সেই ভালোবাসা অমর হোক
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:১০
সিলেট শহর থেকে একদিন মগবাজার রেলগেট
আমার চারণভূমি হয়ে গেল হঠাৎ-
নিউজপ্রিন্ট কাগজের প্যাডে বলপয়েন্ট কলমে
খস খস অনবরত লেখা পাতার পর পাতা-
মানুষের দুর্ঘট, বেসামাল রাজনীতি, পরাশক্তির দ্বন্দ্ব
বিভক্ত বিশ্বের লড়াই- আধিপত্য প্রতিষ্ঠার।
বারুদ, আগুন, সারি সারি লাশের দৃশ্য, রাষ্ট্রনায়ক হত্যা ঘটনা
এভাবে দিনের পর দিন মাথা হেট করে বয়ান লিখে যাওয়া
বাস্তুহারা মানুষের তাঁবুতে ডেরা বাঁধা- নয়া জীবনের খবর ক্লান্তিকর!
কোথাও কোনো সুসংবাদ নেই
স্বস্তি নেই শান্তি নেই কেবলই উচাটন মন
না দেশে- না বিদেশে।
মানুষ উড়ে উড়ে বেড়ায়। পাখির মতো। ছেড়ে যায় নিজ গাঁও।
আপনজন, গৃহস্থালি, জলাভূমি, নদী (শুকনো)।
এয়ারপোর্ট ছাড়ে বোয়িং তীব্র শব্দ করে। ছাড়ে মানুষ মাটি।
দলে দলে এমন কাহিনী লেখা হয় না।
লেখা হয়নি নিজের পোড়া জীবন কাহিনীও।
এভাবে হারিয়ে যায় ৮৩-র ডিসেম্বরের কনকনে শীতে
পা রাখা ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে স্বপ্নরাঙা যুবকটির পনেরো বছর।
হারিয়ে যায় জীবন থেকে স্বপ্নহীন রাতের তারকারা।
তবু কলম চলে দোর্দণ্ড অশ্বের মতো দাপটে।
শুধু সাবাদিকতা নয়, জীবন যন্ত্রণা, অপ্রাপ্তি ক্রোধ এসে
ভিড় করে বিশুদ্ধ সাহিত্যের খামারে।
কারণ সংবাদপত্রে লেখা যাবে না- অলিখিত নিয়মে বাঁধা সাইনবোর্ড
এটা লেখা যাবে না- পিআইডি এডভাইস
এটা লেখা যাবে না- নেতার পরামর্শ
কী লেখা যাবে, তা-ও জানি না।
অবশেষে কলমকে স্বাধীনতা দিতে বন্ধন মুক্তির আনন্দ পেতে
বেছে নিলাম অন্যসব মাধ্যমে।
বিশাল ক্যানভাস, ছোট প্লট (বহুতল ছাদ)
তাছাড়া মুহূর্তের অনুভূতি-ছন্দে (অপছন্দে)
দেদার লেখার সুযোগ। একাংশে মুক্তি।
স্মৃতি? পথরেখা (ফেলে আসা) অম্র-মধুর যা-ই বলি
অকথিত পনেরো বছরের কাহিনী আমার জীবনের সেরা পদচিহ্ন।
সোনার বাংলা পত্রিকার দিনগুলো সেরা ভালোবাসা
সেরা সাহচর্য, অমরত্ব পাক এ ভালোবাসা।