সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৫
পশ্চিমবঙ্গে চরম দারিদ্র্যের শিকার মুসলিমরা
পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের নিম্ন প্রতিনিধিত্ব এবং শোচনীয় আর্থসামাজিক অবস্থার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। গত ৫ এপ্রিল রোববার পাটনায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অধীনে মুসলমানরা সরকারি ক্ষেত্রে উপেক্ষিত এবং তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। তিনি রাজ্য সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বকে ‘অসন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং সংখ্যালঘুদের অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে গৃহীত নীতিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের উর্দুতে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ওয়াইসি বলেন, এ পদক্ষেপ দলটির ‘দ্বিমুখী চরিত্র’ প্রতিফলন করে। তিনি বলেন, ‘একদিকে তার দল উর্দুতে ইশতেহার প্রকাশ করছে; অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চাকরিতে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত হতাশাজনক।’ এআইএমআইএম প্রধান উল্লেখ করেন, রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশ মুসলিম হলেও সরকারি চাকরিতে তাদের হার মাত্র ৭ শতাংশ, যা ন্যায়সঙ্গত প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। ওয়াইসি আরও দাবি করেন যে, মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো অঞ্চলের মুসলমানরা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এ সম্প্রদায়ের মধ্যে স্কুলছুটের হার অনেক বেশি; বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে এবং শিক্ষার হারও অত্যন্ত নিম্নমুখী। সাম্প্রতিক একটি আইনি প্রসঙ্গের অবতারণা করে তিনি বলেন, গত বছর কলকাতা হাইকোর্ট প্রায় ৫ লাখ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করেছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ লাখই ছিল মুসলমানদের। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ওয়াইসির এ মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোট গ্রহণ করা হবে এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে। এ নির্বাচনে এআইএমআইএম তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-এর সাথে জোট বেঁধেছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাজেট অধিবেশন পুনরায় ডাকার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারেরও সমালোচনা করেন এ নেতা। লোকসভা আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করার বিল পাসের মাধ্যমে নারী সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিল ২৯ এপ্রিলের পর আনা উচিত ছিল, কারণ বর্তমানে অনেক সংসদ সদস্য নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত। ওয়াইসি বলেন, ‘১৬ এপ্রিল বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার দিন হঠাৎ করে আমাদের হাতে বিলটি তুলে দেওয়া হবে। সংসদে পেশ করা বিলগুলো পড়ে মতামত দেওয়ার জন্য আমাদের সময়ের প্রয়োজন।’ এটি বিজেপির চিরাচরিত কার্যপদ্ধতি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। আজকাল।
‘ট্রাম্প উন্মাদ, ব্যবস্থা নিন’, জাতিসংঘকে এল-বারাদি
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ এল-বারাদি পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহ এবং জাতিসংঘকে ইরানের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরবি ভাষায় ট্রাম্পকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলকে ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এখনই সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। পৃথক এক ইংরেজি পোস্টে তিনি সরাসরি জাতিসংঘের প্রতি প্রশ্ন তুলে জানতে চান, এ সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি থামাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির কিছুই করার নেই? উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময়ও মার্কিন অবস্থানের বিরোধিতা করেছিলেন এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক। সে সময় তার অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এল-বারাদি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। তার মতে, এমন পদক্ষেপের ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ। তিনি আরও বলেন, তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন না করেই যুক্তরাষ্ট্র যে আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে নোবেলজয়ী এই কূটনীতিকের কড়া বার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আল-জাজিরা।
নিরস্ত্রের শর্ত প্রত্যাখ্যান হামাসের
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সশস্ত্র শাখা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিরস্ত্র হওয়ার দাবি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গোষ্ঠীটির দাবি, গাজায় ইসরাইলি ‘গণহত্যা’ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই এ প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। এক টেলিভিশন ভাষণে হামাসের সশস্ত্র শাখার মুখপাত্র আবু ওবাইদা বলেন, গাজা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ ইসরাইল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার আগে অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে আলোচনা করা হবে না। তিনি এই দাবিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে যাওয়ার একটি প্রকাশ্য প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন। গাজায় যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৭০৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা। আবু ওবাইদা বলেন, শত্রুরা আজ আমাদের মধ্যস্থতাকারী ভাইদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ওপর যা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা কোনো অবস্থাতেই এটি মেনে নেব না। তিনি মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানান যাতে ইসরাইল চুক্তির প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতিগুলো আগে পূরণ করে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ভাষণে ওবাইদা ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার তীব্র নিন্দা জানান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে এ পর্যন্ত ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার নামে প্রতারণা করে যুক্তরাষ্ট্রের যোগসাজশে এ হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া ২ মার্চ থেকে লেবাননে শুরু হওয়া ইসরাইলি অভিযানেরও নিন্দা জানান তিনি। লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সেখানে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখায় ইরান, হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতিদের প্রশংসা করেন ওবাইদা। ইসরাইলি পার্লামেন্টে শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য কার্যকর হওয়া নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনেরও কঠোর সমালোচনা করেন হামাস মুখপাত্র। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিম তীরের জনগণকে ইসরাইলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্ত করার জন্য সম্ভাব্য সব উপায় অবলম্বনের আহ্বান জানান। আল-জাজিরা।
তেল উৎপাদন বাড়াতে সম্মত ওপেক প্লাস
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালী। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অন্যতম এই জলপথ খুললেই তেলের উৎপাদন বাড়াবে ওপেক প্লাস সংগঠনের সদস্য দেশগুলো। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, সম্প্রতি বৈঠক করেছে ওপেক প্লাসের সদস্যরা। বৈঠকে মে মাসের জন্য তাদের তেল উৎপাদন কোটা দৈনিক দুই লাখ ছয় হাজার ব্যারেল বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে, এই বৃদ্ধি মূলত কাগজে-কলমেই থাকবে। কারণ ইরানের যুদ্ধের জেরে ওপেক প্লাসের সদস্যরা উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম নয়। যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম তেল সরবরাহের রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে। এর জেরে গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ওপেক প্লাসের সদস্য সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের জ্বালানি রফতানি অনেকাংশে কমে গেছে। চলমান এই যুদ্ধের জেরে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের দাম ১২০ ডলারেও গিয়েছে, যা ছিল সবশেষ চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে পরিবহন জ্বালানির দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ও ব্যবসার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকারগুলোকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে। ওপেক প্লাস সদস্যদের দৈনিক দুই লাখ ছয় হাজার ব্যারেল জ্বালানি উৎপাদন হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে ব্যাহত সরবরাহের দুই শতাংশেরও কম প্রতিনিধিত্ব করে। ওপেক প্লাস সূত্রগুলো জানিয়েছে, জলপথটি পুনরায় চালু হলে উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয় এটি। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি এসপেক্টস এই বৃদ্ধিকে ‘তাত্ত্বিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রণালীতে সমস্যা থাকবে ততক্ষণ জ্বালানি উৎপাদন বাড়িয়ে লাভ হবে না। ওপেকের সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে রায়স্টার্ড এনার্জিতে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করা জোর্জে লিয়ন বলেন, ‘বাস্তবে এটি বাজারে খুব অল্প পরিমাণ তেলই যোগ করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর কোনো মানে নেই।’ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রবিবার অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে জোটের আট সদস্য মে মাসের কোটা বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে। তবে তারা জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো বাদেও রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশও উৎপাদন বাড়াতে পারছে না। মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তৈরি হওয়া অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে তারা চাইলেও তেল উৎপাদন বাড়াতে পারছে না। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে জ্বালানি অবকাঠামোগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধ থেমে গেলে এবং হরমুজ অবিলম্বে পুনরায় খোলা হলেও জ্বালানি উৎপাদনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে ও উৎপাদন লক্ষ্য অর্জন করতে কয়েক মাস লাগবে। গত ৫ এপ্রিল রোববার আরেকটি ওপেক প্লাস প্যানেল, যা যৌথ মন্ত্রিসভা পর্যবেক্ষণ কমিটি নামে পরিচিত, জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেক প্লাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব স্থাপনাকে মেরামত করা ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ, যার ফলে সরবরাহের ওপর প্রভাব পড়ে। এদিকে ইরাকে তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়াতে সায় দিয়েছে ইরান। রোববার শিপিং ডেটা দেখিয়েছে, ইরাকের কাঁচা তেল ভর্তি একটি ট্যাঙ্কার প্রণালী দিয়ে যাচ্ছে। তবে, বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ ভবিষ্যতে আরও জাহাজ এই ঝুঁকি নেওয়ার জন্য এগুবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। রয়টার্স।
পরবর্তী প্রজন্ম ধ্বংসের শঙ্কায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। এই হামলাকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে তেদরোস বলেন, ‘এই হামলা একটি কঠোর অনুস্মারক যে, একটি মাত্র আঘাত পারমাণবিক দুর্ঘটনার সূত্রপাত করতে পারে। এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মগুলোকে পর্যন্ত ধ্বংস করে দিতে পারে।’ তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সংঘাতের প্রতিটি দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে এই ঝুঁকি ও হুমকির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের খুব কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে স্থাপনাটির একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। বুশেহর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ইরানের একমাত্র সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি বুশেহর শহরে অবস্থিত, যেখানে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বসবাস করেন এবং এটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সামরিক কেন্দ্র। এদিকে গত ৫ এপ্রিল রোববার মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও সাবেক মার্কিন আলোচক সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনায় আরও তীব্র হামলা চালায়, তাহলে কেবল ইরান নয়, পারস্য উপসাগরের অপর পাড়ে অবস্থিত দেশগুলোও তেজস্ক্রিয় বিকিরণের সম্মুখীন হতে পারে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশিষ্ট ডিপ্লোম্যাটিক ফেলো এবং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অন্যতম আলোচক অ্যালান আইর বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত ভয়াবহ ঘটনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি বুশেহরে কোনো পারমাণবিক লিকেজ ঘটে, তাহলে পারস্য উপসাগরের অন্য প্রান্তের দেশগুলোই প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি যেমন বায়ুমণ্ডলীয় বিকিরণের ক্ষেত্রে সত্য, তেমনি পানির তেজস্ক্রিয়তার ক্ষেত্রেও, যা তাদের লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’ আইর উল্লেখ করেন, উপসাগরের বর্তমান বাতাস ও জোয়ারের গতিপ্রকৃতি তেজস্ক্রিয় কণাগুলোকে ইরানের দিক থেকে পশ্চিম দিকে অর্থাৎ আরব দেশগুলোর দিকে ছড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘গবেষণা ও বিশেষজ্ঞরা দেখিয়েছেন যে, পশ্চিমে প্রবাহিত তেজস্ক্রিয় পদার্থের ঘনত্ব চেরনোবিলের মতো জীবন বিপন্ন করার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। কিন্তু পানির মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার হুমকিটি অনেক বেশি গুরুতর।’ তার মতে, ‘একবার যদি পানিতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা পানি বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়াকে অসম্ভব করে তুলবে। আর আমরা জানি, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের পানির চাহিদার জন্য প্রায় সম্পূর্ণভাবে এই বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টগুলোর ওপর নির্ভরশীল।’ আল-জাজিরা।
ইউনিফর্ম সিভিল কোড মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে : অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড
ভারতের গুজরাট বিধানসভায় সদ্য পাস হওয়া ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বিল এবং উত্তরাখণ্ডে ইতোমধ্যে কার্যকর হওয়া ইউসিসি আইনকে সাংবিধানিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড। ল’ বোর্ড এই পদক্ষেপগুলোকে আইনগতভাবে অযোগ্য, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কঠোর সমালোচনা করেছে। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের এই অবস্থান তুলে ধরে। বোর্ড আরো জানায়, এই আইনটি ভারতের সংবিধানের ২৫-২৮ অনুচ্ছেদের অধীনে গ্যারান্টিযুক্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে। ল’ বোর্ডের অভিযোগ, এই ইউসিসির মাধ্যমে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলমানদের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নিয়ম জোর করে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, যা অগ্রহণযোগ্য। সংগঠনটি দাবি করেছে যে, ‘দেওয়ানি বিধি’ একটি নির্দেশমূলক নীতি, যা সরাসরি কার্যকর করার জন্য মৌলিক অধিকারকে অগ্রাহ্য করা যায় না। বোর্ড অভিযোগ করেছে, গুজরাট সরকার কোনো স্বচ্ছতা ছাড়াই এই বিল পাস করেছে এবং সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহের জন্য গঠিত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। যদিও এটিকে ‘ইউনিফর্ম’ বা অভিন্ন বলা হচ্ছে, কিন্তু গুজরাট বিলটিতে তফসিলি উপজাতিদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, যা বোর্ডের মতে একে বাস্তব ইউসিসি করে তোলে না। তফসিলি উপজাতিরা চলবেন তাদের নিজস্ব আইন, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় নীতি মেনে। ইউসিসির আওতায় তারা আসবেন না। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড গুজরাটের ইউসিসি বিলটিকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের ক্ষেত্রেও তারা আইনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনি লড়াইয়ের কথা জানিয়েছে। যদিও এই রাজ্যে বিল পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে আগেই এবং বহু মুসলিম পরিবার এই আইনের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন। তবে ল’ বোর্ড আইনি লড়াই করবে- এমন সিদ্ধান্তে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। ইতোপূর্বে তালাক মামলায় ও কর্নাটকের হিজাব মামলায় ল’ বোর্ড আদালতে আইনি লড়াইয়ে শামিল হয়েছিল। হিজাব ও তালাক নিয়ে শরীয়াহ নির্দেশ কী রয়েছে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। এবার এই ইউসিসির মাধ্যমে সম্পূর্ণ শরীয়াহ আইনকে অকার্যকর করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভারতের কট্টর গেরুয়াপন্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রচলন। সেই পথেই অগ্রসর হচ্ছে তারা। সংসদে বিল আনলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হইচই পড়ে যেতে পারে- এই কথা মাথায় রেখে প্রথমে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো দিয়ে এই বিধি কার্যকর করা শুরু হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে প্রথম সাহস দেখাল উত্তরাখণ্ড সরকার। এই রাজ্যে বিল পাস হয়ে আইন তৈরি হয়ে গেল। তার বিষময় ফল ভোগ করতে হচ্ছে এই রাজ্যের মুসলিমদের। শরীয়াহ আইন অনুযায়ী বাবার সম্পত্তিতে কন্যার অধিকার বদল করে দেয়া হয়েছে। ১৮ বছরের নিচে মুসলিম কন্যার বিয়ে দিলে সাজার ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনই তালাক দিতে হবে কোর্টের মাধ্যমে। হিন্দু আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের মতো বছরের পর বছর ঝুঁলে থাকতে হতে পারে মুসলিম দম্পতিদেরও। সিয়াসত ডেইলি।
রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা
রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাল্টিক বন্দর এলাকায় তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন, যার ফলে সাময়িকভাবে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। গত রোববার (৫ এপ্রিল) ভোরে প্রিমোরস্ক বন্দরের কাছে একটি তেল পাইপলাইনে এই হামলা হয়। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় গভর্নর অ্যালেক্সজান্ডার ড্রোজেডেনকো জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাইপলাইনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে পরে সংশোধিত তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, পাইপলাইন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি; বরং একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কে আঘাত লাগার ফলে তেল ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। দেশটির ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রাভডি জানান, তারা ট্রান্সনেফট পরিচালিত প্রিমোর্স্ক বন্দর এবং লুকঅয়েলের একটি রিফাইনারিতেও আঘাত হেনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বাড়িয়েছে, যাতে মস্কোর তেল রপ্তানি থেকে আয় কমানো যায়। প্রিমোরস্ক বন্দরটি প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির সক্ষমতা রাখে, যা রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন থেকে অনেক দূরে ঘটলেও, এটি জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এএফপি।
যুক্তরাষ্ট্র-চীনের আধিপত্য ভাঙতে ঐক্যের আহ্বান ম্যাক্রোঁর
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আধিপত্যবাদী প্রতিযোগিতার বাইরে থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি মনে করেন, বিশ্বব্যবস্থা কেবল দুই পরাশক্তির ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না; বরং ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র শক্তি গড়ে তোলা জরুরি। এশিয়ায় সপ্তাহব্যাপী সফরের শেষ পর্যায়ে সিউলে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ম্যাক্রোঁ স্পষ্টভাবে বলেন, ফ্রান্স বা ইউরোপ কোনো পরাশক্তির ‘অনুগত রাষ্ট্র’ হতে চায় না। তার ভাষায়, লক্ষ্য হলো চীনের আধিপত্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের খামখেয়ালিপনার শিকার না হওয়া। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা ও ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ গবেষণা, পারমাণবিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার মাধ্যমে এই দেশগুলো একটি শক্তিশালী জোট গড়ে তুলতে পারে বলে মনে করেন তিনি। ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো জ্বালানি সংকটে পড়েছে। এ বাস্তবতা তুলে ধরে ম্যাক্রোঁ বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিকল্প শক্তির উদ্ভব এখন সময়ের দাবি। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ম্যাক্রোঁর দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরান ইস্যুতে ফ্রান্স সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ তুলে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফরাসি প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ফরাসি আকাশসীমা ব্যবহারে অনুমতি না দেওয়াকে ‘অসহযোগিতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। এর জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেন, ইরান ইস্যুতে কোনো ধরনের আলোচনার পথ না খুঁজে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক পথে এগিয়েছে, যা ‘প্যান্ডোরার বক্স’ খুলে দেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের উদাহরণ টেনে বলেন, কেবল সামরিক অভিযানে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন মেকানিজম’ বা সংঘাত নিরসন ব্যবস্থার প্রস্তাবও দেন, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাক্রোঁর এই অবস্থান অনেকটা ফ্রান্সের সাবেক নেতা শার্ল দ্য গোল-এর নীতির প্রতিফলন। স্নায়ুযুদ্ধের সময় যেমন তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে ফ্রান্সের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখতে চেয়েছিলেন, তেমনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে ম্যাক্রোঁ একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করছেন। আগামী জুনে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ তার ‘তৃতীয় শক্তি’ গঠনের এ ধারণা আরও জোরালোভাবে বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এপি।
ভারতে বেআইনি প্রক্রিয়ায় ইসলামিক স্কলারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের নির্যাতন
ভারতের বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার মাওলানা আবদুল্লাহ সালিম চতুর্বেদীকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। দুই বছর আগের একটি পুরনো ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশে দায়ের করা দুটি এফআইআরয়ের ভিত্তিতে বিহারের পূর্ণিয়া জেলা থেকে ৩১ মার্চ এই স্কলারকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেআইনি প্রক্রিয়ায় তাকে আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের ঝড় তৈরি হয়েছে। একাধিক আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বেআইনি প্রক্রিয়া, হেফাজতে সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দাবি তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক ফোরাম অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর রাজ্য সভাপতি এবং বিহারের বিধায়ক ও বিধানসভার সংখ্যালঘু কল্যাণ কমিটির চেয়ারম্যান আখতারুল ইমান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী (স্বরাষ্ট্র), বিহার রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশন এবং রাজ্য মানবাধিকার কমিশনসহ শীর্ষ কর্তৃপক্ষকে একাধিক চিঠি লিখেছেন। উপ-মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে ইমান দাবি করেছেন যে, বিহার পুলিশকে কোনো পূর্ব তথ্য না দিয়েই পূর্ণিয়ার ডালমলপুর থেকে সাদা পোশাকে বন্দুকের মুখে মাওলানা চতুর্বেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানান, বিএনএস-এর বিভিন্ন ধারায় বাহরাইচ (এফআইআর নং ৪৮) এবং বলরামপুর (এফআইআর নং ৫১) থানায় দায়ের করা মামলার অধীনে এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইমান লিখেছেন, ‘ইউপি এসটিএফ যেভাবে এই গ্রেপ্তার চালিয়েছে, তাতে মনে হয় মাওলানা যেন একজন সন্ত্রাসী ছিলেন অথবা তিনি দেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী কোনো কাজ করেছেন।’ তিনি আরও যুক্তি দেন যে, ট্রানজিট রিমান্ড ছাড়াই তাকে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। বিহার রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে ইমান অভিযোগ করেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ‘দুই বছরের পুরনো বিকৃত ভিডিওর’ ভিত্তিতে এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিধায়ক লিখেছেন, ‘মাওলানা ওই ভাইরাল ভিডিওর ব্যাপারে ক্ষমাও চেয়েছিলেন, তবুও তাকে যেভাবে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার ওপর যে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’ তিনি পুলিশের পদক্ষেপের বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘অসংখ্য ঘৃণাভরা বক্তব্যের মামলা থাকা সত্ত্বেও এই মামলার মতো এমন দ্রুত পদক্ষেপ আগে কখনো দেখা যায়নি।’ ইমান অতীতে ইয়াতি নরসিংহানন্দ এবং শঙ্কর শর্মার ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, যারা মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, ‘পুলিশ হয়তো সেখানে তেমন তৎপরতা দেখায়নি যা এখানে দেখিয়েছে।’
বিশিষ্ট মুসলিম সংগঠন জামায়াতে ইসলামী হিন্দও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেছে। সহ-সভাপতি মালিক মোতাসিম খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে সংগঠনটি যেকোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের নিন্দা জানালেও আইনের শাসনের ওপর জোর দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মাওলানা আবদুল্লাহ সালিমের বিরুদ্ধে কথিত আপত্তিকর মন্তব্য বা যেকোনো ঘৃণাভরা বক্তব্যকে কখনোই সমর্থন করা যায় না, তবে এটি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ যে আইন যেন সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগতভাবে প্রয়োগ করা হয়।’ বিহার রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কাছে দাখিল করা পৃথক এক অভিযোগে আখতারুল ইমান মাওলানার প্রতি করা আচরণকে অমানবিক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই সব দৃশ্যের কথা উল্লেখ করেন যেখানে মাওলানাকে কারাগারে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘ছবিগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে মাওলানাকে চরম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। একজন ধর্মীয় নেতার সাথে এই বর্বরতা ও অমানবিক আচরণ মানবাধিকার বিরোধী… এ ধরনের আচরণ পুলিশের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং প্রশাসন ও পুলিশের ওপর জনগণের বিশ্বাস নষ্ট করে, যা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়পরায়ণ ও সভ্য সমাজের জন্য কাম্য নয়।’ অভিযোগে আরও যোগ করা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া আদালতের কাজ, পুলিশের নয়। মুসলিম নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলছেন যে, মাওলানা চতুর্বেদী কেবল একজন ইসলামী স্কলারই নন, তিনি চার বেদেও সুপণ্ডিত। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘মাওলানা সর্বদা তার ধর্মীয় আলোচনায় ধর্মীয় সম্প্রীতি, ভালোবাসা এবং ভ্রাতৃত্বের কথা বলে এসেছেন।’ এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় সীমাঞ্চল অঞ্চল এবং তার বাইরেও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইউপি এসটিএফ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ বা বেআইনি গ্রেপ্তার সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সিয়াসত ডেইলি।
ড্রোন অনুপ্রবেশের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার দুঃখ প্রকাশ
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং গত ৬ এপ্রিল সোমবার উত্তর কোরিয়ার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ বছরের শুরুতে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন অনুপ্রবেশের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি ড্রোন পাঠানোর ঘটনাকে ‘দায়িত্বহীন’ ও ‘অবিবেচক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়া জানুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনার সাথে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছিল। কর্তৃপক্ষ এটিকে বেসামরিক নাগরিকদের কাজ বলে দাবি করেছিল। তবে লি বলেছেন, একটি তদন্তে দেখা গেছে সরকারি কর্মকর্তারা এতে জড়িত ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে উত্তর কোরিয়া সতর্ক করে বলেছিল, যদি আরো ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তাদের দেশে প্রবেশ করে, তবে তারা ‘ভয়ঙ্কর প্রতিক্রিয়া’ জানাবে। এরপর দক্ষিণ কোরিয়া এ ঘটনাগুলো তদন্ত শুরু করে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে একটি ডানাযুক্ত যানের ধ্বংসাবশেষ মাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং এর পাশে ধূসর ও নীল রঙের কিছু যন্ত্রাংশ পড়ে আছে। যেগুলোর মধ্যে ক্যামেরা ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ দেখা গেছে। লি মন্ত্রিসভা বৈঠকে বলেন, ‘তদন্তে দেখা গেছে, একটি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং একজন সক্রিয় সৈনিক এতে জড়িত ছিলেন। আমরা কিছু ব্যক্তির অবিবেচক কর্মকাণ্ডের কারণে উত্থাপিত অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনার জন্য উত্তর কোরিয়ার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান ব্যক্তিদের এমন কাজ করার অনুমতি দেয় না যা উত্তর কোরিয়াকে ‘প্ররোচিত’ করতে পারে। লি বলেন, ‘জাতীয় কৌশলের জন্য কখনো কখনো এমন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন হতে পারে, তবে তা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করতে হবে।’ গত বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি তার পূর্বসূরি ইউন সুক-ইওল প্রশাসনের বিরুদ্ধে পিয়ংইয়ংয়ে ড্রোন পাঠিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ এনেছেন। তবে তার বারবার করা প্রস্তাবগুলোর কোনো জবাব উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে আসেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল এই অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন যে তার প্রশাসন উত্তর কোরিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া উস্কে দিতে এবং সামরিক শাসন ঘোষণার অজুহাত তৈরি করতে ড্রোন পাঠিয়েছিল। বাসস।
মেক্সিকোর উৎসবে ‘শয়তানের’ জায়গায় পোড়ানো হলো ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মূর্তি
গত শনিবার (৪ এপ্রিল) মেক্সিকো সিটিতে ঐতিহ্যবাহী ‘জুডাস পোড়ানো’ উৎসবে এবার বিশেষ চরিত্র হিসেবে জায়গা পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ উৎসবে প্রতি বছর শয়তানের বিশাল কার্ডবোর্ডের মূর্তি আগুনে পোড়ানো হয়। এটি পৃথিবীর সব মন্দকে পুড়িয়ে ফেলার প্রতীক। তবে এবার বিশেষভাবে তৈরি একটি মূর্তিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর দুটি মাথা একই শরীরে জোড়া লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেই মূর্তিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবামের মূর্তিও এবারের উৎসবে পোড়ানো হয়েছে। এ উৎসবের ইতিহাস কয়েক দশক পুরনো। এটি মূলত যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে জুডাস ইসকারিয়টের বিশ্বাসঘাতকতার স্মরণে পালন করা হয়। খ্রিষ্টীয় ধর্মানুসারে, জুডাস মাত্র ত্রিশটি রুপার বিনিময়ে যিশুকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। এরপরই গেথসেমানে বাগানে যিশুকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। এ উৎসবে কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সমসাময়িক বিশ্বের নেতাদের সম্পর্কে তাদের মনোভাব প্রকাশ করেন। এবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে বেছে নেওয়া স্পষ্টতই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং মার্কিন নীতির প্রতি মেক্সিকোর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রতিফলন। আল-জাজিরা।
আল-আকসা মসজিদে উগ্র ইসরাইলি মন্ত্রীর হামলার নিন্দা কাতারের
ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদে উগ্র ডানপন্থী ইসরাইলি মন্ত্রীর হামলার নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমে ‘দখলদার পুলিশের সুরক্ষায়’ ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের মুসলিমদের পবিত্র স্থানটিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। উপসাগরীয় এই রাষ্ট্রটি উগ্র ডানপন্থী ইসরাইলি মন্ত্রীর এই সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে “আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের অনুভূতিতে উস্কানি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আল-জাজিরা।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান