতে আঘাত করতে শুরু করেন, তখন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবারটি এর প্রতিবাদ জানালে রিসোর্ট ম্যানেজার ও অন্য কর্মীরা সেখানে এসে লাঠি দিয়ে তাদের মারধর শুরু করেন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি)। ফুটেজে বেশ কয়েকজনকে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়, যেখানে একজন প্রবীণ ব্যক্তি এবং একজন নারী মাটিতে পড়ে যান। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, রিসোর্ট কর্মীরা নারী ও বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেয়নি। সংবাদ প্রতিদিন।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান