ইরান-ইসরাইল-আমেরিকা যুদ্ধবিরতিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে না
২৬ জুন ২০২৫ ১১:০৪
সোনার বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত ২৪ জুন মঙ্গলবার ইরান, ইসরাইল ও আমেরিকা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু এ যুদ্ধবিরতিতে আস্থা নেই ইরানের সরকার ও জনগণের। আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে ইরানের জনগণের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘এটা শান্তি নয়, বিরতি মাত্র।’ অর্থাৎ অনেকটা খেলার চা-বিরতির মতো। তাদের এমন মন্তব্যের কারণ ইসরাইল ও আমেরিকার বার বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং প্রতারণামূলক আগ্রাসী আচরণ। যুদ্ধের সূচনা ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে। প্রায় অর্ধশতাব্দী, ৭৭ বছর ধরে চলছে মধ্যপ্রাচ্যে এ যুদ্ধ। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসলামপন্থি দল হামাস সরকার গঠনের পর ইসরাইল ও আমেরিকা আন্তর্জাতিক কোনো রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে অব্যাহতভাবে নিরস্ত্র-নিরীহ বনি আদমদের হত্যা করছে। এ যুদ্ধ ফিলিস্তিনের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। আশপাশের দেশ ছাড়িয়ে ইরানেও ছড়িয়ে পড়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরান থেকে ইয়াজদ পর্যন্ত, ইরানিরা ইসরাইলের সাথে যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ দুই দেশের কর্মকর্তারা অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ ও হুমকি অব্যাহত রেখেছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানে, এক রাতের প্রচণ্ড বোমাবর্ষণ এবং তারপর প্রায় দুই সপ্তাহের তীব্র বিমান হামলার পর ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর বিভ্রান্তি, অনিশ্চয়তা এবং অবিশ্বাস দেশের মানুষের মনোজগৎকে গ্রাস করেছে।
৩৭ বছর বয়সী সাংবাদিক সামানেহ। তিনি আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকার বলেন, ‘বোমাবর্ষণের শেষ রাতটি ছিল সবচেয়ে খারাপ। আমি সত্যিই ভেবেছিলাম, আমি আর কখনো আমার প্রিয়জনদের দেখতে পাব না।’ তিনি ইরানের রাজধানীর অন্য কোথাও পরিবার এবং বন্ধুদের ভয়ে বলেছিলেন। গত ২৪ জুন মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি, সামেনের মতো অনেকে মনে করেন এ যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে না।
গত ১৩ জুন ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা, পাশাপাশি তেহরানের আবাসিক এলাকায় হামলা শুরু করলে সংঘাত শুরু হয় যার ফলে কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিক, বেশ কয়েকজন সামরিক কমান্ডার এবং বিজ্ঞানী নিহত হন। ইরান ইসরাইলি শহরগুলোয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেয়। ইরান বলেছে, কমপক্ষে ৬১০ জন নিহত হয়েছে এবং ৪,৭৪৬ জন আহত হয়েছে। ইসরাইলে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হয়েছে এবং শত শত আহত হয়েছে।
ইরান মনে করে, আমেরিকা তাদের দেশের আকাশ এবং সীমানা লঙ্ঘন করেছে। তারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যে ক্ষতি আমেরিকার বোমা হামলায় হয়েছে, তা পূরণ করতে কোটি কোটি ডলার লাগবে। ইরানকে পুনর্নির্মাণের জন্য এ ক্ষতির দায় আমেরিকার। কারণ আমেরিকান বোমার আঘাতে তা ধ্বংস করা হয়ে গেছে। আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি গর্ত এবং কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ করে আসছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, গাজা পরিস্থিতির উন্নতি ও ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান ছাড়া কোনো চুক্তি ও যুদ্ধবিরতিই কার্যকর ফল বয়ে আনবে না। কিন্তু গাজায় ইসরাইলের আক্রমণ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, ইরান-ইসরাইল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি গুলিবর্ষণে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। ইরান যখন সংবাদপত্রের শিরোনামে প্রাধান্য পাচ্ছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি দেশের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের মধ্যে ফিলিস্তিনি এবং এ অঞ্চলের দীর্ঘতম যুদ্ধে আটকে থাকা জিম্মি পরিবারগুলোর কথা প্রথম পাতা থেকে মুছে গেছে, যা মূলত ভুলে গেছে।