টিকাদানে ঘাটতি ও ডোজ সম্পন্ন না করায় বেড়েছে হাম


২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৬

৩৬ দিনে নিশ্চিত হামে ৩৮ শিশুর মৃত্যু
উপসর্গে প্রাণ হারান আরও ১৮৫ শিশু
সন্দেহজনক আক্রান্ত প্রায় ২৬ হাজার

স্টাফ রিপোর্টার : হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে প্রাণহানি। খালি হচ্ছে মায়ের বুক। গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৩৮ জন শিশু। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারায় আরও ১৮৫ শিশু। সব মিলিয়ে ২২৩ শিশু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে, যা কেনোভাবেই কাম্য নয়। ঢাকাসহ সারা দেশের প্রায় সব হাসপাতালেই হাম আক্রান্ত রোগীতে ভরপুর।
হঠাৎ হাম বাড়ার কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম বাড়ার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ দায়ী: প্রথমত, টিকাদানে ঘাটতি: নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই (EPI Program) থেকে অনেক শিশু বাদ পড়ায় তাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। দ্বিতীয়ত, অসম্পূর্ণ ডোজ: অনেক ক্ষেত্রে টিকার প্রথম ডোজ নিলেও দ্বিতীয় ডোজ (Missing second dose) না নেওয়ায় শিশুরা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তৃতীয়ত, ঘনবসতি ও অপুষ্টি: ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং পুষ্টিহীনতার কারণে ভাইরাসের বিস্তার (Virus transmission) দ্রুত ঘটছে।
হাম কেন বিপজ্জনক
হাম কেবল সাধারণ জ্বর বা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি (Skin rash) নয়; এটি শিশুদের শরীরে স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। যেমন: তীব্র নিউমোনিয়া (Severe Pneumonia): যা থেকে শ্বাসকষ্ট ও মৃত্যু হতে পারে। মস্তিষ্কের প্রদাহ (Encephalitis): যা শিশুর স্নায়বিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে। বধিরতা ও অন্ধত্ব (Deafness and Blindness): কানের সংক্রমণ বা চোখের জটিলতা থেকে এটি হতে পারে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার মনে করেন, হাম বাড়ার প্রধান কারণ হলো টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি। অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই থেকে বাদ পড়ে যাওয়ায় তাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। এ ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং অপুষ্টির কারণেও ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত ঘটে। টিকা না নেওয়া বা অসম্পূর্ণ ডোজ নেওয়ার ফলে একটি বড় জনগোষ্ঠী ঝুঁকির মুখে থাকে, যা প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ।
প্রসঙ্গত, গত ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তাতে দেখা গেছে, দেশে গত ২০ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ২১ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের লক্ষণ নিয়ে তিনজন মারা গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে একজন আর লক্ষণ নিয়ে দুজন মারা গেছে। বুলেটিনে বলা হয়েছে, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ শিশুর। এছাড়া হামের লক্ষণ নিয়ে ১৮৫ জন মারা গেছে। গত ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৮৪ শিশু ঢাকায় মারা গেছে। আর রাজশাহী বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৬৬ শিশুর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৮৮ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময়ে ১ হাজার ১৫৯ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে, যাদের মধ্যে ৯১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত এক দিনে হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৯ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোয়। আর সবচেয়ে কম চারজন ভর্তি হয়েছে রংপুরে। দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৩৫ জন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৮০৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।