সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৫০
মার্কিনঘাঁটি বন্ধের সময় হয়েছে : আমিরাতি শিক্ষাবিদ
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী আমিরাতি বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল খালেক আব্দুল্লাহ। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঘাঁটিগুলো আরব আমিরাতের জন্য কোনো ‘কৌশলগত সম্পদ’ নয়, বরং একটি ‘বোঝা’ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি একই মত পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ড. আব্দুল্লাহ তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। তিনি লিখেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতকে রক্ষা করার জন্য আমেরিকার আর প্রয়োজন নেই। ইরানের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের সময় আমিরাত প্রমাণ করেছে যে, তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, আমিরাতের এখন কেবল আমেরিকার কাছ থেকে অত্যাধুনিক ও সেরা অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করা প্রয়োজন। তাই সামরিক ঘাঁটির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে এসেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরান ইসরাইলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মার্চের শেষ নাগাদ ইরান আমিরাত লক্ষ করে ৩৯৮টি ব্যালাস্টিক মিসাইল, ১ হাজার ৮৭২টি ড্রোন এবং ১৫টি ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা হলেও এর ধ্বংসাবশেষ আবুধাবি ও দুবাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এর মধ্যে বুর্জ আল আরব, পাম জুমেইরাহ, দুবাই বিমানবন্দর এবং ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকা অন্যতম। এ যুদ্ধের ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত কয়েক দশকের মধ্যে সবথেকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। পর্যটন, রিয়েল এস্টেট এবং লজিস্টিক খাতের ওপর নির্ভরশীল দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক ধস নেমেছে। গত কয়েক সপ্তাহে দুবাই ও আবুধাবি স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন থেকে ১২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ মুছে গেছে। এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মার্চ মাসের শেষে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট ইনডেক্স অন্তত ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। বিশেষ করে আল-ধফরা বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও আমিরাত যৌথভাবে ব্যবহার করে থাকে। তবে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মাঝে মার্কিন উপস্থিতি আমিরাতের জন্য নিরাপত্তা না কি ঝুঁকি বাড়াচ্ছেÑ সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। গালফ নিউজ।
মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে চীন-ব্রাজিল ঐক্য
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা প্রশাসন থেকে চীনবিরোধী প্রতিবন্ধকতা অপসারণের জোরালো পদক্ষেপের পর তার ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টাদের বেইজিংয়ে পাঠান, যা চীন ও ব্রাজিলের মধ্যে একটি নীরব কৌশলগত ঐক্যের ইঙ্গিত দেয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের সাথে যুক্ত বাহ্যিক হস্তক্ষেপের প্রতি প্রতিরোধেরও প্রতিফলন ঘটায়। অভ্যন্তরীণ বাধা দূর করার পর লুলা সরাসরি চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যা পশ্চিমা চাপের সঙ্গে অন্ধভাবে সঙ্গতি না রেখে সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। এই সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি চালিত যানবাহনে সহযোগিতা চীনা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি ব্রাজিলের পুনর্শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার এবং সবুজ জ্বালানি রূপান্তরের জন্য একটি প্রধান বিনিয়োগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শ্রম সংক্রান্ত ইস্যুতে প্রতিষ্ঠানটিকে সাময়িকভাবে কালো তালিকাভুক্ত করার পর উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও লুলা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সহযোগিতা বজায় রাখেন। যদিও আলোচনার আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি, তবে কাঠামোটি স্পষ্টÑ ব্রাজিল চীনা বিনিয়োগ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং চীন কৌশলগত সমর্থন জোগাবে। এই পারস্পরিক সহযোগিতা ঐতিহাসিকভাবে শোষণমূলক পশ্চিমা অর্থনৈতিক ধারার বিপরীতে, ন্যায়সঙ্গত উন্নয়নের একটি বিকল্প মডেল হিসেবে উঠে এসেছে, যা চীনের গঠনমূলক ভূমিকা তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ব্রাজিলের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করতে বাণিজ্য ও আর্থিক প্রভাব ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে ঐকমত্য আদায়ের জন্য কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে থাকে, যা নিরাপত্তা সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক প্রভাব সরাসরি বলপ্রয়োগ ছাড়াই মার্কিন আধিপত্যকে শক্তিশালী করে। এর বিপরীতে, চীনের সঙ্গে সমন্বয় ব্রাজিলকে পশ্চিমা পক্ষপাতদুষ্ট নীতি এড়িয়ে শান্তিমুখী কূটনীতি অনুসরণ করতে সক্ষম করছে। চীনের সাথে কূটনৈতিক সমন্বয় মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যেখানে অস্থিতিশীলতা সরাসরি ব্রাজিলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক তৎপরতার মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে চলেছে, যা বাজারকে ব্যাহত করছে এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে, তখন, চীন মধ্যস্থতা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে, যার উদাহরণ হলো আঞ্চলিক সৌহার্দ্য স্থাপনে তার সহায়তা। চীনের সাথে এই কূটনৈতিক যোগাযোগ ব্রাজিলকে কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখতে সহায়তা করে, যা ব্রাজিলকে কোনো সংঘাত ছাড়াই সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যেখানে লুলার বৃহত্তর লক্ষ্য ব্রাজিলকে একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, ব্রিকস জোটকে শক্তিশালী করা এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থায় সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা। সিজিটিএন।
স্মার্টফোনসহ সব ধরনের মাল্টিমিডিয়া ডিভাইস নিষিদ্ধ করলো দেওবন্দ
শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্মার্টফোনসহ সব ধরনের মাল্টিমিডিয়া ডিভাইসের ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্বখ্যাত ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ। প্রতিষ্ঠানটির হোস্টেল ইনচার্জ মুফতি আশরাফ আব্বাসের পক্ষ থেকে জারি করা এক অফিসিয়াল আদেশে জানানো হয়েছে, এখন থেকে কোনো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের ভেতরে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা অন্য কোনো মাল্টিমিডিয়া মোবাইল ফোন রাখতে বা ব্যবহার করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে সরাসরি বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে মুফতি আশরাফ আব্বাস বলেন, শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তি থেকে দূরে রাখতে এবং পড়াশোনায় পূর্ণ মনোযোগ নিশ্চিত করতেই এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল রাখা এবং শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ অফিসিয়াল নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তল্লাশির সময় কারো কাছে মাল্টিমিডিয়া ডিভাইস পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিভাইস উদ্ধারের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অজুহাত বা তিল পরিমাণ শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্টফোন পাওয়া যায়, তবে তিনি সেটি ব্যবহার করুন বা না করুন তা তার অপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে। স্মার্টফোন রাখার দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ‘আখরাজ’ বা প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে। কর্তৃপক্ষের মতে, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পারফরম্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তাদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে। দারুল উলুম দেওবন্দে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা এবারই প্রথম নয়। গত বছরও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল এবং নিয়ম কার্যকর করতে হস্টেলের কক্ষগুলোয় নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয়েছিল। ডিজিটাল মাধ্যমের বিচ্যুতি এড়িয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে পুরোপুরি ধর্মীয় ও একাডেমিক শিক্ষায় মনোনিবেশ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতেই এবার আগের চেয়েও কঠোরভাবে এ নিয়ম কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ। সিয়াসত ডেইলি।
ভারতে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন মুসলিম হকাররা
ভারতের আগ্রা থেকে আহমেদাবাদ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় মুসলিম হকার এবং ছোট ব্যবসায়ীদের হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিককালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বেশকিছু ভিডিও এবং সংবাদ প্রতিবেদনে এ ধরনের ঘটনার কথা উঠে এসেছে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয় ধরে মুসলিম হকারদের হেনস্তা করা হচ্ছে। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগ্রাতে মুসলিম হকারদের থামিয়ে তাদের নাম ও ধর্ম জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় ঢুকতে বাধা দেয়া হচ্ছে। একইসাথে আহমেদাবাদের বাপুনগর এলাকায় হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা একজন মুসলিম খাদ্য বিক্রেতাকে ব্যবসা বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা হয়েছে, শুধুমাত্র হিন্দুরাই ওই এলাকায় ব্যবসা করতে পারবে। আগ্রা-আলিগড় হাইওয়েতে এক বৃদ্ধ মুসলিম চা বিক্রেতাকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তাকে তার স্টলের নাম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ নীরব থাকছে বা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যার ফলে হয়রানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আগ্রার ক্ষেত্রে, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে বলে জানা গেছে। আর আহমেদাবাদের সমাজকর্মীরা জানিয়েছেন, সাধারণ বিক্রেতারা পরিবারের আয়ের জন্য বের হন, কিন্তু ধর্মের কারণে তাদের বাধা দেয়া তাদের জীবিকার মৌলিক অধিকারকে খর্ব করছে। আল-জাজিরা।
২২৬ জন অভিবাসীকে নাগরিকত্ব দিলো ওমান
ওমানের নাগরিকত্ব বিধিমালায় বড় ধরনের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটিয়ে ২২৬ জন ব্যক্তিকে দেশটির নাগরিকত্ব প্রদান করেছেন সুলতান হাইথাম বিন তারিক। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) এক বিশেষ রাজকীয় ফরমান (ডিক্রি নম্বর ৪৬/২০২৬) জারির মাধ্যমে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এদিন ওমানের সরকারি গেজেটে এই ফরমানটি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের নাম ও বিস্তারিত তালিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওমানের কঠোর নাগরিকত্ব আইন ও নির্দিষ্ট শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে এই নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশকিছু কঠোর নিয়ম মানতে হয়, যার মধ্যে রয়েছে :
১. আবেদনকারীকে ওমানে অন্তত ১৫ বছর বৈধভাবে ও ধারাবাহিকভাবে বসবাস করতে হবে।
২. আরবি ভাষায় পারদর্শিতা থাকতে হবে।
৩. কোনো প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা যাবে না এবং উন্নত চরিত্রের অধিকারী হতে হবে।
৪. শারীরিকভাবে সুস্থ হতে হবে এবং সংক্রামক ব্যাধিমুক্ত হতে হবে।
৫. নিজস্ব আয়ের স্থায়ী ও বৈধ উৎস থাকতে হবে যাতে পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করা সম্ভব হয়।
৬. নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় আবেদনকারীকে তার আগের দেশের নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করতে হবে।
উল্লেখ্য, ওমানের নাগরিকত্ব আইনে বিদেশিদের জন্য নাগরিকত্ব লাভের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল। তবে সুলতানের এই সাম্প্রতিক ফরমানটি অনেক প্রবাসী ও দীর্ঘকাল ধরে ওমানে বসবাসরত যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওমান সরকার মূলত দক্ষ এবং অনুগত অভিবাসীদের জাতীয় মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। টাইমস অব ওমান।
মুসলিমদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে ‘স্কুল জিহাদ তত্ত্ব’ হাজির করলো বিজেপি
ভারতে মুসলিমদের পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অব্যাহত আগ্রাসনের ধারাবাহিকতায় এবার মুম্বাইয়ে ‘স্কুল জিহাদ’ নামক এক নতুন ও ভিত্তিহীন তত্ত্ব হাজির করেছে কট্টর ইসলামবিদ্বেষী দল হিসেবে পরিচিত ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা কিরীট সোমাইয়া। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মুসলিমদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও জমি দখলের সুগভীর ষড়যন্ত্র হিসেবেই এই নতুন ধরনের ‘স্কুল জিহাদ’ তকমা ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ১৯ এপ্রিল রোববার মুম্বাইয়ের মুলুন্দে এক সংবাদ সম্মেলনে কিরীট সোমাইয়া দাবি করেন, মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে ‘অবৈধ’ স্কুল পরিচালনার মাধ্যমে জমি দখল ও ‘জিহাদ’ ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ল্যান্ড জিহাদের পর এখন শুরু হয়েছে স্কুল জিহাদ।’ তবে তার এই অভিযোগের সপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি। উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপির এই নেতা মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) কর্তৃক চিহ্নিত ১৬৪টি স্কুলের দোহাই দিয়ে দাবি করেন, এর মধ্যে ১৫০টি স্কুলই তথাকথিত ‘মুসলিম ল্যান্ড মাফিয়া’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। চরম সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা কেবল স্কুলই তৈরি করেনি, অনেক স্থানে সেগুলোকে মসজিদে রূপান্তর করেছে।’ দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা এসব শিক্ষা কার্যক্রমকে তিনি ‘স্কুল জিহাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জনমনে আতঙ্ক ও বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করেন। বিশেষ করে গোভান্দি, মালাদ এবং কুরলার মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে টার্গেট করে তিনি এ অভিযোগ তুলেছেন, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষা বিস্তারের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে কিরীট সোমাইয়া কোনো ধরনের দালিলিক প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন যে, এই স্কুলগুলো ‘অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের’ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির পুরোনো কৌশল মেনে কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এমন স্পর্শকাতর অভিযোগ তোলায় স্থানীয় মুসলিম মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহারাষ্ট্রের আসন্ন রাজনৈতিক মেরুকরণকে কেন্দ্র করেই বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এই ‘জিহাদ’ শব্দটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এর আগে বিজেপি নেতা নীতীশ রানে ‘কর্পোরেট জিহাদ’-এর নামে বিষোদগার করেছিলেন, আর এবার সোমাইয়া টার্গেট করলেন মুসলিমদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে। সোমাইয়া ইতোমধ্যেই মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র বিভাগ ও বিএমসি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন যাতে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আগামী সপ্তাহ থেকেই এই অভিযানের নামে মুসলিমদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় উচ্ছেদ বা হয়রানি শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুম্বাইয়ের সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিজেপির এই নোংরা রাজনীতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘জিহাদ’ তকমা দিয়ে বিজেপি মূলত ভারতের সামাজিক সংহতি নষ্ট করতে চায় এবং মুসলিমদের শিক্ষা ও উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সিয়াসত ডেইলি।
যুদ্ধবিরতির আড়ালে দক্ষিণ লেবানন দখলের নীলনকশা!
যুদ্ধবিরতির আড়ালে ইসরাইল আসলে লেবাননের অংশ দখলের নীলনকশা চূড়ান্ত করছে কি না, তা নিয়ে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবেদ আবু শাহাদেহ আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইসরাইল বর্তমানে দুটি ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে। একদিকে তাদের সেনাবাহিনী বলছে যে, দক্ষিণ লেবাননে লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং এখন লেবানন সরকারের সাথে আলোচনায় বসা প্রয়োজন। অন্যদিকে কট্টরপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা লিটানি নদীর দক্ষিণ তীর পর্যন্ত এলাকা দখল করে সেখানে বসতি গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। মূলত এ যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইসরাইল লেবাননের একটি অংশ স্থায়ীভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার বৈধতা খুঁজছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ সংকটের গভীরতা আরো স্পষ্ট হয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত একটি মানচিত্রের মাধ্যমে। সেই মানচিত্রে লেবাননের পানিসীমাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যকার ২০২২ সালের গ্যাস চুক্তিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্রসীমা নিয়ে এই নতুন দাবি আলোচনার টেবিলে উত্তাপ বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী যখন আলোচনার কথা বলছে, তখন বসতি স্থাপনকারীরা কোনো ধরনের কূটনীতির ধার ধারছে না। তারা চায় সরাসরি ভূখণ্ড দখল। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বর্তমানে একটি দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছেন। তিনি ভালো করেই জানেন যে ইসরাইলের জনমতের একটি বড় অংশ দক্ষিণ লেবানন দখলের পক্ষে। তবে চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে তিনি ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্কের সমীকরণটি দেখে নিতে চাইছেন। যুদ্ধবিরতির এই সময়টাকে তিনি মূলত শক্তি সঞ্চয় এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন। শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনা নাকি স্থায়ী দখলদারিত্বের পথে ইসরাইল হাঁটবে, তা অনেকটা নির্ভর করছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। আল-জাজিরা।
ভারতের কেরালায় মাদরাসার ছাত্রদের ওপর হিন্দুত্ববাদীদের হামলা
ভারতের কেরালার পেরামব্রা এলাকায় পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকজন মাদরাসাছাত্রের ওপর বর্বরোচিত হামলা হয়েছে। একইসাথে ওই ছাত্রদের একটি বাড়িতে আটকে রেখে তাদের ধর্মীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে জেরা করার পাশাপাশি শারীরিক নিগ্রহও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজন ছাত্র বর্তমানে রাজ্যের কোঝিকোড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্ত ছাত্রদের দাবি, একটি বেসরকারি জমিতে পোস্টার লাগানোর জন্য তারা আগে থেকেই মালিকের অনুমতি নিয়েছিলেন। মালিক তাদের রাতে কাজ শেষ করতে বলেছিলেন। সেই মতো তারা রাতেই সেখানে পৌঁছালে পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদের অভিযোগ, তাদের জোর করে একটি বাড়িতে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। পানি দেয়ার কথা বলে তাদের বসিয়ে রেখে ইসরাইল, ইরান, আফগানিস্তান এবং সিরিয়া সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও ধর্মীয় বিষয়ে জেরা করা হয়। এক ছাত্রে ভাষায়, ‘তারা চরম সাম্প্রদায়িক ভাষায় আমাদের সাথে কথা বলছিল এবং যুদ্ধ নিয়ে আমাদের মতামত জানতে চেয়ে চাপ দিচ্ছিল।’ এ সময় ছাত্ররা সেখান থেকে চলে আসার চেষ্টা করলে হিন্দুত্ববাদীরা গেট বন্ধ করে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদের ধাক্কা মারা হয় এবং হাতের কড়া দিয়ে এক ছাত্রকে আঘাত করা হয়। ছাত্ররা কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নিতে গেলে তাদের পেছনে ধাওয়া করে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে গালিগালাজ করা হয়। এ ঘটনার পর ‘ফ্রেটারনিটি মুভমেন্ট’ দাবি করেছে, এ হামলার নেপথ্যে হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা যুক্ত রয়েছে। আহত ছাত্রদের প্রথমে পেরামব্রা তালুক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের কোঝিকোড় মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার বিচার চেয়ে শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন এবং অন্যান্য উচ্চতর মহলে পিটিশন দাখিল করবেন। সিয়াসত ডেইলি।
হজ পালনে আরো কড়াকড়ি আরোপ সৌদির
চলতি হজ মৌসুম ঘিরে সৌদি আরব কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এখন থেকে কোনো ভিজিট ভিসা দিয়ে হজ পালন করা যাবে না বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পবিত্র মক্কা নগরীতে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জিলকদ মাসের শুরু থেকে জিলহজ মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত কেবল হজের আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র (পারমিট) থাকলেই মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোয় প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যাবে। এ সময়ের মধ্যে অনুমতি ছাড়া কেউ মক্কায় প্রবেশ করলে বা সেখানে অবস্থান করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অবৈধভাবে হজ পালনের চেষ্টার শাস্তি হিসেবে বড় অংকের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। যথাযথ পারমিট ছাড়া ভিজিট ভিসাধারীরা মক্কা বা পবিত্র স্থানে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ২০ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া যেসব প্রবাসী বা ভিজিট ভিসাধারী হজ পালনের চেষ্টা করবেন, তাদের সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্ট) করা হবে। পাশাপাশি পরবর্তী ১০ বছর তাদের সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হবে। এই কঠোর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ওমরা যাত্রীদের সৌদি আরব ত্যাগের সময়সীমাও কার্যকর করা হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল শনিবার ছিল ওমরাহ যাত্রীদের জন্য দেশত্যাগের শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের পর দেশটিতে অবস্থান করাকে আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদি কোনো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি ওমরা যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় অবস্থানের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জিলকদ মাসের শুরু থেকে জিলহজ মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত নুসুক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওমরা পারমিট দেওয়া বন্ধ থাকবে। নাগরিক, প্রবাসী এবং জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম কার্যকর হবে। মূলত এ সময়ে কেবল হজের অনুমতিপত্র থাকা ব্যক্তিদের জন্যই মক্কায় প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা হয়েছে। সৌদি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় বলছে, বিশ্বের অন্যতম বড় এই জমায়েতে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এই অপারেশনাল প্ল্যান হাতে নেওয়া হয়েছে। এ বছর প্রচারণার মূল স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘অনুমতি ছাড়া কোনো হজ নয়’। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। গালফ নিউজ।
ইসরাইলের সঙ্গে ইইউর চুক্তি বাতিলের আহ্বান স্পেনের
ইসরাইলের সঙ্গে বিদ্যমান অ্যাসোসিয়েশন এগ্রিমেন্ট বা অংশীদারিত্ব চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ছিন্ন করার জন্য স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) অনুরোধ জানাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আন্দালুসিয়ায় এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। সানচেজ স্পষ্ট করে বলেন, একটি সরকার যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক নীতি ও মূল্যবোধের তোয়াক্কা করে না, তারা কোনোভাবেই ইইউ-র অংশীদার হতে পারে না। গত ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার লুমেক্সবার্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে স্পেন এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য সদস্য দেশগুলোকেও স্পেনের এই প্রস্তাব সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, ইসরাইলি জনগণের বিরুদ্ধে স্পেনের কোনো বিদ্বেষ নেই, তবে বর্তমান ইসরাইলি সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সঙ্গে তারা একমত নন। সানচেজ বর্তমান ইরান-ইসরাইল যুদ্ধকে একটি ‘বিরাট ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ইউরোর অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। যুদ্ধের সূচনাকারীদের প্রতি অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে থামানোর জোর দাবি জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে স্পেন এবং আয়ারল্যান্ড প্রথমবার ইসরাইলের সঙ্গে করা এই চুক্তিটি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছিল। ইইউ-ইসরাইল চুক্তির আওতায় একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং অন্যান্য সুবিধা বিদ্যমান থাকলেও এতে মানবাধিকার রক্ষার একটি বাধ্যতামূলক শর্ত রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ইইউ এই চুক্তিটি পর্যালোচনায় সম্মত হয় এবং এর এক মাস পর ইউরোপীয় কমিশন জানায় যে ইসরাইল মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করতে পারে এমন ‘লক্ষণ’ পাওয়া গেছে। তবে তখন কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়নি। সম্প্রতি মাদ্রিদ আবারও আয়ারল্যান্ড এবং সেøাভেনিয়ার সঙ্গে মিলে এই চুক্তি বাতিলের আলোচনাটি নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্পেনের এই কঠোর অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে ইসরাইল ইস্যুতে নতুন করে মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সানচেজের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ফলে ইউরোপের অর্থনীতি ও জননিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সানচেজ বিশ্বাস করেন, কেবল অর্থনৈতিক অবরোধ বা কূটনৈতিক চাপই পারে ইসরাইলি সরকারকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে। লুমেক্সবার্গের বৈঠকে স্পেনের এই প্রস্তাব কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়, তার ওপরই নির্ভর করছে ইইউ-ইসরাইল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। আনাদোলু এজেন্সি।
ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারির অভিযোগ
যুক্তরাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি চালাতে একটি প্রাইভেট নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দিয়েছেÑ এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এক যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১২টি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় একটি নিরাপত্তা ফার্মকে নিয়োগ দিয়েছিল, যারা শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন কার্যক্রম এবং ক্যাম্পাস আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠানটি সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ‘ঝুঁকি বিশ্লেষণ’ ও ‘প্রতিবাদ কার্যক্রম মনিটরিং’ করত। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু শিক্ষার্থী ও একাডেমিকদের নামও নজরদারি রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, কিং’স কলেজ লন্ডন এবং ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর নামও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শিক্ষা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ঘটনাকে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। ঘটনাটি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বনাম মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। আল-জাজিরা।
ফের উত্তর কোরিয়ার শক্তি প্রদর্শন
উত্তর কোরিয়া আবারও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নিজে উপস্থিত থেকে এই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তার মেয়ে কিম জু আয়ে-ও এ সময় সঙ্গে ছিলেন। চলতি মাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো একই ধরনের পরীক্ষা, যা কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। গত ২০ এপ্রিল সোমবার উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, দেশটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য হুয়াসং-১১ সিরিজের পাঁচটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ক্লাস্টার বোমা ও ফ্র্যাগমেন্টেশন মাইন বহনে সক্ষম এবং একটি নির্ধারিত দ্বীপ লক্ষ করে আঘাত হানে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, উপকূলীয় একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে কিম জং উন ও তার মেয়ে উৎক্ষেপণ কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কিম জু আয়ের নিয়মিত উপস্থিতি তাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তুলে ধরার একটি ইঙ্গিত হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা নেই। কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উচ্চ ঘনত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। কিম জং উন এই সক্ষমতায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে আঘাতের কার্যকারিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও উত্তর কোরিয়া একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পর্যবেক্ষণে সম্প্রতি যে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য উঠে এসেছে, সেটিই এই পরীক্ষার অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ক্লাস্টার ওয়ারহেড বা ক্লাস্টার বোমা আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে বিস্তৃত এলাকায় অসংখ্য ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে দেয়। এতে বড় এলাকাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এগুলো ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক মহলে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাতগুলোর প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া তার সামরিক সক্ষমতা আরও দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরতে চাইছে। এর মাধ্যমে দেশটি কৌশলগত বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শক্তি জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার এ ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কোরীয় উপদ্বীপে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানাচ্ছে। এপি, আইসিআরসি।
বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারি
হুথি আন্দোলনের নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মার্কিন নীতি ও শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, হুতিদের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আল-এজ্জি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘সানা যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে মানুষ বা জিনÑ কারও পক্ষেই তা আবার খোলা সম্ভব হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সহযোগীদের উচিত শান্তি বিনষ্টকারী সব নীতি ও কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করা। পাশাপাশি ইয়েমেনি জনগণের অধিকারকে সম্মান করার আহ্বান জানান তিনি। বাব আল-মান্দেব প্রণালী লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ হিসেবে বিবেচিত। এই পথ দিয়েই জাহাজগুলো সুয়েজ খালের দিকে অগ্রসর হয়। ভৌগোলিকভাবে এটি অত্যন্ত সংকীর্ণ একটি এলাকা, যেখানে প্রস্থ মাত্র প্রায় ২৯ কিলোমিটার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। কারণ বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথগুলোর একটি এটি, যা ইউরোপ-এশিয়া বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে কাজ করে। হুথিদের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন লোহিত সাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ওই এলাকায় নৌযান চলাচল নিয়ে উত্তেজনা ও হামলার ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন দেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দ্য ডন।
মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ হাজার বাড়ি ভস্মীভূত
মালয়েশিয়ার একটি উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় এক হাজার বাড়িঘর ভস্মীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় নয় হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় গত রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোরে বোর্নিও দ্বীপের সান্দাকান জেলায় এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। এরপর কাঠের তৈরি সারিবদ্ধ ঘরগুলোয় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে দেশটির দমকল ও জরুরি উদ্ধার বিভাগ। কর্মকর্তারা বলেন, প্রচণ্ড বাতাস এবং ঘরগুলোর পাশাপাশি অবস্থানের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া যাতায়াতের পথ দুর্গম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি সেবাকর্মীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও হাজার হাজার বাসিন্দা ঘরছাড়া হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। সমুদ্র উপকূলে অনানুষ্ঠানিকভাবে গড়ে ওঠা এই বসতিকে ‘ওয়াটার ভিলেজ’ বলা হয়। এই গ্রাম মালয়েশিয়ার দরিদ্রতম রাজ্য সাবাহর উপকূলজুড়ে বিস্তৃত। দারিদ্র্যের কারণে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি করে থাকে। এখানকার বেশির ভাগ ঘরই মৌলিক অবকাঠামোবিহীন এবং একটার সাথে আরেকটা প্রায় লাগোয়া। গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দাই নিম্নআয়ের বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর, যার মধ্যে আদিবাসী গোষ্ঠী এবং নাগরিকত্ববিহীন মানুষও রয়েছে। গ্রামের প্রধান শরিফ হাশিম শরিফ ইতিং ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকাকে বলেন, রান্নার আগুন থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থাগুলো ত্রাণ বিতরণ করছে এবং তাৎক্ষণিক নানা সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। গত কয়েক বছরে সাবাহর ‘ওয়াটার ভিলেজ’গুলোয় বারবার অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই স্বীকার করেছে যে এসব বসতি আগুন ছড়িয়ে পড়ার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এখনো একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবেই রয়ে গেছে। এপি/ইউএনবি।
অদ্ভুত সংকটে ইয়েমেন
ইয়েমেনি রিয়ালের মান পতন ঠেকাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়েছে। তবে সেই সাফল্যের পরই সামনে এসেছে নতুন এক সংকট, তীব্র তারল্য সংকট। দক্ষিণ ইয়েমেনের এডেনভিত্তিক কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবৈধ মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিয়েছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রাবাজারে কারসাজির অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সকে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে এবং আমদানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে কয়েক মাস আগে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ২ হাজার ৯০০ রিয়াল থেকে দর নেমে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রিয়ালে এসেছে। শুরুতে এতে স্বস্তি ফিরলেও এখন বাজারে স্থানীয় মুদ্রার অভূতপূর্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত এডেন, তাইজ, মুকাল্লাসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মার্কিন ডলার বা সৌদি রিয়াল থাকলেও স্থানীয় ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো তা ভাঙাতে চাইছে না। কোথাও কোথাও জনপ্রতি দিনে মাত্র ৫০ সৌদি রিয়াল পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কালোবাজারি বাড়ছে, যেখানে কম দরে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা হচ্ছে। মুকাল্লার মুদি দোকানদার মোহাম্মদ ওমর বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া কয়েকশ সৌদি রিয়াল ভাঙাতে তিনি পুরো শহর ঘুরেছেন। ৫০ বছর বয়সী ওমর বলেন, এক এক্সচেঞ্জ থেকে আরেক এক্সচেঞ্জে গিয়েছি, কিন্তু ৫০ রিয়ালের বেশি কেউ ভাঙাতে রাজি হয়নি। বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। সৌদি সমর্থিত সরকার ও ইরানপন্থী হুথিদের মধ্যে এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণে ইয়েমেন চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। রাজস্ব উৎসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উভয় পক্ষই অর্থ সংকটে ভুগছে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও মৌলিক সেবা খাতে অর্থায়নেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সরকারি কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের বেতন মূলত ১০০ রিয়ালের ছোট নোটে দেওয়া হচ্ছে। ফলে পুরো বেতনের টাকা ব্যাগে করে বহন করতে হচ্ছে। লাহজের এক সরকারি কর্মচারী মুনিফ আলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিওতে বড় বড় নোটের বান্ডিল দেখিয়ে জানান, ব্যবসায়ীরা এত ছোট নোট নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। প্রবাসী আয় পাওয়া পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। হাজরামাউতের সালেহ ওমর জানান, সৌদি আরব থেকে পাওয়া ১ হাজার ৩০০ রিয়াল ভাঙাতে না পেরে তিনি দোকানদারদের সাহায্য চান। অনেক অনুরোধের পর এক দোকানদার ৪০০ রেটে মাত্র ৫০০ রিয়াল ভাঙাতে রাজি হন, যেখানে অফিসিয়াল রেট ছিল ৪১০। নগদ সংকট চিকিৎসা সেবাকেও প্রভাবিত করছে। আল-জাজিরা।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ওবামার প্রচারণা
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভার্জিনিয়ার ভোটারদের একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ওবামা বলেন, ‘হ্যাঁ ভোট দিয়ে আপনারা রিপাবলিকানদের অন্যায্য সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে পারেন। এটি মাঠ সমান করার একটি সাময়িক পদক্ষেপ।’ ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এই গণভোটে সিদ্ধান্ত হবে, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত আইনসভা নতুন করে কংগ্রেশনাল মানচিত্র (রিডিস্ট্রিক্টিং) আঁকতে পারবে কি না। ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবটি পাস হলে চারটি কংগ্রেশনাল আসনের সীমানা এমনভাবে পরিবর্তন করা হবে, যাতে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধা পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের বর্তমান সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রেক্ষাপটে এটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ২০২৫ সালে রিপাবলিকানদের পক্ষে নয়টি আসন পুনর্বিন্যাসের জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে বিরোধীরা এটিকে ‘অন্যায্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জেন কিগগান্স বলেন, ‘ভার্জিনিয়া একটি বৈচিত্র্যময় রাজ্য। একটি দল যদি নিজেদের মতো করে সবকিছু চাপিয়ে দিতে চায়, তার ফল ভালো হবে না।’ ২০২৪ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভার্জিনিয়ায় ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যকেই তুলে ধরে। গণভোট ঘিরে প্রচারণায় ‘হ্যাঁ’ পক্ষ অর্থ ব্যয়ে এগিয়ে রয়েছে। তাদের পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন হলিউড তারকা ক্যারি ওয়াশিংটন ও সংগীতশিল্পী জন লিজেন্ডের মতো তারকারা। তবে সব ডেমোক্র্যাটই একমত নন। কিছু ভোটার মনে করছেন, এভাবে নির্বাচনী মানচিত্র পরিবর্তন করা ন্যায্য নয়। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবটির পক্ষে, আর ৪৭ শতাংশ বিপক্ষে যা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এবিসি নিউজ।
বিচারক বরখাস্ত করেও ফিলিস্তিনপন্থী সেই তুর্কি গবেষককে থামাতে ব্যর্থ ট্রাম্প
গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক ক্যাম্পাসগুলোয় ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে মার্কিন অভিবাসন এজেন্টদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া টাফটস ইউনিভার্সিটির সেই স্নাতক শিক্ষার্থী মার্কিন সরকারের সাথে একটি সমঝোতার পর তার নিজ দেশ তুরস্কে ফিরে গেছেন। রুমেইসা ওজতুর্কের আইনজীবীরা গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার এ চুক্তির কথা ঘোষণা করেন। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে, গত জানুয়ারিতে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) তাকে ডিপোর্ট বা বিতাড়িত করার যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করায় একজন অভিবাসন বিচারককে বরখাস্ত করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসন সেই বিচারকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিল’-এ আবেদন করেছিল, যা মার্কিন বিচার বিভাগের একটি অংশ। এছাড়া, ২০২৫ সালের মে মাসে ওজতুর্ককে অভিবাসন হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়ার অন্য এক বিচারকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফেডারেল আপিল আদালতে করা সরকারি আবেদনের রায়ের অপেক্ষায় ছিল প্রশাসন। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)-এর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শুক্রবারের এই সমঝোতার মাধ্যমে সকল আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটেছে। এর ফলে ওজতুর্ক গত ফেব্রুয়ারিতে ম্যাসাচুসেটসের টাফটস ইউনিভার্সিটি থেকে চাইল্ড স্টাডি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টে পিএইচডি শেষ করার পর কোনো বাধা ছাড়াই তুরস্কে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেলেন। কর্তৃপক্ষ তার মার্কিন ভিসা বাতিলের একমাত্র কারণ হিসেবে ২০২৪ সালে টাফটস স্টুডেন্ট নিউজপেপারে তার যৌথভাবে লেখা একটি সম্পাদকীয়কে উল্লেখ করেছিল। ওই লেখায় গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়েছিল। সাবেক ফুলব্রাইট স্কলার ওজতুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে একটি উপ-সম্পাদকীয়তে স্বাক্ষর করার অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রে আমি যে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও শত্রুতার শিকার হয়েছি, তাতে আর সময় নষ্ট না করে আমি একজন নারী গবেষক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ অন্যদিকে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা ওজতুর্ককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বেচ্ছায় চলে যেতে দেখে খুশি। সংস্থাটি আরও যোগ করে যে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও কাজ করার ভিসা পাওয়া একটি সুযোগ, কোনো অধিকার নয়। তবে এসিএলইউ জানিয়েছে, শুক্রবারের সমঝোতায় মার্কিন সরকার স্বীকার করে নিয়েছে যে, ওজতুর্ক যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সবসময়ই বৈধ আইনি অবস্থানে ছিলেন। ওজতুর্কের এই মামলাটি ফিলিস্তিনপন্থী মতাদর্শী অ-মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীদের আটক ও বিতাড়িত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল করার পর ম্যাসাচুসেটসের একটি রাস্তা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং লুইজিয়ানার একটি ডিটেনশন সেন্টারে ৪৫ দিন আটকে রাখা হয়েছিল। দ্য নিউ আরব।
ইসরাইল-গ্রিস-সাইপ্রাস জোট নিয়ে শঙ্কায় মুসলিম বিশ্ব : ফিদান
ইসরাইল, গ্রিস ও সাইপ্রাসের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। গত ১৯ এপ্রিল রোববার দক্ষিণ তুরস্কে আয়োজিত আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এই জোটকে ঘিরে অঞ্চলটির মুসলিম দেশগুলো উদ্বিগ্ন। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের। ফিদান উল্লেখ করেন, উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার (ন্যাটো) সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এই জোটে যোগ দিয়েছে গ্রিস। তিনি বলেন, ‘এই জোটের উদ্যোগটি যে আমাদের বিরুদ্ধে নয়, এমন কোনো আশ্বাস আমাদের আগে বা পরে কেউ দেয়নি।’ তিনি আরো বলেন, গত বছর ইসরাইলে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী ও সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে দেওয়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ডিসেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যারা মনে করে তারা আবার তাদের সাম্রাজ্য বা আমাদের ভূমির ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবেÑ তাদের বলছি, সেটা ভুলে যান। এটা কখনোই হবে না।’ যা স্পষ্টতই তুরস্ককে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল। মিডল ইস্ট আই।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান