নারীদের ওপর হামলাকারী সহিংস হায়েনাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বয়কট করা হোক
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৮
॥ এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী ॥
সারা দেশে জামায়াতের নারীকর্মীদের ওপর সিরিজ হামলা ও হেনস্তা অব্যাহত। নির্বিকার সরকার, নিশ্চুপ নারীবাদী নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল যশোরের ঝিকরগাছা, মেহেরপুর, কুমিল্লা, ভোলা, চুয়াডাঙ্গা, রংপুর, ঢাকা মহানগরীর কদমতলী, কুষ্টিয়া, লালমনিরহাট, নাটোর, চট্টগ্রাম, রাউজান, ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কর্মীদের ওপর হামলা ও নির্বাচনী প্রচারে বাধা প্রদান করার খবর পাওয়া যাচ্ছে। নারীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে মহিলা জনশক্তি যারা নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে তাদের সায়া (পেটিকোট) খুলে নেয়ার নোংরা, অশ্লীল ও নির্লজ্জ ঘোষণা দিচ্ছে, পর্দাশীন নারীর নেকাব টেনে ধরছে, মমতাময়ী মায়েদের লাথি মারছে, নির্বাচনী প্রচারকাজে নিয়োজিত নারীর মাথায় কোপ দিচ্ছে।
একটি দলের এ ধরনের প্রতিহিংসামূলক বিকৃত মানসিকতা ও আচরণ ন্যক্কারজনক। যাদের কাছে মা-বোনেরা নিরাপদ না, তাদের কাছে দেশ ও জাতি কী করে নিরাপদ থাকতে পারে?
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে গণসংযোগ চলাকালীন কদমতলীর ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের ডিপটির গলির কাইল্লা পট্টিতে যুবদলের সন্ত্রাসীরা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা কর্মীদের ওপর হামলা করে। সন্ত্রাসীরা জামায়াতের রুকন ও মহিলা নেত্রী কাজী মারিয়া ইসলাম বেবির মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁর মাথায় ৪টি সেলাই পড়ে। হামলার কিছুক্ষণ পূর্বে ঢাকা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিনের চাচাতো ভাই ও স্থানীয় যুবদল নেতা রমজানের নেতৃত্বে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের পথরোধ করে গণসংযোগে বাধা প্রদান করা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
আবার খবরে এসেছে বগুড়ার গাবতলীতে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ায় ও অফিস উদ্বোধন করায় নেপালতলী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন আলমের বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে নেপালতলী ইউনিয়নে বুরুজ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দিনভর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম রব্বানীর পক্ষে নেপালতলী ইউনিয়নে বুরুজ বাজার কদমতলী এলাকায় গণসংযোগ ও নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করা হয়। রাত আড়াইটার দিকে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলমগীরের বসতবাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুনে বসতবাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। এলাকাবাসী টের পেয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন আলম বলেন, মঙ্গলবার দিনভর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম রব্বানীর পক্ষে নেপালতলী ইউনিয়নে বুরুজ বাজার কদমতলী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করার পর রাতেই আমার বাড়িতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে আমি কাউকে অভিযুক্ত করিনি।
বগুড়া-৭ আসনে জামায়াতের নির্বাচনী পরিচালক মাওলানা আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি, কাউকে অভিযুক্ত করতে চাই না। আমাদের কর্মী ও নারী ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা নির্বাচনে লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড অবশ্যই আশা করি।
▪ ক্ষমতায় না আসতেই ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছে
আওয়ামী লীগের আমলের মতো এ দলটি যেন ক্ষমতায় না আসতেই ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছে। দেখা যাচ্ছে, সারা দেশে ভোটের প্রচারের সময় মা-বোনদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। যারা শুধু ভোটের প্রচারের কারণে মা-বোনদের শরীরকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার লক্ষ্য বানাতে পারে তাদের হাতে বাংলাদেশ আগামীতে কতটুকু নিরাপদ থাকবে, এহেন প্রতিহিংসামূলক আচরণ কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ বিশ্বাস করতে পারে?
শেরপুরের শ্রীবরদীতে জামায়াত নেতাদের উপজেলা প্রশাসন ডেকে নিয়ে বিএনপির সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিয়েছে এবং বিএনপি সন্ত্রাসীরা জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে প্রশাসনের উপস্থিতিতে শহীদ করেছে।
মুক্তাগাছার বড়গ্রাম ইউনিয়নে জামায়াতের মিছিলে বিএনপি অতর্কিত হামলা করেছে। এতে ইউনিয়ন জামায়াত সেক্রেটারি জহিরুল ইসলামসহ পাঁচজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। সারা দেশে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছেন এবং অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন নেতারা।
▪ গোটা দেশে প্রায় একই চিত্র
নির্বাচন ঘিরে গোটা দেশজুড়েই চলছে এসব সহিংসতা। মহিলাদের ওপর পরিচালিত নির্বাচনী প্রচারে সহিংসতার (২২ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত) সংক্ষিপ্ত একটি পরিসংখ্যান-
১. নির্বাচনী সহিংসতা ঘটনা ঘটেছে- ২৮টি।
২. এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আসনে যেসব বিরোধিতা হয়েছে, যেমন বাসায় ঢুকতে না দেওয়া, বকা-বকি করা, হুমকি-ধমকি, ভয়-ভীতি দেখানো, উসকানিমূলক বক্তব্য এ ধরনের ঘটনা সর্বমোট- ২৩৫টি ঘটেছে।
যার মধ্যে রয়েছে-
উসকানিমূলক মন্তব্য : সংখ্যা-১৭৪টি স্পটে এবং প্রচারকাজে বাধা-৬১টি।
২০২৪-এর জুলাইয়ের বাংলাদেশে সমাজ এ সংবিধানবিরোধী এ ধরনের দুঃসাহস দেখানোর স্পর্ধা তারা কোথা থেকে পেল? এই নারী নিপীড়করা কি রাষ্ট্রটাকে মগের মুল্লুক পেয়েছে? মানবিক বাংলাদেশ গড়তে এ ধরনের বর্বরগুলোকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বয়কট করা হোক। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি করছি। তা না হলে সম্মিলিত জনতার প্রতিরোধে এরা পালাবার পথও খুঁজে পাবে না।
▪ নির্বাচনী সহিংসতায় নির্মমভাবে শহীদ হলেন শহীদ রেজাউল করীম
শহীদ কামারুজ্জামানের রক্তস্নাত উর্বর জমিন শেরপুর হায়েনার আঘাতে আবারও রক্তাক্ত হলো। শহীদ হলেন শেরপুর-৩ শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম ভাই। শহীদ কামারুজ্জামানের রক্তস্নাত উর্বর জমিন শেরপুর আবারো রক্তাক্ত হলো মানুষরূপী হায়েনার আঘাতে।
গত ২৮ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি সমর্থকরা বিলম্বে এসে চেয়ারে বসা নিয়ে বাগবিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর বিএনপি সন্ত্রাসীরা হামলা করে।
এ ঘটনায় ৫০ জনের বেশি জামায়াত সমর্থক আহত হন। ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রেজাউল করিম ভাই শহাদাতবরণ করেন। নিশ্চিত পরাজয় জেনে একটি বিশেষ গোষ্ঠী নারীদের ওপর বর্বর হামলাসহ সারা দেশে একটার পর একটা ক্রমাগত হামলার ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের যেন আর কোনো কিছুই নজরে পড়ছে না, কোনো টনক নড়ছে না। এমন পরিবেশ চলতে থাকলে জনগণের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাবে। প্রয়োজনে আরেকটি জুলাই ঘটে যাবে।
▪ রেজাউল ভাইয়ের শাহাদাত শোকে স্তব্ধ হয়েছে গোটা শেরপুর
রেজাউল করিম ভাইয়ের শাহাদাত আমাদের মনমানসিকতাকে একেবারে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ওনার স্ত্রী মর্জিনা আক্তার আপা ছিলেন ছাত্রী সংস্থার সাবেক জেলা সেক্রেটারি ও একজন ত্যাগী দায়িত্বশীলা। বর্তমানে মহিলা বিভাগের পৌরসভার কর্মপরিষদ সদস্য। উনি আমার অনলাইন স্টাডিসার্কেলেরও একজন সম্মানিত সদস্য। রেজাউল ভাইয়ের শাহাদাতে তার অল্পবয়সী বাচ্চা ও স্ত্রীর দিকে তাকালে কী যে কষ্ট লাগে, তা ভাষায় বোঝানো যাবে না। বাচ্চাদের একজনের বয়স মাত্র ৩ ও আরেকজনের বয়স ৭ বছর। মুতার যুদ্ধে শহীদ জাফর বিন আবু তালিবের সন্তানদের কথা মনে পড়ে। শেরপুরের হাসি আপার সাথে আলাপ করে জানতে পারলাম- তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে আক্রমণটা করেছে। নমিনি ভাইকে হত্যা করা তাদের মূল টার্গেট ছিল। ভাইকে সেফটি দিতে সকল ভাইয়েরা ঘেরাও দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। দুই দিক থেকে তারা আক্রমণ করে, যার কারণে অনেক ভাই গুরুতর আহত হন।
শহীদ ভাইটির স্ত্রী মর্জিনা আপা মানসিকভাবে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তিনিও ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শহীদ স্বামীর রক্তাক্ত মাথাটি তার হাতের ওপর রেখেই হাসপাতালে ছুটেছিলেন, তখনো তার হাতে শহীদের রক্ত লেগে ছিল। ভিডিও কলে দেখতে পেলাম নিষ্পাপ দু’টো শিশু সন্তান। তাদের ক্রন্দনরত করুণ চাহনি যেন বলছে, কী অপরাধে তাদের বাবাকে হত্যা করা হলো? বাবার স্নেহের পরশ থেকে তাদের বঞ্চিত করা হলো? ২৪-এর বাংলাদেশে এমন নৃশংস সিনারি তো দেখার কথা ছিল না।
শিশুকাল থেকে ভাইটি ছিলেন মাতৃহারা, মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত। ওনার স্ত্রীর কাছে জানতে পারলাম, উনি শহীদ কামারুজ্জামন ভাইকে যথেষ্ট ভালোবাসতেন ও শাহাদাতের তামান্নায় উজ্জীবিত ছিলেন। বৃদ্ধ পিতার ঘাড়ে সন্তানের লাশ। পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বোঝা। সবাই পরিবারটির জন্য দোয়া করেন। মহান আল্লাহ যেন তার স্ত্রী ও মাসুম বাচ্চাদের জন্য উত্তম অভিভাবক হয়ে যান।
▪ একের পর এক নারীদের ওপর হামলা জনগণকে কি বার্তা দিচ্ছে
যতই দিন যাচ্ছে, নির্বাচনী মাঠ ততই উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। একের পর এক লঙ্ঘিত হচ্ছে নির্বাচনী আচরণবিধি। নির্বাচনী মাঠে লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ফলে অনেক বছর পর দেশের জনগণ একটি উৎসবমুখর, ভয়-ভীতিমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেবার প্রত্যাশা করছে। অথচ একটি বিশেষ দল আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিজেদের নির্ঘাত ভরাডুবির আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা নির্বাচনকে ভণ্ডুল করতে সারা দেশে একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের প্রচেষ্টায় আছে। লেজে পারা দিয়ে যেন ঝগড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে।
গত ২৯ তারিখ ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা ৫ আসনে নির্বাচনী সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য মুক্তাগাছার বড় গ্রাম ও রঘুনাথপুর গ্রামে গিয়েছিলাম। বড়গ্রামের প্রোগ্রাম ও গণসংযাগ শেষ করে বিকাল ৩টায় রঘুনাথপুর (কলাকান্দা) নির্বাচনী সমাবেশ স্থলে পৌঁছে দেখি প্রোগ্রামের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজক বোনেরা মনখারাপ করে বসে আছেন।
প্রশ্ন করে মন খারাপের কারণ জানতে পারলাম যে, সকালে বোনেরা দুপুরের প্রোগ্রামের জন্য আশপাশে প্রতিবেশীদের মাঝে দাওয়াতি কাজ করেছেন। এটা দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে তথাকথিত সে দলটির পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে গিয়ে মহিলাদের হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেছে যে, কেও যদি দাঁড়িপাল্লার সমাবেশে যায়, তাহলে তাদের প্রত্যেকের পা ভেঙে দেয়া হবে।
আমি বোনদের সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, মন খারাপের কিছু নেই। আসুন, আমরা একটু ওয়েট করি, যারা হুমকি ধমকির ভয় করে না এমন সাহসী মা-বোনেরা নিশ্চয়ই চলে আসবেন। আমরা নিজেরা এ বাড়িতে যে কয়জন আছে, তাদের নিয়েই প্রোগ্রাম শুরু করে দিই।
আলহামদুলিল্লাহ, প্রোগ্রাম শুরুর প্রায় ৫ মিনিটের মাথায় দলে দলে নারীরা আসতে থাকেন। শিশু, ছাত্রী, তরুণী, বৃদ্ধাসহ অনেক হিন্দু দিদিরাও প্রোগ্রামে চলে আসেন। একপর্যায়ে প্রোগ্রাম স্থলটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়ে আসন/চেয়ার সংকট দেখা দেয়। আমরা স্বতঃস্ফূর্ত জনতাকে সাথে নিয়ে অত্যন্ত সফলভাবে প্রোগ্রামটি শেষ করি।
প্রোগ্রাম শেষে আশ্চর্য হলাম ২/৩ জন নারী কাছে এসে তাদের ব্যান্ডেজ বাঁধা হাত দেখিয়ে জানান, তাদের স্বামী ও শ্বশুর দাঁড়িপাল্লা মার্কার পক্ষে কাজ করায় তাদের বাড়িতে এসে মারধর করা হয়েছে, সে নারীরা তাদের স্বামী ও শ্বশুরকে হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন। আরেক গ্রামের খবর জানতে পারলাম, পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ওপরও তারা চড়াও হয়েছে। ক্যাম্পেইনের সময় নারীদের পিছে পিছে অনুসরণ করে। পেছনে এমন বখাটেদের দেখে বোনেরা যখন নামাজ পড়তে এক বাসায় ঢুকে, তখন সেখানে তারা গেটে নক করে আমাদের বোনদের তাদের হাতে তুলে দিতে বলে। কিন্তু বাড়িওয়ালা নারী তার সাহসী ভূমিকার কাছে হেরে যায়। পরে আমাদের ভাইয়েরা তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। নিজ চোখে দেখতে পেলাম, সারা দেশের মতো মুক্তাগাছাও তাদের এহেন অপকর্মের বাইরে নেই।
▪ ২৪-এর পরের বাংলাদেশে এমন চিত্র কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না
সুবহানাল্লাহ! এত হামলা ও ভয়ভীতির মাঝেও আমাদের অদম্য নারী সমাজ ও মা-বোনেরা যেন, এ যুগের হযরত সুমাইয়া, নুসাইবা, সাফিয়া ও খাওলার উত্তরসূরি। তারা সকলে নিজ দায়িত্বে সাহসী সৈনিকের মত স্ব স্ব অঙ্গনে ভূমিকা রাখছেন।
দিশেহারা পার্টির প্রতি আহ্বান-
অনেক হয়েছে। যে নারীদের আপনারা অবলা মনে করে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন, সেই নারী সমাজ আপনাদের ভোটের হিসেব উল্টে দিবে ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচনের মত। তারা আজ জেগে উঠেছে, অধিকার সচেতন হয়েছে। ভোটের বাক্সেই তারা তাদের প্রতিবাদের যথার্থ বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেন, ইনশাআল্লাহ।
অতএব খাল কেটে আর কুমির আনবেন না। নারীরা বুঝে গেছে কার কাছে এ দেশ নিরাপদ, নারী সমাজ নিরাপদ।
অতএব সাবধান! হুঁশিয়ার! ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর হামলার উপযুক্ত জবাব চাই।
▪ গুজবেরও একটা মাত্রা থাকা উচিত
নারীদের ওপর হামলার পাশাপাশি তারা সমানে চালাচ্ছে সাইবার অ্যাটাক।
“গ্লাক্সোজ ডি (Glaxose D) চুমুকেই শক্তি”
ছোট বয়সে রেডিওতে জনপ্রিয় এ এডটির কথা মনে পড়ে গেল, গুজব পার্টির গুজবের মাত্রা দেখে। বিএনপি গুজবেই শক্তি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, যে মানুষটি নারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি সহানুভূতিশীল, নারীদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সেনসেটিভ, বিশেষ করে যিনি কর্মজীবী নারীদের মর্যাদাজনক বেতন ও মজুরিসহ কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রতিপক্ষের কাছে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন, যিনি কর্মজীবী মায়েদের জন্য Increase Maternity leave mn Flexible Job Opportunity, Flexible working hour-এর মতো যুগান্তকারী পলিসির নির্মাতা, ওনার ব্যাপারে আইডি পর্যন্ত হ্যাক করে, পরিকল্পিত স্ট্যাটাস দিয়ে, নারী সমাজকে ক্ষেপিয়ে তোলার অপচেষ্টা চালিয়েছে। যদিও তা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়েছে। এমন অবিশ্বাস্য গাজাখুরী স্ট্যাটাস দেখে পাগলেরও পিলে চমকেছে।
প্রতিপক্ষের ব্যাপারে জনগণের জোয়ার দেখে গভীর ষড়যন্ত্র ও একের পর এক রাজনৈতিক অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে এখন এ দলটি। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, তাদের নির্মিত সকল নাটক সিনেমাই ফ্লপ করছে। কোনোটাই আর এখন হালে পানি পাচ্ছে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির দিকেই এখন জনতার চোখ। আশা করি, সচেতন জনগণ ব্যালট যুদ্ধে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেবে, ইনশাআল্লাহ।
হায়রে বিম্পি!
হায়রে তোর ভেল্কিবাজি
শেষমেশ এমনই তোর
করুণ পরিণতি…!