সংবাদপত্রের পাতা থেকে


১৯ আগস্ট ২০২৬ ২১:১০

বিএনপি সরকার ৬ মাস পূর্ণ করেছে। সরকারের অর্জন ও ব্যর্থতা নিয়ে বিরোধীদল ও সরকারি দল তাদের মূল্যায়ন জাতির সামনে তুলে ধরেছে। সরকারের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, গ্যাস ও বিদ্যুতে জনভোগান্তিসহ দুর্নীতি, স্বাস্থ্য খাতের দৈনদশা, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দেশের সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন করেছে জাতীয় দৈনিকগুলো।
দৈনিক সমকাল গত ১৯ আগস্ট ‘বিআইএইচএম : ২৩৫ কোটি টাকার ইনস্টিটিউট, প্রশিক্ষণ পাননি একজনও’ শিরোনামে প্রধান খবর প্রকাশ করেছে। বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষ করে তুলতে ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট (বিআইএইচএম)। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ভবনগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। অথচ আজ পর্যন্ত এখানে কোনো চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়নি। চালু করা যায়নি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। এছাড়া জনবল কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়ায় এই জাতীয় অবকাঠামো পড়ে আছে অরক্ষিত ও অযত্নে। অন্যদিকে দেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে গত দুই বছরে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ চিকিৎসক কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ পাননি। আর যারা প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন, প্রশাসনিক ও সম্পদ সংকটের কারণে অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারছেন না।
দৈনিক কালের কণ্ঠ গত ১৯ আগস্টে বুধবার প্রধান খবর প্রকাশ করেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে। ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি’ শিরোনামের খবরে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রত্যাশিত স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বৈঠক করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যায়ক্রমে ভোটের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী, ইসি চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচ প্রতিষ্ঠান, ইউপি, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার কর্মপরিকল্পনা করছে। এই পাঁচ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রস্তাব সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানিয়েছে। তবে প্রথম ভোট কোন স্থানীয় সরকারের হবে, এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বণিক বার্তা ১৯ আগস্ট ‘১৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে ‘তিন তারকা’ এয়ারলাইনস বিমান’ শিরোনামের খবরে লিখেছে, প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের। সে হিসেবে আঞ্চলিক কয়েকটি আকাশ পরিবহন সংস্থার তুলনায় উল্লেখযোগ্য সম্পদভিত্তি নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বিমান। কিন্তু সেই শক্তির যথাযথ প্রতিফলন নেই যাত্রীসেবা ও পরিচালন দক্ষতায়। বিপুল সম্পদ ও আধুনিক ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজের বহর থাকার পরও যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্কাইট্র্যাক্সের সর্বশেষ মূল্যায়নে বিমান পেয়েছে ‘থ্রি স্টার’ রেটিং। সংস্থাটির আছে বড় দেনাও, যার পরিমাণ ১৩ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা।
স্কাইট্র্যাক্সের মতে, থ্রি স্টার রেটিং পাওয়া এয়ারলাইনসের পণ্য ও সেবার মান মোটামুটি গ্রহণযোগ্য হলেও কিছু দুর্বলতা বা অসামঞ্জস্য থাকে। বিমানের ক্ষেত্রেও ঢাকার বিমানবন্দরে সেবা, কেবিনের পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মীদের আচরণ ও সেবায় ধারাবাহিকতার ঘাটতি রয়েছে বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে। অর্থাৎ বিমানের বহর ও সম্পদের আকার বড় হলেও যাত্রী অভিজ্ঞতায় তার প্রতিফলন এখনো পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না।
বণিক বার্তা ১৯ আগস্ট দ্বিতীয় প্রধান খবর করেছে ‘বিরল মৃত্তিকা মৌলের উপস্থিতি রয়েছে ব্রহ্মপুত্রের পলিতে’ শিরোনামে। এতে বলা হয়, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পের অপরিহার্য কাঁচামাল বিরল মৃত্তিকা মৌল বা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস সরবরাহ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। ২০২৪ সালে বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল চীনের দখলে। বৈশ্বিক প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতার প্রায় ৮৫ শতাংশও দেশটির নিয়ন্ত্রণে। চীনা আধিপত্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ বিকল্প উৎসের সন্ধানে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বদ্বীপ, কক্সবাজার-টেকনাফ-মহেশখালীর সৈকতবালি ও ব্রহ্মপুত্র-যমুনার চর ও প্লাবনভূমির পলিতে একাধিক বিরল মৃত্তিকা মৌলের উপস্থিতি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সম্প্রতি দুটি গবেষণা এবং তাতে পর্যালোচিত আগের গবেষণাগুলোর তথ্যানুযায়ী, এসব এলাকায় ল্যান্থানাম, সেরিয়াম, প্রাসিওডিমিয়াম, নিওডিমিয়াম, সামারিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, টার্বিয়াম, ডিসপ্রোসিয়াম, হলমিয়াম ও আর্বিয়াম পাওয়া গেছে। শনাক্ত হয়েছে এসব মৌলের বাহক মোনাজাইট ও জেনোটাইম। ব্রহ্মপুত্রের ২০টি নমুনায় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের অপরিহার্য উপাদান কোয়ার্টজও পাওয়া গেছে। এসব রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন, শক্তিশালী চুম্বক, স্মার্টফোন, এলইডি, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিন গত ১৯ আগস্ট ‘আধমরা তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা’ শিরোনামে প্রধান খবর ছেপেছে। এতে বলা হয়, দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গড়ে ওঠা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন সাব-সেন্টারগুলো এখন নিজেই যেন রোগী। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোয়ও রয়েছে নানামুখী সমস্যা। তীব্র জনবলসংকট, পর্যাপ্ত ওষুধের অভাব এবং অবকাঠামোগত জরাজীর্ণতার কারণে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সংকটে তৃণমূলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় আধমরা অবস্থা। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের এ স্বাস্থ্যসংকট রাজধানীসহ জেলা হাসপাতালগুলোর ওপর সৃষ্টি করছে অতিরিক্ত চাপ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রান্তিক মানুষকে সেবা দিতে প্রায় ১ হাজার ১০০ ইউনিয়ন সাব-সেন্টার রয়েছে। এ সেন্টারগুলোয় একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো), একজন ফার্মাসিস্ট এবং অফিস সহায়কের (এমএলএসএস) একটি পদ রয়েছে। কিন্তু কাগজে কলমে চারজনের পদ থাকলেও অধিকাংশ জায়গাতেই অর্ধেক জনবল দিয়ে চলছে সেবা। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, তৃণমূলের সেবায় এ অধিদপ্তরের আওতায় রয়েছে ৩ হাজার ২৯০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র। এ কেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে একজন, পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা একজন, ফার্মাসিস্ট একজন, এমএলএসএস কাম নিরাপত্তাপ্রহরী একজন ও আয়া পদে একজন-মোট পাঁচজনের পদ রয়েছে। কিন্তু জনবলসংকটের কারণে অধিকাংশ জায়গায় অর্ধেক কিংবা তার চেয়ে কম জনবল দিয়ে চলছে সেবা।
প্রথম আলো ১৯ আগস্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। ‘আইনশৃঙ্খলায় স্বস্থি আসেনি, পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ায়নি পুলিশ’ শিরোনামের খবরে লিখেছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পরও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি। খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পুলিশের ওপর হামলার মামলা বেড়েছে। ব্যস্ত সড়ক, বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে গুলি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও মানুষের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মাঠের পুলিশ এখনো পুরো মনোবল নিয়ে কাজে ফিরতে পারেনি।
যুগান্তর ১৯ আগস্ট দেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকট নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছে। ‘নিম্নমানের এলএনজিতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক মাস বড় ধরনের গ্যাস সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। এর মধ্যেই নিম্নমানের এলএনজিতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে একটি কোম্পানি। গত এক মাস রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) নিম্নমানের এলএনজি আমদানি করছে জানিয়ে তারা বলেছেন, এ ধরনের এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন করা যাচ্ছে না। কমে যাচ্ছে টার্মিনালের সক্ষমতা। সোমবার সামিট গ্রুপ সঠিক মানের এলএনজি আমদানির তাগাদা দিয়ে পেট্রোবাংলাকে তিন পৃষ্ঠার একটি চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে তারা এ অভিযোগ তুলে ধরে। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বাইরে এলএনজি আমদানির কোনো সুযোগ নেই। সামিটের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে এলএনজি কার্গো না থাকায় গত ৪ দিন ধরে অলস বসে আছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল। অন্যদিকে ফিল্টারিং সমস্যার কারণে এলএনজি সরবরাহে বারবার হোঁচট খাচ্ছে সামিট গ্রুপের টার্মিনাল। এ কারণে সারা দেশে আবারও গ্যাস সরবরাহে ধস নেমেছে।
মানবজমিন ‘কেন পিএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, নানা কৌতূহল’ শিরোনামে প্রধান খবর প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, মেয়াদের অর্ধেক পার হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোবাশ্বের মোনেম। গতকাল দুপুরে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। হঠাৎ তার এই পদত্যাগে নানা আলোচনা চলছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নিয়োগ পান মোবাশ্বের মোনেম। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তিনি কেন পদত্যাগ করলেন- এ নিয়ে পিএসসিতেও নানা আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে দায়িত্ব নেয়ার পর পিএসসিতে বহুমুখী সংস্কারে হাত দিয়েছিলেন মোবাশ্বের মোনেম। তার বেশ কিছু উদ্যোগ সফল হয়েছে। পরীক্ষা জট কমিয়েছেন। পরীক্ষা পদ্ধতির জটিলতাও কমেছে। আগে প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও তার সময়ে এমন অভিযোগ মেলেনি। তার এই কার্যক্রমের কারণে সুবিধাবাদী মহল একের পর এক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আসছিল বলে পিএসসি সূত্র জানিয়েছে।
দৈনিক সংগ্রাম গত ১৯ আগস্ট ‘ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার ১৩টি রুটে ১৪টি বাস’ শোল্ডার করে “নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে রাস্তায় নামলো ‘পিংক বাস’ সার্ভিস” শিরোনামে দ্বিতীয় প্রধান খবর ছেপেছে। এতে বলা হয়, নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য এবার রাস্তায় নেমেছে ডাবল ডেকার পিংক বাস সার্ভিস। বাসগুলো পরিচালনা করবেন নারী চালক ও নারী সহকারীরা। ভাড়া তুলবেন নারীরা। বাসের যাত্রী থাকবেন শুধু নারীরা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে মহিলা বাস সার্ভিসের (পিংক বাস) উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবদুল লতিফ মোল্লা।
পিংক বাস সার্ভিসের মহিলা চালকরা গাজীপুর বিআরটিসি ট্রেনিং সেন্টারে গাড়ি চালানো শেখেন। প্রত্যেকেই ছাত্রী। গতকাল তেজগাঁওয়ে তাঁরা এসেছিলেন নারীদের জন্য বাস সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। ছাত্রীদের একজন নাজমুন ইসলাম গাজীপুরের বিজিআইএফটি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে বিবিএ করেছেন।
দৈনিক আমার দেশ গত ১৯ আগস্ট ‘প্রতিশ্রুতি ছিল মেধাভিত্তিক অভিযোগ দলীয়করণের’ শিরোনামে প্রধান খবর ছেপেছে। এতে বলা হয়, ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল মেধাভিত্তিক প্রশাসন গঠনের অঙ্গীকার। প্রশাসনকে রাজনীতিকীকরণের বাইরে রাখতে প্রচলিত ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের আমলাতন্ত্রের খোলনলচে বদলাতে ইশতেহারে দলটি ‘মেরিটোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। এর মাধ্যমে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির মাপকাঠি ঘোষণা করা হয়। ব্যক্তিগত মতাদর্শের কারণে কাউকে বঞ্চিত না করার প্রতিশ্রুতিও দেয় দলটি। একই অঙ্গীকার রয়েছে বিএনপির ৩১ দফার রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের রূপরেখাতেও।
তবে গত ছয় মাসে নির্বাচনি এ প্রতিশ্রুতি পূরণ হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে নিয়োগের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। হতাশা ব্যক্ত করে তারা বলেন, প্রশাসনে বহু প্রত্যাশার সংস্কার কার্যক্রম সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। সবকিছু চলছে আগের মতোই।
নয়া দিগন্ত গত ১৯ আগস্ট কৃষিক্ষেত্রে চলমান সংকট নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। ‘ভরমৌসুমে তীব্র সারসঙ্কট’ শিরোনামে প্রধান খবর বলা হয়, আমন রোপণের ভরা মৌসুমে এক দিকে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের ব্যস্ততা, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে তাদের এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও বাড়তি টাকা দিয়েও মিলছে না প্রয়োজনীয় সার। সারের দাবিতে লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভে নামতে দেখা গেছে। অথচ কৃষি বিভাগ থেকে দাবি করা হচ্ছে- দেশে সারের কোনো সঙ্কট নেই, পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের এই বাস্তবতার সাথে সরকারি বক্তব্যের বড় ধরনের ফারাক দেখা দিয়েছে। সরকারি হিসাবে খাতা-কলমে সার মজুদ থাকলেও তা কৃষকের হাতে পৌঁছানো নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির মজুদ নিরাপদ মাত্রার নিচে নেমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আমনের পরপরই শুরু হবে রবি ও বোরো মৌসুম। ফলে আগামী মার্চ পর্যন্ত দেশের কৃষির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
দৈনিক ইনকিলাব গত ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়ার টাকা ফেরানোর ব্যর্থতা নিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে। ‘ফেরত আসবে না কানাকড়ি’ শিরোনামের খবরে বলা হয়, বিগত দেড় দশকে ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে। আজকের অর্থনৈতিক সংকটের কারণ নিহিত হাসিনা জমানার এই লুটপাট-পাচার। এসব পাচারে জড়িত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব-কর্তৃত্বেই এখন চলছে পাচার কিংবা চুরি যাওয়া অর্থ-সম্পদ (স্টোলেন অ্যাসেট) পুনরুদ্ধারের চেষ্টা। ফলে অর্থ পুনরুদ্ধারে গত দুই বছরে দেখা যায়নি সাফল্যের মুখ; বরং বৈঠক, চিঠি চালাচালি, এমএলএআর পাঠানো- ইত্যাদিতে অপচয় হচ্ছে আরো কিছু সরকারি অর্থ ও সময়। বিশ্লেøষকরা মনে করছেন, যে প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা চলছে, সেটি একাধারে একটি ভুল পদ্ধতি। উপরন্তু এটি শুধু স্বার্থের সঙ্ঘাতই নয়, প্রকারান্তে দায়ী ব্যক্তিদের কৌশলে দায়মুক্তি দেয়ার চেষ্টাও বটে। আর এই ‘চেষ্টায়’ পাচার হয়ে যাওয়া অর্থের ফুটো পয়সাও ফেরত আসবে না।
গ্রন্থনা- আবু জায়েদ আনসারী