জাতীয় সংসদের মেয়াদ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ স্পিকারের

হারুন ইবনে শাহাদাত
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৪৪

জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে নির্বাচিত সরকারও গণতান্ত্রিক থাকে না— ইতিহাসের এ পাঠ অতি পুরোনো। জার্মানির নাৎসি পার্টি ও হিটলার ইতিহাসের পাতায় উদাহরণ হয়ে আছে। তবে এছাড়া ছোট-বড় অনেক স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট চলমান বিশ্বের অনেক দেশ শাসন করেছেন এবং এখনো করছেন। অতি সম্প্রতি পতিত হাসিনার উদাহরণ অবশ্য এক্ষেত্রে টেকে না। কারণ আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনের নাটক সাজিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলো— জনগণের রায় বদলে দিয়ে। ২০১৪-এর গণবিস্ফোরণের দাবি ছিলো— পুরোনো সেই ইতিহাস বদলে নতুন ইতিহাস লেখার। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠন করার পর বারবার সেই প্রত্যাশা হোঁচট খাচ্ছে। প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সাথের ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কঠিন হাতে লাগাম টেনে ধরছেন। কিন্তু তারপরও মাঝে মাঝে পাগলা ঘোড়ার দাপটের মতো তাণ্ডবে জাতি শঙ্কিত হয়ে পড়ছে। জাতীয় সংসদরে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমও জাতীয় সংসদের মেয়াদ নিয়ে গত ২৭ আগস্ট তার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, ‘আমি এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। আজকে একে-অপরকে কথা বলার সময় যেভাবে বাধা দেয়ার প্রচেষ্টা দেখেছি, এটা সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ না। এভাবে চলতে থাকলে এ সংসদ কতদিন টিকবে, তা আমি জানি না।’ বিরোধীদলীয় এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এটা শাহবাগ নয়, মহান জাতীয় সংসদ।’ এ বক্তব্যের পরপরই কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে উঠে তার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের শুরুর দিন থেকেই এমন আচরণ করে যাচ্ছেন। আমি জানি না, তিনি নিজেকে কী মনে করেন। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোয় তিনি নিজেকে জাতীয় সংসদের শিক্ষক বলে পরিচয় করিয়েছেন। মাননীয় স্পিকার আমরা মহান জাতীয় সংসদের কাউকে শিক্ষক হিসেবে দেখতে চাই না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ আচরণ এবং স্পিকার সরকারি দলের সংখ্যাাধিক্যের জোর বোঝাতে যে মন্তব্য করেছেন, তা বিশ্লেষণ করে রাজনীতি বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাজ্যের (ব্রিটেন) রাজনীতিবিদ, ইতিহাসবিদ ও লেখক জন ডালবার্গ-অ্যাক্টন (John Dalberg-Acton)-এর বিখ্যাত উক্তি, ‘Power tends to corrupt, and absolute power corrupts absolutely.’ অর্থাৎ ক্ষমতা দুর্নীতির দিকে নিয়ে যায় এবং চরম ক্ষমতা চরম দুর্নীতির কারণ হয়।’ একটু বদলে বলায় যায়, ‘The majority makes the dictatorship, and the absolute majority turns the dictatorship into fascist’. অর্থাৎ ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্বৈরাচারী করে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্বৈরাচারকে ফ্যাসিস্টে পরিণত করে।’ তাই এখনই সাবধান হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে বরাবরের মতো ২০২৪-এর আগস্ট বিপ্লবের রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্রের পথে চলমান ট্রেন আবারও থমকে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ হারাবে। সাম্য (ইনসাফপূর্ণ বণ্টন), মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পূরণের যে প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম— সেই শূন্যতা নতুন করে বিপ্লবীদের তাড়না দেবে। কারণ লক্ষ্য অর্জনের আগে এদেশের তরুণরা থামবে না।
তরুণরা থামবে না
গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা এড়িয়ে যাচ্ছে সরকারি দল বিএনপি। এতে জুলাই বিপ্লবী তারুণ্য এবং দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনে ক্ষোভ বাড়ছে। জ্বালানি-বিদ্যুৎ সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, স্বজনপ্রীতি দলীয়করণ, ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাববাজি এবং সাধারণ জনগণের কথা না ভেবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো বেশিদিন নীরব দর্শক হয়ে দেখবে না বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। কারণ তারা একটি রাজনৈতিক দলের বদলে আরেক দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য ৩৬ জুলাই বিপ্লব করেননি। তাদের লক্ষ্য ছিলো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। জনগণের রাষ্ট্র জনগণকে বুঝিয়ে দেয়া। তাই যারা ভাবছেন, ক্ষমতার মসনদে বসেছেন মানে কেল্লাফতে, তারা শুধু বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন না, লোভের আগুনে আত্মাহুতি দেয়া পাখা গজানো উইপোকার মতো উল্লাসের সাথে পতন ডেকে আনছেন।
তারা ভুলে গেছেন, জাতীয় সংসদ সংখ্যাগরিষ্ঠ কোনো দলের নয়, জনগণের স্বার্থ রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী। বিরোধীদল হলো জনগণের কণ্ঠের প্রতীক। সরকারের ক্ষমতার আগ্রাসন থেকে সংবিধান, দেশের সম্পদ ও জনগণ রক্ষার করার শপথের বলে বলীয়ান ও দায়িত্ববান বিরোধীদলের প্রত্যেক সংসদ সদস্য এবং তাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। তাই তাদের প্রতি অবজ্ঞা মানে জনগণকে অপমান। একদলীয় বাকশালী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। যার পরিণতি শুধু পতন নয়, পলায়ন।
স্পিকার, রাষ্ট্রপতি সবাই দলীয়। শপথের আগে দলকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা প্রদর্শন করলেও মন ও মস্তিষ্ক থাকে দলীয় আনুগত্যে বাধা। এ অবস্থা দূর করতেই জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার জরুরি। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করার ব্যর্থতার খেসারত দিতে দিতে জাতি আজ নিঃস্ব।
স্পিকারের ভূমিকা ও সীমাবদ্ধতা
রাজনীতি বিশ্লেষকরা শুধু নয়, সাধারণ একজন নাগরিকও বিশ্বাস করেন, একটি কার্যকর সংসদে স্পিকার হবেন নিরপেক্ষ। সংসদীয় নিয়মকানুন বজায় রেখে সরকারের পাশাপাশি বিরোধীদলের মতামতকে সমান গুরুত্ব দেওয়া স্পিকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে সংসদের স্পিকারের অবস্থানও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণ হলো কার্যকর বিরোধীদল এবং গঠনমূলক সমালোচনা। বিরোধীদল না থাকলে সংসদ কেবল সরকারি সিদ্ধান্তের অনুমোদনকারী সংস্থায় পরিণত হয়। সরকার এবং বিরোধীদলের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদল সরকারের নীতির সমালোচনা করবে— এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। সরকারের দায়িত্ব হলো সেই সমালোচনাকে ধমক বা প্রশাসনিক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন না করে যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করা।
বিরোধীদলের প্রতি সরকারের আচরণ গণতন্ত্রের মাপকাঠি
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই বিরোধীদলের প্রতি সরকারের আচরণ গণতন্ত্রের মাপকাঠি। বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ায় বাধা প্রদান, সংসদীয় কমিটিগুলোয় তাদের যুক্ত না করা এবং প্রশাসনিক হেনস্তা করার সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে অকার্যকর করে তোলে। সরকার বিরোধীদলের প্রতি কী আচরণ করছে, তা দিয়েই দেশের শাসনব্যবস্থার গুণগতমান নির্ধারিত হয়। বিরোধীদলকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। সংসদকে কেবল একপাক্ষিক বক্তব্য দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম না বানিয়ে জাতীয় ঐক্যের আলোচনার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
জাতীয় সংসদে ভূমিকা পালনের পাশাপাশি বিরোধীদল তাদের আদর্শের পক্ষে জনমত গঠনে সভা-সমাবেশ, মিছিল মিটিং করবে। এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার।
রাজপথের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার
সংসদে বিরোধীদলের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হলে এবং মতপ্রকাশের পথ বন্ধ করা হলে রাজনীতি স্বাভাবিকভাবেই রাজপথে নেমে আসে। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের জন্য মিটিং, মিছিল, সমাবেশ ও লংমার্চের মতো কর্মসূচি পালন করা মৌলিক অধিকার। সভা-সমাবেশ করা এবং সরকারের ভুলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো প্রতিটি নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার। রাজনৈতিক দলগুলো যখন সংসদের ভেতর জনগণের দাবির প্রতিফলন ঘটাতে পারে না, তখন লংমার্চ ও গণসমাবেশের মতো রাজপথের কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে সাধারণ জনগণের ক্ষোভ প্রকাশ পায়। রাজপথের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করা, দমন-পীড়ন চালানো এবং বেআইনিভাবে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা রাজনৈতিক সংকটকে কেবল আরও ঘনীভূত করে। রাজনীতিকে রাজনীতির নিয়মে চলতে দেওয়াটাই টেকসই সমাধানের একমাত্র পথ।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি
রাষ্ট্রযন্ত্রের দলীয়করণ বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নষ্ট হওয়ার ফলে সাধারণ জনগণ ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
দলীয়করণের ভয়াবহ প্রভাব : যখন কোনো সরকার দলকে এবং রাষ্ট্রকে এক করে ফেলে, তখন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বকীয়তা হারায়। এর ফলে দুর্নীতি ও পেশাদারিত্বের চরম অবক্ষয় ঘটে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব জুলাই বিপ্লব কেবল একটি সরকার পতনের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল সামগ্রিক বৈষম্য, অন্যায় ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ।
জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন : জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র সংস্কারের যে ‘জুলাই সনদ’ ও প্রতিশ্রুতি তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্ব বা গাফিলতি জনগণের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করছে, যা বিপ্লবের মূল লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক পলিসি ও দিকনির্দেশনা
একটি ন্যায়ভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। জামায়াতের একাধিক সূত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আদর্শিক পরিবর্তন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার স্থায়ী রূপায়ণ, জুলাই বিপ্লবের চেতনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং জাতীয় ঐক্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য তারা জনগণকে সাথে কাজ করছে।
আদর্শিক পরিবর্তন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র : রাজনীতিতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দলীয়করণের চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে। একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণই জামায়াতে ইসলামীর মূল নীতি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন : আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আমলাতন্ত্র ও বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে যাতে কোনো দলই পরবর্তীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে।
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার স্থায়ী রূপায়ণ : জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং সংসদের স্থায়িত্ব আনতে একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থার স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা অপরিহার্য।
জুলাই বিপ্লবের চেতনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা : জুলাই বিপ্লবে যারা প্রাণ দিয়েছেন এবং আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের স্বপ্নের সঙ্গে আপস না করে সংস্কার রূপরেখা দ্রুত বাস্তবায়িত করা।
জাতীয় ঐক্য ও সৎ নেতৃত্ব : সকল রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের সমন্বয়ে এক জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। দুর্নীতিমুক্ত ও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমেই দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হতে পারে।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ আজ একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। জাতীয় সংসদের ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিরোধীদলের রাজনৈতিক অধিকার সুসংহত করা, রাজপথের আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং দলীয়করণের অবসান ঘটিয়ে জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়নই দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের উপযোগী দেশ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সুশাসনের মাধ্যমেই কেবল একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রূপায়ণ সম্ভব। তাই সরকারের দায়িত্ব দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ক্ষমতার পালাবদলকে মেনে নিয়ে কাজ করা। তারাই চিরদিন ক্ষমতায় থাকবে, জামায়াতে ইসলামী বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে যেকোনো মূল্যে ক্ষমতার ধারে-কাছে আসা প্রতিহত করতে হবে— এমন মানসিকতা পরিহার করতে হবে। তবেই শঙ্কা কাটবে বলে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

হারুন ইবনে শাহাদাত

সম্পর্কিত খবর