গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) : বিএনপির প্রার্থী ডা. সাদিকের ঘরে-বাইরে চাপ, সুবিধায় লেবু মাওলানা
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:৫৩
গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী: গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে এখন থেকে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের তৎপরতা ততই বাড়ছে। তবে ইতোমধ্যেই বড় দুটি দলের প্রচারণা চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ডা. মঈনুল হাসান সাদিক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবুর মধ্যে কে নির্বাচিত হতে পারেনÑ এ নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।
গাইবান্ধা-৩ আসনে বিএনপির নির্বাচনী পারফরম্যান্স জামায়াতের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শাহ বদরুল ইসলাম মাত্র ৯,১২১ ভোট পেয়েছিলেন, যা মোট ভোটের ৫.২% ছিল। এই ভোট সংখ্যা জামায়াতের প্রাপ্ত ভোটের এক-তৃতীয়াংশেরও কম ছিল। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে, এই আসনে বিএনপি কখনোই একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারেনি। তাদের ভোট-ভিত্তি সীমিত এবং জামায়াতের মতো সমমনা দলগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। এ ঐতিহাসিক ভোটপ্রবণতা জোট রাজনীতির প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে, যেখানে জামায়াত মূলত এ অঞ্চলের প্রভাবশালী বিরোধী শক্তি।
অপরদিকে ডা. সাদিক তার নিজ দলের অভ্যন্তরে তীব্র কোন্দলের শিকার। তার অপসারণের দাবিতে সাদুল্যাপুর উপজেলায় বিএনপির একাংশ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি বনগ্রাম ইউনিয়নে ‘কাউন্সিল ছাড়াই অবৈধভাবে’ ওয়ার্ড কমিটি গঠন করছেন এবং ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সহযোগীদের’ পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন। এ কোন্দল একটি গুরুতর সংঘর্ষে রূপ নেয়, যেখানে তার সমর্থকরা বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠি নিয়ে হামলা করে, যার ফলে সাংবাদিক ও পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫-১০ জন আহত হন । অভ্যন্তরীণ দলাদলি একজন প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে। যে শক্তি ও সম্পদ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর (জামায়াতের) বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার কথা, তা এখন নিজেদের অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে ব্যয় হচ্ছে। এটি মনোবল নষ্ট করে, ভোটারদের বিভক্ত করে এবং একটি বিশৃঙ্খল দলের চিত্র তুলে ধরে। একটি ঐক্যবদ্ধ দল ছাড়া কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে জয়ী হওয়া অসম্ভব। নিজের দলের অভ্যন্তরে এমন প্রকাশ্যে নথিভুক্ত সংঘর্ষ প্রমাণ করে যে, তিনি দুটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করছেন- তার নিজের বিরোধীদের বিরুদ্ধে এবং তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে। যেকোনো রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য এটি একটি মারাত্মক ত্রুটি । এদিকে জামায়াতের অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু একজন গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় নেতা । তার রাজনৈতিক পরিচিতি তার দলের শক্তিশালী ঐতিহাসিক ভোট-ভিত্তির সাথে যুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সাদুল্যাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যেখানে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষকদের পাশাপাশি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করে চলেছেন প্রতিনিয়ত।
তার রাজনৈতিক কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় জনগণের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী, যেমন শিক্ষকদের কাছে পৌঁছানোর ওপর জোর দিচ্ছে। লেবু মাওলানার নিজস্ব স্থানীয়, তৃণমূল পর্যায়ের প্রচারণা চালানো এবং সাদিকের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সাথে লড়াই করার ঘটনাটি আগামী নির্বাচনে কে নির্বাচিত হতে যাচ্ছে, তার গতিপথকে নির্ধারণ করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন। এছাড়া এলাকায় আর কোনো দলের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।