জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান

দেশের মানুষের সংকট নিরসনের জন্য সংসদে এসেছি


২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৮

সোনার বাংলা ডেস্ক : সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমিও ক্ষুদ্র একটি শহীদ পরিবারের সন্তান।
সেই মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছিলেন, আমাদের পরিবার কয়েক ফোঁটা রক্ত দিয়ে তাদের সঙ্গে শরিক হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ আমাদের সকলের। দেশ এবং জাতির জন্য সংবিধান এবং এই সংসদ। আমরা কে ট্রেজারি বেঞ্চে আর কে অপজিশন বেঞ্চে এগুলো কোনো পারমানেন্ট জিনিস না। এই স্বাধীন বাংলাদেশেই কিছু কিছু দল তারা ওখানে বসতেন, আজকে তারা কোথাও নেই।
আবার এখানে যারা বসতেন, মাঝেমধ্যে ওখানেও বসতেন, আজকে তারা এখানে বসা আছে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা দলের অভিপ্রায় নয়, জনগণের অভিপ্রায়টাকেই আমরা সম্মান দিয়ে এখানে এসেছি এবং এই প্রস্তাবটা উপস্থাপন করেছি।
গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘জুলাই সনদ’-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভিন্নমত অনেক এসেছে। আসার শেষ প্রান্তে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যে সংস্কার পরিষদের মেম্বার হিসেবে আমরা যে নির্বাচিত হচ্ছি, এর জন্য কোনো ব্যালট ছিল না। আমি বলব, ব্যালট ছিল। গণভোটের ব্যালটটাই সেই ব্যালট এবং যে আদেশ বলে গেজেট হয়েছে ওখানে পরিষ্কার লেখা ছিল যে- এই নির্বাচনে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন, তারা একই সাথে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও বিবেচিত হবেন।
তিনি বলেন, আজকে তারা নিজেদের তৈরি করা জিনিসের সাথে স্ববিরোধিতা করতে পারেন না। এটা মেনে নেওয়াই ছিল মহত্তের লক্ষণ। শেষ দিকে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। আজকে পুরো আলোচনাটা হচ্ছে সংস্কারের ওপর, সংস্কার পরিষদের ওপর, এর সভা আহ্বানের ওপর। তিনি যদি ভালো হতো, এরকম করে একটা প্রস্তাব দিতেন যে-এই সংস্কার নিয়ে যে আলোচনা হলো, তাকে একটা জায়গায় পৌঁছানোর জন্য আসুন, আমরা একটা বিশেষ কমিটি করি। তাহলে দ্যাট কুড বি এ ম্যাটার অব কনসিডারেশন।
তিনি আরো বলেন, আমরা এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখতে পারি কারণ আমরা সংকট তৈরির জন্য তো এখানে আসিনি, দেশের মানুষের সংকট নিরসনের জন্য এখানে এসেছি। আমরা প্রথম দিনই মাননীয় স্পিকারকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে বলেছিলাম যে, আমরা একটা গঠনমূলক বিরোধীদল হিসেবে এখানে দায়িত্ব পালন করতে চাই। বিরোধিতার খাতিরে কোনো বিরোধিতা নয়, বরং যেখানে প্রয়োজন সহযোগিতা আর জাতির অধিকার সংরক্ষণের প্রয়োজনে বিরোধিতা- আমরা আমাদের পজিশনে এখনো আছি। আমরা সরকারি দলকে আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাব, আমরাও গ্রহণ করার মাধ্যমে জনগণকে সম্মান করি, তাহলে এই সংসদ সম্মানিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলিত হোক আমাদের সমন্বিত উদ্যোগে। এখানে আলাদা আমরা এক লাইনে, ট্রেজারি বেঞ্চ এক লাইনে চলতেই থাকলাম- এটার মাধ্যমে সমাধান কীভাবে হবে এটা আমরা সবাই বুঝি। এজন্য আমরাও সমাধান চাই, কিন্তু আমরা ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে চাই। যে বিষয়ের ওপরে আলোচনা হয়েছে, সেই বিষয়ের ওপরে একটা কমিটি আপনি যদি উত্তম মনে করেন আপনি করে দিতে পারেন। তবে সেখানে আমাদের আহ্বান থাকবে যে- দুই দিক থেকেই সমানসংখ্যক সদস্য নিয়ে যেন এই কমিটি গঠন করা হয়। নইলে আমরা সেখানে আমাদের মতামত সুন্দরভাবে দিতে পারব না। এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যদি কোনো কমিটি গঠন হয়, তাহলে এখন যেমন এখানে ডিবেট হচ্ছে, তখনো সেখানে ডিবেট হবে। যে লাউ সেই কদুতেই থেকে যাবে, অন্য কোনো ফল আমরা এখান থেকে আহরণ করতে পারব না।
তিনি বলেন, অতি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যেহেতু আন্দালিব রহমান পার্থ সাহেব এখানে নেই, এজন্য আমি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলব না। উনি ফায়ার করেছেন, কিন্তু কিছু কিছু ফায়ার ওনার ব্যাকফায়ার হয়ে গেছে। সালাউদ্দিন আহমেদ সাহেব অত্যন্ত বিজ্ঞ লোক। আমি যতদূর জানি, তিনি আইনের ছাত্র ছিলেন। আর আমরা পঁচাত্তর-পরবর্তী আমলে দফায় দফায় সেই আইনের নামেই আমরা ফ্যাসিবাদের ভিক্টিম হয়েছি। উনার পজিশন একজন জ্ঞানী মানুষ হিসেবে, আর আমাদের পজিশন একজন ভুক্তভোগী হিসেবে। আমরা ভোগ করেছি, ভিক্টিমাইজড হয়েছি আমরা।
তিনি আরো বলেন, ৭৩ সালের পরের অর্ডার যে আইন নয়, সেটার উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এরপরে বহু অর্ডারও, বহু অধ্যাদেশ, বহু আদেশ আইনের রূপ নিয়েছে। আজকে যদি সেই সমস্ত সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কথা বলি, তারা আজকে দুনিয়ায় নেই, অনেককেই আমরা অন্তর থেকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি, তাদের প্রতি অশ্রদ্ধা হবে- আমি সেই জায়গায় ফিরে যেতে চাই না। আবারও বলব, সংবিধান এবং আইন মানুষের জন্য, আইন কিংবা সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। এই জিনিসটা আমরা খেয়াল রাখলে ভালো হতো। ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি, এখানে যারা এসেছেন তারা জনগণের মধ্যে অতি শ্রদ্ধার পাত্র। কাজেই কাউকে হেয় করে কথা বলাটা আমি কখনো সমীচীন মনে করি না, আমি সেদিকে যাব না। আমাদের সালাউদ্দিন আহমেদ সাহেব বলেছেন যে, আদেশটা দেওয়া হয়েছে, এটা একটা অন্তহীন প্রতারণা করা হয়েছে। কে করেছে? অন্তর্বর্তী সরকার এবং প্রেসিডেন্ট মিলে করেছেন। তো এটা তো নভেম্বরের ১৩ তারিখ হয়েছে। আর ভোট হয়েছে ২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘসময় মাঝখানে ছিল।
তিনি আরো বলেন, যার কারণে উনাদের গণভোট এবং সংসদ নির্বাচনের দাবিটা সরকার গ্রহণ করার কারণে উনারা ফরমালি অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাহলে গণভোটটা তো উনাদেরও দাবি ছিল। গণভোটে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে তা কিন্তু আগেই তাদের ওয়েবসাইটে প্রচার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এটা করেছে যথেষ্ট সময় দিয়ে। আমরা দেখেছি, সরকারি দলও এটা দেখার কথা। এসব কিছু দেখে শুনেও যদি আমিও বলি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেন যে সবাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুক, তাহলে আমরা দোষটা করলাম কোথায়? আর আমাদের মধ্যে ভাগটা হলো কোথায়? আমরা তো এক হয়েই করেছি।
তিনি উল্লেখ করেন, আমরা আমাদের জায়গায় আছি, আমরা জায়গা পরিবর্তন করি নাই। আমি ধন্যবাদ জানাই সালাউদ্দিন আহমেদ সাহেবকে। উনি বলেছেন যে, উনিই দাবিটা প্রথম করেছিলেনÑ জনগণ কী চায় সেটা আমরা জনগণের কাছে ছেড়ে দিই। যদি বেশিরভাগ জনগণ এটা সমর্থন করে, তাহলে আমরা এটা সবাই মানব। বেশিরভাগ জনগণ সমর্থন করেছে এখন এটা মানার প্রশ্ন। যদি আমরা অসাংবিধানিক বলি, আবারও বলব অতীতের অনেক গণভোট নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আমি সেদিকে যাব না। অসাংবিধানিক বা সংবিধানবহির্ভূত অনেক কাজই তো হয়ে গেছে, সবাই মিলেই তো করলাম। তো সেই জায়গায় তো আমরা কোনো আপত্তি করলাম না। কেন করলাম না? এটা দেশ এবং জনগণের জন্য প্রয়োজন ছিল। সেই জায়গায় যদি না করে এই জায়গায় তারা যদি এই শপথটা নিয়ে আজকে এই সংকট তৈরি না করতেন, এখানে এটা আলোচনারই দরকার ছিল না। এই সময় নষ্ট করার দরকার ছিল না এই মহান পার্লামেন্টের, এই মহান সংসদের।
সূচনা বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে বারবার জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও হত্যা করা হয়েছে। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছে, তার মূল লক্ষ্যই হলো দেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে।
তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে কোনো রাজতন্ত্র থাকে না, সেখানে বংশ পরম্পরায় শাসনেরও ব্যবস্থা থাকে না। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয় এবং দেশ পরিচালনা করে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অতীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও বারবার জনগণের ভোটের অধিকার খর্ব করা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে হত্যা করা হয়েছে।’
দেশের প্রথম নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের কারণে যারা সুযোগ পেয়েছিলেন, তারাই বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। বাহাত্তরের সংবিধানে একদলীয় শাসনব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হয়ে যাওয়ায় জনগণের ভোটের আর কোনো মূল্যায়ন ছিল না।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সর্বশেষ ২০০৯ সালে যারা সরকার গঠন করেছিল, তারা ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে ডামি ও প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে জাতির ওপর প্রচণ্ড দুঃশাসন চাপিয়ে দিয়ে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে, শিশুরা এতিম হয়েছে। অনেক লোককে গুম করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৩৫ জন মানুষ এখনো আপনজনের কাছে ফিরে আসেননি। এই সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন দুই হাজার ৬৬২ জন মানুষ, যারা ন্যূনতম বিচার পাওয়ার সুযোগ পাননি। এছাড়া রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দলীয় কর্তৃত্ব কায়েম করা হয়েছিল।’
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর বলেন, ‘এসব অপকর্মের পরিণতি হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তরুণ ছাত্রসমাজের দাবানল জ্বলে ওঠে, যা ৫ আগস্ট পরিণতি লাভ করে। এজন্যই দেশের ক্যালেন্ডারে ৩৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই আন্দোলনে শুধু নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নয়, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি জনতা, মাঝি, মজুর সবাই সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। দুধের শিশু নিয়ে মা রাস্তায় নেমেছিলেন এবং চার বছরের শিশুও এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে।’
‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ উত্থাপনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘এত রক্তের বিনিময়ে যে আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছে, তা হলো ওই ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে। একটি ন্যায্যতার ভিত্তিতে, ন্যায়বিচারের ওপরে এমন একটি দেশ কায়েম হবে, যেখানে নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার পাবে। এই আকাক্সক্ষার ভিত্তিতেই প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছেন।’
জামায়াত আমীর বলেন, ‘সর্বশেষ ২০০৯ সালে যারা সরকার গঠন করেছিলেন ২০০৮ সালের একটা বোঝাপড়া নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, তারা দেশে কী করেছেন তার জ্বলন্ত সাক্ষী আজকের এই সংসদ। আমি সেই জন্য বলেছিলাম, আমার ধারণা, ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে নির্যাতনের শিকার হননি, বোধ হয় এমন কোনো সদস্য এখানে নেই। কেউ হয়েছেন বারবার, কেউ হয়েছেন হয়তো একবার। যারা সৌভাগ্যবান, অনেকেই দেশেই থাকতে পারেন। নির্যাতনের ভয়াবহতা এতটাই ভারী ছিল যে তারা নিজ জন্মস্থানের মাটি আঁকড়ে ধরে থাকতে পারেননি।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে। বোনেরা বিধবা হয়েছেন, শিশুরা এতিম হয়েছে। অসংখ্য লোককে গুম করা হয়েছে। গুমের শিকার ২৩৫ জন লোক এখনো তাদের আপনজনের কাছে ফিরে আসেননি। তাদের আপনজন জানেন না আসলে তাদের বাস্তব অবস্থা কী হয়েছে! তারা কি বেঁচে আছেন নাকি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন?’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সময়ের ভেতরে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংয়ের (বিচারবহির্ভূত হত্যা) শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৬৬২ জন মানুষ, যারা মিনিমাম কোনো বিচারের আলো দেখার সুযোগ পাননি। তাদেরকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। কার্যত তখন যারা আমরা বিরোধী দলে ছিলাম, এর নির্মম ভিকটিম তারাই হয়েছিলেন। এ সমস্ত পরিবারের কাছে আজ আমাদের কোনো জবাব নেই। শুধু তা-ই নয়, রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে একে একে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল এবং সবগুলোতে দলীয় কর্তৃত্ব এককভাবে কায়েম করা হয়েছিল দেশকে কুক্ষিগত করার জন্য।’
ওই ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরে না আসে, সেই আকাক্সক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘দেশ একটা ন্যায্যতার ভিত্তিতে, ন্যায়বিচারের ওপরে কায়েম হবে; যেখানে সবাই নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার পাবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল এবং সমন্বয়কদের দীর্ঘ আলোচনার পর ইনটেরিম গভমেন্ট (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে দিয়েছিল, তারা সংস্কারের কিছু প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছেন। এরই আলোকে প্রেসিডেন্ট একটি আদেশ জারি করেছেন।’
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা লড়ে গেছি সবাই। তাদের অপকর্মের শেষ পরিণতি হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যে আন্দোলন তরুণ-যুব সমাজের দ্বারা দানা বেঁধে উঠেছিল, আগস্টের ৫ তারিখে তা পরিণতি লাভ করেছে। এজন্য কোনো দেশের ক্যালেন্ডারে ৩৬ জুলাই বলে কিছু নেই, আমাদের দেশে তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন শুধু মুষ্টিমেয় কিছু যুবসমাজ সম্পৃক্ত ছিলেন না; বরং এই আন্দোলনে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি জনতা, মুটে-মজুর, ছাত্র-জনতা সবাই সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। দুধের শিশু নিয়ে মা-ও রাস্তায় নেমে এসেছিলেন এবং চার বছরের শিশুও এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে।