সরকার ও ইসির পক্ষপাতিত্ব, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২১
॥ জামশেদ মেহদী ॥
এ কথা সত্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু সেই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এবং সেই নির্বাচন উৎসবমুখর হবে বলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে বিপুল আশাবাদ বার বার ব্যক্ত করে যাচ্ছেন, কিন্তু নির্বাচন তেমন অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ার ব্যাপারে বিপুল শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুধু শঙ্কা নয়, এমন কিছু কিছু ঘটনা ঘটছে, যেগুলো দেখে মনে হচ্ছে যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যেই একটি বিশেষ দলের দিকে হেলে পড়েছে। সেই দলকে যেকোনো ছুঁতানাতায় লাইমলাইটে আনছে, যেকোনো ছুঁতানাতায় তাদের ব্যাপক পাবলিসিটি দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ঢাকার বাইরের জেলাগুলো থেকে যেসব খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেসব খবরে দেখা যাচ্ছে যে, মফস্বলের প্রায় সব ডিসি, এসপি, ওসি, ইউএনও প্রমুখ মাঠপর্যায়ের অফিসাররাও এখন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতা করছেন।
এতদিন পর্যন্ত বিএনপির প্রতি সরকারের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনসিপির তরফ থেকে করা হচ্ছিল। কিন্তু এখন সেই অভিযোগ এসেছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম দল জামায়াতের তরফ থেকেও। গত ১৮ জানুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সাথে দেখা করেন জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ প্রতিনিধিদলে ছিলেন নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কোনোরূপ রাখঢাক না করে বলেন যে, ড. ইউনূসের প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এ ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে। ইতোমধ্যেই যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার ফলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অত্যাবশ্যকীয় পূর্বশর্ত লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড বা সমতল মাঠের শর্ত ইতোমধ্যে ভঙ্গ হয়েছে।
কোনোরূপ রাখঢাক না করে ডা. তাহের বিএনপির নাম ধরে বলেন যে, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। মাঠপর্যায়ের ডিসি, এসপি প্রমুখ অফিসার, যারা রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কাজ করছেন, তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতিত্ব উৎকটভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। ডা. তাহের আরো জানান যে, এ ধরনের একটি তালিকা তার দল ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করেছে। এখন পর্যন্ত এসব অফিসারকে জামায়াত পর্যবেক্ষণে রেখেছে। তাই তারা এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
ডা. তাহেরের যে অভিযোগটি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, সেটি হলো এই যে, ব্যক্তিবিশেষ বা দলবিশেষ বা দলের প্রধানবিশেষকে বিশেষ ধরনের প্রটোকল বা নিরাপত্তা দেওয়া যেতে পারে। এ ধরনের নিরাপত্তা প্রদানে জামায়াতে ইসলামীর কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু অন্য কোনো দল বা দলপ্রধানকে বিশেষ প্রটোকল বা নিরাপত্তা দিলে দেশের অন্যতম বৃহত্তম দল জামায়াতের আমীরকেও একই ধরনের প্রটোকল বা নিরাপত্তা দিতে হবে।
ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করে ডা. তাহের বলেন, বিশেষ প্রটোকলের জন্য জামায়াত লালায়িত নয়। তেমনি নিরাপত্তার ব্যাপারেও জামায়াত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে পারেন রাব্বুল আলামিন। কিন্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি দল বিশেষ প্রটোকল পাবে এবং আরেকটি দল পাবে না- এমন দৃশ্য জনগণের মধ্যে অন্যরকম ধারণার সৃষ্টি করতে পারে। জনগণ ভাবতে পারে, যে দলটি প্রটোকল পাচ্ছে, ঐ দলটি খুব দামি এবং শক্তিশালী। এ ধরনের বিভ্রান্ত ধারণা নির্বাচনে জনগণের কাছে ভিন্ন একটি বার্তা দিতে পারে। এ ধরনের একপেশে বার্তা যেন সাধারণ মানুষের কাছে না যায়, সেজন্যই জামায়াত বিশেষ নিরাপত্তা এবং প্রটোকল চাচ্ছে। এটা যদি চলতে থাকে, তাহলে খুব দ্রুতই জামায়াত এটিকে একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করবে। আর সেটি হলে লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড পুরোপুরি ভেঙে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ডা. তাহের বলেন যে, তারা এসব বিষয়ে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এখন মাঠপর্যায়ে প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীন। এখনো যদি পক্ষপাতমূলক আচরণ মাঠপ্রশাসন তথা নির্বাচন কমিশন পরিহার না করে তাহলে জামায়াত প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করবে। জামায়াত এখনো মনে করে যে, ব্যক্তিগতভাবে প্রধান উপদেষ্টা সত্যিকার অর্থেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চান এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি নিরপেক্ষ। কিন্তু তার আশপাশে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন, যারা অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা তার নজরে আনছেন না অথবা আনলেও সেটিকে দলবিশেষের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করছেন।
ডা. মোহাম্মদ তাহের বলেন, একজন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতার পরিচয়পত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৈরি হয়ে যায়। অথচ একজন সাধারণ মানুষের পরিচয়পত্র মাসের পর মাস অপেক্ষা করলেও তৈরি হয় না।
ডা. তাহের জানান যে, অন্তত ১৫টি রাজনৈতিক দল এখনো জামায়াত জোটে যোগদানে আগ্রহী। কিন্তু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় টেকনিক্যাল কারণে তাদের কোনো আসন দেওয়া সম্ভব হয়নি। আসন না পেলেও ঐসব দল জামায়াতের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।
জামায়াতে নায়েবে আমীরের অভিযোগ যে শতকরা ১০০ ভাগই সত্য, তার স্বপক্ষে দু-একটি উদাহরণ দেওয়া যায়। সকলেই জানেন যে, নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো দেশে সাধারণ নির্বাচন করা। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনও তাদের তত্ত্বাবধানেই হয়ে থাকে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের সংসদ নির্বাচনের সাথে ইলেকশন কমিশন বা ইসির বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। অথচ বাংলাদেশের মানুষ অবাক বিস্ময়ে দেখলেন যে, গত ১৮ এবং ১৯ জানুয়ারি বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নির্বাচন অফিস ঘেরাও করেছে। নির্বাচন কমিশনের সাথে তাদের সম্পর্ক কী? কোনোই সম্পর্ক নেই। দেখা গেল, তারা যে তিনটি দাবি ইসির কাছে দিয়েছেন, তার একটি হলো, ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা, সেটি বন্ধ করতে হবে।
প্রথম কথা হলো, ইসির সাথে শাকসু বা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তো কোনো সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয়ত, ২৮ বছর আগে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই থেকে এ দীর্ঘ ২৮ বছরে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। গত ২০ জানুয়ারি যে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, সেটিই হতো ২৮ বছরে প্রথম সংসদ নির্বাচন।
ভাবতে অবাক লাগে যে, কি জাতীয় পর্যায়ে হোক, কি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে হোক, মানুষ সবসময় ভোট বা ইলেকশন চায়। মানুষের দাবিই হলো ইলেকশন বা ভোট হতে হবে। ইলেকশন বা ভোট বন্ধ করতে হবে- এরকম দাবি কোনোদিন শোনা যায়নি। অথচ বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল ইসিকে ঘেরাও দিয়ে সেই দাবিটিই তুললো। তারা ঘেরাও দেওয়ার আগে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সাথে দেখা করেন এবং অন্যান্য দাবির মধ্যে ভোট বন্ধ করার দাবি করেন।
ডা. মোহাম্মদ তাহের বলেন যে, যারা ভোট বন্ধ করতে চায়, তারা হলো হারু পার্টি। দেশের ৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির শুধুমাত্র ভূমিধস বিজয়ই পায়নি, বরং দুই তিনটি বাদে প্যানেল বিজয় পেয়েছে। জামায়াত বলে না যে, শাহজালালেও শিবির ভূমিধস বিজয় পাবে। কারণ কার মনে কী আছে, সেটি তো বলা অত সহজ নয়। কিন্তু শিবির নির্ধারিত সময়েই ভোট দাবি করে আসছে।
গত ১৯ জানুয়ারি সোমবার এ ভাষ্য লেখার সময় খবর পাওয়া গেল যে, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন। সন্ধ্যার পর খবর পাওয়া গেল যে, হাইকোর্টের এ স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজের কাছে আপিল করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত শুনানির তারিখ জানা যায়নি।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্ট গত ১৯ জানুয়ারি যে আদেশ দিয়েছেন, তার প্রতিবাদে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেছেন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। তবে শিক্ষার্থীরা যান চলাচলের জন্য সড়কের একটি লেন ছেড়ে দিলেও যানজট রয়ে গিয়েছে।
মাঠপর্যায়ে প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন যে অনেকখানি বিএনপির পক্ষাবলম্বন করেছে, তার বড় প্রমাণ হলো নমিনেশন পেপার যাচাই-বাছাই এবং অবৈধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে। অন্তত ১৯টি জেলা থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, ফরম ফিলআপ করার সময় কোনো ভুল না থাকা বা তুচ্ছাতি তুচ্ছ ত্রুটি থাকার কারণে বিপুল সংখ্যক ইসলামী আন্দোলন, জামায়াত ও স্বতন্ত্র সদস্যের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এসব ছোট-খাটো ত্রুটি-বিচ্যুতিকে মোটেই আমলে না নিয়ে সেগুলোকে বৈধ ঘোষণা করেন। তাই দেখা যায় যে, ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত যেখানে ৬ শতেরও বেশি মনোনয়নপত্র মাঠপ্রশাসন বাতিল করেছিলো, ইসি অফিস তার মধ্যে সাড়ে ৪ শতেরও বেশি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। অভিযোগ আছে যে, যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং অফিসারদের অফিস বিএনপির কর্মীরা ঘেরাও করে রাখে এবং বিশেষ বিশেষ প্রার্থীকে অবৈধ ঘোষার জন্য চাপ দেয়। মাঠপ্রশাসন সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করে।
নির্বাচন কমিশন সবচেয়ে বড় অপরাধ করেছে দ্বৈত নাগরিকদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করায়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাপ্ত খবর মোতাবেক অন্তত ২৫ জন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। এদের মধ্যে ২২ জনই বিএনপির। এ সম্পর্কে সংবিধানের বিধান নিম্নরূপ-
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি, (গ) উপ-অনুচ্ছেদ মোতাবেক তিনি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন। এ উপ-অনুচ্ছেদের (ক) উপঅনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিলে তিনি নির্বাচন করার যোগ্যতা অর্জন করবেন। তবে এক্ষেত্রে ইলেকশন কমিশনের কাছে প্রমাণ দেখাতে হবে যে, তিনি যে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন সেই নাগরিকত্ব সারেন্ডারের অফিসিয়াল রেকর্ড (যে দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা হয়েছে সেই দেশের সার্টিফিকেট) ইলেকশন কমিশনে জমা দিতে হবে।
বিএনিপর যে ২২ জন বিদেশি নাগরিকত্বধারী প্রার্থীকে বৈধ করা হয়েছে, তারা কেউই সংশ্লিষ্ট দেশের (আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি) সার্টিফিকেট দাখিল করতে পারেননি। তারপরও বিএনপির চাপে তাদের নমিনেশন পেপারকে বৈধতা দান করা হয়েছে।
এটি বাংলাদেশের সংবিধানের জ¦লন্ত লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন নিজেই একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠান যখন সংবিধান লঙ্ঘন করে নির্বাচন করে সেই নির্বাচন কোনো দিন সুষ্ঠু হতে পারে না।
গত ১৯ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠকের পর এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম গুরুতর অভিযোগ করেছেন। বলেছেন যে, নির্বাচনী প্রচারে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে বিএনপি ব্যবহার করছে। বেগম জিয়ার মৃত্যুতে শোকসভার নামে তার মৃত্যুকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচারণা ও নির্বাচনী প্রচারণা করা হচ্ছে।
দল-মত নির্বিশেষে এ বিষয়টিতে ১৮ কোটি মানুষ একমত যে বেগম খালেদা জিয়া বিগত ১০ বছর থেকেই একটি জাতীয় সম্পদ। ইন্তেকালের বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই তাকে আর দেশবাসী বিএনপি নেত্রী হিসেবে বিবেচনা করেনি। বরং তাকে বিবেচনা করেছেন দেশনেত্রী হিসেবে। দেশনেত্রী সকলের সম্পদ, শুধু বিএনপির সম্পদ নয়। যদি বিএনপি তাকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করে, তাহলে দুর্ভাগ্যজনভাবে বিএনপি তাকে শেখ মুজিবের স্থানে ফেলে দেবে। শেখ হাসিনা শেখ মুজিবের মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক ব্যবহার করেছেন বলে শেখ মুজিবের এমন অবনমন। এটি বিএনপির মাথায় রাখা দরকার।
Email:jamshedmehdi15@gmail.com