পুরনো ব্যবস্থায় দেশ চলতে পারে না : এটিএম আজহার এমপি


২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:২৬

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে গত ১৮ এপ্রিল শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মজলুম জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, দলীয় পেটোয়া বাহিনী দিয়ে জনগণকে দমিয়া রাখা যায় না, যাবে না। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে প্রয়োজন জনসমর্থন।
তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, সংসদে আপনাদের চেয়ে বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল আওয়ামী লীগের। কিন্তু জনগণের বিপক্ষে গিয়ে আওয়ামী লীগও ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। গণভোটের রায় মেনে না নিয়ে আপনারাও জনগণের বিপক্ষে গেলে ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না। জনগণ যদি রাজপথে নামে তবে রক্ষা পাওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও বিএনপি মানতে রাজি হয়নি, পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মেনে নিয়েছে। জুলাই সনদও বিএনপি মানতে চাচ্ছে না, তবে আন্দোলনের মুখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য হতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর গণতন্ত্রের পরিবর্তে জিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় বসেই রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠান দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে দখল করে নিয়েছে। মানুষকে তেলের জন্য সরকার সিরিয়ালে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সেই সিরিয়ালে দিনের অর্ধেক শেষ হয়ে যায়। সকালে সিরিয়ালে দাঁড়ালে বিকেলে বলে তেল নেই, আবার সন্ধ্যা এসে লাইনে দাঁড়ালেও বলে তেল নেই। কিন্তু জ্বালানিমন্ত্রী বলছেন, তেলের সংকট নেই। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যাবে একাত্তর ও চব্বিশের জুলাইযোদ্ধাদের চেতনায়, শহীদ ওসমান হাদির চেতনায়। জিয়াতন্ত্র দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, দলীয়করণ বন্ধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না হলে বাঙ্কারে ঢুকেও রক্ষা পাওয়া যাবে না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের আচরণ দেখে মনে হয় না, চব্বিশের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে কোনো পরিবর্তন হয়েছে। সরকারের আচরণে মনে হয় না, নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। হাসিনার সরকারের মতোই বর্তমান সরকার গণবিরোধী সরকারের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে।
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, জুলাইযোদ্ধারা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রক্ত দিয়েছেন। কিন্তু যারা আজ ক্ষমতায় বসেছেন, তারা জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করে নব্য ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার দিকে ছুটছে।
জাতীয় গণতন্ত্রি পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, গ্রামাঞ্চলে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের ভোগান্তি, তেলের সংকট। কিন্তু সরকারের জ্বালানিমন্ত্রী দাবি করছেন, দেশে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। তাহলে সেই তেল কোথায় রাখা হয়েছে প্রশ্ন রাখেন তিনি। রাশেদ প্রধান বলেন, নতুন করে হাওয়া ভবন তৈরি করা হয়েছে। তিনি কোনো হুমকি-ধমকিতে ভীতু নয়। ইনসাফের পথে লড়াই অব্যাহত থাকবে।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি উপস্থিত সর্বসাধারণকে গণমিছিলে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজকের গণমিছিল হবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে। এখান থেকে সরকারকে আমরা বার্তা দিতে চাই- শান্তিপূর্ণভাবে জনরায় মেনে নিন। দেশকে সংকট ও সংঘর্ষের দিকে ঠেলে না দিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরে এক বিশাল গণমিছিল বিজয়নগর-কাকরাইল- নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে শান্তিনগর গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে হাজার-হাজার ছাত্র-জনতা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।