বিজ্ঞানীরা যেসব রহস্যের দুয়ার খুললেন


১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০০

জুরাসিক যুগের বিশাল পায়ের ছাপ : যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডশায়ারের একটি খনিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডাইনোসরের পদচিহ্নের স্থান আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রায় ১৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগের অন্তত ২০০টি বিশাল পায়ের ছাপ সেখানে পাওয়া গেছে। এ পদচিহ্নগুলো দুই ধরনের ডাইনোসরের চলাচলের প্রমাণ দেয়। একটি লম্বা গলাওয়ালা সোরোপড, যা সম্ভবত সিটিওসোরাস এবং অন্যটি দুই পায়ে চলা মাংসাশী মেগালোসোরাস। কিছু পদচিহ্নের সারি ১৫০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ। গবেষকদের ধারণা, খনির কেবল একটি অংশ খনন করা হয়েছে। ফলে এগুলো আরও বিস্তৃত হতে পারে।
মানুষের আগুন জ্বালানোর ইতিহাস : সাফোকের বার্নহ্যামে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে গবেষকরা মানুষের তৈরি আগুনের প্রাচীনতম প্রমাণ আবিষ্কার করেছেন, যার বয়স প্রায় ৪ লাখ বছর। এ আবিষ্কার আগুন তৈরির ইতিহাসকে ৩ লাখ ৫০ হাজার বছরেরও বেশি পিছিয়ে দেয়, যা মানব বিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগুন জ্বালানোর ক্ষমতা মানুষের দৈনন্দিন জীবন বদলে দেয়। উষ্ণতা প্রদান, খাবার রান্না ও মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করে, যা প্রাচীন মানুষকে চিন্তা, পরিকল্পনা ও নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ দেয়।
শিম্পাঞ্জিদের প্রাকৃতিক চিকিৎসা জ্ঞান : উগান্ডায় বন্য শিম্পাঞ্জিদের ক্ষত ও অন্যান্য আঘাত সারাতে উদ্ভিদ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা স্থানীয় একটি দলের সঙ্গে কাজ করে শিম্পাঞ্জিদের নিজেদের ক্ষতে এবং কখনো অন্য শিম্পাঞ্জির ক্ষতেও উদ্ভিদ প্রয়োগ করতে দেখেছেন। দশকের পর দশক ধরে করা পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা প্রমাণ করে, আমাদের নিকটতম আত্মীয়দের মধ্যে প্রাকৃতিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্ময়কর জ্ঞান রয়েছে।
একগামিতায় আশ্চর্যজনকভাবে এগিয়ে মানুষ : আমরা মানুষ নিজেদের রোমান্টিক দিক থেকে অনন্য ভাবি, কিন্তু বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে জুটি গঠনের আচরণ নিয়ে করা এক গবেষণা ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে। প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ একগামী সম্পর্কে আবদ্ধ থাকে, এক্ষেত্রে আমরা শিম্পাঞ্জি ও গরিলাদের চেয়ে এগিয়ে, তবে আজীবন জুটি গঠনের ক্ষেত্রে ‘চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে পরিচিত ক্যালিফোর্নিয়ান ইঁদুরের (মিরক্যাট) চেয়ে পিছিয়ে। গবেষণাটি দেখায়, মানুষ সবচেয়ে একগামী প্রাণী না হলেও অন্যান্য বহু প্রজাতির তুলনায় আজীবন জুটি গঠনের প্রবণতা আমাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
সাতটি গ্রহের বিরল কুচকাওয়াজ : ফেব্রুয়ারির কয়েকটি সন্ধ্যায় আকাশপ্রেমীরা এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করেন, যখন একই সময়ে সন্ধ্যার আকাশে সাতটি গ্রহ দেখা যায়। মঙ্গল, বৃহস্পতি, ইউরেনাস, শুক্র, নেপচুন, বুধ ও শনি সবাই এই গ্রহের কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। এর মধ্যে চারটি খালি চোখে দেখা গেলেও শনি দিগন্তের কাছে ছিল এবং ইউরেনাস ও নেপচুন দেখতে টেলিস্কোপের প্রয়োজন হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এত পরিষ্কার ও অনুকূলভাবে গ্রহগুলোর এমন উপস্থিতি ২০৪০ সালের আগে আর দেখা যাবে না।
চাঁদের পাথরের নমুনা পেল যুক্তরাজ্য : প্রায় ৫০ বছর পর প্রথমবারের মতো চাঁদের পাথরের নমুনা এসেছে যুক্তরাজ্যে, যা চীনের কাছ থেকে ধার নেওয়া হয়েছে। চাঁদের ধুলার ক্ষুদ্র কণাগুলো এখন মিল্টন কেইনসের একটি উচ্চ-নিরাপত্তা গবেষণাগারে সংরক্ষিত রয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে গবেষণা করছেন অধ্যাপক মহেশ আনন্দ, যুক্তরাজ্যভিত্তিক একমাত্র বিজ্ঞানী যিনি এই নমুনায় নিয়ে কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন। বৈজ্ঞানিক মূল্যের কারণে স্বর্ণের চেয়েও বেশি মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত এসব নমুনা চাঁদের সৃষ্টি ও বিবর্তন সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে।
রহস্যময় মমি ও এয়ার ড্রাইড চ্যাপলেইন : অস্ট্রিয়ার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের গির্জার নিচে ১৭০০ শতাব্দী থেকে একটি মমি সংরক্ষিত ছিল, যাকে স্থানীয় লোকজন এয়ার ড্রাইড চ্যাপলেইন বা প্রাকৃতিকভাবে শুকিয়ে যাওয়া পাদরি হিসেবে বিবেচনা করত। অক্ষত ত্বক, টিস্যুসহ এ মমিটির অলৌকিক নিরাময় ক্ষমতা রয়েছে বলে জল্পনাকল্পনাও ছিল। সম্প্রতি গির্জার কক্ষটিতে পানি চুইয়ে পড়ার কারণে সংস্কারকাজের জন্য মমিটি সরানো হয়। এ সুযোগে বিজ্ঞানীরা মমিটির সিটি স্ক্যান, টিস্যু বিশ্লেষণ ও রেডিওকার্বন ডেটিং করেন। গবেষণায় দেখা যায়, মমিটি ফ্রান্স জাভার সিডলার ফন রোজেনেগ নামক এক অভিজাত ব্যক্তির। তিনি সন্ন্যাসী হওয়ার পর ওই গির্জার যাজক হয়েছিলেন। বিজ্ঞানীরা কেবল তাঁর মৃত্যুর আসল কারণই খুঁজে পাননি; বরং তাঁর দেহের ভেতরে পাওয়া একটি রহস্যময় কাচের জিনিসের রহস্যও সমাধান করেছেন। জানা গেছে, এর আগে অজানা এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় দেহটি সংরক্ষিত করা হয়েছিল।
অদ্ভুত নৌকা ও একটি আঙুলের ছাপ : ডেনমার্কের ন্যাশনাল মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা প্রায় ২ হাজার ৪০০ বছরের পুরোনো হজর্টস্প্রিং নৌকাটি দীর্ঘদিন ধরে প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এক ধাঁধা ছিল। ১৯২০-এর দশকে ডেনমার্কের আলস দ্বীপের একটি জলাভূমি থেকে উদ্ধার করা নৌকাটিতে প্রচুর অস্ত্র ছিল, যা ইঙ্গিত দেয় এটি যোদ্ধাদের বহন করছিল। কিন্তু নৌকাটি কোথা থেকে এসেছিল বা কারা এতে ছিল, তা জানা ছিল না। নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নৌকাটি আগে যা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক দূর থেকে এসেছিল। আক্রমণটি ছিল সুপরিকল্পিত। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, নৌকার তেলের অবশিষ্টাংশের মধ্যে একটি মানুষের আংশিক আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে। গবেষক দলের প্রধান মিকায়েল ফভেলের মতে, ওই সময়ের মানুষের আঙুলের ছাপ পাওয়া অত্যন্ত বিরল এবং এটি সরাসরি সেই যোদ্ধাদের একজনের সঙ্গে আমাদের সংযোগ স্থাপন করে। মেরু অভিযাত্রী আর্নেস্ট শ্যাকলটনের বিখ্যাত জাহাজ এইচএমএস এনডুরেন্স ডুবে যাওয়ার রহস্যও এ বছর পরিষ্কার হয়েছে। জানা গেছে, জাহাজটি ভাঙা রাডারের কারণে নয়; বরং এর কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ১৯১৫ সালে ডুবেছিল।
বরফ যুগের নেকড়ে ছানা ও ভুল পরিচয় : ২০১১ ও ২০১৫ সালে উত্তর সাইবেরিয়ায় ১৪ হাজার বছরের পুরোনো দুটি নেকড়ে ছানার মমি পাওয়া যায়। টুমাত পাপি নামের মমিগুলোর শরীর রোমে ঢাকা ছিল এবং পাকস্থলিতে শেষ খাবারের অবশেষও ছিল। এতদিন বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন, এগুলো হয়তো মানুষের পোষা প্রাথমিক যুগের কোনো কুকুর বা পোষা নেকড়ে। ২০২৫ সালের জেনেটিক ডেটা ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ বলছে, এ ছানাগুলোর সঙ্গে মানুষের কোনো সংস্পর্শই ছিল না। এগুলো ছিল বন্য নেকড়ে ছানা। এ আবিষ্কার কুকুরকে কবে প্রথম পোষ মানানো হয়েছিল, সেই গবেষণায় নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
নেপোলিয়নের সেনাবাহিনীর করুণ পরিণতি : ১৮১২ সালে ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট যখন রাশিয়া আক্রমণ করেন, তখন তাঁর সঙ্গে ছিল প্রায় পাঁচ লাখের বেশি বিশাল সেনাবাহিনী। কিন্তু মাত্র ছয় মাস পরে যখন তারা পিছু হটে ফ্রান্সে ফিরে আসে, তখন মাত্র কয়েক হাজার সেনা জীবিত ছিলেন। এত দিন মনে করা হতো যুদ্ধ, ক্ষুধা, শীত ও টাইফাস মহামারিই এ ধ্বংসযজ্ঞের কারণ। এ বছর এস্তোনিয়ার টার্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রেমি বার্বিয়েরি মৃত সেনাদের দাঁত বিশ্লেষণ করে নতুন তথ্য পেয়েছেন। তাঁরা দাঁতের ভেতর সালমোনেলা এন্টারিকা ও বোররিয়া রিকারেন্টিস নামক ব্যাকটেরিয়া খুঁজে পেয়েছেন। টাইফাস ছাড়া প্যারাটাইফয়েড জ্বর ও রিল্যাপসিং ফিভার নেপোলিয়নের বিশাল বাহিনীকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।
আলুর বিবর্তন : আজকের দিনের আলুর আদি উৎস খুঁজে পাওয়া গেছে। জানা গেছে, কয়েক লাখ বছর আগের একটি বন্য টমেটোর সঙ্গে আকস্মিক এক সংযোগের ফলে আলুর বিবর্তন শুরু হয়েছিল।
হারিয়ে যাওয়া মহাকাব্য : সংস অব ওয়েড নামক একটি প্রাচীন মহাকাব্য একসময় খুব জনপ্রিয় ছিল, যার খুব সামান্য অংশ টিকে আছে। নতুন পাঠোদ্ধারে দেখা গেছে, এ মহাকাব্যটি আগে যা ভাবা হতো, তার চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবধর্মী এবং এতে অতিপ্রাকৃত প্রাণীর আধিক্য ছিল না।
ফিউশন-রিয়্যাক্টর ডিজাইনে দশগুণ গতি : চুম্বকীয়-নিবদ্ধ ফিউশনে ৭০ বছরের একটি সমস্যা : জটিল স্টেলার্যাটার ক্ষেত্রগুলিতে উচ্চ-শক্তি সম্পন্ন কণাগুলিকে কীভাবে দক্ষতার সাথে আবদ্ধ করা যায়, তা টেক্সাস অস্টিন বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যালামোস এবং টাইপ ওয়ান এনার্জির পদার্থবিজ্ঞানীরা সমাধান করেছেন। তারা সমমিতি-ভিত্তিক গণিত ব্যবহার করে একটি ‘শর্টকাট’ উদ্ভাবন করেছেন, যা প্রচলিত সংখ্যাতাত্ত্বিক অপ্টিমাইজেশনের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ দ্রুত ফাঁক-ফাঁক চুম্বকীয় জ্যামিতি ডিজাইন করে, সঠিকতা বিঘ্নিত না করেই। SciTechDaily-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি নতুন স্টেলারার রিয়েক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং করার সময় এবং খরচ ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়, যা বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর ফিউশন পাওয়ারের পথে অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী ল্যাব ও কোম্পানিগুলোর জন্য উন্নত বিন্যাসগুলোকে আরও সহজলভ্য করে তুলতে পারে।
প্রথম পুনরুৎপাদনযোগ্য কক্ষ তাপমাত্রার সুপারকন্ডাক্টর : একটি চীনা গবেষণা দল ল্যান্থানাম-স্ক্যান্ডিয়াম হাইড্রাইড, LaSc₂H₂₄-G 271–298 কেলভিন (প্রায় কক্ষ তাপমাত্রা) এর মধ্যে পুনরুৎপাদনযোগ্য সুপারকন্ডাক্টিভিটি রিপোর্ট করেছে, যা একটি ডায়মন্ড-অ্যাভিল সেলে প্রায় ১৯৫-২৬৬ গিগাপাস্কাল পর্যন্ত সংকুচিত করা হয়েছিল। পরিমাপগুলো ১৩টি স্বাধীন পরীক্ষায় শূন্য বৈদ্যুতিক প্রতিরোধ এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্র-নির্ভর সংকট তাপমাত্রা প্রদর্শন করেছে, যেখানে এক্স-রে ডাইফ্র্যাকশন ষড়ভুজাকার স্ফটিক কাঠামো নিশ্চিত করেছে। যদিও অতি-উচ্চ চাপ তাৎক্ষণিক প্রয়োগকে সীমিত করে, এ কাজটিকে ঘর-তাপমাত্রার অতিপরিবাহীতার প্রথম বিশ্বাসযোগ্য প্রদর্শন এবং পরিবেশগত চাপের উচ্চ-টিসি (Tc) উপকরণ অনুসন্ধানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃত করা হয়েছে।
CERN সীসাকে সোণায় রূপান্তরিত করে-সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপ: CERN-এ ALICE সহযোগিতা আল্ট্রা-পেরিফেরাল ভারী-আয়ন সংঘর্ষে সীসা থেকে সোণায় পারমাণবিক রূপান্তরনের প্রথম পরিমাণগত পরিমাপ ঘোষণা করেছে। যখন দুটি সীসা-২০৮ নিউক্লিয়াস স্পর্শ না করে কাছাকাছি চলে যায়, তখন তীব্র বৈদ্যুতিক চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তিনটি প্রোটন বের করে দিতে পারে, ফলে সোনা-২০৫ বা সোনা-২০৩ নিউক্লিয়াস তৈরি হয়। ALICE আবিষ্কার করেছে যে LHC ক্ষণিকের জন্য প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮৯,০০০ পরমাণুর শীর্ষ হারে স্বর্ণ তৈরি করতে পারে, যদিও তা বিম-লাইন হার্ডওয়্যারে ভেঙে যাওয়ার আগে কয়েকটি অংশের জন্যই স্থায়ী হয়। এই ফলাফল বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘আধুনিক আলকেমি’, যা ফোটন-উদ্দীপিত বিক্রিয়া এবং পারমাণবিক গঠন সম্পর্কে বোঝাপড়া উন্নত করে, তবে এটি স্বর্ণ উৎপাদনের কোনো ব্যবহারিক উপায় নয়।
এক্সোপ্ল্যানেট K2-18b-তে সম্ভাব্য জৈব স্বাক্ষর শনাক্ত : জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ১২০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত সাব-নেপচুনে K2-18b-এর বায়ুমণ্ডলীয় আলো বিশ্লেষণ করেছেন এবং হাইড্রোজেন-সমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডল ও সম্ভাব্য জল-মহাসাগরীয় পৃষ্ঠের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মিথেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের বৈশিষ্ট্য রিপোর্ট করেছেন। তারা ডাইমিথাইল সালফাইড (DMS)-এর অস্থায়ী চিহ্নও দেখেছেন, যা পৃথিবীতে সামুদ্রিক জীবনের দ্বারা উৎপাদিত একটি অণু, যদিও সংকেতটি দুর্বল এবং বিতর্কিত। অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্সে প্রকাশিত এই গবেষণাটি একটি এক্সোপ্ল্যানেটে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে আকর্ষণীয় জৈব স্বাক্ষর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যদিও বিজ্ঞানীরা জোর দিয়ে বলছেন যে অজৈব ব্যাখ্যাগুলোও কঠোরভাবে পরীক্ষা করা উচিত।
কোয়ান্টামকেন্দ্রিক সুপারকম্পিউটিং মাইলফলক : আইবিএম (IBM) ব্যবহারিক কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের দিকে অগ্রসর হয়েছে একটি ‘কোয়ান্টাম-কেন্দ্রিক সুপারকম্পিউটার’ আর্কিটেকচার প্রদর্শনের মাধ্যমে, যা একাধিক কোয়ান্টাম প্রসেসিং ইউনিটকে ক্লাসিক্যাল সিপিইউ (CPU) এবং জিপিইউর (GPU) সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করে। শুধুমাত্র কাঁচা কিউবিটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে, ২০২৫ সালের মাইলফলকটি ৪,০০০-কিউবিট স্কেলে পৌঁছানোর জন্য মডুলার চিপ নেটওয়ার্কের ওপর ফোকাস করে, যা ত্রুটি-প্রশমন সফটওয়্যার এবং ক্লাসিক্যাল ওয়ার্কফ্লোয়ের সাথে একীভূত। এ হাইব্রিড ডিজাইনের লক্ষ্য হল রসায়ন, অপ্টিমাইজেশন এবং পদার্থবিজ্ঞানের সমস্যার জন্য অ্যাক্সিলারেটরের মতো কোয়ান্টাম রিসোর্সকে কলযোগ্য করে তোলা, যা ল্যাব প্রোটোটাইপ থেকে শিল্প ও গবেষণায় প্রাথমিক, সমস্যা-নির্দিষ্ট কোয়ান্টাম সুবিধার দিকে একটি পরিবর্তনের সংকেত দেয়।
সূত্র: সিএনএন, বিবিসি, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, বিবিসি হিউম্যান ও এনিমেল প্লান্টে।