বিকল্প রাজনীতির খোঁজ, নৈতিকতার ইমেজ ও ভোটের নতুন সমীকরণ

জনআস্থা জামায়াতে ইসলামীতে


১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৫

॥ ফারাহ মাসুম ॥
বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে এ বছর একটি নীরব কিন্তু স্পষ্ট পরিবর্তন চোখে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি- এ দুই মেরুকে ঘিরে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক আলোচনায় তৃতীয় এক শক্তির নাম ক্রমেই জোরালো হচ্ছে- জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন বা সমর্থিত জোট। যে দল একসময় সীমিত আদর্শভিত্তিক ভোটব্যাঙ্কে আটকে ছিল, এখন তারা ‘বাস্তব প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রশ্ন হচ্ছে- কেন?
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি লক্ষণীয় প্রবণতা হলো, জামায়াতে ইসলামী বা জামায়াত-সমর্থিত জোটের প্রতি জনআস্থার দৃশ্যমান বৃদ্ধি। একসময় যে দলটি কেবল আদর্শভিত্তিক একটি সীমিত ভোটব্যাঙ্কের ওপর নির্ভরশীল ছিল, এখন তারা তুলনামূলকভাবে বৃহত্তর জনসমর্থনের আলোচনায় আসছে। এটি হঠাৎ কোনো আবেগের ফল নয়; বরং রাজনৈতিক শূন্যতা, অর্থনৈতিক হতাশা, নৈতিকতার প্রশ্ন এবং বিকল্প নেতৃত্বের অভাব- এ চারটি বাস্তব কারণ মিলেই এ আস্থার পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। অর্থাৎ জামায়াতের জনপ্রিয়তায় তাদের শক্তির পাশাপাশি অন্যদের দুর্বলতাও অবদান রেখেছে।
ক্লান্ত ভোটারের মনস্তত্ত্ব : ‘একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার পালাবদলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে বড় কোনো শক্তি তৈরি হয়নি। কিন্তু সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা বলছে, দল বদলালেও সমস্যা বদলায় না। দ্রব্যমূল্য, বেকারত্ব, দুর্নীতি, ব্যাংক কেলেঙ্কারি, দলীয়করণ সবই থেকে যায়।
এ হতাশা থেকেই তৈরি হয়েছে এক ধরনের রাজনৈতিক ক্লান্তি। অনেক ভোটার এখন বলছেন, ‘পুরনোদের দিয়ে কিছু হয়নি, এবার নতুন কাউকে দেখি।’
এ ‘বিকল্প খোঁজার মানসিকতা’ই জামায়াতের সবচেয়ে বড় সুযোগ। তারা নিজেদের তুলে ধরছে ‘পরিচ্ছন্ন’, ‘শৃঙ্খলাবদ্ধ’ ও ‘দুর্নীতিমুক্ত’ দল হিসেবে। বাস্তবতার পাশাপাশি ইমেজের রাজনীতিতে এ বার্তাটি কাজ করছে।
নৈতিকতার রাজনীতি : ইমেজ বনাম ইতিহাস
জামায়াতের প্রচারে সবচেয়ে জোরালো শব্দগুলো হলো- সততা, আদর্শ, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র। মধ্যবিত্ত ও ধর্মপ্রাণ ভোটারদের একাংশ মনে করে, প্রচলিত বড় দলগুলোর তুলনায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের জীবনযাপন অপেক্ষাকৃত সাদামাটা এবং সংগঠন বেশি নিয়ন্ত্রিত।
এখানে একটি মনস্তাত্ত্বিক দিক কাজ করে- রাজনীতিতে ‘কম খারাপ’ দলও অনেক সময় ‘ভালো বিকল্প’ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। তবে এ ইমেজের পাশাপাশি তাদের মুক্তিযুদ্ধ-সংক্রান্ত বিতর্ক ও অতীত রাজনৈতিক অবস্থান এখনো কিছুটা হলেও বাধা। ফলে শহুরে শিক্ষিত শ্রেণির একটি অংশ এখনো সতর্ক দূরত্ব বজায় রাখছে। অর্থাৎ সমর্থন বাড়লেও তা ততটা সর্বগ্রাসী নয়, বরং আংশিক ও শর্তসাপেক্ষ।
মাঠের শক্তি : নির্বাচনী নয়, সারা বছরের সংগঠন
বাংলাদেশের বেশিরভাগ দল নির্বাচন এলেই মাঠে নামে। জামায়াতের কৌশল আলাদা। তারা বছরজুড়ে সংগঠন ধরে রাখে। ছাত্র সংগঠন, সামাজিক সেবা, দাতব্য কার্যক্রম, রমজান বা দুর্যোগকালে ত্রাণ- এসবের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে একটি স্থায়ী উপস্থিতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বলে এ উপস্থিতি ভোটে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
রাজনীতিতে মানুষ এখন বক্তৃতার চেয়ে ‘দেখা কাজ’-এ বেশি বিশ্বাস করে। এ জায়গায় জামায়াত অন্যদের তুলনায় এগিয়ে।
অর্থনৈতিক হতাশা : আবেগের জায়গায় আঘাত
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা- উচ্চ মূল্যস্ফীতি, চাকরির সংকট, ব্যাংক কেলেঙ্কারি মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। যখন বড় দলগুলোকে ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালীদের পক্ষের শক্তি হিসেবে দেখা হয়, তখন সাধারণ মানুষ এমন দল খোঁজে যারা ‘গরিববান্ধব’ ভাষা ব্যবহার করে।
জামায়াতের বক্তব্য, জাকাতভিত্তিক কল্যাণ; সুদমুক্ত অর্থনীতি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন। অর্থনীতির দিক থেকে এসব পুরোপুরি বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে প্রতিপক্ষ প্রশ্ন তুলে। কিন্তু আবেগের জায়গায় এ ভাষ্য আকর্ষণীয়। মানুষ যখন চাপে থাকে, তখন যুক্তির চেয়ে ন্যায়বোধের কথাই বেশি গ্রহণযোগ্য হয়।
তরুণ ভোটার : ইতিহাস নয়, ভবিষ্যৎ
নতুন প্রজন্মের ভোটারদের একটি বড় অংশ অতীত রাজনৈতিক ইতিহাসের চেয়ে বর্তমান চাকরি ও সুযোগকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের কাছে ‘কে ৩০ বছর আগে কী করেছে’, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘আগামী ৫ বছরে আমি চাকরি পাব কি না’।
জামায়াত নিজেদের ‘ডিসিপ্লিনড ও মেধাভিত্তিক দল’ হিসেবে তুলে ধরছে, যা তরুণদের একটি অংশের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে; বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরতলিতে।
তবে এ বাড়তি আস্থা পুরোপুরি একমুখী বা নিঃশর্ত নয়। জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক বিতর্ক, মুক্তিযুদ্ধ-সংক্রান্ত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন এখনো বড় বাধা। শহুরে শিক্ষিত শ্রেণির একটি অংশ এখনো তাদের প্রতি সন্দিহান। ফলে তাদের উত্থানে ‘প্রতিবাদী ভোট’ বা ‘বিকল্প খোঁজার ভোট’ ও কাজ করেছে।
জোট রাজনীতি
জামায়াতের প্রতি আস্থা যেমন বাড়ছে, তেমনি তা অনেকাংশে অন্যদের প্রতি অনাস্থাও বেড়েছে। এখানে আরেকটি বাস্তবতা হলো জোট রাজনীতি। এককভাবে জামায়াতের ভোটব্যাঙ্ক সীমিত, কিন্তু জোটে গেলে তাদের সংগঠিত কর্মী বাহিনী ও ভোটাররা কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিএনপি জামায়াত বা অন্য কোনো জোটে থাকলে তাদের প্রভাব বাড়ে। কারণ তারা মাঠপর্যায়ে ভোট ম্যানেজমেন্টে দক্ষ। এ সাংগঠনিক শক্তিই জোটকে বাড়তি সুবিধা দেয় এবং জনমনে ধারণা তৈরি করে, ‘ওরা শক্তিশালী বিকল্প।’ তবে প্রশ্ন ওঠে- কেবল নৈতিকতা বা শৃঙ্খলার ইমেজ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা কি সম্ভব। অর্থনীতি চালাতে হলে বৈশ্বিক বাজার, ব্যাংকিং কাঠামো, প্রযুক্তি বিনিয়োগ- এসব বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। সুদমুক্ত অর্থনীতি বা শুধুমাত্র কল্যাণভিত্তিক মডেল দিয়ে আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনা কঠিন। যদি তারা বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি দিতে পারে, তাহলে এ আস্থা দ্রুতই বাড়তে পারে, তা না হলে উল্টোটাও হতে পারে।
সব শেষে বলা যায়, জামায়াত জোটের প্রতি জনআস্থা বাড়ার মূল কারণ তাদের অতিরিক্ত জনপ্রিয়তা নয়; বরং প্রধানধারার রাজনীতির ব্যর্থতা। মানুষ বিকল্প খুঁজছে। এ শূন্যতা পূরণ করতে পারলেই যে কেউ সমর্থন পাবে। রাজনীতিতে আস্থা কখনো স্থায়ী নয়- এটি পারফরম্যান্সনির্ভর। যে দল মানুষের জীবনমান বাস্তবে উন্নত করতে পারবে, শেষ পর্যন্ত জনসমর্থন তার দিকেই যাবে। জামায়াতের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না।
আন্তর্জাতিক শক্তির দৃষ্টিতে জামায়াত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি একমাত্রিক নয়; বরং তা কৌশলগত স্বার্থ, নিরাপত্তা উদ্বেগ, মানবাধিকার প্রশ্ন এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতি- এ চারটি মাত্রায় বিভক্ত। অর্থাৎ কেউ তাদের আদর্শ দিয়ে বিচার করে না, বরং দেখে ক্ষমতায় বা প্রভাবের কেন্দ্রে গেলে তারা কতটা স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়যোগ্য হবে। প্রথমেই পশ্চিমা বিশ্ব; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান। ঐতিহাসিকভাবে তারা জামায়াতকে সন্দেহের চোখে দেখে এসেছে। কারণ দলটির ইসলামপন্থী আদর্শ, ছাত্র রাজনীতির অতীত এবং ১৯৭১ সংক্রান্ত অপপ্রচার পশ্চিমা কূটনীতিতে কিছুটা নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করেছে। ২০১০-এর দশকে যুদ্ধাপরাধ বিচার ইস্যুতে জামায়াতের অনেক শীর্ষনেতার সাজা ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পশ্চিমা মহলে ‘রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল শক্তি’ হিসেবে জামায়াতের অপপ্রচার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ সাধারণত জামায়াত বা অন্য কোনো দলকে সরাসরি সমর্থন করতে দেখা যায় না। তাদের অগ্রাধিকার থাকে নির্বাচন, মানবাধিকার, স্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা। এ মানদণ্ডে জামায়াতকে তারা ‘গ্রহণযোগ্য হলে সহযোগিতা, বিপরীত হলে দূরত্ব’- এ নীতিতে দেখে। তবে এখানে একটি বাস্তব দিকও আছে। পশ্চিমা কূটনীতিতে আদর্শের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘স্ট্যাবিলিটি’। যদি জামায়াত কোনো বড় জোটের অংশ হয়ে সাংবিধানিক রাজনীতিতে থাকে এবং নিয়মতান্ত্রিকতা মেনে চলে, তাহলে পশ্চিমা শক্তিগুলো তাদের সঙ্গে কাজ করতে আপত্তি করে না। বিশ্বের অনেক দেশেই ইসলামপন্থী দল- যেমন তুরস্কের একে পার্টি বা তিউনিশিয়ার এনাহদা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই জামায়াতের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য: তারা পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে যত বেশি বাস্তববাদী ও গণতান্ত্রিক আচরণ করবে, তত বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল। দিল্লি ঐতিহাসিক ও নিরাপত্তাগত কারণ দেখিয়ে জামায়াতকে সন্দেহের চোখে দেখার কথা বলে। ভারতের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশে এমন কোনো শক্তি যেন ক্ষমতায় না আসে, যারা সীমান্ত নিরাপত্তা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদ বা ধর্মীয় রাজনীতিকে উসকে দিতে পারে। জামায়াতের ইসলামী রাজনৈতিক পরিচয় এবং পাকিস্তানপন্থার অভিযোগ, ভারতের কৌশলগত মহলে অস্বস্তি তৈরি করে। ফলে ভারত জামায়াতকে সরাসরি সমর্থন করে না এবং এমন রাজনৈতিক সমীকরণ পছন্দ করে, যেখানে তারা প্রান্তিক বা নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকে। বিশেষ করে যদি জামায়াত-প্রভাবিত সরকার ভারতের সঙ্গে পানি, বাণিজ্য বা নিরাপত্তা চুক্তিতে কঠোর অবস্থান নেয়, তাহলে দিল্লির উদ্বেগ বাড়ে। অবশ্য সুভীর ভৌমিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, জনগণের ভোটে যে দল আসবে ভারত সরকার তার সাথেই কাজ করবে।
চীন আবার ভিন্নভাবে দেখে। বেইজিং আদর্শ নয়, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ দেখে। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, যদি অবকাঠামো প্রকল্প, বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত থাকে, তাহলে চীন তার সঙ্গে কাজ করে। তাই জামায়াত বা অন্য কোনো ইসলামপন্থী দল নিয়ে চীনের প্রকাশ্য আপত্তি কম। তাদের নীতি- ‘নন-ইন্টারফেরেন্স’। ফলে জামায়াত যদি অর্থনৈতিকভাবে চীনের বিনিয়োগবান্ধব অবস্থান নেয়, চীন সহযোগিতা করতে দ্বিধা করবে না।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অবস্থান আরও বাস্তববাদী। সৌদি আরব, কাতার বা তুরস্ক- এ দেশগুলো সাধারণত ইসলামী পরিচয়ের দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তবে তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। তাদের আগ্রহ থাকে শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক প্রভাব। জামায়াত যদি এই ক্ষেত্রগুলোয় সহযোগিতামূলক হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সমর্থন বা অন্তত নিরপেক্ষতা পেতে পারে।
জয়ের সম্ভাবনা : বাস্তব অঙ্ক
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- তারা কি জিততে পারবে? বাস্তবতা হলো, এককভাবে জামায়াতের জাতীয়ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু জোট হিসেবে তারা বড় ফ্যাক্টর।
কারণ সংগঠিত ভোটব্যাঙ্ক; শক্তিশালী মাঠ ব্যবস্থাপনা; অনিশ্চিত ভোটার এবং প্রধানধারার দলগুলোর প্রতি অনাস্থা। যদি ভোট ভাগাভাগি হয় এবং বিরোধী শক্তি বিভক্ত থাকে, তাহলে জোট হিসেবে তারা উল্লেখযোগ্য আসন পেতে পারে। এই আসনপ্রাপ্তি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, জামায়াত জোটের প্রতি জনআস্থা বাড়ার মূল কারণ তাদের অসাধারণ জনপ্রিয়তা নয়; বরং প্রধানধারার রাজনীতির ব্যর্থতা। মানুষ বিকল্প খুঁজছে। সেই শূন্যতায় যে দল বিশ্বাসযোগ্যতা দেখাতে পারবে, মানুষ তার দিকেই যাবে। তবে এটি ঠিক যে- রাজনীতিতে আস্থা স্থায়ী নয়- এটি পারফরম্যান্সনির্ভর। যে দল কর্মসংস্থান, স্থিতিশীলতা ও সুশাসন দিতে পারবে, শেষ পর্যন্ত জনসমর্থন তার দিকেই যাবে।
বাংলাদেশের ভোটার আর পুরনো সমীকরণে বন্দি নেই। তারা এখন সত্যিই বিকল্প খুঁজছে।