সংক্ষিপ্ত বিশ্বসংবাদ


২২ জুলাই ২০২৬ ১৯:৫১

যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চীনের নেতৃত্বে ২৯ দেশের এআই জোট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের নেতৃত্বে ২৯টি দেশ নিয়ে নতুন একটি বৈশ্বিক জোট গঠন করা হয়েছে। সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের (ডব্লিউএআইসি) ফাঁকে ‘ওয়ার্ল্ড এআই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ (ডব্লিউএআইসিও) নামে এই আন্তঃসরকারি সংস্থার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক এআই নীতিনির্ধারণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে চায় বেইজিং। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ওপর কোনো একক দেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত নয়। তিনি এআই খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তিতে ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শি জিনপিং বলেন, এআই উন্নয়ন কোনো এক দেশের একক প্রদর্শনী নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র হওয়া উচিত। একইসঙ্গে তিনি এআই খাতে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়কে অতিরঞ্জিত না করার এবং প্রযুক্তিকে সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান। সম্মেলনের একদিন আগে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত ডব্লিউএআইসিওর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ২৯টি দেশের মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, রাশিয়া ও পাকিস্তানসহ বৈশ্বিক দক্ষিণের (গ্লোবাল সাউথ) বেশ কয়েকটি দেশ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সংস্থাটির লক্ষ্য হলো এআই প্রযুক্তি উন্নয়ন, নিরাপদ ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা প্রণয়নে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে এআই নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হবে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। উন্নত সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা সেন্টার, এআই মডেল এবং প্রযুক্তি রপ্তানিকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত টানাপড়েন চলছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন এআই জোটকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বে চীনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আল-জাজিরা।

স্পেনের ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ে এরদোগানের আবেগঘন বার্তা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে স্পেন। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই মহাকাব্যিক জয়ের পর বিশ্বজুড়ে চলছে প্রশংসার জোয়ার। স্পেনের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে স্প্যানিশ ফুটবল দলের এই জয়কে স্বাগত জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জনের জন্য আমি স্প্যানিশ জাতীয় দলকে আমার হৃদয়ের গভীর থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি আমার দেশ ও আমার জাতির পক্ষ থেকে আমার প্রিয় স্প্যানিশ জনগণকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং স্নেহ পাঠাচ্ছি।’ স্পেনের এই জয়ে বিশ্বনেতাদের পক্ষ থেকে অভিনন্দনবার্তার মধ্যে এরদোগানের এই পোস্টটি ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা যেভাবে পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের কৌশলগত আধিপত্য বজায় রেখে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করছেন আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষজ্ঞরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে স্প্যানিশদের একের পর এক আক্রমণ সামলে আর্জেন্টিনা ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের সেই জাদুকরী শট আর্জেন্টিনার জাল কাঁপাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ২০১০ সালের পর স্পেনের দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়। তুরস্ক প্রেসিডেন্টের এই অভিনন্দনবার্তা স্প্যানিশ ফুটবল দল ও দেশবাসীর আনন্দের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আনাদোলু অ্যাজেন্সি।

মক্কায় প্রদর্শিত হচ্ছে হাজার বছরের প্রাচীন ও বিরল কুরআন পাণ্ডুলিপি
ইসলামী ক্যালিগ্রাফি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য ও গৌরবময় অধ্যায়ের সাক্ষী হতে চলেছেন পবিত্র নগরী মক্কার দর্শনার্থীরা। ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ক্যালিগ্রাফার আলী বিন হিলাল- যিনি ‘ইবনে আল-বাওয়াব’ নামেই বেশি পরিচিত- তার নিজ হাতে লেখা ১,০০০ বছরেরও বেশি পুরোনো একটি বিরল পবিত্র কুরআনের পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনের জন্য উন্মোচন করা হয়েছে। মক্কার মসজিদুল হারামে (গ্র্যান্ড মসজিদ) চলমান ‘ইকরা’ প্রদর্শনীতে এই অমূল্য নিদর্শনটি স্থান পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপির মাত্র দুটি কপি টিকে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ফলে মক্কার এই প্রদর্শনীটি বিশ্বজুড়ে ইসলামী সংস্কৃতি ও ইতিহাসপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাত দিয়ে জানা গেছে, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ধর্মীয় বিষয়ক প্রেসিডেন্সির উদ্যোগে এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনীটির মূল লক্ষ্য হলো পবিত্র কুরআনের ইতিহাস এবং যুগের পর যুগ ধরে অসাধারণ কারুকার্য ও ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে এর পাঠ্য সুরক্ষিত রাখার ঐতিহ্যকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা। গ্র্যান্ড মস্কের ভেতরে একটি সুরক্ষিত কাচের বাক্সে এই হাজার বছরের প্রাচীন পাণ্ডুলিপিটি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর সূক্ষ্ম ও নিখুঁত আরবি ক্যালিগ্রাফি এবং জ্যামিতিক অলঙ্করণ দর্শকদের মুগ্ধ করছে। পাণ্ডুলিপিটির প্রদর্শনের পাশাপাশি সেখানে একটি বৈজ্ঞানিক ক্যাটালগ এবং বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণও যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ইবনে আল-বাওয়াবের অনন্য ক্যালিগ্রাফি শৈলী, অলংকারিক উপাদান এবং প্রাচীন যুগের শৈল্পিক কৌশলগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারছেন। একই সাথে এটি আরবি লিপি এবং ইসলামী অলঙ্করণ শিল্পের বিবর্তনকে খুব কাছ থেকে বোঝার এক অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামী ঐতিহ্যে এই পাণ্ডুলিপিটির ঐতিহাসিক, শৈল্পিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক মূল্য অপরিসীম। বিশ্বজুড়ে টিকে থাকা মাত্র দুটি কপির একটি হওয়ায় এর গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বেশি। ‘ইকরা’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা কেবল প্রাচীন পাণ্ডুলিপির সমৃদ্ধ ইতিহাসই জানতে পারছেন না, বরং ইসলামী সভ্যতায় পবিত্র কুরআনের প্রতি যে চিরন্তন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা চলে আসছে, তারও এক বাস্তব অনুভূতি লাভ করছেন। মক্কায় আসা ওমরাহযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জন্য এই প্রদর্শনীটি ইসলামের প্রাথমিক যুগের সমৃদ্ধ শিল্পকলার এক জীবন্ত দলিল হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এসপিএ।

সৌদি আরবের ওপর হুথিদের ‘নৌ অবরোধ’
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘নৌ অবরোধ’ (গধৎরঃরসব নষড়পশধফব) ঘোষণা করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। গত শনিবার (১৮ জুলাই) হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, রিয়াদ কর্তৃক ইয়েমেনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপর আরোপিত অবরোধের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সারে এই পদক্ষেপকে ‘অবরোধের বদলে অবরোধ’ (নষড়পশধফব ভড়ৎ ধ নষড়পশধফব) নীতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সৌদি আরব যদি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে, তবে হুথিরাও তার সমানুপাতিক জবাব দেবে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ চার বছরের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হলো। এই অবরোধ ঘোষণার ফলে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরসহ সংলগ্ন সামুদ্রিক অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাসনিম নিউজ।

এক বছর মেয়াদি মাল্টিপল এন্ট্রি ওমরাহ ভিসা চালু করল সৌদি আরব
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১ বছর মেয়াদি একটি বিশেষ ‘মাল্টিপল এন্ট্রি’ ওমরাহ ভিসা চালু করেছে। এই ভিসার মাধ্যমে ওমরাহ যাত্রীরা এক বছরের মধ্যে একাধিকবার সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন এবং মোট ৯০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। ভিসাটি ইস্যু করার তারিখ থেকে ৩৬৫ দিনের জন্য বৈধ থাকবে। এই মেয়াদকালের মধ্যে যাত্রীরা যতবার ইচ্ছা সৌদিতে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। তবে মোট ৯০ দিন অবস্থানের হিসাবটি প্রতিটি সফরের দিনের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে সামগ্রিকভাবে (একত্রিত করে) গণনা করা হবে। তবে মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই মাল্টিপল এন্ট্রি ওমরাহ ভিসা ব্যবহার করে হজের মৌসুমে সৌদি আরবে প্রবেশ করা যাবে না। এছাড়া ওমরাহ প্যাকেজের মেয়াদ অবশ্যই ভিসায় অবশিষ্ট থাকা দিনগুলোর বেশি হতে পারবে না। ভিসাটি পেতে হলে যাত্রীদের প্রতিটি সফরের জন্য ‘নুসুক’ প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত অনুমোদিত সেবাদাতাদের কাছ থেকে সেবা বা ওমরাহ প্যাকেজ ক্রয় করতে হবে। এছাড়া প্রতিবার সৌদি আরবে প্রবেশের আগে ‘নুসুক’ অ্যাপের মাধ্যমে ওমরাহ পারমিট বা অনুমতি সংগ্রহ করতে হবে। পারমিটের তারিখের সাথে অনুমোদিত প্যাকেজের তারিখের মিল থাকতে হবে এবং ভ্রমণ ও প্রবেশের সমস্ত নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সৌদি আরব থেকে প্রতিবার প্রস্থান বা বের হওয়ার পর ভিসাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে যাবে এবং পরবর্তী সফরের জন্য নিয়মকানুন পূরণ সাপেক্ষে তা পুনরায় সক্রিয় হবে। ভিসার মেয়াদের মধ্যে অবশিষ্ট দিনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী সফরের জন্য যুক্ত থাকবে, যা যাত্রীরা তাদের ভবিষ্যৎ ভ্রমণের সময় ব্যবহার করতে পারবেন। আরব নিউজ।

প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তৈরি হবে বিমানের জ্বালানি
চীনের বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে উড়োজাহাজের জ্বালানি তৈরির নতুন একটি রাসায়নিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পলিমারজাত প্লাস্টিককে ভেঙে তরল হাইড্রোকার্বনে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে। গবেষকদের দাবি, এ উদ্ভাবন প্লাস্টিক দূষণ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিমান জ্বালানি উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সাংহাই অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ফুদান ইউনিভার্সিটির গবেষকদের একটি যৌথ দল এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। তারা পলিমারের দীর্ঘ রাসায়নিক শৃঙ্খল ভেঙে উড়োজাহাজে ব্যবহারের উপযোগী অ্যালকেন অণু তৈরিতে সফল হয়েছেন। এ প্রক্রিয়ায় তুলনামূলক কম দামের নিকেল ও কোবাল্টের মিশ্রণে তৈরি নতুন ধরনের একটি অনুঘটক ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকদের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৪৬ কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি পলিওলেফিন বা পলিমারজাত প্লাস্টিক, যা সহজে পচে না এবং পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব প্লাস্টিক সরাসরি তরল জ্বালানিতে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে। পরীক্ষাগারে এ পদ্ধতিতে ৮২ শতাংশের বেশি তরল জ্বালানি উৎপাদনের সাফল্য পাওয়া গেছে। গবেষকরা জানান, নতুন অনুঘটকটি অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি না করে সরাসরি তরল হাইড্রোকার্বন উৎপাদনে সহায়তা করে। প্রচলিত প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির তুলনায় এটি প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সক্ষম। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, গবেষণাগারে সফল হলেও এই প্রযুক্তিকে শিল্প পর্যায়ে বড় আকারে প্রয়োগ করা এবং বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য কার্যকরভাবে পরিশোধন করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এসব বাধা কাটিয়ে উঠতে পারলে ভবিষ্যতে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকেই টেকসই বিমান জ্বালানি উৎপাদনের পথ আরও সহজ হবে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞায় ইইউতে তীব্র মতভেদ
রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগে বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। জোটের সদস্য দেশগুলোর একটি অংশ মনে করছে, কঠোর নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তাদের নিজস্ব কোম্পানি ও শিল্প খাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। গত রোববার (১৯ জুলাই) প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি)-এর এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রুশ বার্তা সংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত ২১তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের বেশ কয়েকটি পদক্ষেপে ছাড় বা পরিবর্তন চাচ্ছে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, অস্ট্রিয়া ও পর্তুগাল। গত ১৫ জুলাই ব্রাসেলসে ইইউ সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের ওপর প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে গ্রিস। গ্রিক শিপিং কোম্পানি ডায়নাগ্যাস যেন আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এথেন্স এই অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে নিজস্ব প্রক্রিয়াজাত শিল্প সচল রাখতে রাশিয়া থেকে মাছ আমদানির ওপর সম্ভাব্য বিধিনিষেধে ছাড় চাইছে জার্মানি ও পর্তুগাল। এদিকে ফ্রান্স ও ইতালি রুশ নাগরিকদের জন্য ভিসা নীতিতে কিছুটা নমনীয়তা বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। পাশাপাশি অস্ট্রিয়া তাদের বড় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান রাইফাইসেন ব্যাংক-সংক্রান্ত কিছু অবরুদ্ধ সম্পদ পুনরায় চালুর অনুরোধ জানিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইইউ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও, ২১তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাস।

নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের ইঙ্গিত মেয়র মামদানির
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি এখনো বিবেচনায় রয়েছে। এ নিয়ে সিটি প্রশাসনের আইন বিভাগে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে এবং অনেকেই এ মতের সঙ্গে একমত।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, বিদেশি কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়ার আইনি ক্ষমতা তার রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে ‘সক্রিয় আলোচনা’ চলছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘আইন আমাকে যতটুকু ক্ষমতা দেবে, আমরা ততটুকুই করব। নিজেরা নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।’ মেয়র নির্বাচনের প্রচারণার সময়ও মামদানি বলেছিলেন, আইসিসির জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সুযোগ পেলে তিনি নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেবেন। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ারও স্বীকৃতি দেয় না। ফলে নিউইয়র্কের কোনো মেয়রের পক্ষে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতার করা আইনগতভাবে অত্যন্ত জটিল। ইয়েল ল’ স্কুলের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ হ্যারল্ড কোহ বলেন, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ভেতরে নেতানিয়াহু কূটনৈতিক সুরক্ষা ভোগ করবেন, যদিও শহরের অন্য এলাকায় তার অবস্থান নিয়ে আইনি বিতর্ক থাকতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু এ হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। এক রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি মামদানিকে হামাস-সমর্থক বলে অভিযোগ করেন এবং বলেন, ‘তিনি ইসরাইলের নিন্দা করেন অথচ হামাসের পক্ষ নেন।’ নিউইয়র্ক টাইমস।

ফিলিস্তিনিদের অবরুদ্ধ করতে ইসরাইলের নতুন মরণফাঁদ ‘ক্রিমসন থ্রেড’
অধিকৃত পশ্চিমতীরের জর্ডান উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ ও উচ্ছেদ করতে ‘ক্রিমসন থ্রেড’ বা ‘রক্তিম সুতা’ নামের এক নতুন সামরিক প্রাচীর ও প্রতিবন্ধকতা নির্মাণ করছে ইসরাইল। আল-জাজিরার এক সরেজমিন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই নতুন মরণফাঁদের বিস্তারিত চিত্র, যা স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের জীবনকে আক্ষরিক অর্থেই এক শ্বাসরুদ্ধকর কারাগারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ২০২৫ সালে ঘোষিত এই প্রকল্পের আওতায় মূলত প্রায় আড়াই থেকে তিন মিটার গভীর দীর্ঘ পরিখা এবং সামরিক সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম দফায় আইন শিবলি ও তায়াসির চেকপয়েন্টের মধ্যে প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে, যা উত্তর জর্ডান উপত্যকাকে টুবাস এবং নাবলুস শহর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি জর্ডান থেকে অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে এটি করা হচ্ছে, তবে বাস্তবে এই প্রাচীর জর্ডান সীমান্ত ছেড়ে ফিলিস্তিনিদের মূল ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতর দিয়ে টেনে নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পরিখা ও প্রাচীর প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। সম্প্রতি ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট এই বিতর্কিত প্রকল্পের পক্ষে রায় দেওয়ার পর উচ্ছেদ অভিযান আরও তীব্র হয়েছে। জর্ডান উপত্যকার সবচেয়ে উর্বর এই অঞ্চলে চাষাবাদ করে ফিলিস্তিনিরা জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু ‘ক্রিমসন থ্রেড’ নির্মাণের নামে ফিলিস্তিনিদের সেচ পাইপলাইন কেটে দেওয়া হয়েছে, পানির কূপ ধ্বংস করা হয়েছে এবং গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শত শত গ্রিনহাউস ও জলপাই বাগান। কেবল গত ১৪ জুলাই একদিনেই আল-বুকাঈয়া এলাকায় ফিলিস্তিনিদের তিনটি পানির কূপ ধ্বংস করা হয়, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৪ মিলিয়ন শেকেল (১.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। স্থানীয় বাসিন্দা থায়ের বিশারাত জানান, যে পথ দিয়ে আগে মূল সড়কে যেতে ১০ মিনিট লাগত, এখন পাহাড়ি ও কাঁচা রাস্তা দিয়ে ইসরাইলি টহল ফাঁকি দিয়ে যেতে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এরা আমাদের খাঁচায় বন্দি করে শ্বাসরোধ করে মারছে। আমাদের গৃহপালিত পশুর মতো দেখা হয়। অন্তত আমাদের মানবাধিকার না দিলেও, পশুদের যে অধিকার দেওয়া হয় সেটুকুই দিক।’ এই উচ্ছেদ অভিযানে ইসরাইলি বাহিনীর সমান্তরালে কাজ করছে উগ্র ইসরাইলি সেটলাররা (অবৈধ অভিবাসী)। ফিলিস্তিনিদের জমি থেকে তাড়িয়ে সেখানে রাতারাতি অবৈধ ইহুদি বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ৪৯টি জমি অধিগ্রহণের সামরিক নোটিশ জারি করেছে, যা গত বছরের পুরো সংখ্যার চেয়েও বেশি। ইতোমধ্যেই প্রায় ১৩০টি ফিলিস্তিনি পরিবার বাধ্য হয়ে তাদের ভিটেমাটি ও জমি ফেলে পালিয়ে গেছে। যারা যাওয়ার অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, তাদের ওপর চালানো হচ্ছে নৃশংস নির্যাতন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিখা ও প্রতিবন্ধকতার কাজ পুরোপুরি শেষ হলে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোয় কোনো হাসপাতাল, স্কুল বা জরুরি সেবা পৌঁছানোর পথ থাকবে না। ফলে জর্ডান উপত্যকা ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হবে এবং তাদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করে এলাকাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে ইসরাইল। আল-জাজিরা।

হামাসের নতুন নেতা খলিল আল হায়াহ
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস তাদের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে খলিল আল হায়াহকে নির্বাচিত করেছে। তিনি ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হলেন। সিনওয়ার ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত হন। ইসরাইলি হামলায় হামাসের শীর্ষ তিন নেতা ইসমাইল হানিয়াহ, ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ নিহত হওয়ার পর থেকেই সংগঠনটির ভেতরে খলিল আল হায়াহ’র প্রভাব ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ১৯৬০ সালে গাজা উপত্যকায় জন্মগ্রহণ করা হায়াহ হামাস প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটির সাথে আছেন বলে জানা যাচ্ছে। বিবিসি।

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় মালিতে ৫০ সেনা নিহত
একাধিক সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী রুশ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা হামলার আগেই তাদের গন্তব্য গাও শহরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফলে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। মালির উত্তরাঞ্চলের কৌশলগত শহর আনেফিস ত্যাগ করার সময়, তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় অন্তত ৫০ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা আরো জানায়, আনেফিস থেকে সেনাবাহিনীর বহরটি গত ১৮ জুলাই শনিবার রওনা হওয়ার সময় এ হামলা চালানো হয়। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছিল। জুলাইয়ের শুরুতে তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এফএলএ ও আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট গ্রুপ ফর দ্য সাপোর্ট অব ইসলাম অ্যান্ড মুসলিমসের (জেএনআইএম) যোদ্ধারা অল্প সময়ের জন্য শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। একই সঙ্গে তারা মালি সেনাবাহিনী ও রাশিয়ার আফ্রিকা কোরের ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটি ঘিরে ফেলে। যদিও জেএনআইএম ও এফএলএ হামলার দায় স্বীকার করেছে। ক্ষমতাসীন জান্তার ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন, এ হামলায় প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত ভারী ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক সেনা নিহত ও অন্তত ২৪ জন বন্দি হয়েছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মালির সেনাবাহিনীর ওপর এটি সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণঘাতী হামলা। মালির সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, কয়েকজন সদস্যকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা খতিয়ে দেখছি, কী কারণে আমাদের সদস্যরা এতটা অরক্ষিত হয়ে পড়েছিলেন। এছাড়া একাধিক সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী রুশ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা হামলার আগেই তাদের গন্তব্য গাও শহরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফলে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গাও অঞ্চলের এক কমিউনিটি নেতা বলেন, কোনো রুশ সদস্য নিহত হননি। নিহতরা সবাই মালি সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্র-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য। ২০২০ ও ২০২১ সালে টানা দুই সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মালিতে সামরিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা জিহাদি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী অস্থিরতার পর নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও, তা বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সামরিক সরকার। রয়টার্স।

জাপানের ড্রোন শক্তিতে চীনের উদ্বেগ!
ড্রোন ও চালকহীন সামরিক প্রযুক্তির আশঙ্কাজনক বৃদ্ধির মাধ্যমে জাপান তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ‘শান্তিবাদী সংবিধান’ কৌশলগতভাবে এড়িয়ে চলছে বলে মারাত্মক সতর্কবার্তা দিয়েছে চীনের সামরিক মুখপাত্র ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি ডেইলি’ (পিএলএ ডেইলি)। পত্রিকাটির একটি পুরো পৃষ্ঠা জুড়ে প্রকাশিত একাধিক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টোকিওর এই গোপন পুনঃসামরিকীকরণ পরিকল্পনা পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাপানের ডানপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংবিধান সংশোধন করে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তবে সরাসরি আইন পরিবর্তনের পথ কঠিন হওয়ায় তারা এখন ড্রোন বা চালকহীন অস্ত্র প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে একটি অসম সামরিক সুবিধা তৈরির পায়তারা করছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে গৃহীত জাপানের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালায় চালকহীন বা আনম্যানড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ থেকে শুরু করে পাঁচ বছরে ড্রোন প্রযুক্তির পেছনে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (যা প্রায় ৬.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য) খরচের বিশাল বাজেট ধরা হয়েছে। শুধু চলতি অর্থবছরেই এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৭৭ বিলিয়ন ইয়েন। এর মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ইয়েন খরচ করা হচ্ছে ‘শীল্ড’ নামের একটি বহুমুখী উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পেছনে। চীনা সামরিক পত্রিকার মতে, এই ‘শীল্ড’ পরিকল্পনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বহু আলোচিত ‘হেলস্কেপ’ রণকৌশলের অনুরূপ। তাইওয়ান প্রণালীতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত হাজার হাজার ড্রোন নামিয়ে দেওয়াই যার প্রধান উদ্দেশ্য। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাপান যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৩টি ‘এমকিউ-নাইন-বি সি-গার্ডিয়ান’ ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধি মত্তা সম্পন্ন রোবোটিক ডগ, পানির ওপরে ও নিচে চলতে সক্ষম চালকহীন জলযান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যেই এসব ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম ওকিনাওয়া, কিউশু, ইশিগাকি ও ইয়নগুনিক মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোয় মোতায়েন করা হচ্ছে। চীন অভিযোগ করেছে, এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে জাপান তাদের কৌশলগত আত্মরক্ষা নীতি লঙ্ঘন করে যেকোনো সময় আক্রমণাত্মক যুদ্ধ শুরু করার সক্ষমতা অর্জন করছে, যা এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে। সিনহুয়া।

পদত্যাগ করছেন হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট
হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিওক পার্লামেন্টে পাস হওয়া সাংবিধানিক সংশোধনীতে স্বাক্ষর করে পদত্যাগে সম্মতি দিয়েছেন। এর ফলে গত রোববার (১৯ জুলাই) মধ্যরাত থেকে তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে। ক্ষমতাসীন তিসা পার্টি পার্লামেন্টে দ্রুত সাংবিধানিক সংশোধনীটি পাস করে। প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগইয়ারের নেতৃত্বাধীন দলটির দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সুলিওক প্রেসিডেন্ট পদে থেকে আগের সরকারের প্রভাব ধরে রেখেছিলেন। হাঙ্গেরির সংবিধান অনুযায়ী, সংশোধনীতে স্বাক্ষরের জন্য প্রেসিডেন্টের হাতে পাঁচ দিন সময় ছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই গত শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় তিনি এতে স্বাক্ষর করেন। তবে একইসঙ্গে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন তিনি। সুলিওকের ভাষ্য, এই সাংবিধানিক সংশোধনী হাঙ্গেরির সাংবিধানিক গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইনের শাসন ও একটি মুক্ত সমাজের মৌলিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিসা সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সুলিওকের পদত্যাগ দাবি করে আসছিল। একইসঙ্গে নতুন সরকার সংবিধানে একাধিক পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই সংশোধনীকে ‘স্বৈরাচারী পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তার দল ফিদেস পরাজিত হয়। নির্বাচনের পর ফিদেস রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অরবানও দীর্ঘসময় জনসমক্ষে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং পার্লামেন্টে নিজের আসন গ্রহণ করেননি। সাংবিধানিক সংশোধনী পাস হওয়ার পর পার্লামেন্টে তিসা পার্টির সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। এদিকে হাঙ্গেরির সাবেক সুপ্রিম কোর্টের প্রধান আন্দ্রাস বাকা বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রেসিডেন্ট অপসারণের সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেন। তার দাবি, ২০১০ সালের পর ফিদেস সরকার ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি কর্তৃত্ববাদী কাঠামো গড়ে তোলে। সেই কাঠামো ভেঙে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন করা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিবিসি।

হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের বড় অভিযানের প্রস্তুতি
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দমনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) মধ্যে নজিরবিহীন সমন্বয়ের আভাস পাওয়া গেছে। গত ১৭ জুলাই শুক্রবার এক ফোনালাপে দুই নেতা হুথিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব যে নতুন সামরিক পরিকল্পনা করছে, তাতে ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত বা চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়ার জন্যই এই ফোনালাপের আয়োজন করা হয়। হুথিদের ওপর সৌদি আরবের যেকোনো সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে মার্কিন কূটনৈতিক সমর্থন এবং প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক সহায়তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটন বর্তমানে এই পুরো সমীকরণটি বেশ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে আদর্শগতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে ইরানের সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানের সাথে কোনো গোপন আলোচনা চালাচ্ছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি মার্কিন প্রশাসন। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে। রয়টার্স।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান