ঐতিহাসিক কুরআন দিবসে এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি

কুরআনবিরোধীদের আস্ফালন এ দেশে টিকবে না


১৫ মে ২০২৬ ২১:৩৭

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ১৯৮৫ সালের ১১ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটিতে পবিত্র কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় যারা শাহাদাতবরণ করেছিলেন, তারা এ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তৎকালীন ইসলামবিদ্বেষী শাসকগোষ্ঠী ও তাদের পেটোয়া বাহিনী কুরআনের আলো নিভিয়ে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু এ দেশের তৌহিদী জনতা রক্ত দিয়ে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ১১ মে কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি বাতিলের বিরুদ্ধে হকের বিজয়ের এক অবিনাশী চেতনা। সেই দিন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারা আজও এ দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উদ্যোগে গত ১১ মে সোমবার ঐতিহাসিক কুরআন দিবস উপলক্ষে শহরের পৌরপার্ক (বড় ইন্দারা মোড়) চত্বরে এক বিশাল ছাত্র গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী ও কামারুজ্জামানদের মতো ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষনেতাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে ফ্যাসিস্ট ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠী ভেবেছিল এই আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা শাহাদাতের তামান্না নিয়ে আজও রাজপথে টিকে আছে। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা দমন-পীড়ন দিয়ে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়। শাহজালাল ও তিতুমীরের এই দেশে কুরআনের অবমাননাকারীদের পরাজয় অনিবার্য। কুরআন বিরোধীদের আস্ফালন এ দেশে টিকবে না, ইনশাআল্লাহ।
প্রধান বক্তা ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, আজ থেকে কয়েক দশক আগে এই চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজপথ কুরআনপ্রেমিক ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। যারা মনে করেছিল লাঠিচার্জ, গুলি আর জেল-জুলুম দিয়ে কুরআনের আওয়াজকে স্তব্ধ করে দেবে, ইতিহাস সাক্ষী তারা ব্যর্থ হয়েছে। ১১ মে থেকে শুরু হওয়া সেই কুরআনের আন্দোলন আজ এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে কুরআনের কর্মীরা বারবার প্রমাণ করেছে যে, জীবন দিলেও তারা কুরআনের অবমাননা বরদাশত করবে না।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বুরুজ ও সূরা আল-কাওসারের শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সত্যের পথ কণ্টকাকীর্ণ হলেও বিজয় সুনিশ্চিত। ফেরাউন ও সামুদ জাতির মতো শক্তিশালী দাম্ভিক শাসকরা আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, কিন্তু কুরআন আজও সগৌরবে টিকে আছে।
প্রজন্মের তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কুরআনের আদর্শই মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ। তাই সকল ভয়ভীতি ও অপপ্রচারের ঊর্ধ্বে উঠে একটি ইনসাফপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ছাত্রশিবিরের প্রতিটি কর্মীকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল গালিবের সভাপতিত্বে ছাত্র গণজমায়েতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক হাফেজ মোহাম্মদ আবু মুসা। এছাড়া জেলা শাখা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গণজমায়েতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ছাত্র ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
৭০ শতাংশ মানুষের গণরায় মেনে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন
বদরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা : রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের গণ রায় মেনে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন।
গত ৮ মে শুক্রবার বিকেলে বদরগঞ্জ মডেল মসজিদ অডিটরিয়ামে বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল শিক্ষা বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এতে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ কামরুজ্জামান কবির। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের রংপুর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এমপি। উপজেলা নায়েবে আমীর শাহ্ মুহাম্মদ রুস্তম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম, পৌর আমীর মাওলানা মেনহাজুল ইসলাম এ সময় বক্তব্য দেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, দেশে একই সাথে দুটি নির্বাচন হয়েছে সরকার একটি মানলেও আর একটি মানতে টালবাহানা করছে। তিনি বলেন জুলাই সনদ না মানলে এর ফল কারও জন্য ভালো হবে না। দেশে এখন সন্ত্রাস নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি ও খুন বেড়েছে। সম্প্রতি বদরগঞ্জে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। তিনি অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের প্রত দাবি জানান। দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারার বিষয়ে তিনি জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।