ব্যবসা বাড়াচ্ছে বেসরকারি খাত

দুর্নীতি ও লুটপাটে বন্ধ হচ্ছে, লাভজনক সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান


১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১৯

সরকারি উদ্যোগে শিল্প প্রতিষ্ঠা করে লাভজনক করে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে বা যৌথভাবে পরিচালনা করতে ইপিআইডিসির মতো প্রতিষ্ঠান পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
॥ উসমান ফারুক॥
একসময় এ অঞ্চলে গাড়ি, টিভি, কেমিক্যালস, বস্ত্র, চিনি, স্টিলসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্য উৎপাদন হতো। লাভজনক এসব শিল্প কারখানা ১৯৭১ সালে জাতীয়করণ হলে দুর্নীতি, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ, ট্রেড ইউনিয়নের দৌরাত্ম, লুটপাট ও অপেশাদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এসব প্রতিষ্ঠান। শুধু ২০২০ সালে বস্ত্র খাতেরই ২৫টি কারখানা লোকসানের কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়। একই বছর বন্ধ হয়ে যায় একসময় দেশের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা চিটাগাং স্টিল মিলস। স্বাধীনতার পর ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণ করলেও তা কারিগরি সমস্যায় পড়ছে প্রতিনিয়ত। চিনিকলসহ বর্তমানে ৩০টির মতো প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে লোকসান দিচ্ছে বেশিরভাগ। সরকারি মালিকানায় থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মুনাফায় থাকা সরকারি শিল্প কারখানা। অথচ একই খাতের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তার ব্যবসা আরো চাঙ্গা করতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় সরকারি কল-কারখানাগুলো। এভাবে বছরের পর বছর লোকসানের বোঝা টানতে টানতে কালক্রমে একে একে তা বন্ধ হয়ে যায়। এর জন্য দায়ী হচ্ছে দুর্নীতি, জবাবদিহির অভাব, নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, ব্যবসায়িক লক্ষ্য না থাকা, সীমাহীন লুটপাট ও বেসরকারি খাত থেকে উৎকোচ নিয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠান।
শিল্প কারখানা পুরোটা সরকারের হাতে না রেখে বেসরকারি অংশীদারিত্বে ছেড়ে দিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করলে জবাবদিহি ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা বাড়বে। বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে সরকারি উদ্যোগে শিল্প প্রতিষ্ঠা করে লাভজনক করে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে বা যৌথভাবে পরিচালনা করতে ইপিআইডিসির মতো প্রতিষ্ঠান পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। নজরদারি বাড়াতে পারলে সরকারি মালিকানাধীন এসব প্রতিষ্ঠান লাভজনক হিসেবে চলতে পারবে। কর্মসংস্থান বাড়িয়ে বেকারত্ব ঘোচাবে ও অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে।
ভুল ছিল সব শিল্প জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ জন্মের পরপরই ১৯৭২ সালে একযোগে তিন হাজার ৫০টি প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেছিল। দশটি কর্পোরেশন বা সংস্থার অধীনে তা বণ্টন করে চালাতে দেয়া হয়। এতে সব প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদ ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আমলাদের হাতে। অভিজ্ঞতা না থাকা ও অপেশাদার হওয়ায় শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ভুল সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়। এর ফলে রাষ্ট্রীয়করণের উদ্যোগ বেশিদিন টেকসই হয়নি। ফলে প্রতিযোগিতায় মান হারাতে থাকে রাষ্ট্রায়ত্ত এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান। গত অর্ধশতাব্দীতে চিনি, ইস্পাতসহ সেসব খাতের প্রতিষ্ঠান লোকসানি শিল্পে পরিণত হলে বন্ধ হয়ে যায় একের পর এক। এখনো ছয়টি কর্পোরেশনের অধীনে ৩০টির মতো প্রতিষ্ঠান কোনোমতে চলছে। চিনিকলসহ এগুলোর বেশিরভাগই লোকসান দিয়ে চলছে। কয়েকটিকে একীভূত করে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ব্যতিক্রমী সংস্থা শিল্প উন্নয়ন সংস্থা এখন বিলুপ্ত
১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে শিল্পায়ন বাড়াতে রাষ্ট্রের উদ্যোগে পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইস্ট পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন-ইপিআইডিসি) নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলা হয়। ইপিআইডিসি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল প্রথমে শিল্পায়ন করা, তারপর লাভজনক অবস্থায় পৌঁছালে তা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া। এভাবে পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার জন্য সবগুলো প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হচ্ছিল। পুরো ব্যবস্থাপনা সেভাবেই সাজানো হয়েছিল।
এভাবে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলে বৃহৎ, মাঝারি ও ছোট মিলিয়ে ৩ হাজার ৫১টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৩টির মালিক ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক মূল্য ছিল শতকরা ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে বৃহৎ ব্যবসায়ীদের মধ্যে অবাঙালি ও বাঙলি মিলিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৭২৫। যা জিডিপির ৪৭ শতাংশ অবদান রাখতো। অন্যদিকে সম্পূর্ণ ইপিআইডিসির মালিকানায় থাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানের জিডিপিতে অবদান ছিল ৩৪ শতাংশ।
বাংলাদেশের জন্মের পর শিল্প উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রম গুটিয়ে নামকরণ করা হয় শিল্প ঋণ সংস্থা। সর্বশেষ ২০০৯ সালে এটিও বিলুপ্ত করে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক করা হয়। এভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শিল্পায়নের জন্য গঠিত সংস্থার মৃত্যু হয়। শিল্পায়নের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বেসরকারি খাতে।
যত শিল্পের জন্ম হয়
ইপিআইডিসির মাধ্যমে ১৯৬৫ সালে চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স তৈরি হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে প্রায় ৯২ একর জমির ওপর। চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কর্ণফুলী পেপার মিল। দেশের একমাত্র ফসফেট কারখানা হিসেবে টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয় চট্টগ্রাম নগরের উত্তর পতেঙ্গায়। এটি দেশের একমাত্র ফসফেট সার কারখানা।
ইস্পাতের চাহিদা মেটাতে ১৯৬০ সালের দিকে চট্টগ্রামে ‘চিটাগাং স্টিল মিলস’ প্রতিষ্ঠা করা হয় কর্ণফুলী নদীর পাড়ে। প্রায় ২২২ দশমিক ৪২ একর জমি নিয়ে তৎকালীন ৫৬ দশমিক ৭০ কোটি রুপি বিনিয়োগে এটি নির্মাণ করা হয়। সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে ১৯৬৬ সালে গান্ধারা ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গাড়ি সংযোজন কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়, এখন যার নাম প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ। এছাড়া করা হয় ঈগল টেক্সটাইল মিল। প্যাসিফিক ইন্ডাস্ট্রিজে একসময় ন্যাশনাল ব্র্যান্ডের টিভি তৈরি হতো।
বাংলাদেশ সময়ে আওয়ামী লীগের মেয়াদে ছোট আকারের ল্যাপটপ তৈরিতে দোয়েল কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হলে তা দুর্নীতির কারণে এখন বন্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
১৯৭২ সালে দেশের তিন হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ পাটকল সংস্থা, বাংলাদেশ বস্ত্রকল সংস্থা, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থা, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থা, বাংলাদেশ রসায়নশিল্প সংস্থা, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন সংস্থা নামে ছয়টি সংস্থার অধীনে নিয়ে জাতীয়করণ করা হয়।
পরবর্তীতে তা লোকসানে পরিণত ও নানারকম অব্যবস্থাপনা জন্ম হলে পুনরায় জাতীয়করণ থেকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া শুরু হয় আশির দশকে। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ৭৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেয়া হয়, যার মধ্যে ৬০৯টি শিল্প খাতের। এরপর ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ৪৪৯টি এবং ২০০০ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম স্টিল মিলসহ ৬২১টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিরাষ্ট্রীয়করণ করা হয়।
২০১০ সাল পর্যন্ত আদমজী পাটকলসহ আরো বড়-ছোট-মাঝারি অনেক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হয় বন্ধ অথবা বিরাষ্ট্রীয়করণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থসংস্থান সব বিবেচনায়ই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অনুপাত অনেক সংকুচিত হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে প্রধান ও বৃহৎ কারখানা ছিল স্টিল, পাট, কাগজ, সার ও চিনি শিল্প। হয় বন্ধ অথবা ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর, সংকোচন অথবা নীতি বা দুর্নীতির মাধ্যমে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রক্রিয়া সরকার নির্বিশেষে অব্যাহত থাকে।
যেগুলো কোনোভাবে টিকে আছে
যমুনা সার কারখানা, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, ইস্টার্ন রিফাইনারি, এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি, বাংলাদেশ ইনসুলেটর অ্যান্ড স্যানিটারিওয়্যার ফ্যাক্টরি লিমিটেড, মাধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
কর্পোরেশনের আওতায় নিয়ে লোকসানি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্র্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, বেসরকারি মালিকানায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না। তাদের কোনো বাণিজ্যক উদ্দেশ্য থাকে না। এ কারণে কর্পোরেশনগুলোর উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান মুনাফায় থাকতে পারেনি। একসময় পুরো দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রের। এখন সেখান থেকে বেশিরভাগ দেশ সরে এসেছে। এখন রাষ্ট্রের কাজ হচ্ছে পরিবেশ তৈরি। সরকার নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠান গড়তে পারলে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।
তিনি বলেন, আরেকটি কারণ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, দুর্নীতি ও অযোগ্য নেতৃত্বকে বেছে নেয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো চলতে পারেনি। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সাবেক প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম বলেন, কমিউনিজম চিন্তা থেকে রাষ্ট্র সব শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতো। সব দেশে তো কমিউনিজম নেই। সেখানে এ চিন্তা খাটে না। আসলে সরকারের কাজ তো ব্যবসা করা না। বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে তারা সবসময় এটা নিয়ে পড়ে থাকে। কীভাবে ব্যবসা করা যায়, কোথায় নেটওয়ার্কিং করা যায়। সবকিছুই তারা করতে পারে। সরকারি আমলাদের এসব বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা থাকে না। এখনো যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, তাও বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে প্রাইভেটাইজেন কমিটি করা দরকার।
শিল্প উদ্যোক্তা, বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, ১৭ কোটি মানুষের দেশে এখনো শ্রমবাজারে প্রতি বছর ২০ লাখ নতুন ব্যক্তি প্রবেশ করছে। কিন্তু এতসংখ্যক ব্যক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। বর্তমানে কর্মসংস্থানের পুরোটাই বেসরকারি খাতনির্ভর। কিন্তু ঋণ সুদহার বেড়ে যাওয়ায় ও পুঁজির সংকটে এখনো দেশে সম্ভাবনায় অনেক শিল্প স্থাপন হয়নি। খেলনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্যসহ অসংখ্য খাতে শিল্প প্রতিষ্ঠা করে লাভজনক অবস্থায় নিয়ে গিয়ে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে ইপিআইডিসির মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব। এরমাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বে শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা হলে লাভের অংশ সরকারি কোষাগারে আসবে। এতে করে চাপ কমবে সরকারের। এতে অর্থনীতির আকার যেমন বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।