সোনার বাংলায় আমার প্রথম লেখা
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:১১
॥ হাসান আখতার ॥
আমার লেখার হাতেখড়ি ১৯৮৪ কি ১৯৮৫ সালের দিকে যতদূর মনে পড়ে। ছাত্রজীবন শেষ, চাকরির জন্য চেষ্টা করছি। কবি, গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী মতিউর রহমান মল্লিক ভাই তখন সাহিত্য মাসিক কলম পত্রিকায় চাকরি করেন। অফিসটা প্রথম দিকে এলিফ্যান্ট রোডে ছিল পরে কাঁটাবন মসজিদ কমপ্লেক্সে দ্বিতীয় তলায় শিফট হয়। সাহিত্য পত্রিকায় অফিসে সাধারণত কবি সাহিত্যিক লেখকদের আড্ডা কমবেশি হয়ে থাকে। আমি প্রায় সেই আড্ডাতে শামিল হই। আড্ডার ফাঁকে চা, বিস্কুট, সিঙ্গাড়া, সমুচার আয়োজন চলে বৈকি। এলিফ্যান্ট রোডে মালঞ্চ নামে একটা রেস্টুরেন্ট ছিল। মালিক ছিল এক বয়স্কো অবাঙালি ভদ্রলোক। তার তিন ছেলে আর তিনজন কারিগর মিলে তারা সেই রেস্টুরেন্ট চালাতো। রেস্টুরেন্টা ভালোই চলত। রেস্টুরেন্টটিতে ছিল নানা রকমের মুখরোচক খাবার। কলিজার সিঙ্গাড়া, সমুচা, নানরুটি, সুতি কাবাব, ঝালি কাবাব, টিকিয়া স্যুপ, লুচি বাজি আরো কত কি।
তবে কলিজা সিঙ্গাড়া ও সমুচা যেমন ছিল মজাদার, তেমনি ছিল খুবই জনপ্রিয়। আমরা কলম অফিসে গেলে মল্লিক ভাই প্রায় আমাদের কলিজার সিঙ্গাড়া না হয় সমুচা খাওয়াতেন। আর দুধ চা তো ছিলই। চায়ের পর্বটা চলতো অফিসের খরচে। কলিজার সিঙ্গাড়া খাওয়াতেন মল্লিক ভাই নিজে পকেটের পয়সায়। কবি, লেখক, শিল্পী, গীতিকার, সুরকার মতিউর রহমান মল্লিক আমার কোনো আত্মীয় ছিলেন না। কিন্তু আত্মীয়তার চেয়ে কোনো অংশে কমও ছিলেন না। যাকে বলে আত্মার আত্মীয়। মল্লিক ভাই ছিলেন আমার জন্য তাই।
এই পত্রিকা অফিসে আমি একে একে পরিচিত হই কবি লেখক বহু ভাষাবিদ ও সাংবাদিক আব্দুল মান্নান তালিবের সাথে। তালিব ভাই মাসিক পৃথিবী পত্রিকার সম্পাদনা করতেন। বড় অমায়িক ও হৃদয়বান মানুষ ছিলেন তিনি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আরবি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল মাবুদ, গবেষক ও অনুবাদক মো. আব্দুল মুসা, কবি আল মাহমুদ, আব্দুল মান্নান সৈয়দ, কবি আব্দুস সাত্তার, মনির উদ্দিন ইউসুফ, অধ্যাপক শাহেদ আলী, ড. আশরাফ সিদ্দীকি, কবি আফজাল চৌধুরী, কবি ও সাংবাদিক আব্দুল হাই সিকদার, কবি মনির উদ্দিন ইউসুফের ছেলে আনিসুর রহমান, কবি হাসান আলীম, কবি সোলায়মান আহসান, কবি আসাদ বিন হাফিজ, কবি মোশাররফ হোসেন খান, কবি মুকুল চৌধুরী, কবি কেসওয়ার ইবনে দেলওয়ার, লেখক আব্দুল হাই, শাহাদাত হোসেন (কলম পত্রিকায় নোভেল বিজয়ীদের ওপর ধারাবাহিক লিখতেন)। বর্তমান অসুস্থ কবি ও লেখক বুলবুল সারওয়ার, কবি শরীফ আব্দুল গোফরান, কবি নাসির হেলাল, রম্যলেখক লেয়াকত আলী, ছড়াকার ও কবি, মুশিদউল আলম, ছড়াকার মনসুর মোজাম্মেল, কবি ইশারাফ হোসেন, মৃধা আলাউদ্দিন, কবি ওমর বিশ্বাস, কবি জামান সৈয়দী, কবি কামরুজামানসহ প্রবীণ ও নবীন অনেক লেখক সাহিত্যিকদের সাথে আমার পরিচয় ঘটে। নিজেকে ধন্য মনে করি।
এক সময় এমন হলো যে কলম পত্রিকা অফিসে না গেলে ভালো লাগত না। বলা যায় সপ্তাহে কম করে দুদিন কলম অফিসে যেতাম। গীতিকার ও শিল্পী কামরুল ইসলাম হুমায়ুন কখনো বা বন্ধু নুরুজ্জামান বকুল, কখনো আমিনুর রহমানের টেবিলে বসে আড্ডা দিয়ে সময় কাটাতাম, গল্প করতাম। মল্লিক ভাই খেয়াল করতেন, মুচকি হাসতেন।
মল্লিক ভাই একদিন বললেন, চাচা এভাবে আড্ডা না দিয়ে বসে না থেকে কিছু একটা লেখালেখি শুরু করেন।
মল্লিক ভাইয়ের কথা শুনে তো আমার আক্কেল গুড়ুম। মনে মনে বলি, মল্লিক ভাই বলে কী? ইতোমধ্যে আমার লেখা কয়েকটি গান মোটামুটি জনপ্রিয় হয়েছে। তা অডিও ক্যাসেটে বাণীবদ্ধও হয়েছে। দুটি গান গেয়েছে শিশু শিল্পী সৌরভ, একটি গান গেয়েছেন শিল্পী ও সুরকার অধ্যাপক সাইফুল্লা মনসুর, বাকি দুই তিনটি গান গেয়েছে সাইমুমের নবীন ও প্রবীন শিল্পীরা। গানগুলো হলো।’ ‘এই ঘন সবুজ প্রকৃতির দেশ, তার ভালোবাসা যদি পেতে চাও, আল্লাহ তুমি সৃষ্টিকারী সকল জীবের লালনকারী, ষড়ঋতুর এই দেশে যেখানে রাত্রি নামে সবুজ দিগন্ত শেষে, আব্বু আব্বু বলে কাঁদে একটি ছোট ছেলে, নদী ও আকাশ মিশেছে যেথায় বন বীথি আর সবুজ পেরিয়ে।’ ভাবলাম মল্লিক ভাই আরও গান লেখার জন্য হয়তো ইঙ্গিত করছেন। যেহেতু দু-চারটি গান লিখেছি যাইহোক একদিন কামরুল ভাইয়ের টেবিলে বসে তার টেবিলে রাখা বুখারী শরিফের প্রথম খণ্ডটা পড়ছিলাম। বিআইসির অফিস সহকারী এরশাদ এসে জানালো মল্লিক ভাই তার টেবিলে আমাকে যেতে বলেছেন। একসাথে চা খাবেন। গুরু তলফ করলে না শুনে না গিয়ে কি আর পারা যায়? মল্লিক ভাইয়ের টেবিলে গিয়ে বসি। মল্লিক ভাই বললেন, চাচা দেখেন কলমে বিজ্ঞাপন দিয়ে দিয়েছি পুরান ঢাকার গল্প শিরোনামে ধারাবাহিক লেখা ছাপা হবে আগামী সংখা থেকে। আমরা ইচ্ছা করেই আপনার নামটা বিজ্ঞাপনে দিইনি। আর এই ধারা বাহিক লিখা লিখবেন আপনি।
আমি মল্লিক ভাইয়ের কথা শুনে ওদিক তাকিয়ে বললাম, কী লিখবো? কীভাবে লিখব? ঠিক বুঝতে পারছি না কিছু। মল্লিক ভাই আমাকে আমিনুর রহমানের সাথে কথা বলতে বলে বিআইসির পরিচালকের রুমের দিকে চলে গেলেন। আমি আমিনুর রহমানের টেবিলে এসে বসলাম। আমিনুর রহমান আমার হাতে কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ বইটি ধরিয়ে দিয়ে বললেন, মল্লিক ভাইয়ের চাচা মানে আমাদের চাচা। আবার ভাই। তার মানে আপনি হলেন আমাদের চাচা ভাই, নেন চাচা ভাই বইটা পড়তে থাকেন। প্রায়ইতো কলম অফিসে আসেন। বইটা আমার টেবিলে থাকবে যত দ্রুত পারেন বইটা পড়া শেষ করবেন।
যতদূর মনে পড়ে দুই চার দিনের মধ্যেই গল্প গুচ্ছ পুরো বইট পড়া শেষ করলাম। ভাবনায় পড়ে গেলাম ঢাকাইয়া গল্প কি ভাবে লেখা শুরু করবো। তাও লিখতে হবে ঢাকাইয়া ভাষায়।
আমরা তখন থাকি পুরান ঢাকার জিন্দাবাহার লেনে। একদিন জিন্দবাহার ফাস্ট লেনের বাসিন্দা বন্ধুবর হাবিবউল্লাহ খান সিদ্দীকিদের বাসায় গেলাম, ওর সাথে দেখা করে একটা সলিউশ নিতে। ওদের বাসায় গিয়ে শুনি ও বাসায় নাই। খালাম্মা বললেন, বসো বাবা চা খাও হাবিব নয়া বাজার গেছে
সদাই আনবার
একটু বাদে আয়া পরবো।
খালাম্মার পরিচয়টা দেয়া দরকার। খালাম্মা হলেন পুরান ঢাকার পঞ্চায়েত এর বাইশ মহল্লা সর্দার মণ্ডল সর্দারের ছোট মেয়ে। মণ্ডল সর্দার ছিলেন কাদের সর্দারের আগে পুরান ঢাকার পঞ্চায়েতের প্রভাবশালী বাইশ মহল্লার সদার। এই পঞ্চায়েত প্রথাটা ছিল ঢাকার আহসান মঞ্জিলের নবাবদের প্রতিষ্ঠিত একটি সামাজিক ব্যবস্থা। পরের দিন হাবিব আর জিন্দাবাহার দ্বিতীয় লেনের বাসিন্দা বিশিষ্ট ফল ব্যবসায়ি নওয়াব মিয়ার বড় ছেলে মহল্লার বন্ধু হানিফ এর সাথে মহল্লার সিলেটাগো দোকানে শুকা রুটি আর চা খেতে খেতে আমার লেখা লেখির বিষয়টা নিয়ে কথা বললাম। ওদের পরামর্শ চাইলাম। বন্ধুবর হাবিবউল্লাহ বললো, তুমি ছালার জানা কবি অইয়া যাইবা মাল কামাইব্যা আমগো লাভ কি? ঐ যে সেকেন্ড লেনের নোয়াখাইল্যা কবির আছিলনা আমগো লগে পড়তো ঐ বিতো ছালার জানা বড় কবি অইছে, অনেক গুলান বই বাইর করছে।
মাল কামাইত্যাছে আমগো লাভ কি অইছে? শেষ মেছ কবি অইয়্যা জিন্দবাহার ছাইড়্যা গেছেগা। লাভের মদে লাভ এইটাই অইচে। তুমি বি ছালায় একই কাম করব্যা। আমি ওদের কথা শুনে হো হো শব্দে হেসে উঠলাম। হানিফ বললো, দোস্ত তুমার লাইগ্যা কি করন লাগবো বুঝাইয়া কও দেখি।
জিন্দাবাহার মহল্লায় সবচেয়ে প্রবীণ ও বয়স্ক মানুষ কে এটা আমায় বলো। আমার কথা শুনে ওরা একজন আরেক জনের মুখের দিকে তাকায়। পরক্ষণে হাবিব জানায়, জিন্দাবাহার সেকেন্ড লেনের কাপড় ব্যবসায়ী মুজাফফর মিয়ার মামা আমগো নাসির ভাইয়ের দাদা বুইড়্যা খাটাস চাঁন মিয়া।
হানিফ জিজ্ঞেস করে, তার লগে তোমার কী কাম দোস্ত?
আমি হানিফের জিজ্ঞাসার জবাবে মাথা দুলিয়ে জানালাম দরকার আছে। তার ইন্টারভিউ করবো। ওদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে একদিন সেই প্রবীণ মানুষটাকে নিয়ে জিন্দাবাহার ফাস্ট লেনের সমাজ কল্যাণ ক্লাবের রাস্তার পাশে ফুটপাতে রাখা লম্বা বেঞ্চটাতে বসে সুলতানের দোকান থেকে চা আর সিলেইটাগো দোকান থেকে শুকা রুটি এনে তার সাথে বসে খেতে খেতে অনেক কথা হয় শেষে বুলবুল ভাইয়ের দোকান থেকে জর্দা দেয়া পান এনে তাকে খাইয়ে তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় ফিরি। আমি গল্প লেখার থিম পেয়ে যাই। রাতে খাওয়া দাওয়া সেরে কাগজ কলম নিয়ে বসি। এক পৃষ্ঠা লিখি, পড়ার পর ভাললাগেনা ছিড়ে ফেলি। এভাবে করতে করতে এক সময় গল্পের একটা কাঠামো দাড়িয়ে যায়। আল্লাহর মেহেরবানি আমার কলম চলতে থাকে দুদিনের মাথায় গল্প আকারে কিছু একটা দাড় করিয়ে পরের দিন তা নিয়ে ছুটে যাই কলম পত্রিকা অফিসে। মল্লিক ভাইয়ের টেবিলে গিয়ে বসতেই আমাকে দেখে মল্লিক ভাই বললেন, কি চাচা আমার লেখা কই? এনেছেন দেন দেখি। কাগজের প্যাকেট থেকে লেখাটা বের করতে দেরি। মল্লিক ভাই ছো মেরে আমার হাত থেকে লেখাটা নিয়ে এক নিশ্বাসে পড়ে তা আমিনুর রহমানকে দিয়ে বললেন, এই শোনো আমার চাচা ঢাকাইয়া গল্প লিখে এনেছে জলদি এরশাদকে ডাকো চা আর কলিজার সিঙ্গাড়ার সাথে দুইটা ছানার মিষ্টি আনতে আমার আখতার চাচা কলম পত্রিকার জন্য গল্প লিখেছে। চমতকার গল্প তাও ঢাকাইয়া ভাষায় লিখা। লেখাটি সামান্য সম্পাদনা করে শিরোনাম দিলেন ‘এক নানার কাহিনী’। পরে কম্পোজ এর জন্য প্রেসে পাঠিয়ে দিলেন।
কলম পত্রিকায় আমার যাতায়াত আরো বেড়ে গেলো। বলতে গেলে প্রায় প্রতিদিনই কলমে যেতাম আড্ডা দিতাম চাকরি-বাকরি তখন হয়নি ১৯৮৫ সালের মার্চ কি এপ্রিল মাস হবে।
কলম পত্রিকা অফিসে একটা ভারতীয় বাংলা পত্রিকা হাতে নিয়ে দেখছিলাম নাম এখন আর মনে নেই। তবে যতদূর মনে পড়ে পত্রিকাটির নাম সম্ভবত মাসিক রাহিলা হতে পারে। পশ্চিম বঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা থেকে প্রকাশিত। পত্রিকার পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে এক জায়গায় এসে আমার দৃষ্টি আটকে যায়। লেখাটা শিরোনাম বিশ্ব বিখ্যাত রকস্টার ক্যাট স্টেভিনের ইসলাম গ্রহণ ও মক্কায় হজব্রত পালন। লেখাটি পড়ার পর আমার মনে হল এই নিয়ে একটি ভালো গল্প লেখা যায়। ব্যাপারটা মল্লিক ভাইকে জানালে তিনি পত্রিকাটি আমাকে বাসায় নিয়ে পড়ার অনুমতি দেন তবে ফেরত দেবার শর্তে। বাসায় এসে প্রতিবেদনটি কয়েকবার ভালো করে পড়ি। এর পর কাগজ কলম নিয়ে আল্লাহর ওপর তায়াক্কুল করে টেবিলে বসলাম। দুদিন পর একটি বড় গল্প হয়ে গেল।
কলম পত্রিকা অফিসে এসে মল্লিক ভাইকে গল্পটি দেখালাম। মল্লিক ভাই গল্পটি পড়ে নাম দিলেন ‘নতুন জীবন’। মল্লিক ভাই বললেন, গল্পটি ভালো হয়েছে সোনার বাংলা পত্রিকায় ছাপবো। মল্লিক ভাই তখন কলম পত্রিকার পাশাপাশি সোনার বাংলার পাতা বাহার ও সাহিত্য পাতা দেখতেন। ১৯৮৫ সালের ১৫ মে গল্পটি সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকায় ছাপা হয়। জীবনে প্রথম কোনো লেখা পত্রিকার কালো অক্ষরে ছাপা হয়ে আমাকে আপ্লুত করে ফেলে। আমার মনে পড়ে দুই কিস্তিতে গল্পটি ছাপা হয়েছিল। নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল্লাহ ভাই, সুলেমান আহসান অলি সৈয়দ সবাই সেদিন লেখাটির জন্য আমাকে এপিসিয়েট করেছিলেন। কবি বুলবুল সারোয়ার (বর্তমানে অসুস্থ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মতো বাক হারা) শুভেচ্ছা প্রদান করে বলেছিলেন আরো বেশি বেশি করে গল্প পড়তে। বিশেষ করে ভারতীয় দেশ পত্রিকা নিয়মিত পড়তে। তাতে বেশ ভালো ভালো গল্প ছাপা হয়। আর দৈনিক পত্রিকাগুলোর সাহিত্য পাতাগুলো রেগুলার দেখতে এতে করে নতুন নতুন ফর্ম সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি হবে লেখার মান ভালো হবে। আমি অগ্রজদের পরামর্শ মেনে নিয়ে পাঠন পঠনে যত্নবান হই।
আজ জীবনের এই বয়সে এসে বলতে দ্বিধা নেই যে আমার লেখালেখির পেছনে যারা সব চাইতে বেশি অবদান সে আমার গুরু ব্যক্তি কবি মতিউর রহমান মল্লিক ভাইয়ের তার দেয়া আমার লেখক নাম হাসান আখতার। মাসিক কলম এবং সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকা। এই সোনার বাংলায় সেই ১৯৮৫ সালের ১৫ মে আমার জীবনের প্রথম লেখাটি তারা ছাপে। বিভিন্ন সময় গল্প ও প্রতিবেদনসহ প্রায় ২১-২২টি লেখা ছাপে। আমাকে যারা আজ একজন ছোট-খাটো লেখক হিসেবে চেনেন তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার। আমরা লেখা লেখি করি তা যদি পত্রিকায় ছাপা না হতো, তাহলে হয়তো আমরা লেখক হিসেবে এতটা পরিচিতি পেতাম না। পত্রিকাটির মান মোটামুটি খারাপ নয়। তবে গেটাপ মেকআপ ইনার পেজ থেকে শুরু করে ব্যাকপেইজসহ সব জায়গাতে আরো সাবলীল হওয়া দরকার। পত্রিকাটির মান আরও কীভাবে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা যায় সেই দিকটা ভেবে দেখা প্রয়োজন। প্রথম পাতায় গেটাপ মেকআপ ভালো করার জন্য ইত্তেফাক, প্রথম আলো, আমার দেশসহ দেশ বিদেশের দৈনিক ও সপ্তাহিকগুলো দেখা দরকার। যেহেতু পত্রিকার সাপ্তাহিক তাই দলীয় নিউজের পাশাপাশি সারা সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ নিউজগুলো কমবেশি প্রথম পাতা অথবা হাইলাইটস করে দেওয়া উচিত। গত সপ্তাহের বা সারা সপ্তাহের খবর বা সংবাদ দেশ ও দেশের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো গুরুত্ব দিয়ে ছাপা দরকার। ছোটদের পাতার পাশাপাশি খেলাধুলার পাতা ও সংস্কৃতির খবরও শিরোনামে একটি আলাদা বিভাগ থাকা উচিত। তাতে নাটক, চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি সংগঠনের নিউজ ছাপা সেই সাথে দল-মত নির্বিশেষে সবার খবর ছাপা উচিত বলে একজন লেখক হিসেবে আমার তাই মনে হয়।