গোপালগঞ্জে এনসিপির মঞ্চে নিষিদ্ধ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা


১৭ জুলাই ২০২৫ ১২:৪৭

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘প্রিয় গোপালগঞ্জবাসী, আমরা গোপালগঞ্জের নাম বদলাতে আসিনি, আমরা এসেছি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে ও নতুন বাংলাদেশে গোপালগঞ্জের মানুষের অধিকার যাতে রক্ষা হয়, সেই প্রতিশ্রুতি দিতে।’ গত ১৬ জুলাই বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জ পৌর পার্কের উন্মুক্ত মঞ্চে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় গোপালগঞ্জবাসী, আজ আমরা এখানে এসেছিলাম দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি নিয়ে। কোনো যুদ্ধের আহ্বান নিয়ে নয়, শান্তি এবং দেশ গড়ার আহ্বান নিয়ে গোপালগঞ্জে এসেছি।’
কিন্তু সমাবেশ শুরুর আগেই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশস্থলে হামলা করে ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। গত ১৬ জুলাই বুধবার বেলা পৌনে ২টার দিকে শহরের পৌর পার্কে স্থানীয় ২০০ থেকে ৩০০ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এ হামলা চালান। তাঁরা সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সমর্থক।
সমাবেশস্থলে অবস্থান করে দেখা গেছে, বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে ২০০ থেকে ৩০০ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন। এ সময় মঞ্চের আশপাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে দ্রুত আদালত চত্বরে ঢুকে পড়েন। একই সময়ে মঞ্চে ও মঞ্চের সামনে থাকা এনসিপির নেতা-কর্মীরাও দৌড়ে সরে যান।
হামলাকারীরা মঞ্চের চেয়ার ভাঙচুর করেন, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। একপর্যায়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় এনসিপির নেতা-কর্মীরা এক হয়ে পুলিশসহ ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
একপর্যায়ে বেলা ২টা ৫ মিনিটে সমাবেশস্থলে পৌঁছান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। বেলা সোয়া ২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তাঁরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
এর আগে এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে আগুন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের সদর উপজেলার কংশুরে এ ঘটনা ঘটে।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর সড়কের খাটিয়াগড় চরপাড়ায় পুলিশের গাড়িতে হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে ওই এলাকা পরিদর্শনে যান সদর উপজেলার ইউএনও এম রাকিবুল হাসান। সেখান থেকে ফেরার পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কংশুরে ইউএনওর গাড়িতে হামলা করা হয়। এ ঘটনায় তার গাড়ি চালক আহত হন।
ইউএনও এম রাকিবুল হাসান বলেন, ‘এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে হামলা অপ্রীতিকর ঘটনা জানার পরে ওই এলাকায় পরিদর্শনে যাই। সেখান থেকে ফেরার পথে কংশুরে পৌঁছালে একদল লোক আমাদের গাড়িতে হামলা করে। গাড়ি চালক মোহাম্মদ হামিম আহত হয়েছেন।’
গোপালগঞ্জ থেকে ফেরার পথে এনসিপির গাড়ি বহরে হামলা
সমাবেশ শেষে ফেরার পথে গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার বিকাল ৩টার দিকে শহরের পৌর পার্কের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ মুহূর্তে এনসিপির নেতা-কর্মীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন।
সড়কে আটকা পড়া এনসিপির নেতা-কর্মীদের গাড়িবহর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জ পৌর পার্কের উন্মুক্ত মঞ্চে এনসিপির ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে। সেখানে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে ফিরছিলেন তারা। ফেরার পথে তাদের গাড়ি বহরে হামলা হয়।
গত ১ জুলাই থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর মধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এ কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। মাসব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১৬ জুলাই বুধবার গোপালগঞ্জে পদযাত্রা করেছে দলটি। গত ১৫ জুলাই মঙ্গলবার দলের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এ কর্মসূচিকে ‘১৬ জুলাই : মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।