জুলাই সনদকে ব্যাকবার্নারে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা


১২ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫৫

॥ জামশেদ মেহদী ॥
আলামত খুব সুবিধার মনে হচ্ছে না। অশুভ আলামত শুরু হয়েছে সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির শপথগ্রহণ না করার মধ্য দিয়ে। ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডেকেছেন প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ মোতাবেক সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনও প্রেসিডেন্টের ডাকার কথা। কিন্তু তিনি সেটি ডাকেননি। এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির এবং এডভোকেট শিশির মনির মনে করেন যে, প্রেসিডেন্ট সংবিধান পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন। ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির সাংবিধানিক গোপনীয়তার শপথ লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশনও দায়ের করেছেন। এর আগে এ বাস্তবায়ন আদেশ কেন অবৈধ নয়, সে সম্পর্কে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। হাইকোর্টে আরো একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। এটি হলো, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট অবৈধ- এই মর্মে আদেশ জারি করার জন্য ঐ রিটটি দায়ের করা হয়েছে। ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির এবং এডভোকেট শিশির মনির উভয়েই অভিযোগ করেছেন যে, যারা এই দুটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন, তারা সকলে বিএনপির লোক। আর দায়েরকারীরা এটি করেছেন ঊর্ধ্বতন মহলের আদেশে। সেজন্য ত্বরিৎ গতিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। কেন বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অবৈধ ঘোষিত হবে না, সে মর্মে ব্যাখ্যা চেয়ে ঐকমত্য কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট এই রুল দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রেসিডেন্ট সাংবিধানিক গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছেন, সেই ব্যাপারে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির যে রিট করেছেন, সেক্ষেত্রে হাইকোর্ট এখন পর্যন্ত কোনো রুল জারি করেননি।
শহীদ ওসমান হাদির খুনি এবং তার সহযোগী পশ্চিমবঙ্গে ধরা পড়েছে এবং তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, এটি একটি ভালো খবর। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের দুই সংস্থার দুই রকম খবরে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। একটি খবরে বলা হয় যে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ গত ৭ মার্চ শনিবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকা থেকে তাদের আটক করে। পরে এ বিষয়ে একটি মামলা করা হয়। সেই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ভারতের সংবাদ সংস্থা ‘এএনআই’ এবং পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম ‘এই সময়’ তাদের আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।
কিন্তু পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ ব্যাপারে ভিন্ন কথা বলেছেন। গত ৯ মার্চ সোমবার ঢাকার একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালসহ ভারতে আটক দুজনের বিষয়ে বাংলাদেশকে এখনো কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, তাদের সঙ্গে দেখা করতে কনস্যুলার এক্সেসের আবেদন করা হয়েছে। তবে কলকাতা এ বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি। তিনি আরো বলেন, রবিবার কলকাতার কাছে কনস্যুলার এক্সেস চাওয়া হয়েছে। এই এক্সেস পেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কলকাতা এখনো কিছু জানায়নি।
গত সংখ্যার ‘সোনার বাংলায়’ আমরা বলেছিলাম যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের আকস্মিক পদত্যাগে জুলাই স্পিরিট ধারণকারী ব্যক্তিরা বিস্মিত হয়েছেন। পরবর্তীতে খবর নিয়ে জানা গেল যে, তাজুল ইসলামকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। ৯ মার্চ সোমবার অপর একটি খবরে প্রকাশ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। দৈনিক আমার দেশ ৯ মার্চ সোমবার তাদের অনলাইন সংস্করণে রিপোর্ট করেছে যে, সাবেক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার পর এই প্রথম কোনো প্রসিকিউটর পদত্যাগ করলেন। সেই সাথে ৯ মার্চ সোমবার আরো দুজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন মাজিনা রায়হান (মদিনা) এবং মোহাম্মদ জহিরুল আমিন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই ব্যাপক রদবদল অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর এবং অন্যান্য প্রসিকিউটর অনেক পরিশ্রম করে অনেক দক্ষতার সাথে অনেক কম সময়ে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এবং তার আওয়ামী দোসরদের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছিলেন। দীর্ঘ ১৮ মাস তারা স্বৈরাচারের জুলুম হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন, আয়নাঘর প্রভৃতি ক্রিমিনাল অফেন্স উদ্ঘাটনে অনেক দূর এগিয়ে ছিলেন। শহীদ আবু সাইদের মামলার রায়ও সহসা ঘোষিত হওয়ার কথা ছিলো। এসবের মাঝপথে কেন আইসিটিতে এসব রদবদল করা হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে সচেতন মহলে অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এর পাশাপাশি অপর একটি খবরে প্রকাশ, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে নতুন কমিটি গঠন করেছে সরকার।
এই কমিটির সদস্য হবেন ৬ জন। আহ্বায়ক হবেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন-১ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার কার্যক্রম গ্রহণ সংক্রান্ত একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে।
এমন একসময়ে আইসিটিতে রদবদল করা হচ্ছে এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের নামে ৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগসহ আওয়ামী ঘরানার সদস্যরা মিছিল করছেন। যখন আওয়ামী ঘরানার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিসহ মধ্যম পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন। ঢাকার একটি বাংলা দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের অন্তত ৪২টি স্থানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করছেন এবং তাদের অফিসের তালা ভেঙে অফিস খুলে দিচ্ছেন। আলোচ্য পত্রিকাটি এই ৪২টি স্থানের নামও ছেপেছে।
খবরে বলা হয়েছে যে, ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা এবং সেখান থেকে অনুতিদূর দক্ষিণে ৭ মার্চ সকালে অন্তত ২৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা মিছিল বের করে। মিছিলে তারা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ও জয় শেখ হাসিনা স্লোগান দেয়। মিছিলের একটি অংশ ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের বাসভবনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। ইত্যবসরে জনগণ তাদের তাড়া করে এবং জনগণের অনুরোধে পুলিশ এসে ৪ জনকে গেফতার করে। এদের মধ্যে ৩ জনই ছিলেন নারী।
ইত্যবসরে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন নিয়ে জুলাইযোদ্ধা এবং জুলাই বিপ্লব সমর্থক হাজার হাজার মানুষের মনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, ইনিই সেই খায়রুল হক, যিনি হাইকোর্টের বিচারক থাকাকালে খন্দকার মোশতাক, জেনারেল জিয়া এবং জেনারেল এরশাদের ৩ সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। ইনিই সেই খায়রুল হক, যিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি থাকাকালে রায় দিয়েছিলেন যে, শহীদ জিয়াউর রহমান নন, শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। ইনিই সেই খায়রুল হক, যিনি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছিলেন। এখন সেই খায়রুল হকের জামিন হলো। একই সাথে জামিন হলো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতা সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং কক্সবাজারের আওয়ামী এমপি এবং মাদক সম্রাট আব্দুর রহমান বদির। এসব ঘটনা সুস্পষ্টভাবে একটি রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরো অবাক ব্যাপার হলো এই যে, নবনিযুক্ত পুলিশের আইজিও এসব নিয়ে কথা বলেছেন। গত ৯ মার্চ নবনিযুক্ত পুলিশের আইজি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান বা জুলাই কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এটি জনগণের সম্মিলিত আন্দোলন ও অধিকার। আমরাও এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।
জুলাই বিপ্লবের ৩৬ দিন পুলিশ বাহিনীর একজন পুলিশও জুলাই বিপ্লবের জন্য কাজ করেনি। বরং তারা চীনা রাইফেল-১৯ এ ৭ দশমিক ৬২ বোরের গুলি দিয়ে শত শত ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে, যদিও সেই রাইফেল তাদের হাতে থাকার কথা নয়। সেই বাহিনীর প্রধান যখন উঁচু গলায় এসব কথা বলেন, তখন সেটা সরকারের ওপরতলায় পরিবর্তনের ভিন্ন সুরের প্রতিধ্বনি বলে অনুমিত হয়।
সরকারের এই ৩ সপ্তাহের কার্যক্রমে জুলাই বিপ্লবকে এবং সেই সুবাদে জুলাই সনদকে পেছনের আসনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে জামায়াতের আইনজীবীসহ অন্যান্য নেতা মনে করেন। এমনকি আমীরে জামায়াত এতদূরও বলেছেন যে, জুলাই বিপ্লবকে সমুন্নত রাখার জন্য প্রয়োজন হলে তারা জীবন দেবেন।
জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক তরুণ ছাত্র নেতাদের দল এনসিপির নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সারজিস আলম প্রমুখ নেতা বলছেন যে, জুলাই বিপ্লবকে ভুলিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তারা শুধু এটুকু বলেই ক্ষান্ত হননি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জুলাই বিপ্লবের পর যতই সময় গড়িয়ে গেছে, ততই জুলাইয়ের তরুণ নেতারা একাধিক উপদলে বিভক্ত হয়েছেন। অনেকে পদত্যাগ করে নিষ্ক্রিয় হয়েছেন। অনেকে নতুন প্ল্যাটফর্ম খুলেছেন। অনেকে নতুন দলও গঠন করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যেও জুলাই চেতনা ফিরে আসছে। তারা অনুভব করছেন যে, ঐকমত্য কমিশনের একাধিক বৈঠক চলাকালেই জুলাই বিপ্লবকে পেছনে রেখে সেটিকে মুজিববাদী সংবিধানের অধীনস্থ করার জন্য বিএনপির প্রয়াস আর গোপন থাকেনি। তাদের অভিযোগ, তারা প্রকাশ্যেই ঐ সংবিধানকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
গত নির্বাচনে ব্যালট ইঞ্জিনিয়ারিং করে হোক বা যেভাবে হোক, সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসন দখল করার পর বিএনপি এখন প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে। আগামী সংসদে তারা গণভোটের রায়ের একটি ক্ষুদ্রাংশ বাস্তবায়ন করবে। রায়ের সিংহভাগই তারা ব্যাকবার্নারে পাঠিয়ে দিয়ে বর্তমান সংবিধানকে সামনে আনবে। এজন্য তারা ২০২৪ সালের জানুয়ারির আমি-ডামির নির্বাচনে গঠিত অবৈধ সংসদ কর্র্তৃক নিযুক্ত প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে আবার আড়াল থেকে বের করে এনেছে। যে সংসদকে বাতিল করা হয়েছে, সেই সংসদের প্রেসিডেন্টও অবৈধ। সেই অবৈধ প্রেসিডেন্ট ১২ মার্চ জাতীয় সংসদে ভাষণ দেন।
এসবের পটভূমিতে এনসিপি উদ্যোগ নিয়েছে, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সমস্ত শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার। ইতোমধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এগিয়ে এসেছে। গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তিও এগিয়ে এসেছে। খবরে প্রকাশ, নাহিদ ইসলাম গত সপ্তাহ থেকে ঐ সমস্ত তরুণ নেতা ও কর্মীর সাথে যোগাযোগ করছেন, যারা জুলাই বিপ্লবের পর এনসিপিতে জয়েন করেননি অথবা নিষ্ক্রিয় হয়েছেন, অথবা যারা পদত্যাগ করেছেন অথবা অন্য প্ল্যাটফর্ম গড়েছেন। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, নাহিদ ইসলাম এ ব্যাপারে ভালো সাড়া পাচ্ছেন। যাদের সাথেই তিনি যোগাযোগ করছেন, তারা বিলম্বে হলেও উপলব্ধি করছেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করার পর আইনি মারপ্যাঁচে জুলাই স্পিরিটকে নির্বাপিত করার চেষ্টা করছে। এখন সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শাসকদলের এই অপচেষ্টা মোকাবিলা করার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
এই পটভূমিতে নাগরিক সমাজ উপলব্ধি করছেন যে, জুলাই বিপ্লবের পর খণ্ড-বিখণ্ড সমস্ত দল ও উপদল, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এবং গণতান্ত্রিক মঞ্চের যারা এখনো জুলাই চেতনা ধারণ করেন, তাদের সকলকে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য এগিয়ে আসা উচিত।
Email: jamshedmehdi15@gmail.com