২৩ জানুয়ারি ফের দিল্লিতে গণমাধ্যমের মুখোমুখী হচ্ছে আ’লীগ

থামেনি ভোট বানচালের ষড়যন্ত্র


২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৫

তৎপরতা বাড়ছে ফ্যাসিস্টদের

॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
প্রতীক বরাদ্দ হওয়ায় প্রচারে নেমে পড়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। ২২ জানুয়ারি থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নেমে পড়েন। জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ দেশের প্রধান প্রধান দল ও জোটভুক্ত প্রার্থীরা যখন নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যস্ত, তখন পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ব্যস্ত ভোট বানচালের ষড়যন্ত্রে। দলটির শীর্ষনেতারা বিদেশে থেকে নেতাকর্মীদের ভোট বানচালে নানা উসকানি দিচ্ছে। কীভাবে ভোটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায়, তা নিয়ে নানা অপকৌশল করছে দলটির শীর্ষনেতারা। খোদ শেখ হাসিনাই নেতাকর্মীদের অডিওকল ও অডিওবার্তায় নানা নির্দেশনা দিচ্ছে। এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর গত ১৭ জানুয়ারি দিল্লিতে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে দলটি। ২৩ জানুয়ারি আরও একটি সংবাদ সম্মেলন হচ্ছে দিল্লিতে। এই সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশই হলো দেশবিরোধী প্রচারণা চালানো এবং নির্বাচনবিরোধিতা করা। এই নির্বাচন বানচালে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ তাদের মিত্র জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গেও যোগযোগ রাখছে।
রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে আ’লীগের শীর্ষনেতারা
দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতৃত্ব। দলীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার করেছেন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ, আন্দোলন-নির্বাচন পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সাংগঠনিক ঐক্য সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ১৪ দলীয় জোটসহ বিভিন্ন সহযোগী দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে নিয়মিত টেলিযোগাযোগ এবং বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতাদের এই যোগাযোগ কার্যক্রমকে একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় রাখার মাধ্যমে দলটি আগামী দিনগুলোয় নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে চায় পতিত এই দলটি। আওয়ামী লীগের টার্গেট দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের মাঠে ফিরিয়ে আনতে দলটি যা যা করণীয়, তাই করবে।
নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত জুম মিটিং করছেন পালিয়ে থাকা এমপিরা
পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক একাধিক সংসদ সদস্য (এমপি) সরাসরি মাঠে উপস্থিত না থাকলেও ভার্চুয়ালমাধ্যমে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় দেশের বাইরে বা আত্মগোপনে থাকা এসব সাবেক এমপি এখন জুমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সূত্র জানায়, প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে ও সময়ে এসব এমপি জুম মিটিংয়ে যুক্ত হন। কখনো জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক, আবার কখনো তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে বড় পরিসরের ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব মিটিংয়ে সংগঠন শক্তিশালী রাখা, কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ভোলা থেকে ঢাকায় পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের এক নেতার সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান, তার নির্বাচনী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিদেশে অবস্থান করছেন, তিনি নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে জুম মিটিংয়ে অংশ নেন। কর্মীদের নানা সমস্যার কথা শোনেন। অনেকেই আর্থিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। তিনি মিটিংয়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
ভোট বানচালের অভিযোগ : মিত্রদের ব্যবহার করতে চায় নিষিদ্ধ দল
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের রাজনৈতিক মিত্রদের ব্যবহার করতে চায় আওয়ামী লীগ। গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের একাধিক সূত্রের দাবি, একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় মিত্র সংগঠন ও সমমনা গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সরকার বলছে, কোনো অবস্থায়ই নির্বাচন ব্যাহত হয় এমন কর্মকাণ্ড কাউকে করতে দেওয়া হবে না। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরাসরি রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে না পারলেও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সময় মন্ত্রিপরিষদে থাকা জাতীয় পার্টি ও পার্টি থেকে বের হয়ে নতুন জোট করার লোকজনকে ব্যবহার করে ভোটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো এবং নির্বাচনী পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গেছে, নির্বাচনের দিন কীভাবে পরিবহন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করা যায়, ভোটার উপস্থিতি কমানো যায় অথবা ফলাফল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনায় ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সব ধরনের তৎপরতায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যেকোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা তাদের সহযোগীদের বেআইনি তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দিয়ে রেখেছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ কোনো দল সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তারা পরোক্ষভাবে অপকৌশল গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই আওয়ামী লীগ। এদিকে সাধারণ জনগণের মধ্যে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেক ভোটারই চান, সব ধরনের ষড়যন্ত্রের ঊর্ধ্বে উঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন আইনগত কাঠামোর মধ্যে থেকেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়।
বিদেশে সক্রিয় আ’লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা
পতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশের সুবিধা করতে না পেরে বিদেশে গিয়ে দেশবিরোধী চক্রান্ত করছে। দলটির পলাতক নেতাকর্মীরা বিদেশে গিয়ে দলীয় তৎপরতার পাশপাশি দেশবিরোধী কার্যক্রমে সময় দিচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে নিউইয়র্ক সফলকালে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ‘মব’ সৃষ্টি করে। তারা বিএনপি মহাসচিবকে হেনস্তা ও এনসিপির সদস্য সচিবের ওপর ডিম নিক্ষেপ করে। এছাড়া বিদেশের মাটিতে বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে দলটির সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা মিছিল-মিটিং, মানববন্ধন করে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। এসব কর্মসূচিকে ইতিবাচক হিসেবে নেননি প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির লোকজন মনে করছে, প্রবাসে এসব রাজনৈতিক কর্মসূচি নিজেদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে। অনেকেই বলছেন, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের উচিত নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক অবস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া, দেশের রাজনৈতিক বিরোধ এখানে টেনে না আনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে সাধারণ মানুষের কাছে আওয়ামী লীগ প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় দলটির নেতারা বিদেশে পালিয়ে বেরাচ্ছে এবং বিদেশেই সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
দিল্লিতে আ’লীগের সংবাদ সম্মেলন, হাসিনা কথা বলছেন অডিওতে
ভারতের দিল্লির প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় গত ১৭ জানুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দুই সাবেক মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ২৩ জানুয়ারি দলটির আরও দুজন সাবেক মন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন। ১৭ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে হাজির ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ২৩ জানুয়ারি নওফেলের হাজির থাকার কথা আছে, সঙ্গে থাকার কথা আরেক সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের। দিল্লির প্রেস ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিই ছিল ২০২৪-এর ৫ অগাস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলন। তবে দলটির অনেকে নেতাই ভারতীয় গণমাধ্যমকে নানাভাবে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন গত দেড় বছরের বেশি সময়ে। যদিও অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক লন্ডনপ্রবাসী ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেছেন যে, হাছান মাহমুদ এবং নওফেল কেউই আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে ওই সংবাদ সম্মেলনে আসেননি।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিক্ষোভ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বা ওএইচসিএইচআর যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটি যে নিরপেক্ষ নয়, সেটা তুলে ধরতেই ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলাম। মাহমুদ আর নওফেলরা সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে আসেননি, ওই প্রতিবেদনটি যে একতরফাভাবে তৈরি করা হয়েছে, সেটার জবাব দিতেই এসেছিলেন তারা। তবে এই বিষয়ে দিল্লির সংবাদ সম্মেলনটি প্রথম নয়। নিঝুম মজুমদার জানিয়েছেন, এ নিয়ে তারা প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন জেনেভাতে। সেখানেই প্রথম বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছিলেন তারা।
দিল্লিতে গত ১৭ জানুয়ারি যে সংবাদ সম্মেলন হয়, সেটির আয়োজক ছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশন বা আইসিএফআর নামে একটি সংগঠন ও লন্ডনভিত্তিক একটি ল-ফার্ম। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বা ওএইচসিএইচআর জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে যে প্রতিবেদন করেছিল, তার একটি ‘রিব্যুটাল’ বা জবাবি প্রতিবেদন তৈরি করেছে আইসিএফআর নামে সংগঠনটি। ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন যারা, তাদের অন্যতম হলেন লন্ডনভিত্তিক ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা প্রথম সংবাদ সম্মেলনটি করেছিলাম জেনেভায়। আমরা চাইছিলাম দিল্লির গণমাধ্যমের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরতে। আওয়ামী লীগের যে দুজন নেতা সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন, তারা দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখী হন। আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়, যে সাবেক সংসদ সদস্য এখনো বাংলাদেশেই অবস্থান করছেন। তার ওই ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জানান, ভার্চুয়াল মাধ্যমে শেখ হাসিনা নিয়মিত তার দলের নেতা-কর্মীদের আলোচনা সভাগুলোয় যোগ দেন। কিন্তু সবই শুধু অডিও মাধ্যমেই কথা বলতে পারছেন, ভিডিওতে নয়।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন এ যাবতকালের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। সে হিসেবে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ। এই নির্বাচনের জন্য বিদেশি বন্ধুরাও মুখিয়ে আছেন। তারাও আত্মবিশ্বাসী এই সরকারের অধীনে একটি ভালো নির্বাচন হবে। সেজন্য সব ধরনের সমর্থনও দিচ্ছেন তারা।’ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই। কারণ ‘আওয়ামী লীগ যে ধরনের গুম, খুন ও ভয়ানক ডাকাতির রাজ্য কায়েম করেছিল তা পুরো পৃথিবীর মানুষ জানে। ফলে তাদের হয়ে কেউ আওয়ামী লীগকে সুযোগ দেওয়ার জন্য বলছে না। বরং আওয়ামী লীগ অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা না চেয়ে সেই বলার সুযোগও রাখেনি।’ প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের লোকজনও তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। কারণ বিগত সাড়ে ১৫ বছরে তারাও ভোট দিতে পারেনি।’ নির্বাচনকে বানচাল করার মতো সাধ্য কোনো অপশক্তির নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কী করতে পারে তা সবারই জানা। তারা কেবল জ্বালাও-পোড়াও ও মানুষ হত্যা করতে পারে। এর বাইরে আর কিছুই করতে পারে না। তাদের মিছিলে এখন কেউ যায় না। মূলত যারা ডলার নিয়ে পালিয়েছেন তারা জানেন, তাদের নেত্রী আর ফিরে আসবেন না। সেজন্য তারা ডলার অন্য খাতে ব্যয় করছেন।’ সম্প্রতি বি-বাড়িয়ার এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব যুবায়ের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ সংগঠন। আর কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন আইনবিরোধী কোনো কিছু করলে সেটি ঠেকানোর দায়িত্ব সরকারের। তিনিও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের সর্বন্তরের মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা যতই ষড়যন্ত্র করুক, এদেশের মানুষ তাদের আর গ্রহণ করবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে বানচাল এবং গণঅভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করতে ষড়ন্ত্র থেমে নেই। তিনি বলেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনা পুরো জাতি দেখেছে। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রতিচ্ছবি ছিলেন, যারা নায়ক ছিলেন, নেতা ছিলেন এবং যারা অংশগ্রহণকারী ছিলেন, তাদের টার্গেট করা হচ্ছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের ভেতরে বাইরে যারা নীলনকশা করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে।