অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় আ’লীগ
১০ জুলাই ২০২৫ ০৮:৩৪
স্টাফ রিপোর্টার : দেশ শাসন করতে গিয়ে স্বৈরাচার বনে যাওয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও দলটির নেতাকর্মীরা বসে নেই। তারা নিজেদের শক্তিশালী করতে বেশ তৎপর রয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রয়েেেছ। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কেউ কোনো ভুল করলে সেটি ভাইরাল করতে তৎপর হয়ে ওঠে এরা। আবার সরকারের নানা পদক্ষেপকে নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করতেও সক্রিয় রয়েছে আওয়ামী লীগের এসব নেতাকর্মী। আওয়ামী লীগের যেসব সক্রিয় নেতাকর্মী বিদেশে রয়েছে, তারা স্বনামেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। আর যারা দেশে রয়েছে, তারা ফেসবকু বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে তৎপরতা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রতিদিন দলীয় কর্মসূচিতেই তারা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ২৩ জুন আওয়ামী লীগর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকার বেশ কয়েকটি স্থানে মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নানা কর্মসূচি পালন করছে দলটির সক্রিয় কর্মীরা।
তবে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কোনো পর্যায়েই আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীর মাথায়ই আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা দল গোছানো নিয়ে কোনো ভাবনা নেই আপাতত। তাদের চিন্তা এখন একটাই কোনোমতে টিকে থাকা। তারা ক্ষমতা থাকা অবস্থায় তাদের হাতে যারা নির্যাতিত হয়েছেন, সেই জনগণের হামলা থেকে বাঁচতে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের গণহত্যা, হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। নজিরবিহীন দুর্নীতি ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ। তৃণমূলের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই দলের বর্তমান এ ছিন্নভিন্ন অবস্থার জন্য সরাসরি দুষছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তৃণমূলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী বর্তমান বিশৃঙ্খলার জন্য অপসারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করছেন। তারা বলছেন, আত্মগোপনে থাকা শীর্ষনেতারা তৃণমূল পর্যায়ের কারও কাছে এখনো কোনো দিকনির্দেশনা পাঠাননি। দীর্ঘ শাসনামলে নির্বাচনে কারচুপি ও রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করে কার্যত একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল আওয়ামী লীগ। জুলাই-আগস্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে শত শত মানুষ নিহত ও হাজার হাজার আহত হয়। সরকার পতনের পর দেশব্যাপী জনসাধারণ ও রাজনৈতিক বিরোধীদের তীব্র রোষের মুখে পড়ে দলটি। ফলে ৫ আগস্টের পর রাজনীতির মাঠে সরাসরি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ চালু করা খুব সহজ হবে না বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা।
তবে দলটির এক নেতা জানিয়েছন, তার দল ছোট কোনো এক বা একাধিক নিবন্ধিত দলের মনোনয়ন নিয়ে কিছু লোককে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করানোর চিন্তা-ভাবনা করছে। এরা নির্বাচিত হতে পারলে সংসদে গিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেবে। তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।