পরিবারগুলোয় উদ্বেগ-হতাশা

যুদ্ধ নয়, শান্তি চান মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিরা


১২ মার্চ ২০২৬ ১০:০৫

স্টাফ রিপোর্টার : ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে এমন দেশগুলোয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। বিশেষ করে কাতার, দুবাই, বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, সৌদি আবর, ইয়েমেন, লিবিয়া ও সিরিয়ার মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এতে বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি হতাহত হয়েছেন। সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় ৯ মার্চ পর্যন্ত ৪ প্রবাসী বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিহতের সংখ্যা জানালেও আহতের সংখ্যা জানাননি। এই যুদ্ধে চলমান থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারেÑ এমন আশঙ্কাই করছেন রেমিট্যান্সযোদ্ধারা। তারা চাচ্ছেন ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এখনই বন্ধ করা হোক। এদিকে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ১০ মার্চ মঙ্গলবার এ রিপোর্ট লেখার দিন পর্যন্ত ১১ দিন অবাহিত হয়েছে। এখনো যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ নেই। ফলে দেশে থাকা প্রবাসীদের স্বজনরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়, তারা চান যুদ্ধ বন্ধ হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক।
গত ২ মার্চ সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোয় রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় স্থাপনাটির একটি অংশে ছোট আকারের আগুন লাগে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরানে তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ ধরনের একটি ড্রোন দিয়ে হামলাটি চালানো হয়, এতে আগুন লেগে যায়। ঘটনার পর সে দেশের নাগরিকরা ও প্রবাসীরা আতঙ্কি হয়ে পড়ে। সৌদি আরবে থাকা একজন প্রবাসীর সঙ্গে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, তারা সবসময় আতঙ্কে থাকেন। কখন যেন হামলার শিকার হন। সংযুক্ত আবর আমিরাতে থাকা এক বাংলাদেশি তরুণ ব্যবসায়ী জানান, তারা সবসময়ই আতঙ্কে থাকেন। এ যুদ্ধে স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে পারছেন না। অনেকে জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। এ ব্যবসায়ী বলছেন, কোনো যুদ্ধই বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। তাই বিশ্বনেতাদের উচিত আলোচনার টেবিলে সমস্যা সমাধান করা, যুদ্ধ বন্ধ করা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঢাকা থেকে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেড়েছে যাত্রী ভোগান্তিও। সর্বশেষ ১০ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এতে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়া থেকে ১১ দিনে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৭। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও সংশ্লিষ্ট রুটের ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি ও ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি এবং আজ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে ফ্লাইট বাতিলের কারণে আটকে পড়েছেন অনেক প্রবাসী, এতে অনেকে কর্মহারানোর শঙ্কায়ও রয়েছেন।
অন্যদিকে প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন হতাশা ও টেনশনে। কারণ পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তি প্রবাসে থেকে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান, তা দিয়ে তাদের সংসার চলে। টানা যুদ্ধ থাকলে কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কাও রয়েছে প্রবাসী পরিবারে।
প্রসঙ্গত, তথ্যসূত্র বলছে, ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশ গেছেন সৌদি আরবে। এরপর কাতারে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ৬ শতাংশ, কুয়েতে ৪ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ৪ শতাংশ কর্মী গেছেন। প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার কর্মী বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যান। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে বলে শঙ্কা জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।