নারায়ণগঞ্জে মিয়া গোলাম পরওয়ার

৫৪ বছরেও দেশ দুর্নীতি দুঃশাসন ও বৈষম্যমুক্ত হয়নি


৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৯

মাহবুবুর রহমান ও আকমামুল হক, নারায়ণগঞ্জ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, কাজের মাধ্যমে জনগণের ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করছে জামায়াতে ইসলামী। যারা একসময় জামায়াতের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল, তারা আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে জনগণ একাধিক দলকে ক্ষমতায় দেখেছে, কিন্তু দুর্নীতি, দুঃশাসন ও বৈষম্য থেকে মুক্তি পায়নি। তাই জনগণ প্রকৃত পরিবর্তন চায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোডের ট্রাক স্টেশন এলাকায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রের সর্বস্তরে দুর্নীতি ও দলীয়করণ বেড়ে গেছে। অপরাধীরা ছাড় পায়, আর নিরপরাধ মানুষ নির্যাতিত হয়। জামায়াতের দুজন মন্ত্রী সরকারে থেকেও কখনো দুর্নীতিতে জড়ায়নি।
তিনি নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, আমার জেলে থাকাকালীন সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জ হয়ে আদালতে যেতে হয়েছিল। ঢাকায় পলিসি সামিটে আমরা বিদেশিদের কাছে জামায়াতের সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে সমর্থ হয়েছি ।
সমাবেশে তিনি বলেন, একটি দল ১৮ কোটি মানুষকে ৫০ কোটি ফ্যামিলি কার্ড দেবে বলে লোভ দেখাচ্ছে, মানুষ ১৮ কোটি; কাকে ৫০ কোটি ফ্যামিলি কার্ড দেবে? এটা ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই না।
তিনি আরও বলেন, আমরা ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর কথা নির্বাচন কমিশনে বলেছি, অর্থ বরাদ্দও নাকি পাওয়া গেছে।
সভায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এক গডফাদার বলেছিল, নারায়ণগঞ্জে জামায়াত নেতাদের প্রবেশ নিষেধ, আজ আমি আসলাম, সে কোথায়? ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে অকুতোভয় সৈনিকরা নারায়ণগঞ্জের মাটিতে জীবন উৎসর্গ করেছে ।
তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে রিকশাচালক, দিনমজুর, ভ্যানচালক যার সাথে কথা বলি, তারা বলে ভোট দেব দাঁড়িপাল্লায়। এ সিদ্ধিরগঞ্জে আমি ও খেলাফত নেতা মামুনুল হক নাকি গাড়ি পুড়িয়েছি ? সেই মামলায় এখন খালাস পেয়েছি। বিএনপির এক নেতা বলে বেড়ান, তারা দুর্নীতিবাজ হলে আমাদের দুজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেননি কেন? তিনি জবাবে বলেন, আমরা এজন্য পদত্যাগ করেনি- যাতে কারা দুর্নীতিবাজ তা প্রমাণ করা যায়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের আমীর বলেছেন, স্বল্পমূল্যেও ফ্ল্যাট ও বিনা শুল্কের গাড়ি নেবেন না, তারা তো বলতে পারলো না। সব শেষে তিনি প্রার্থীদের হাতে দাাঁড়পাল্লা, শাপলাকলি ও ঘড়ি প্রতীক তুলে দিয়ে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং সবাইকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন নারায়গঞ্জ জেলা আমীর মমিনুল হক সরকার, মহানগরীর সাবেক আমীর মঈন উদ্দিন, শিবিরের নারায়গঞ্জ জেলা সভাপতি আকরাম হোসেন, জুলাইযোদ্ধা আসমা খাতুন, জুলাইযোদ্ধার পিতা আবুল কালাম আজাদ ও হাসান মাহমুদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুন্না, জোট শরীক এবি পার্টি, এলডিপি নেতৃবৃন্দ, যুবশক্তির তুহিন মাহমুদ, এনসিপির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শওকত আলী, নারায়ণঞ্জ-১, ২, ৩, ৪, ৫ আসনে প্রার্থী যথাক্রমে আনোয়ার হোসেন মোল্লা (দাঁড়িপাল্লা), অধ্যাপক ইলিয়াস হোসেন মোল্লা (দাঁড়িপাল্লা), অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া (দাঁড়িপাল্লা), আবদুল্লাহ আল আমীন (এনসিপি-শাপলা কলি), মাওলানা এ বি এম সিরাজুল মামুন (খেলাফত মজলিস- দেয়াল ঘড়ি) ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতারা।
প্রধান অতিথি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং সকলকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। এ সময় বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।