চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে ড. কর্নেল অলি আহমদ

জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক সংস্কার ও বৈষম্য দূর করা


১৫ মে ২০২৬ ২১:৩৬

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবক্রম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল, আমরা বলেছি-আগে বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধান। তিনি বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে বৈধতা দিয়েছে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। যার ফলে আজকে এই সংকট তৈরি হয়েছে। গত ১০ মে রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্নেল অলি আহমদ বলেন, কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। নির্বাচনে জেতার পর থেকে সেখানে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। পত্রপত্রিকায় দেখলাম সেখানে মুসলমানদের গাড়িতে বেঁধে টেনে টেনে নির্যাতন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী চাটুকারদের দ্বারা বেষ্টিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনি এসব বেষ্টনী থেকে বের হয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতি ফিরে আসেন। বেগম জিয়া ও জিয়াউর রহমানের মর্যাদা রক্ষা করুন। ইচ্ছা করলেই ক্ষমতায় থাকা যায় না। ক্ষমতায় থাকতে হলে নীতি-নৈতিকতা ও জনগণের সমর্থন প্রয়োজন হয়। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আপনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।
প্রধান আলোচক বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিততে তার পক্ষে সালাহউদ্দিন সাহেব ঘোষণা দিয়েছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন জায়গায় এমন কথা বলেছেন। কিন্তু উনারা গণভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলছেন না কেন? কারণ বিএনপি জুলাই সনদ জুলাইয়ের স্পিরিট নয়, নিজেদের মতো করে বাস্তবায়ন করতে চান।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদে যে ১০টি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, সেগুলোই স্বৈরাচার উৎপাদনের হাতিয়ার। এসব নোট অব ডিসেন্ট ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে খারিজ করে দিয়েছে। জনগণের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন, পাঁচ কোটি মানুষের গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে দেশে নতুন সংকট তৈরি করবেন না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন, তা না হলে যারা অতীতে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ বেছে নিয়েছিল, তাদের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আজকে কথা ছিল বিভক্তির রাজনীতি থেকে সরে এসে ঐক্যের ভিত্তি তৈরি করা। কিন্তু আপনারা যা শুরু করেছেন তা অতীত ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয়। জণগণের যে অভিপ্রায় তা প্রত্যাখ্যান করার ফলে কাশ্মীর আজ পর্যন্ত ভোগছে। সুতরাং জনগণের অভিপ্রায় নিয়ে খেলা না করে ৭০ শতাংশ মানুষের মতামত মেনে নিন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সম্পাদক সরওয়ার তুষার বলেন, আমরা দেখেছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সংস্কার কমিশন ছিল সালাহউদ্দিন কমিশন। ১২ তারিখের পরে বাংলাদেশ সংসদ হয়েছে সালাহউদ্দিন সংসদ। তিনি বলেন, আপনারা ১২ ফেব্রুয়ারি ২টি ভোট দিয়েছেন একটি ভোটে সরকার গঠন হয়েছে, বাকি ভোটে সংবিধান সংস্কার পরিষদ কই?
আলহাজ শাহাজাহান চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর আন্দোলন সব এই চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয়েছে। সালাহউদ্দিন সাহেব সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রমাণ করে তারা আসলে সংস্কার-সংশোধন চাননি, তারা চেয়েছেন ক্ষমতা।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপক এডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, গণভোট জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থান নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকট তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী গণভোট জনগণের সার্বভৌমত্বের বাস্তব প্রয়োগ। অতীতে ১৯৮৫, ১৯৯৬ ও ১/১১ এর সংকট এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করে জনগণের সরাসরি রায় অগ্রাহ্য করা ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। যুক্তরাজ্য, গ্রিস, কলম্বিয়ার নজিরও তাই বলে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রামের স্থানীয় নেতারা।