সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:০৪
সুসংহত হচ্ছে বহু মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা : পুতিন
ভালদাই সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন তার বক্তৃতায় জোর দিয়ে বলেছেন, পশ্চিমা আধিপত্যের অবসান ঘটছে এবং বহু মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা সুসংহত হয়েছে। গত ২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ভালদাই সম্মেলনে পুতিন তার বক্তৃতার মূল অংশে আবারো একাধিপত্যবাদী যুগের অবসান এবং পশ্চিমা উদারনৈতিক মডেলের ব্যর্থতার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি শ্রোতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের যুগ শেষ হচ্ছে এবং বিশ্ব একটি ভারসাম্যপূর্ণ বহু মেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই কাঠামোয় রাশিয়াকে একটি বিচ্ছিন্ন শক্তি হিসেবে নয়। বরং চীন, ভারত এবং ব্রিকসের অন্যান্য সদস্যের পাশাপাশি মূল খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এই বহুমেরু আখ্যানটি পশ্চিমাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করার একটি হাতিয়ার। ‘সকল জাতির সমান অধিকার’ এবং ‘সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত বৈচিত্র্যের’ ওপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক ক্ষেত্রকে পুনর্নির্ধারণ করে, মস্কো অ-পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন অর্জন করতে চাচ্ছে। পুতিন বিশ্বাস করেন যে, বিশ্ব একটি ‘বহুমেরু যুগে’ প্রবেশ করছেÑ এমন একটি যুগ যেখানে কোনো একক শক্তি নিয়মকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। পুতিন যুক্তি দেন যে একটি বহুমেরু বিশ্ব আরো গণতান্ত্রিক। কারণ এটি ’বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের’ প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করার সুযোগ দেয়।
তিনি বলেন, ‘সম্ভবত এর আগে কখনো বিশ্ব মঞ্চে এত বেশি দেশ ছিল না, যারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করেছে বা করতে চায়।’ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের পরিবেশে সমাধানগুলো বিস্তৃত ঐকমত্যের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ’যেকোনো সমাধান কেবলমাত্র সকল আগ্রহী পক্ষ বা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠকে সন্তুষ্ট করে এমন চুক্তির ভিত্তিতে সম্ভব। অন্যথায়, কোনো টেকসই সমাধান হবে না।’ তিনি আরো বলেন, পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ’তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে’। কারণ তারা তাদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং ‘রাজনৈতিক বক্তৃতার প্ল্যাটফর্ম’ হয়ে উঠেছে। বিংশ শতাব্দির শুরুর দশকের গোড়ার দিকে মস্কো কর্তৃক শুরু হওয়া ভালদাই সম্মেলন রাশিয়ার বিস্তৃত বৈদেশিক নীতির দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করার জন্য একটি ফোরাম হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক এবং একাডেমিক ক্ষেত্রে অভিজাতদের উপস্থিতি ছাড়াও বার্ষিক এই সভাটি আন্তর্জাতিক অভিজাতদের কাছে সরাসরি বার্তা পাঠানোর জন্য মস্কোর ব্যবহৃত একটি প্ল্যাটফর্ম। পার্সটুডে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে মালয়েশিয়া গেলেন শাহবাজ
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে তিন দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। গত ৫ অক্টোবর রোববার দিনগত রাতে তার বিশেষ ফ্লাইটটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কমপ্লেক্স বুংগা রায়ায় অবতরণ করে। এ সময় মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক ফাহমি ফাদজিল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। এ সময় শাহবাজ শরীফকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ২৮ সদস্যের রয়্যাল মালয় রেজিমেন্টের একটি বিশেষ ব্যাটালিয়ন এই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেয়। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইশাক দারসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী। সোমবার পুত্রজায়ার পারদানা কমপ্লেক্সে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাবেন শাহবাজকে। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, শিক্ষা, পর্যটন এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো আলোচিত হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় করবেন তারা। দুই নেতা পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও একটি প্রশিক্ষণ বিষয়ক নোট বিনিময় (ইওএন) প্রত্যক্ষ করবেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পর্যটন, উচ্চশিক্ষা, হালাল সার্টিফিকেশন, দুর্নীতি দমন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের উন্নয়ন এবং কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ সহযোগিতা। শাহবাজ শরীফ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর হাতে উর্দু ভাষায় অনূদিত আনোয়ার ইব্রাহিমের গ্রন্থ ‘স্ক্রিপ্ট: ফর এ বেটার মালয়েশিয়া’-এর একটি কপি তুলে দেবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন সেরি পারদানায় আনুষ্ঠানিক নৈশভোজের আয়োজন করা হবে। সফরের অংশ হিসেবে দুই প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান-মালয়েশিয়া ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দেবেন। এর মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের সম্পর্ক কেবল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতেও এ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। উভয় দেশই ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সক্রিয় সদস্য এবং মুসলিম বিশ্বের নানা ইস্যুতে প্রায়শই সমমনা অবস্থান গ্রহণ করে থাকে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত স্থানে অবস্থানরত মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তানের সহযোগিতা তাই আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এছাড়া চীনের উদ্যোগে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এবং পাকিস্তানের করিডর প্রকল্প (সিপিইসি)-এর সঙ্গে মালয়েশিয়ার সংযোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক করিডর খুলে দিতে পারে। এর ফলে মালয়েশিয়া দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, আর পাকিস্তান লাভ করবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সফর দুই দেশের মধ্যে আস্থা জোরদার করবে। একইসঙ্গে ইসলামিক অর্থনীতি, হালাল শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে যৌথ উদ্যোগ মালয়েশিয়া-পাকিস্তান সম্পর্ককে কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। রয়টার্স।
হামাসের বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বিপাকে ট্রাম্প!
একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়ায় হামাস সেরা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি ট্রাম্পকে বিপাকে ফেলেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক আমজাদ বাশকার শাহাব নিউজ এজেন্সির সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তুরস্ক, কাতার, মিশর এবং সৌদি আরবের সাথে ব্যাপক আলোচনার পর হামাস আন্দোলন বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে রাজনৈতিক সমাধান উপস্থাপন করেছে। আমজাদ বাশকার আরো বলেছেন, হামাস দুর্দান্ত রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করেছে এবং মার্কিন সরকারের কাছ থেকে কৃতিত্ব নিজের পক্ষে আনতে সক্ষম হয়েছে, যারা প্রতিরোধ দমন এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে আত্মসমর্পণ করাতে চেয়েছিল। বাশকার বলেছেন যে, হামাসের বিবৃতি ছিল খুবই ‘স্মার্ট রাজনৈতিক টোপ’, যা একদিকে ইসরাইলি বন্দীদের মুক্তির জন্য অগ্রগতি অর্জনে ট্রাম্পের আকাক্সক্ষার সুযোগ নিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের নীতির সাথেও আপস করেনি। এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরো বলেন, এই সমঝোতা বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে এবং ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলন, ফাতাহ ও স্বশাসন কর্তৃপক্ষের সাথে মিলে হামাস ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব ও ঐক্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ স্পষ্ট করে বলেন যে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিপরীতে, প্রতিরোধকে নিরস্ত্র করা হবে না। কারণ আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ একটি বৈধ প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র। তিনি বলেন, হামাস যা প্রস্তাব করেছে, তা হলো একটি উন্নত রাজনৈতিক সমাধান, যা ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা রক্ষা করে, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা এবং একইসাথে আমেরিকাকে বেকায়দায় ফেলেছে। পার্সটুডে।
ফ্রান্সের নতুন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর পদত্যাগপত্র গত ৬ অক্টোবর সোমবার গ্রহণ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। এ ঘটনা ফ্রান্সকে আরো রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ফেলে দিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। গত মাসে লেকর্নুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ। তবে গত ৫ অক্টোবর রোববার রাতে লেকর্নু মন্ত্রিসভার সদস্যদের যে তালিকা প্রকাশ করেছেন, তা অপরিবর্তিত দেখা যায় এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রায় সব দলের নেতা অভিযোগ করেন, লেকর্নু’র মন্ত্রিসভা পূর্ববর্তী বায়রু সরকারের প্রায় হুবহু অনুলিপি, কোনো নতুনত্ব নেই। অনাস্থা প্রস্তাবের হুমকিও দেন তারা। এ পরিস্থিতির মধ্যেই লেকর্নু পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
ভারতে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ পোস্টার লাগানোয় ৫ জন গ্রেফতার
ভারতের উত্তর প্রদেশের মাওয়ানা শহরে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা পোস্টার লাগানোর অভিযোগে পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে এবং পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) গভীর রাতে শহরের প্রধান মোড়ে এই পোস্টার লাগানো হয়। পরদিন শনিবার সকালে কিছু স্থানীয় মানুষ পোস্টারটি প্রদর্শনের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ শুরু করে। ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাওয়ানার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোনো অনুমতি ছাড়াই পোস্টারটি লাগানো হয়েছিল। উত্তেজনা বাড়লে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পোস্টারগুলি সরিয়ে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মাওয়ানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) পুনম যাদব বলেছেন, আউটপোস্ট ইন-চার্জ মনোজ শর্মার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত ইদ্রিশ, তসলিম, রিহান, গুলফাম এবং হারুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ধারা ৩৫৩ এর অধীনে ‘জনসাধারণের ক্ষতি বা অকল্যাণের জন্য বক্তব্য তৈরি করার’ অপরাধে মামলা করা হয়েছে। দ্য হিন্দু।
এসএইচও বলেন, ‘পাঁচজনকেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং আরও তদন্ত চলছে। এই কাজের সঙ্গে জড়িত অন্য কাউকেও পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এই বিতর্কের পর, আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সতর্কতা হিসেবে শহর জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গুজব বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো আটকাতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন বাসিন্দাদের শান্ত থাকার, মিথ্যা তথ্য না ছড়ানোর এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। ভারতের এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েসি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছেন, এই দেশে ‘আই লাভ মোদি’ (আমি মোদিকে ভালোবাসি) বলা গেলেও ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ বলা যায় না। উত্তরপ্রদেশে এই বিতর্ক শুরু হয় গত ৯ সেপ্টেম্বর। কানপুরের পুলিশ ২৪ জনের বিরুদ্ধে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা বোর্ড লাগানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করলে বিতর্ক ও প্রতিবাদের ঝড় শুরু হয়। দ্য হিন্দু।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘বিশেষ অস্ত্র’ মোতায়েন
দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুদের জবাবে উত্তর কোরিয়া ‘বিশেষ অস্ত্র’ মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। গত রোববার (৫ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এ তথ্য জানিয়েছে। সিওল থেকে এএফপি জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাদের দায়িত্ব হলো পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলা করা। এদিকে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে। পিয়ংইয়ং নিয়মিতভাবে এসব মহড়াকে আগ্রাসনের প্রস্তুতি বলে অভিযোগ করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বলছে, এগুলো কেবল সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক অনুশীলন। গত শনিবার পিয়ংইয়ংয়ে একটি অস্ত্র প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে কিম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া পারমাণবিক জোট দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। তারা নানা ধরনের মহড়া চালাচ্ছে, যাতে তাদের ভয়ংকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন অস্ত্র বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের কৌশলগত উদ্বেগও বেড়েছে। সে অনুযায়ী আমরা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আমাদের বিশেষ অস্ত্র মোতায়েন করেছি।’
কিম জানান, তিনি সীমান্তের ওপারে সামরিক পরিস্থিতি ‘নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছেন। তবে ‘বিশেষ অস্ত্র’ বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। কেসিএনএর ছবিতে দেখা গেছে, এক প্রদর্শনী কেন্দ্রে উত্তর কোরিয়ার জেনারেলদের সাথে অস্ত্রের পাশে হাঁটছেন কিম। সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও দেখা গেছে। গত মাসে কিম জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় আগ্রহী। তবে শর্ত ছিল, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ‘স্মরণীয় সময়’ কাটানোর কথা উল্লেখ করেন কিম। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার সাথে তিন দফা বৈঠক হয়েছিল। তবে ২০১৯ সালে হ্যানয়ে বৈঠক ভেস্তে যায়। কারণ ছিল, পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ে পিয়ংইয়ং কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত তা নিয়ে মতবিরোধ। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, উত্তর কোরিয়াকে নিষিদ্ধ অস্ত্র পরিত্যাগ করতে হবে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছে। জাতিসংঘের একাধিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে পিয়ংইয়ং। কারণ, দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। ২০১৯ সালের ব্যর্থ বৈঠকের পর উত্তর কোরিয়া বারবার বলেছে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবে না। এমনকি নিজেদের ‘অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাসস।
ভারতীয় প্রক্সি উগ্রবাদীগোষ্ঠীর ১৪ সদস্য নিহত
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের খুজদার জেলার জেহরি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ভারত-ঘনিষ্ঠ উগ্রবাদী সংগঠন ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর অন্তত ১৪ জন সদস্য নিহত হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে আরও অন্তত ২০ জন উগ্রবাদী আহত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, অভিযানে এলাকার স্থিতিশীলতা ফিরেছে এবং সংগঠনের অবশিষ্ট সদস্যদের নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। কয়েকদিন আগেও বেলুচিস্তানের শেরানি জেলায় একই ধরনের এক অভিযানে সাতজন ভারত-সমর্থিত উগ্রবাদীকে হত্যা করা হয়েছিল। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানিয়েছিল, তখন টার্গেট ছিল ‘ফিতনা আল-খারেজ’ ও নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্যরা। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস)-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে পাকিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩২৯টি ঘটনায় ৯০১ জন নিহত হয়েছে, যার অধিকাংশই কেপি ও বেলুচিস্তান প্রদেশে। জিও নিউজ।
ভারতে পুলিশের নির্যাতনে দৃষ্টিশক্তি হারাল এক মুসলিম শিশু
ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক মুসলিম বালককে হেফাজতে নিয়ে মারধর করার ফলে তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনা ঘটেছে। রাজ্য পুলিশের মুসলিমদের প্রতি সংবেদনহীন এবং বর্বর আচরণে তোলপাড় চলছে। এমনকি ঘটনাটি এখানেই থেমে থাকেনি, ওই নাবালক শিশুটিকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো থেকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। পরে মুসলিম ছেলেটির বাবা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন এবং একাধিক জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। শিশুটির বাবার বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, নবরাত্রির সময় কম চাহিদার কারণে বেশ কয়েকদিন ধরে বন্ধ থাকা পরিবারের মুরগির দোকানটি আবার খোলার বিষয়ে স্থানীয় মসজিদে একটি ঘোষণা করার পরেই তাকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। জানা যায় যে, কম দামে মুরগি বিক্রি করার এই ঘোষণায় কিছু বাসিন্দা ক্ষুব্ধ হন এবং তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নাবালকটিকে একটি পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিবার দাবি করেছে, তাদের সন্তানের ওপর বিভীষিকাময় নির্যাতন চালানো হয়েছে। শিশুটিকে গুরুতরভাবে আঘাত করে দৃষ্টিশক্তির স্থায়ী ক্ষতি করা হয়েছে।
পরিবারটি পুলিশ আউটপোস্টে পৌঁছালে তাদের সন্তানকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় গারদের পেছনে আটক থাকতে দেখে। প্রথমে তাদের বলা হয়েছিল, এটি একটি ছোটখাটো বিষয় এবং ছেলেটিকে পরে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তারা যখন আউটপোস্টে ফিরে আসে, তখন তাকে আহত অবস্থায় দেখতে পায়। পাশবিক নির্যাতনে শিশুটি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এদিকে শিশুটির বাবাকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ধারা ১৭৩ এর অধীনে জরিমানা করা হয়। এনএইচআরসি, এনসিপিসিআর, মুজাফফরনগরের পুলিশ সুপার এবং জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পরিবারটি অভিযোগ করেছে, তাদের সন্তানকে অপহরণ করে একটি আউটপোস্টে আটকে রেখে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা আরও দাবি করেছে, তাদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে জেলের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভে উত্তাল জর্জিয়া প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢোকার চেষ্টা
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের আলোচনায় স্থবিরতা এবং নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জর্জিয়া বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। রাজধানী তিবলিসিতে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের তীব্র সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ও পেপার স্প্রে ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে। গত ৫ অক্টোবর রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। বিবিসি বলছে, গত বছরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে শাসক দল জর্জিয়ান ড্রিম জয় দাবি করার পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থি বিরোধীদলগুলোর অভিযোগ, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে শাসকদল জয় পেয়েছে। এরপর থেকে সরকার ইইউ-তে যোগদানের আলোচনা স্থগিত রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার স্থানীয় নির্বাচনের দিনই এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যদিও সরকারবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে অধিকাংশ বিরোধী দল নির্বাচনটি বর্জন করে। বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক, অপেরা গায়ক পাতা বুড়চুলাদজে আগেই শাসক দলের নেতাদের গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এদিন তিবলিসির রাস্তাগুলোতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জর্জিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা হাতে নিয়ে মিছিলে অংশ নেন।
বুড়চুলাদজে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখিয়ে তারা যেন অবিলম্বে জর্জিয়ান ড্রিম দলের ছয়জন শীর্ষনেতাকে আটক করেন। এরপরই বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে গিয়ে সেখানে ঢোকার চেষ্টা করলে দাঙ্গা পুলিশ পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে। গত কয়েক মাস ধরে জর্জিয়ার সরকার সরকারবিরোধী কর্মী, স্বাধীন গণমাধ্যম ও পশ্চিমাপন্থি রাজনৈতিক নেতাদের ওপর দমননীতি জোরদার করেছে এবং অধিকাংশ বিরোধী নেতা এখন কারাগারে রয়েছেন। ২১ বছর বয়সী ইয়া নামে এক তরুণী কালো পোশাক, হেলমেট ও গ্যাসমাস্ক পরে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রঙিন কিছু পরলে সহজেই আমাদের চেনা যাবে, আর চেনা গেলে জেলে যেতে হবে। তিনি মূলত রুস্তাভেলি এভিনিউতে বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন নজরদারি ক্যামেরার সরকারি নজরদারির বিষয়টি বোঝাতে চাচ্ছিলেন। সরকারের মতে, রাস্তা অবরোধের মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে শত শত বিক্ষোভকারীকে ৫ হাজার জর্জিয়ান লারি (প্রায় ১ হাজার ৮৩৫ ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। ইয়া বলেন, আমি চাই জর্জিয়ান ড্রিম সরে যাক। আমরা দেশটাকে ফিরে পেতে চাই। আমার যেসব বন্ধুকে অবৈধভাবে জেলে রাখা হয়েছে, তারা যেন মুক্তি পায়।
রাশিয়ার আক্রমণে ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী অঞ্চল রণক্ষেত্র
রাশিয়া আবারও ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। গত শনিবার (৪ অক্টোবর) গভীর রাতে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে লাভিভ অঞ্চলে রুশ বাহিনী একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শনিবার রাতভর এই হামলা চলে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে পোল্যান্ড সীমান্তঘেঁষা লাভিভ শহরে। রাশিয়ার এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানায়, লাভিভে এটি ছিল সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলা। হামলার সময় পুরো ইউক্রেনজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, শনিবার রাতভর দেশজুড়ে আকাশে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গর্জন শোনা যায়। পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লাভিভ শহরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় করা হয়। শহরের মেয়র আন্দ্রি সাদোভি বলেন, ‘প্রথমে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ড্রোন ভূপাতিত করে, তারপর রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আরও বড় আক্রমণ চালায়।’
গত ৫ অক্টোবর রোববার সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত লাভিভ শহরের কিছু অংশ বিদ্যুৎবিহীন ছিল, গণপরিবহন বন্ধ ছিল, এবং বিস্ফোরণের শব্দ এখনো ছড়িয়ে ছিল বাতাসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘বোমা পড়ার শব্দ চারদিক থেকে আসছিল, আকাশ যেন কেঁপে উঠছিল।’ আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেডোরভ টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাপোরিঝিয়া শহরেও শনিবার রাতে হামলা হয়। সেখানে একজন নিহত ও অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক ও ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক গাড়ি পুড়ে গেছে, জানালা ভেঙে উড়ে গেছে।’ ন্যাটো সদস্য দেশ পোল্যান্ডও ঘটনাটিকে ঘিরে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনে বিমান হামলা শুরু করার পর রোববার ভোরে পোল্যান্ড তাদের যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে আকাশসীমা রক্ষায়। দেশটির অপারেশনাল কমান্ড এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ লিখেছে, ‘পোলিশ ও মিত্র বিমানগুলো এখন আকাশে টহল দিচ্ছে, আর স্থলভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।’ রাশিয়ার এই হামলা ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্যও নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কারণ লাভিভ অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান-ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ডের একদম কাছে- যে কোনো সীমান্ত অতিক্রমী হামলার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। রয়টার্স।
পোর্টল্যান্ডে ট্রাম্প প্রশাসনের সেনা মোতায়েন রুখে দিলেন বিচারক
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন থেকে সাময়িকভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ওরেগনের একটি ফেডারেল বিচারক। রাজ্য এবং শহরের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে গত শনিবার (৪ অক্টোবর) এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক কারিন ইমারগুট মামলার পরবর্তী শুনানির আগ পর্যন্ত এই আদেশ জারি করেছেন। তিনি বলেন, ‘শহরে সম্প্রতি যে তুলনামূলকভাবে ছোট বিক্ষোভগুলো হয়েছে, তা ফেডারেল বাহিনী মোতায়েনের জন্য যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত নয় এবং মোতায়েনের অনুমতি দিলে ওরেগনের রাজ্য সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’ ইমারগুট লিখেছেন, ‘এই দেশে সরকারী আধিপত্যের অতিরিক্ত প্রয়োগ, বিশেষ করে সিভিল কাজে সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রতিরোধের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য আছে।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য একটি সহজ সত্যে ফিরিয়ে আনে: এটি একটি সংবিধানগত দেশের রাষ্ট্র, সামরিক শাসনের দেশ নয়।’ রাজ্য ও শহরের কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে মোতায়েন রোধে মামলা দায়ের করেন। এটি ঘটে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণার একদিন পর যে, পোর্টল্যান্ডের ২০০ জন ন্যাশনাল গার্ডকে ফেডারেলাইজ করে ফেডারেল ভবন রক্ষার জন্য পাঠানো হবে। প্রেসিডেন্ট শহরটিকে ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত’ আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে ওরেগন কর্মকর্তারা এই বর্ণনাকে হাস্যকর বলে উল্লেখ করেছেন। শহরের ইউ.এস. ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ভবনটি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাতের বেলা বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, যেখানে সাধারণত কয়েকজন মানুষ অংশ নিতেন। এপি।
প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে পোস্ট দেয়ায় মৃত্যুদণ্ড
উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ায় প্রেসিডেন্টকে অপমান ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দেশটির মানবাধিকার সংস্থার প্রধান ও ওই ব্যক্তির আইনজীবী এ তথ্য জানিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ৫৬ বছর বয়সী সাবের শুশান, পেশায় একজন দিনমজুর। তিনি গত বছর গ্রেফতারের আগে প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের সমালোচনা করে ফেসবুকে বেশ কিছু পোস্ট দিয়েছিলেন। তার আইনজীবী ওসামা বুথেলজা জানান, তিনি একজন সাধারণ নাগরিক, তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও খুবই সীমিত। বুথেলজা বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিউনিশিয়ার বিচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তিউনিশিয়ার আদালতগুলোয় মাঝে মাঝে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলেও তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশটিতে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। এই রায় ঘোষণার পর তিউনিশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ নাগরিকেরা এর তীব্র নিন্দা জানান। তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদ ২০২১ সালে নির্বাচিত সংসদ ভেঙে দিয়ে শাসন শুরু করার পর থেকে বাকস্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ কঠোর করা হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়ে ক্রমাগত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। রয়টার্স।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে স্পেনের মামলা
সুমুদ ফ্লোটিলায় মানবতাবাদী কর্মীদের নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের খবর প্রকাশের পর স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আইনি মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে। একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপে স্পেন সরকার সুমুদ ফ্লোটিলায় তার নাগরিকদের ‘নির্যাতন ও অবৈধভাবে আটক’ করার ঘটনায় ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক বিচারের মুখোমুখি করছে। গাজার উদ্দেশে রওনা হওয়া ৪০টিরও বেশি মানবিক সহায়তা বহনকারী জাহাজ বেষ্টিত সুমুদ ফ্লোটিলায় কয়েক ডজন স্প্যানিশ কর্মী ইহুদিবাদীদের হাতে বন্দী থাকা অবস্থায় ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন। এই বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্ডে মারলাস্কা ইসরাইলি আটক কেন্দ্রগুলোয় সংঘটিত অপরাধগুলো প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ওঈঈ) অপরাধীদের বিচারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনার কথা ঘোষণা করেছেন।
সুমুদ ফ্লোটিলায় থাকা স্প্যানিশ কর্মীরা তাদের ঘুম ও ওষুধ (ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিনসহ) থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। এরপর স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই অভিযানকে ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, স্পেন সরকার কেবল হেগ আদালতে হাজির হবে না। বরং অপরাধীদের বিচারের জন্য সমস্ত জাতীয় বিচারিক ক্ষমতাও ব্যবহার করবে।’ একই সময়ে স্প্যানিশ প্রসিকিউটরের কার্যালয় আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের লক্ষ্যে অপরাধের প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে। ইসরাইলি দখলদারদের সাথে স্পেনের বিচারিক সংঘর্ষ এমন সময় ঘটে যখন সুমুদ ফ্লোটিলা ১৮ বছরের অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে গাজা উপত্যকার দিকে যাচ্ছিল, যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুসারে, অঞ্চলটিকে ‘উন্মুক্ত কারাগারে’ পরিণত করেছে। পার্সটুডে।
বিশ্ববরেণ্য মিশরীয় আলেম শায়খ আহমাদ ওমরের ইন্তেকাল
বিশ্বখ্যাত বিদ্যাপীঠ মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদ সদস্য ও বরেণ্য আলেম শায়খ আহমাদ ওমর হাশিম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) মিশরের রাজধানী কায়রোতে তিনি ইন্তেকাল করেন বলে আনাদোলু অ্যাজেন্সি নিশ্চিত করেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। মৃত্যুর মাধ্যমে শায়খ আহমাদ হাশিমের ইলম, ফিকর ও দাওয়াতের দীর্ঘ কর্মময় ও সমৃদ্ধ জীবনের ইতি ঘটল। স্থানীয় সময় জোহরের নামাজের পর জামে আযহারে শায়খের জানাজা নামাজ আদায়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর নীল নদ সংলগ্ন আল-শারকিয়া গভর্নরেটের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। শায়খ আহমাদ ওমর হাশিমকে আধুনিক যুগে আল-আযহারের অন্যতম বিশিষ্ট আলেম হিসেবে গণ্য করা হতো এবং তাকে বিবেচনা করা হতো মহানবী (স.)-এর সুন্নাহ ও ইসলামের মধ্যপন্থী দাওয়াহর অন্যতম প্রচারক হিসেবে। কিংবদন্তি এই আলেম ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই আল-আযহারের ইলমি পরিবেশ লাভে ধন্য হন এবং ১৯৬১ সালে আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উসুলুদ দীন’ অনুষদ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি হাদিস ও উলুমুল হাদিসে সম্মানসূচক স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৭৩ সালে কৃতিত্বের সাথে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনে তিনি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এমনকি তিনি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানটির ভিসি হওয়ার গৌরবও অর্জন করেন। সবশেষ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এখানকার সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া আরো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদে তার দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। শায়খ আহমাদ হাশিম হাদিস, সুন্নাত, সিরাত, তাসাউফসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষাণামূলক অন্তত ১২০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি গবেষণাধর্মী ইলমি অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। এ আলেমের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন আল-আযহার পড়ুয়া বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশি কারী শায়খ আহমাদ বিন ইউসুফ আযহারী। তিনি বলেছেন, ‘শায়খ আহমাদ হাশিম ছিলেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন ইসলামী স্কলার ও হাফেজে হাদিস। তার আলোচনা এবং দারসে বসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছুটে গিয়েছি। শায়খ হাশিমের আলোচনা শুনে মিশরীদের চোখে পানি দেখেছি আমি।’ আখিরাতে প্রিয় শায়খের সুউচ্চ মর্যাদার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন শায়খ আহমাদ বিন ইউসুফ আযহারী।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান