শহীদ ওসমান বিন হাদির জন্য প্রার্থনা
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:০৬
বাংলাদেশের মানুষের বুকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। শরীফ ওসমান বিন হাদির প্রতি ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত বাংলাদেশপ্রেমী আগ্রাসন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিটি চোখ। মহান আল্লাহরাব্বুল আলামিনের কাছে সবার ছিলোএকটাই প্রার্থনা, ‘আল্লাহ প্রয়োজনে আমাকে তুলে নাও আমাদের প্রিয় হাদিকে ফেরত দাও।’ আমরা জানি, এদেশের প্রতিটি প্রতিবাদী মানুষের কণ্ঠস্বর, ৩৬ জুলাই আন্দোলনের প্রথম সারির যোদ্ধা ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসন থেকে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদি ঘাতকের গুলিতে আহত হয়ে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্রাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
গত ১২ ডিসেম্বর, শুক্রবার প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানীর পল্টন এলাকায় হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে ফ্যাসিবাদ ও সন্ত্রাসের কারণে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ছাত্র শাখার এক জঙ্গি সন্ত্রাসী। পুলিশের দাবি, তারা হাদির ওপর হামলাকারীকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছে। দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, যে ব্যক্তি সামনে আসছে, তার সঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান নামে এক ব্যক্তির চেহারা মিলে যাচ্ছে। দ্য ডিসেন্টের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে সংগৃহীত ৯ ডিসেম্বরের সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশের সংগৃহীত ১২ ডিসেম্বরের হামলার সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে ফয়সাল করিম মাসুদ নামক অ্যাকাউন্ট এবং আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন পেজ ও ব্যক্তির প্রোফাইলে পোস্ট করা ৫০টিরও বেশি ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ওসমান হাদির ওপর বাইকের পেছন থেকে গুলি করা ব্যক্তিটির চেহারার সঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান নামে এক ব্যক্তির চেহারা মিলে যাচ্ছে। তিনি রাজধানীর আদাবর থানা ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে পুরোনো খবর থেকে জানা গেছে। দুটি ফেইস ডিটেকশন অ্যাপে ফয়সাল করিমের একাধিক ছবি তুলনামূলকভাবে যাচাই করেও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান ব্যক্তির মিল পাওয়া গেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, গুলি করা ব্যক্তির বাম হাতে থাকা বিশেষ ডিজাইনের ঘড়িটির সঙ্গে একই ডিজাইনের ঘড়ি পরা একাধিক ছবি ফয়সাল করিম মাসুদের ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক প্রোফাইলে পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে একাধিক মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ফয়সাল করিমের ছবিসহ খবর প্রকাশিত হয়েছিল। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় একটি অফিসে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুট ও ডাকাতির মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে ফয়সাল করিম র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। যদিও পরে কীভাবে সে ছাড়া পায়, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’
ওপরের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী তাদের দোসরদের ব্যাপারে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার অদৃশ্য কারণে অতি গণতান্ত্রিক দেশ বলে পরিচিত আমেরিকা, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়েনের চেয়েও উদারতা দেখাচ্ছে। ফলে ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীরা দ্বিগুণ উৎসাহে ফ্যাসিবাদবিরেধী শক্তির ওপর হামলা করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। বিপ্লবীদের মাঝে একটি কথা প্রচলিত আছে, ‘বিপ্লবীরা বিনয়ী হলে বিপ্লবের শত্রুরা তাকে দুর্বলতা মনে করে, বিনয়ীদের নির্মূল করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে মাঠে নামে। হাদির ওপর হামলা সেই নীলনকশারই অংশ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ফ্যাসিস্ট রাণি মাদার অব মাফিয়া হাসিনা ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা করাচ্ছে। অথচ সরকার কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড আসামি হাসিনাকে ফেরত আনতে পারছে না। শুধু কী তাই? এদেশে অবস্থানরত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী জঙ্গিরা একের পর মামলায় জামিন নিয়ে বের হয়ে খুন ও ডাকাতির মতো অপরাধ করছে। খুনি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানও ১৭ লাখ টাকা লুটের সময় হাতেনাতে র্যাবের হাতে ধরা পড়েছিল। কিন্তু মাত্র ১ মাস হাজতে থাকার পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়েছে অতি সম্প্রতি। বের হওয়ার পর কয়েকদিনের ব্যবধানে হাদির মতো জনপ্রিয় একজন প্রতিবাদী মানুষকে খুন করার উদ্দেশ্যে গুলি চালিয়েছে। আমরা মনে করি, ফ্যাসিবাদী জঙ্গি দলের নেতা ডাকাতি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর কীভাবে জামিন পায়, তার তদন্ত হওয়া জরুরি। সহযোগী দৈনিক গত ১৫ ডিসেম্বর লিখেছে, দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘১৪ মাসে গ্রেপ্তার ফ্যাসিস্টের ৫৬ হাজার ১৮৭ দোসর/৭০ ভাগই জামিনে মুক্ত’। বিষয়টি সত্যি আতঙ্কজনক।
আমরা আশা করি, যথাযথ তদন্ত করে দায়ীর শাস্তি দিতে ব্যর্থ হলে হাদির মতো আরো অনেক জুলাইযোদ্ধা এবং আগ্রাসনবিরোধী প্রতিবাদী মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই আর বিলম্ব নয়, অবহেলা নয়। প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থেকে যদি কেউ ফ্যাসিবাদের পক্ষে কাজ করার দুঃসাহস দেখায়, তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে ফ্যাসিবাদের কবর রচনা সম্ভব হবে না। আর ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করা ছাড়া দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নই থেকে যাবে। পরিশেষে আবারও ওসমান বিন হাদির জন্য প্রার্থ না আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে শাহাদাতের মর্যাদা হান করুন। আমীন।