সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলকে দিতে হবে : ১১ দলীয় ঐক্য
২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪৮
জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলকে দেয়ার দাবি জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। সংসদীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা জরুরি বলে মনে করে জোটটি।
বুধবার ২৬ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি’র সভাপতিত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে এ দাবির কথা জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়্যুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ,চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী,
এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।
বৈঠক শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, শিল্পকারখানা বন্ধ এবং অর্থনৈতিক চাপসহ নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
নেতারা আরও বলেন, জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলকে দিতে হবে। আমরা মনে করি, সংসদীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা জরুরি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মানবাধিকার কমিশন, বিচারব্যবস্থা ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে। পাশাপাশি গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর প্রভাব দেশের উৎপাদন ও রপ্তানিতে পড়তে পারে বলে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি।
১১দলের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তারা বলেন,আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমূখে লংমার্চ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিভাগে কর্মসূচি পালন শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার অধিকার সম্পর্কে নেতারা বলেন, কোনো প্রশ্ন পছন্দ না হলেও সাংবাদিকদের হুমকি বা ভয় দেখানো গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক নয়। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পূর্বের অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশে বারবার একই ধরনের সংকট তৈরি হচ্ছে। তাই শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কার্যকর পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।