কাজী রকিব কমিশন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন
১৭ জুলাই ২০২৫ ১৪:০৩
॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
আওয়ামী লীগের বিতর্কিত বিজয়ের প্রধান কৌশল ছিল বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠান। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে প্রথম যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেটি হলো ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, বিরোধীদলবিহীন এ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া। ৭০ শতাংশ দলের বর্জনের মুখে ১৪৭টি আসনে এ নির্বাচনের আয়োজন করা হলে এতেও কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, হানাহানি, প্রাণহানি প্রভৃতি অপকাণ্ডের কিছুই বাদ যায়নি। এমন বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ‘বিজয়ী’ আওয়ামী লীগ ঠিকই তার শাসনের ধারা অব্যাহত রাখে। আর নির্বাচন কমিশন একটি নির্বাচন ‘সম্পন্ন’ করতে পারায় তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছে।
কাজী রকিব কমিশন
২০০৮ সালের নির্বাচন আয়োজনকারী এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের উত্তরাধিকারী হিসেবে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পান সাবেক সিএসপি কর্মকর্তা কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ। তাঁর নেতৃত্বে কমিশনার হয়ে আসেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবু হাফিজ, সাবেক যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাবেদ আলী এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহনেওয়াজ। এ কমিশন নির্বাচনের নিকৃষ্ট দিকগুলো সম্পর্কে কোনো প্রতিবেদন তৈরি করেনি কিংবা এজন্য কারা এবং কোনভাবে দায়ী, সেগুলো চিহ্নিত করার প্রয়োজনবোধ করেনি।
আসন ভাগাভাগি
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে তুলে দেয়ার পর পুরো বিরোধীপক্ষের বর্জনের মধ্য দিয়ে ৫ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্দলীয় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিরোধীদল বিএনপিসহ ৭০ শতাংশ রাজনৈতিক দলই এ নির্বাচনটি বর্জন করে। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ও স্বতন্ত্রসহ ১২টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। উল্লেখ্য, ১৫৩ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার ফলে নির্বাচনে সারা দেশের মোট ৯ কোটি ১৯ লাখ ভোটারের মধ্যে ১৪৭টি আসনে ভোট দেয়ার সুযোগ থাকে ৪ কোটি ৩৯ লাখ ভোটারের। নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আ’লীগ ২৩৪টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করে। ৩৪টি আসন নিয়ে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) প্রধান বিরোধীদল হিসেবে আবির্ভূত হয়।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ভোটের হারসহ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করলে দেখা যায়, ১৪৭টি আসনের ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫৪ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়ার সংখ্যা দেখানো হয় ১ কোটি ৭০ লাখ ২৮ হাজার ৫০৭। ক্ষমতাসীন আ’লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ৮টি স্থগিত আসন বাদে ২৯২টি আসনের মধ্যে তারা পায় ২৩২টি আসন। এছাড়া জাতীয় পার্টি ৩৩, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ৫ এবং জাতীয় পার্টি (জেপি), তরীকত ফেডারেশন ও বিএনএফ একটি করে আসন পায়। আর ১৩টি আসনে থাকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
প্রাণঘাতী নির্বাচন!
বিরোধীদলবিহীন এ নির্বাচনেও জালজালিয়াতির শেষ ছিল না। একটি জাতীয় দৈনিকের বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ‘সব একতরফা নির্বাচনের যা চরিত্র, এ নির্বাচনটিও তার ব্যতিক্রম ছিল না। একতরফা নির্বাচনের কলঙ্কিত সব অনুষঙ্গই ছিল ৫ জানুয়ারির ভোটে। ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। ফাঁকা কেন্দ্রে জাল ভোট দিয়েছেন সরকারি দলের কর্মীরা। ছিল কেন্দ্র দখল করে সিল মারার মতো গর্হিত ঘটনা। ছিল সহিংসতা, কেন্দ্র পোড়ানো, কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপার ও বাক্স ছিনতাই, ভাঙচুর, নির্বাচনী কর্মকর্তা হত্যা, মারধর এবং পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা। সারা দেশে প্রায় সাড়ে চার লাখ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের উপস্থিতিতে ১১ জেলায় সহিংসতায় নিহত হন ১৯ জন। এর মধ্যে ১৫ জনই মারা যান পুলিশের গুলিতে। নির্বাচনপূর্ব সহিংসতার দিক থেকেও এবারের নির্বাচন অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। গত বছরের ২৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত ৪১ দিনে মারা যান ১২৩ জন। ভোটের দিন এতসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এর আগে দেখা যায়নি।’ একটি পত্রিকায় বলা হয়, ‘একতরফা’ তকমার পাশাপাশি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতিহাসের পাতায় ‘প্রাণঘাতী’ নির্বাচন হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে থাকবে। পরিসংখ্যান বলছে, নির্বাচনের আগে এত বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা বাংলাদেশে আর কোনো নির্বাচনের আগে ঘটেনি। ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে ৪ জানুয়ারি ২০১৪ পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধীদলীয় জোট ছয় দফায় ২৬ দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। পত্রিকার পরিসংখ্যান জানায়, এ সময়ের মধ্যে সারা দেশে প্রাণ হারিয়েছেন ১২৩ জন। দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মারাসহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জড়িত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মূলত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক। কমপক্ষে আটটি আসনে কেন্দ্র দখল করে ইচ্ছামতো নিজের পক্ষে সিল মারার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এছাড়া স্বতন্ত্রসহ অন্তত ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
উপেক্ষিত সমালোচনা
একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দশম সংসদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর বিরোধীদলের দাবির পাশাপাশি দেশের সুশীল সমাজসহ ৯০ শতাংশ জনগণ এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তফসিল বাতিল করে সমঝোতার মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মতামত প্রকাশ করে। কিন্তু এসব অভিমত উপেক্ষা করে সংবিধানের দোহাই দিয়ে বা নিয়ম রক্ষার্থে নির্বাচনটি একতরফাভাবে অনুষ্ঠান করা হয়। নির্বাচন কমিশন ভোটার উপস্থিতি সম্পর্কে সারা দিন নীরবতা পালন করে। অথচ বিগত নির্বাচনগুলোয় নির্বাচন কমিশন সমগ্র দেশে ভোটার উপস্থিতির তথ্য প্রতি ঘণ্টায় সাংবাদিকদের অবহিত করেছেন। ভোট গ্রহণের দুদিন পর পত্রিকায় দেখা গেল, ১৩৯টি আসনে ভোটার উপস্থিতি ৪০.৫৬ শতাংশ দেখানো হয়েছে। এ তথ্যটি কারো কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। যেসব এলাকায় নির্বাচন হয়েছে, সেসব এলাকার মানুষের মুখে একই কথা, ‘এত ভোট এলো কোত্থেকে?’
অতীতে সব নির্বাচনে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিন্তু এ নির্বাচনে পূর্ব ঘোষণা দিয়েই দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে জানা যায়, ভোটকেন্দ্রগুলোয় ভোটার ছিল খুবই স্বল্পসংখ্যক। সারা দেশে ১০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়, আতঙ্ক, উদ্বেগ, প্রতিরোধ, ভোট জালিয়াতি, হামলা ও বোমাবাজির মধ্য দিয়ে দশম সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। ফেমার প্রধান মুনিরা খান জানান, নির্বাচনে সব মিলিয়ে ১০ শতাংশেরও কম ভোট পড়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া দশম নির্বাচনকে সহিংস, ভোটারশূন্য এবং বিতর্কিত বলে মন্তব্য করে। ‘ভোটার নেই, পর্যবেক্ষকেরও দেখা নেই’- এমন শিরোনামে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিসি। আলজাজিরা, সিএনএন, এনডিটিভি, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, ভারতের দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া, দি হিন্দু, আনন্দবাজার এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এএফপিসহ বিশ্বের সব গণমাধ্যম বাংলাদেশের এ নির্বাচনকে ভোটারশূন্য, সহিংস ও বর্জনের নির্বাচন বলে তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। নির্বাচনের পরের দিন প্রকাশিত বাংলাদেশের সব জাতীয় দৈনিকের শিরোনাম পর্যালোচনা করলে এটা পরিষ্কার, দশম সংসদ নির্বাচন দেশে-বিদেশে কোনো মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপর এক রিপোর্টে ‘আতঙ্কের নির্বাচন আজ’ শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, ভোট দিতে পারছেন না রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভোট দেয়ার সুযোগ নেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীনেরও। ভোটবঞ্চিত খোদ ১৫৩ জন এমপিও। আর অন্তত এবারের জন্য ভোটাধিকার হারিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ভোটার। বাকি যাঁদের ভোট দেয়ার সুযোগ আছে, তাঁরা আছেন চরম আতঙ্কে। প্রধান বিরোধীদল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘কার্যত গৃহবন্দী’। নতুন সংসদের সম্ভাব্য বিরোধীদল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ‘দৃশ্যত আটক’।
ভোটশূন্য ভোটকেন্দ্র
২০১৪ সালের এ নির্বাচনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ‘ভোটশূন্য ভোটকেন্দ্র’। এ ‘ভোটচিত্র’র কয়েকটি নমুনা দেয়া হলো। এগুলোয় সেই নির্বাচনের দুরবস্থার নানা দৃশ্য অবলোকন করা যাবে। নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন স্থানের ৩৭টি কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। এর মধ্যে শুধু লালমনিরহাট সদর আসনেই ২৭টি কেন্দ্র ভোটারশূন্য ছিল। লালমনিরহাট-৩ আসনের ৮৯ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭টিতে কোনো ভোটই পড়েনি। বড়বাড়ী ইউনিয়নের সাতটি কেন্দ্রের সবকটি, পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের আটটির মধ্যে ছয়টি, কুলাঘাট ইউনিয়নের আটটির মধ্যে ছয়টি, মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের নয়টির মধ্যে ছয়টি এবং হারাটি ইউনিয়নের সাতটির মধ্যে দুটি কেন্দ্রে কেউ ভোট দিতে যাননি। সিলেটে বিশ্বনাথে বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর গ্রামের বাড়ি রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কোনো ভোট পড়েনি। ভোট না পড়া দেশের অন্য কেন্দ্রগুলো হলো কক্সবাজার-৪ আসনের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের হেলেঞ্চা মাদরাসা, সাতক্ষীরা সদরের আগরদাড়ি আমিনিয়া কামিল মাদরাসা ও শিবপুর ইউনিয়নের গোদাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, নওগাঁর বদলগাছীর খাদাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের কল্যাণপুর রওশনারা দাখিল মাদরাসা, রাজশাহীর চারঘাটের মাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফেনী-৩ আসনে সোনাগাজীর পূর্ব মহেষচর, বগুড়া-৭ আসনের শাজাহানপুরের মাঝিপাড়া মাদরাসা এবং কইগাড়ি সিও অফিস কেন্দ্র। ১ থেকে ৬৩টি ভোট পড়েছে- এমন ১৬টি কেন্দ্রের খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে ফেনী-৩ আসনের দক্ষিণ চর চান্দিয়া হোসাইনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই হাজার ৪৩২ ভোটারের মধ্যে ভোট দেন মাত্র দুজন। সওদাগর হাট মাহমুদিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে দুই হাজার ৩৭৯ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র একজন এবং বগাদানা ইউনিয়নের গুনক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক হাজার ৭২৬ ভোটারের মধ্যে মাত্র ১১ জন ভোট দেন। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাতকানিয়া বারোদনা শিশুকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট পড়ে মোট নয়টি। একই ইউনিয়নের টংকাবতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পড়ে আটটি। এওচিয়া ইউনিয়নের চূড়ামণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র একটি ভোট পড়ে। ঢেমশা আলমগীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নলুয়া ইউনিয়নের হাবিবুল উলুম মাদরাসা কেন্দ্রে ২০টি করে ভোট পড়ে। চট্টগ্রাম-৪ আসনের সীতাকুণ্ডের মানদারিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের তিন হাজার ৫৬৯ ভোটের মধ্যে ২৫, দক্ষিণ রহমতনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের এক হাজার ৯৭৮ ভোটের মধ্যে ২১ এবং বাড়বকুণ্ড উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে তিন হাজার ৩৯০ ভোটের মধ্যে ৬৩টি ভোট পড়ে। সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের কলাগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাতটি ভোট পড়েছে। টিএসসি গয়নাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক হাজার ৬০০ ভোটের মধ্যে ৪৮টি, চর নবীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৭১ ভোটের মধ্যে নয়টি এবং কেসি সালদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একটি ভোট পড়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের মুশরিভুজা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফলাফলের শিট নিয়ে বিকেল ৫টায় শহরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হন মাহবুবুল হক। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ৪০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে তাঁর দ্রুত চলে আসার কারণ ছিল, তাঁর কেন্দ্রে দুই হাজার ৬২৪ জনের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র দুজন। অথচ সারা দিন এখানে দায়িত্ব পালন করেছেন মোট ৩২ জন। এর মধ্যে নিরাপত্তা প্রহরী ১৩ জন, পোলিং কর্মকর্তা ১২ জন, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ছয়জন ও একজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। এই কেন্দ্রের কিছু দূরে মুশরিভুজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের অবস্থাও ছিল একই ধরনের। এখানে অবশ্য দুই হাজার ৫৮৩ জনের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১২ জন। এই ছিল সেই নির্বাচনের ময়নাতদন্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ। এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছিলেন, “সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার স্বার্থে এই যে নির্বাচন হলো, সেটাকে আমি ঠিক নির্বাচন বলতে চাই না। যারা এ নির্বাচন আমাদের ওপর চাপিয়ে দিল, আর যারা নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে সহিংসতা চালালো, তাদের দুই পক্ষের মধ্যে আমরা ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির একটি নির্লজ্জ, সহিংস, নৃশংস চিত্র দেখলাম। এ নির্বাচনে কেউ জেতেনি, সবাই পরাজিত হয়েছে। এ নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট চাওয়া হয়নি, জনগণের ম্যান্ডেট তারা অর্জনও করেনি।