কূটনীতিতে পাকিস্তানের অভাবনীয় সাফল্য
১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:২০
॥ জামশেদ মেহদী॥
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিভাজনজনিত অশান্তি ও হানাহানি এবং খাইবারপাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান সীমান্তে ভারতীয়দের ট্রেনিংপ্রাপ্ত পঞ্চম বাহিনীর আক্রমণে বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত হয়েছিলো পাকিস্তান। ভারতকে তুষ্ট করার জন্য আমেরিকা দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তানকে শুধুমাত্র পরিত্যাগই করেনি, বরং একদিকে পাকিস্তানকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ করা এবং অন্যদিকে পাকিস্তানের চিরশত্রু ভারতকে কারিগরি ও প্রযুক্তিগতভাবে সাহায্য করে পাকিস্তানকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত করেছিলো ভারত, ইসরাইল ও পশ্চিমা শক্তিসমূহ।
এমন প্রতিকূল পরিবেশে গত বছরের ৪ মার্চ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ছোট ভাই পাঞ্জাবের ৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।
শাহবাজ শরীফের মুসলিম লীগ পাকিস্তান পিপলস পার্টির সাথে কোয়ালিশন করে সরকার গঠন করেছে। তবে পিপলস পার্টি কোয়ালিশনে থাকলেও কোনো পদ গ্রহণ করেনি। এমন একটি পরিস্থিতিতে সরকার গঠন করে মাত্র ১ বছর ৮ মাসের মধ্যে শাহবাজের সরকার আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য এবং দক্ষতা দেখিয়েছে। মুসলিম লীগ সরকারের এ অভূতপূর্ব সাফল্যে তাদেরকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। যে আমেরিকা পদে পদে পাকিস্তানকে নাজেহাল করেছে, যে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনের আগেও ছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জিগরি দোস্ত, সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সম্পূর্ণ ঘুরে যান।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবরকম প্রটোকল ভেঙে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরকে হোয়াইট হাউসে ডেকে নেন। তার সাথে বৈঠক প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ছিলো ১ ঘণ্টার জন্য। কিন্তু দেখা গেল, সেই বৈঠক রূপান্তরিত হয়েছে মধ্যাহ্নভোজে। আর আমেরিকার সিভিলিয়ান নেতা এবং পাকিস্তানের সামরিক নেতা তাদের আলোচনায় এত গভীর ভাবে মগ্ন ছিলেন যে, কোন দিক দিয়ে নির্ধারিত ১ ঘণ্টা সময় পার হয়েছে, সেটি তারা টেরও পাননি। ২ ঘণ্টা পর তাদের বৈঠক শেষ হয় এবং বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অসীম মুনির। পাকিস্তান আমেরিকার সাথে যতই ঘনিষ্ঠ হয়, ভারত ততই আমেরিকা থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। ট্রাম্প যখন প্রথম দফা নির্বাচন করেন তখন আন্তর্জাতিক সমস্ত রীতিনীতি ভেঙে ট্রাম্পের নির্বাচনী জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বক্তৃতা করেন এবং মার্কিনবাসীকে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। সেই ট্রাম্প এবার নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে বলেছেন যে, মোদির চেহারায় নাকি একটি খুনি ভাব রয়েছে।
আমেরিকার সাথে সম্পর্কোন্নয়নের ফলে গত বসন্তে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ থেকে ২৪তম ঋণ পেয়েছে। এর আগে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করেছিলেন যে, পাকিস্তান হয়তো এ ঋণ পাবে না। ফলে পাকিস্তান একটি ব্যর্থ এবং অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। কিন্তু শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে পাকিস্তান ঐ ঋণ ঠিকই পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো ঋণ পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছে।
শাহবাজ সরকারের দ্বিতীয় সাফল্য হলো, সৌদি আরবের সাথে ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর। এ চুক্তি মোতাবেক এক দেশের বিরুদ্ধে কোনো বিদেশি আক্রমণ চুক্তিভুক্ত অপর দেশের ওপরও আক্রমণ বলে গণ্য হবে এবং অপর দেশ আক্রান্ত দেশের সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে। ব্যাপারটি আরো পরিষ্কার করে এভাবে বলা যায় যে, সৌদি আরবের ওপর অন্য কোনো রাষ্ট্রের আক্রমণ পাকিস্তানের ওপরেও আক্রমণ বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান সৌদি আরবের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। এ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পটভূমি ছিলো কাতারে ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, কাতারে রয়েছে আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি। কাতার ভেবেছিলো, তার বিপদের দিনে আমেরিকা তার সাহায্যে এগিয়ে আসবে। কিন্তু ইসরাইলি হামলার পর আমেরিকা কাতারের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। শুধু তাই নয়, আমেরিকা ইসরাইলের এ হামলার নিন্দাও করেনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কাতারে ইসরাইলের এ সামরিক হামলা এবং আমেরিকার নির্লিপ্ততা সৌদি আরবকে দ্বিতীয় চিন্তা করতে বাধ্য করে। সেই চিন্তা থেকেই তারা বিপদের দিনে সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু হিসেবে গণ্য করে পাকিস্তানকে এবং এ গণ্য করার কারণেই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ফরেন পলিসিতে’ প্রশ্ন করা হয়েছে, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় লাভ কোনটি? আমেরিকাকে পুনরায় বন্ধু হিসেবে পাওয়া? নাকি সৌদি আরবের সাথে এ প্রতিরক্ষা চুক্তি?
সৌদি আরবের সাথে এ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে পাকিস্তানের লাভ কী? ভারত যদি পাকিস্তানে আক্রমণ করে, তাহলে সৌদি আরব কীভাবে পাকিস্তানকে সাহায্য করতে পারে? এর উত্তর দিয়েছেন একাধিক আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালিস্ট। তারা বলেছেন, পাকিস্তানের কোনো সামরিক সহায়তার প্রয়োজন নেই। তাদের যেটি প্রয়োজন, সেটি হলো তাদের অর্থ। সৌদি আরব বিপদের দিনে পাকিস্তানকে তার অর্থভাণ্ডার খুলে দিতে পারে। আর সেই অর্থ দিয়ে পাকিস্তান নিজেকে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করতে পারে। ইতোমধ্যেই তারা পাকিস্তানকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য করেছে। আরো ৫ বিলিয়ন ডলার পাইপলাইনে আছে।
আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে- সৌদি আরবের বিপুল অর্থ সাহায্যের বিনিময়ে পাকিস্তান কি সৌদি আরবকে নিউক্লিয়ার টেকনোলজি বা পারমাণবিক প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করবে? এ ব্যাপারে হাস্যলাস্যের মাধ্যমে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান উত্তর দিয়েছেন। বলেছেন, ‘নিউক্লিয়ার টেকনোলজি দিয়ে এটম বোম বানানো তো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। অত লম্বা সময়ের মধ্যে আমরা যাবো কেন? প্রয়োজন হলে টাকা দিয়ে পাকিস্তানের কাছ থেকে একটি এটম বোমা কিনে নেবো।’
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পাকিস্তানের সাথে সৌদি আরবের সামরিক সখ্য অনেক আগে থেকেই রয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষার জন্য স্থায়ীভাবে সেখানে মোতায়েন রয়েছে ২ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য। এমনকি খোদ সৌদি সেনাবাহিনীকে যুদ্ধবিদ্যায় দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য সেখানে নিযুক্ত হয়েছিলেন পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ।
সুদূর অতীতে পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের সময় পাকিস্তান যে ভুল করেছিলো, এখন আর তারা সেই ভুল করছে না। প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির ব্যাপারে তারা তাদের সমস্ত ডিম এক ঝুড়িতে রেখেছিলো। অর্থাৎ তারা সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার ওপর নির্ভর করেছিলো। সেই সুযোগটিই নিয়েছিলো ভারত। তারা একই সাথে তদানীন্তন সোভিয়েট ইউনিয়ন এবং গণচীনের সাথে সম্পর্ক গড়েছিলো।
কিন্তু এবার পাকিস্তান কোনো বিশেষ একটি রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক গড়ছে না। তারা তাদের পররাষ্ট্রনীতিকে ডাইভার্সিফাই বা বহুমুখী করেছে। পাকিস্তান আরেকটি শক্তিশালী মুসলিম দেশ তুরস্কের সাথে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য চুক্তি করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাকিস্তান মালয়েশিয়ার সাথেও প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। পাকিস্তানের ডিপ্লোম্যাসির আরেকটি সাফল্য হলো, ইরানের সাথে বাণিজ্য এবং জ¦ালানি চুক্তি সম্পাদন। ইরান এবং সৌদি আরবের মধ্যে ছিলো দীর্ঘকালের বৈরিতা। চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় দুই মুসলিম দেশের মধ্যে উত্তেজনা অনেকখানি কমেছে। অতীতে দেখা যেত যে, যাদের সাথে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে তাদের ইরান দেখতে পারতো না। অনুরূপভাবে যাদের সাথে ইরানের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, তাদের সৌদি আরব দেখতে পারতো না। কিন্তু সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের এ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইরান খুব সহজভাবে নিয়েছে। অনুরূপভাবে ইরানের সাথে পাকিস্তানের জ¦ালানি ও বাণিজ্য চুক্তিকেও সৌদি আরব খুব সহজভাবে নিয়েছে। এসবই পাকিস্তানের পরিপক্ব কূটনৈতিক দক্ষতারই পরিচয় দেয়।
পাকিস্তানের এ ম্যাচিউরড ডিপ্লোম্যাসির আরেকটি জ¦লন্ত স্বাক্ষর হলো চীন ও আমেরিকার মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করে উভয় দেশের সাথেই পাকিস্তান বন্ধুত্ব বজায় রেখে চলছে। সকলেই জানেন যে, পাকিস্তানের মাধ্যমেই আমেরিকা এবং চীনের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার গোপনে পাকিস্তানের দূতিয়ালিতে চীনের রাজধানী পিকিং (বর্তমানে বেইজিং) সফর করেন। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন চীন সফর করেন। এভাবেই চীন ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
তারপর ৫৫ বছর কেটে গেছে। চীন পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে উত্থিত হয়েছে। সামরিকভাবে আমেরিকার পর রাশিয়ার অবস্থান হলেও রাশিয়ার অর্থনীতি অনেক নিচে চলে যাওয়ায় চীন এদিক দিয়ে আমেরিকার পরই স্থান করে নিয়েছে। সামরিক ক্ষেত্রেও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং ব্যবহারের ফলে চীনও পরাশক্তি হওয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ মনে করেন যে, আগামী ১০ বছরেরও কম সময়ে চীন পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার সাথে টক্কর দেবে।
বর্তমানে পৃথিবীতে আমেরিকা এবং চীনের দ্বন্দ্ব প্রকট। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো যে, এ দুই শত্রু রাষ্ট্রের সাথেও পাকিস্তান সমানতালে বন্ধুত্ব বজায় রেখেছে। সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চীন এখনো পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। আমেরিকার সাথে নতুন করে বন্ধুত্ব স্থাপন চীন পাকিস্তান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো দাগ কাটতে পারেনি। বরং পাকিস্তান যে দক্ষতার সাথে চীনের জঙ্গিবিমান জে-১০সি ব্যবহার করে ভারতের সর্বাধুনিক রাফাল জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করেছে, তার প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
গত মে মাসে পাক-ভারত যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ভারত চেয়েছিলো সেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে পাকিস্তানকে ক্রাশ করে দেওয়া। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করে এ যুদ্ধ থামিয়েছেন। উভয় দেশকে তিনি এ হুমকি দিয়েছিলেন যে, তারা যদি যুদ্ধ বন্ধ না করে, তাহলে তিনি তাদের সাথে সবরকম বাণিজ্য বন্ধ করে দেবেন। এর ফলে পাকিস্তানের ক্ষতি হতো নগণ্য। বরং ভারতের ক্ষতি হতো বিশাল। কারণ ভারত বছরে আমেরিকায় রফতানি করে ৮৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। সেখানে পাকিস্তান রফতানি করে মাত্র প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ভেবে দেখুন, আমেরিকা ভারত থেকে আমদানি বন্ধ করলে ভারতের অর্থনীতি কত বড় একটি ধাক্কা খেত।
এখন পর্যন্ত পাকিস্তান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে রাইট ট্র্যাকে অর্থাৎ সঠিক পথেই আছে। তবে আমেরিকা সম্পর্কে তাদের হুঁশিয়ার থাকতে হবে। কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন Unpredictable মানুষ। তিনি যে কখন কী করে বসেন, তা কেউ জানে না। তাই ট্রাম্পের সাথে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখলেও চীন, সৌদি আরব, ইরান প্রভৃতি দেশের সাথে পাকিস্তানকে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যেকোনো মূল্যে বজায় রাখতে হবে।
Email:jamshedmehdi15@gmail.com