সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৬
‘নেতানিয়াহু মানবতার সাধারণ শত্রু’ : তুরস্ক
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইসরাইলি প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এ খুনিকে থামাতে হবে। সে মানবতার সাধারণ শত্রু’। (ইসরাইলে) নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকেই নেতানিয়াহু সরকার, স্বয়ং নেতানিয়াহু ও তার সমর্থকদের পক্ষ থেকে তুরস্কের প্রতি ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দেয়া হচ্ছে, সেইসাথে আমাদের প্রেসিডেন্ট এবং আমাদের কিছু সহকর্মীকেও টার্গেট করা হচ্ছে। আমরা একেবারে শুরু থেকেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আসছি। ‘হত্যাকারী ও গণহত্যার হোতা নেতানিয়াহুকে গুরুত্বের সাথে নেয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি মানবতা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার এক সাধারণ শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। নেতানিয়াহু প্রধানত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কাছেই দায়বদ্ধ। কারণ নেতানিয়াহু, তার মানসিকতা এবং তার সাথে কাজ করা গণহত্যায় লিপ্ত গোষ্ঠীটি কেবল তুরস্কের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। এটিকে কেবল তুরস্কের সমস্যা হিসেবে ভাবা একটি বড় ভুল হবে। অতএব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে, যা তারা এখন পর্যন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এ হত্যাকারী, এ গণহত্যার হোতাকে থামাতে হবে’। এ গণহত্যার অপরাধীকে অঞ্চল, ইসরাইল, ইহুদি জনগণ এবং সমগ্র বিশ্বের আরো ক্ষতি করা থেকে এখন বিরত রাখা প্রয়োজন। অন্য কথায় এ খুনি, যে ফিলিস্তিনি ও মুসলিমদের রক্ত ঝরিয়ে আনন্দ পায়, তাকে এখন অবশ্যই থামাতে হবে। ‘এ পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা ইসরাইলেরও ব্যাপক ক্ষতি করছে, যেখানে এটি ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনি এবং এ অঞ্চলের অপরিমেয় ক্ষতি করছে। আপনি যখন তার বক্তব্যগুলো দেখবেন, তখন বুঝবেন যে, সে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় না, কিংবা এ অঞ্চলের দেশগুলোতে চলমান দখলদারিত্বের অবসানও চায় না। সে একটি গণহত্যামূলক এবং সম্প্রসারণবাদী পদ্ধতির ধারাবাহিকতা চায় যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি’, তিনি বলেন। আনাদোলু।
নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা ১১২৭ ছাড়াল
গত সপ্তাহের প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর নেপালে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে নিখোঁজের সংখ্যা ৪,২০০ ছাড়িয়ে গেছে— যা মাত্র একদিন আগেও ছিল প্রায় ২,৫০০ জন। চীন সীমান্তে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির হিসাব যুক্ত করার পর নেপাল ও চীন— দুই দেশ মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১২৭ জনে। এছাড়া উভয় সীমান্তে মোট নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৭৯৩ জনে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৯৩৩ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। ত্রিসুলি ৩এ এবং ৩বি প্রকল্পের বেশ কয়েকটি টানেল কাদা ও পাথরের ধ্বংসাবশেষে পুরোপুরি ঢেকে গেছে। উদ্ধারকারীরা ড্রিল মেশিনের সাহায্যে টানেলের উপরিভাগ কেটে বাতাস পাম্প করছেন এবং ক্যামেরা পাঠাচ্ছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নতুন করে কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে বিদেশি সাহায্য না নিলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সুড়ঙ্গ উদ্ধারে অনুমতি দিয়েছে নেপাল সরকার। চীন ২,১০০ জন উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে এবং বিশেষ থার্মাল ক্যামেরা ও সাউন্ড ডিটেক্টর দিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। অন্যদিকে ভারত বিশেষজ্ঞ সেনাকর্মী, ডিএনএ শনাক্তকরণ দল এবং বেইলি ব্রিজ দিয়ে সহায়তা করছে। জাতিসংঘ ও রেডক্রসও ত্রাণকাজে যোগ দিয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ জানিয়েছেন, ২১ হাজারের বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন। তবে সৃষ্ট দুটি কৃত্রিম হ্রদ পুনরায় উপচে পড়ার ঝুঁকিতে থাকায় যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের দ্বিতীয় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিএনএন, বিবিসি।
সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের এখতিয়ার ভারতের নেই : আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত
ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিলের (ওহ ধনবুধহপব) কোনো আইনি এখতিয়ার ভারতের নেই বলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত (কোর্ট অব আরবিট্রেশন)। দ্য হেগে অবস্থিত এই আন্তর্জাতিক আদালত গত ৩১ আগস্ট সোমবার এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জানান, ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো পূর্ণ মেয়াদে এবং বহাল তবিয়তে কার্যকর রয়েছে। আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চুক্তির বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ভারত পরিচালিত যেকোনো হাইড্রো-ইলেকট্রিক প্রজেক্টের ডিজাইন এবং পরিচালনা সম্পর্কিত সকল আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য থাকবে নয়া দিল্লি। আন্তর্জাতিক আদালতের প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাতে আরও জানা যায়, আদালত সর্বসম্মতভাবে ভারতকে রাটলে হাইড্রো-ইলেকট্রিক প্রজেক্ট (জঐঊচ)-এর বাঁধের দেয়াল ও পাওয়ার ইনটেক কাঠামোর নির্দিষ্ট উচ্চতার ওপর কংক্রিট করার কাজে নিষেধাজ্ঞা বা অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের (ঘবঁঃৎধষ ঊীঢ়বৎঃ) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর আরও ৯০ দিন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের জুলাই নাগাদ নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের এই চূড়ান্ত রায় আসতে পারে। এছাড়া উক্ত প্রকল্পের নির্মাণকাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্যও ভারতকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্র জানান, সালিশি আদালতের এই রায়কে তারা পূর্ণ সমর্থন ও স্বাগত জানাচ্ছেন। আদালতের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে উভয় দেশের মধ্যে আইনি বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে কীভাবে পুনরায় আলোচনা ও যৌথ কার্যক্রম শুরু করা যায়, সে বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এপি।
ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হচ্ছে মুসলিমদের ঈদের দুই বড় উৎসব
ইসলাম ধর্মের প্রধান দুই উৎসব— ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে দাপ্তরিকভাবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। এই সংক্রান্ত বিলটি আইনে পরিণত হলে রাজ্যটির সরকারি কর্মচারীদের এই দুই পবিত্র দিনে সহজে ছুটি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ছুটি ঘোষণার দ্বার উন্মুক্ত হবে। সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্য মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার আইনসভার নিম্নকক্ষ অ্যাসেম্বলিতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হওয়া এই বিলটি বর্তমানে সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বিলটি অনুমোদিত হলে ডেমোক্রেটিক গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। সান ফ্রান্সিসকোর ডেমোক্রেটিক অ্যাসেম্বলি মেম্বার ম্যাট হ্যানি উত্থাপিত ‘অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭’ নামের প্রস্তাবটি মে মাসের শেষ দিকে ক্যালিফোর্নিয়া বিধানসভায় ৬৪-১ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিলটি এখন সেনেটে রয়েছে। সিনেট প্রক্রিয়া শেষ হলে এটি অনুমোদনের জন্য ডেমোক্রেটিক গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের দপ্তরে যাবে। আইনসভার সদস্য ম্যাট হ্যানি বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাণবন্ত মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস। তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। কোনো শিক্ষার্থীকে ধর্ম পালন বনাম ক্লাসে উপস্থিতির মতো মুখোমুখি অবস্থানে ফেলা অনুচিত। রাজ্যজুড়ে অন্যসব ধর্মাবলম্বীদের মতো মুসলিমদেরও সমান অধিকার সুসংহত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের (কেয়ার) ক্যালিফোর্নিয়া শাখার পরিচালক উসামা মোকাদ্দেম বিলটিকে একটি অর্থবহ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি জানান, কয়েক দশক ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে গিয়ে মুসলিম পরিবারগুলোকে পড়ালেখা ও চাকরির সঙ্গে এক অন্যায্য ভারসাম্যের লড়াই করতে হয়েছে। এই আইনি স্বীকৃতি সেই জটিলতা দূর করবে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার রক্ষণশীল খ্রিস্টান অধিকার সংস্থা ‘ক্যালিফোর্নিয়া ফ্যামিলি কাউন্সিল’ বিলটির কিছু নির্দিষ্ট ধারার বিরোধিতা করেছে। তারা জানায়, ধর্মীয় কারণে শিক্ষার্থীদের ছুটি নেওয়ার বিধান সমর্থন করলেও স্কুলে আলাদা করে ঈদের গুরুত্ব নিয়ে পাঠ্যক্রম পরিচালনা বা বিশেষ উদযাপনী নির্দেশিকা তৈরির ধারার প্রতি তাদের আপত্তি রয়েছে। গভর্নর চূড়ান্ত বিলে স্বাক্ষর করলে ওয়াশিংটনের পর ক্যালিফোর্নিয়া হবে দুই ঈদকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় অঙ্গরাজ্য। এর আগে লুনার নিউ ইয়ার ও দীপাবলি উৎসবকেও একইভাবে সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন। রয়টার্স।
স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয় : সৌদি আরব
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক করবে না বলে আবারও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শর্ত দিয়েছিলেন যে, সৌদি আরব যদি ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেয়, তবেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক শক্তির উন্নয়নে সাহায্য করবে। তবে ওয়াশিংটনের সেই শর্ত শুরুতেই উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াদ। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের (যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরব) মধ্যকার পারমাণবিক সহযোগিতা সম্পর্কিত একটি ফাইল মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি আরব যদি ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক তৈরি না করে, তবে পারমাণবিক সহায়তার এই চুক্তি কোনোভাবেই আলো দেখবে না। এর আগে গত মাসে দুই দেশের শীর্ষ জ্বালানি মন্ত্রীদের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বড় ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার এই নতুন শর্ত নিয়ে পানিঘোলা শুরু হতেই শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদির এক সিনিয়র কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ইসরাইল ইস্যুতে রিয়াদের সিদ্ধান্ত কখনোই বদলাবে না। ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী পূর্ব জেরুসালেমকে রাজধানী বানিয়ে ফিলিস্তিনিদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দিতে হবে। এটি ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে হাত মেলানো সম্ভব নয়। সৌদি আরব আরো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পারমাণবিক সাহায্য নেয়া হলো দুটি দেশের নিজস্ব বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিষয়। এর সঙ্গে ইসরাইলকে মেনে নেয়ার শর্ত জুড়ে দেয়া একদম অনুচিত। মিডল ইস্ট মনিটর।
অন্যান্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ‘ইসলাম’ : কর্ণাটকের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী
দুর্নীতির অভিযোগে কর্ণাটকের এক মন্ত্রী পদত্যাগের মাত্র দুই দিন পর মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের মন্ত্রিসভা থেকে আরেকজনকে সরানোর দাবি তুলেছে বিরোধীদল বিজেপি। উচ্চশিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডি ইসলামকে ‘অন্যান্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বলে মন্তব্য করেছেন। এরপর তাকে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া অথবা পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। কোপ্পাল জেলার কুকনুর শহরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় রায়ারেড্ডি ইসলামকে একটি মহান ও অত্যন্ত মানবিক ধর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইসলাম বিজ্ঞানভিত্তিক এবং মানুষকে কীভাবে জীবনযাপন করতে হয়, তা শিক্ষা দেয়। তবে তার এর পরের মন্তব্য নিয়েই ক্ষুব্ধ হয় বিজেপি। রায়ারেড্ডি বলেন, ‘যারা ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তারা এ সম্পর্কে ভুল ধারণা করেন এবং ভুল মতামত তৈরি করেন। আমি বলতে চাই, ইসলাম সব ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ এর সূচনা মানবতা দিয়ে’। তিনি আরো বলেন দেখুন, পবিত্র কুরআন সম্পর্কে বলতে গেলে, আব্রাহামিক ধর্মগুলো নিয়ে আমি ব্যাপকভাবে পড়াশোনা করিনি। আমি নিয়মিত মন্দির বা মঠে যাই না, তবে আমি ধর্ম ও বিভিন্ন ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করি। এ কারণেই আমি আব্রাহামিক ধর্মগুলোর দিকে নজর দিই। মন্ত্রীর এ মন্তব্যের পরই কর্ণাটক মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের কাছে এর ব্যাখ্যা দাবি করেন বিজেপির সভাপতি আর অশোক। তার অভিযোগ, রায়ারেড্ডির মন্তব্যে হিন্দুধর্মকে হেয় করা হয়েছে। ডি কে শিবকুমারের নিয়মিত মন্দিরে যাওয়ার প্রসঙ্গও টেনে আনেন আর অশোক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ডি কে শিবকুমার, আপনার কংগ্রেস সরকারের হিন্দুবিরোধী মানসিকতার কি কোনো শেষ নেই? আপনি ভোরে মন্দিরে গিয়ে, ক্যামেরার সামনে ভক্তি প্রদর্শনের প্রদর্শনী করেন।
কিন্তু আপনার নিজের মন্ত্রিসভার কোনো মন্ত্রী যখন সনাতন হিন্দু ধর্ম ও মন্দির সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন, তখনই কেন আপনি নীরব থাকেন? রায়ারেড্ডি ক্ষমা না চাইলে তার পদত্যাগ দাবি করেন আর অশোক। তার এ দাবি এমন সময়ে এলো, যখন দুর্নীতির অভিযোগে বিজেপির তীব্র চাপের মুখে মন্ত্রী বি নগেন্দ্র দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার পদত্যাগ করেছেন। বিজেপি নেতা বলেন, উচ্চশিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডির ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনুন। ‘আমি মঠ বা মন্দিরে যাই না’- এ কথা বলে তিনি রাজ্যের লাখো হিন্দুর ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্রগুলোকে হেয় করেছেন। আর ‘ইসলাম অন্যান্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’— এ ধরনের মন্তব্য করে তিনি সনাতন ধর্মকে অবমাননা করেছেন। এনডিটিভি।
যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে হামলার মামলায় অভিযুক্ত ১৭ বছরের কিশোরী
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান দিয়েগোর একটি মসজিদে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। হামলাটি সরাসরি সম্প্রচার করা এবং হামলাকারীদের লেখা প্রচারে সহায়তার অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। উত্তর ক্যারোলিনার ওই কিশোরীকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) একটি গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা ও একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে। উত্তর ক্যারোলিনার আইনে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করা হবে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত ১৮ মে সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে হামলার আগে কিশোরীটি হামলাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। হামলার সময় সে ঘটনাটি লাইভস্ট্রিম করার এবং পরে সেই ভিডিও ও হামলাকারীদের লেখা প্রচারের বিষয়ে সম্মত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে হামলার সময় সে ক্যালিফোর্নিয়ায় উপস্থিত ছিল না। হামলায় ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক ও ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাসকেজ জড়িত ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তারা মসজিদে হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে মসজিদের নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহও ছিলেন। পরে দুই হামলাকারী কাছের একটি গাড়িতে আত্মহত্যা করে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, হামলাকারীরা মসজিদের পাশাপাশি একটি ইহুদি উপাসনালয় ও কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত একটি উচ্চবিদ্যালয়ে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তবে পরবর্তী হামলাগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। কিশোরীর আইনজীবী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তার মক্কেল নির্দোষ। মামলাটি এখন আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। রয়টার্স, এপি।
জলবিদ্যুৎ টানেলে তল্লাশি চালিয়েও মিলল না ৯৩ শ্রমিকের সন্ধান
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় রসুয়া জেলার রাসুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা ৯৩ শ্রমিকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। টানেলের ভেতরে উদ্ধারকারী দল ও থার্মাল ড্রোন দিয়ে তল্লাশি চালিয়েও শ্রমিকদের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ মেলেনি। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী দল রাসুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে তল্লাশি চালায়। পরে থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করে টানেলের বিভিন্ন অংশে অনুসন্ধান করা হয়। তবে কোথাও আটকে থাকা শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এনডিটিভি, দ্য গার্ডিয়ান।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান