যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি
৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৭
মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ-বেইজিং
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার ৪০ দিন পর দুই সপ্তাহের বিরতির খবরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে খুশির বন্যা বইছে। বিশেষ করে ইরানের রাজধানী তেহরানে লাখো জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে সব দেশের সাধারণ নাগরিকরাই এই বিরতিতে খুশি। তারা স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ চাইছেন। এদিকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে বেশ কয়েকজন নাগরিক হতহত হয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধবিরতির এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করেছে ইসলামাবাদ, এ কারণে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে প্রশংসায় ভাসছে পাকিস্তান। এ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্যের পতন ঘটেছে। কমতে শুরু করেছে দাম। এতে মানুষের মধ্যে ফিরতে শুরু করেছে স্বস্তিও।
বিরতি মানেই যুদ্ধের সমাপ্তি নয়
বিরতি মানেই যুদ্ধের সমাপ্তি নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে মুজতবা খামেনি বলেন, ‘এটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, তবে সামরিক বাহিনীর সকল শাখার উচিত সর্বোচ্চ নেতার আদেশ মেনে গোলাবর্ষণ বন্ধ করা।’ ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই যুদ্ধবিরতি মানে যুদ্ধের সমাপ্তি বোঝায় না। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে যেকোনো হামলা মোকাবিলায় তাদের হাত ‘বন্দুকের ট্রিগারে থাকবে’ বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, ‘পুনরায় জোর দিয়ে বলা হচ্ছে যে, এর অর্থ যুদ্ধের সমাপ্তি নয়… আমাদের হাত ট্রিগারের ওপরেই রয়েছে, এবং শত্রুপক্ষের পক্ষ থেকে সামান্যতম ভুল হলেও তার জবাব পূর্ণ শক্তিতে দেওয়া হবে।’
হরমুজ প্রণালী ব্যবহারে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে
ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর নিজেদের প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযান স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আদায়ের অনুমতি পাবে ইরান ও ওমান। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আরাগচি বলেন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরোধমূলক অভিযান বন্ধ করবে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে। তবে এক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করতে হবে এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।
শর্ত সাপেক্ষে মেনে নিয়েছে ইসরায়েল, জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে এ খবর জানান। সব পক্ষকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে’ এবং এ অঞ্চলে ‘স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ’ শান্তির পথ প্রশস্ত করার জন্য যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলতে আহ্বান জানিয়েছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘের মহাসচিব আরও বলেছেন, বেসামরিক মানুষদের জীবন রক্ষা এবং মানবিক দুর্ভোগ কমানোর জন্য অবিলম্বে সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ করা প্রয়োজন। ইরানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প- এমন খবর প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তে সায় রয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলেছে, ‘ইরান অবিলম্বে প্রণালিগুলো খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এ অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করবে- এই শর্তে দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল সমর্থন করে।’ ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে আরও বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহের এ যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকবে না।
ট্রাম্পকে উপহাস করছে মার্কিন জনপ্রতিনিধিরা, ইরানকে বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃতি
মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘আমি খুশি যে ট্রাম্প পিছু হটেছেন এবং তিনি নিজের হাস্যকর ফাঁকা বুলি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজছেন।’ মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যালেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্টেজ বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্টকে তার পদ থেকে অপসারণ করতে হবে এবং আমরা আর আমাদের দেশ ও বিশ্বের স্বার্থকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না।’ মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইয়াসমিন আনসারি বলেছেন, ‘আমরা জানি না, এসব পদক্ষেপ (যুদ্ধ) আসলে কেন নেওয়া হয়েছিল? এই যুদ্ধবিরতিও ট্রাম্পের বোকামিপূর্ণ সিদ্ধান্তের চক্রেরই অংশ। তিনি একটি সঙ্কট তৈরি করেন, এরপর আমেরিকার মানুষকে বলতে চেষ্টা করেন যে, সঙ্কট সমাধান করেছেন এবং তারপর সেই পথটিও আবার উল্টে যায়। ঠিক এমনটাই ঘটেছে এই যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালীর ক্ষেত্রে। তিনি সংকট তৈরি করেন এবং সেই সংকটের সমাধান করে ক্রেডিট নেয়ার চেষ্টা করেন।’ এছাড়া মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন যে, ‘ইরান একটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন: মনে হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এটি ইরানের জন্য একটি ঐতিহাসিক বিজয়।’
ইরানের ঐতিহাসিক বিজয়, বলছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ
ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়ে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান তার শর্তগুলো মেনে নিতে বাধ্য করানোর মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার এবং সব নিষেধাজ্ঞা অপসারণ মেনে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন বন্ধ করা, ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং অঞ্চল থেকে তার বাহিনী প্রত্যাহার করতেও সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার হুমকি থেকে পিছুহটে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করেছেন, দেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক হামলা বন্ধ করা হলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তাদের প্রতিরক্ষামূলক হামলাও বন্ধ করবে। মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ইরান একটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন: মনে হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এটি ইরানের জন্য একটি ঐতিহাসিক বিজয়। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এই পরিস্থিতিকে তাদের জন্য ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে গণ্য করছে এবং দেশটির জনগণ সারাদেশে উল্লাস প্রকাশ করছে।
ইরানের দাবি মেনে নিয়েছেন ট্রাম্প, কী আছে ১০ দফা প্রস্তাবে
ইরানের দাবি, তাদের ১০ দফার শান্তি প্রস্তাব নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটিই শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে শুরু হতে যাওয়া আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ১০ দফা ওই প্রস্তাবে রয়েছে- হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ: ইরান তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিয়ন্ত্রিত যাতায়াতের প্রস্তাব দিয়েছে। এটি কার্যকর হলে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তৈরি হবে। আগ্রাসন বন্ধ: ইরান চায়, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে আর ইরানে হামলা চালাবে না। এই আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। পরমাণু সমৃদ্ধকরণের অধিকার: ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণের অধিকার মেনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। যে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে না দেশ দুটি। সৈন্য প্রত্যাহার: মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব যুদ্ধকালীন ঘাঁটি থেকে মার্কিন সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান। মিত্রদের নিরাপত্তা: ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধেরও অবসান ঘটাতে হবে। তবে ৮ এপ্রিল বুধবার সকালে ইসরায়েল জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানালেও লেবানন এই চুক্তির আওতাভুক্ত থাকবে না। তারা সকাল থেকে দেশটিতে কয়েক দফা হামলাও চালিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সব নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে হবে। সম্পদ ফেরত: বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সব সম্পদ অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি: ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে তেহরানের পক্ষ থেকে। আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা: ইসলামাবাদে সমঝোতা হওয়া প্রতিটি বিষয়কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক রেজুলেশন হিসেবে পাস করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ এটি অস্বীকার করতে না পারে।
শুক্রবার শুরু হচ্ছে আলোচনা
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার ইসলামাবাদে যুদ্ধেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং এই আলোচনার প্রক্রিয়া দুই সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এদিকে ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড় ধরনের হামলা অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। আল-জাজিরার খবর জানায়, যুদ্ধবিরতির শর্তানুযায়ী, হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি হয়েছে তেহরান। গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায়, পূর্বঘোষিত হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, ইরানে বড় ধরনের হামলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন তিনি। আর এই সমঝোতায় মধ্যস্থতা করার জন্য পাকিস্তানকে কৃতিত্ব দেন তিনি। তবে শর্ত দেন, ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে হবে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অনুরোধের ভিত্তিতে আমি ইরানের ওপর হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছি। তবে শর্ত হলো, ইরানকে অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে।’ ট্রাম্পের এই বার্তার কিছুক্ষণ পরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একটি সাময়িক চুক্তির কথা জানান। তিনি বলেন, ‘যদি ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকে, তবে তাদের সশস্ত্র বাহিনীও প্রতিরক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রাখবে এবং দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা যাবে।’ আল-জাজিরার সাংবাদিক ওসামা বিন জাভেদ লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসবে, যারা বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় ছিল। পুরো অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ ছিল আকাশচুম্বী। ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি যিনি এটি প্রশমিত করতে পারতেন, কারণ এই উত্তেজনার পরিস্থিতি তিনিই তৈরি করেছেন।’
ট্রাম্পকে উন্মাদ আখ্যা দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান এনএএসিপির
প্রেসিডেন্ট পদের জন্য অযোগ্য ও উন্মাদ আখ্যা দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার পদ থেকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছে কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার বিষয়ক সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব কালারড পিপল (এনএএসিপি)। ১১৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী কার্যকরের আহ্বান জানাল সংগনঠনটি। এনএএসিপির প্রেসিডেন্ট ডেরিক জনসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই প্রেসিডেন্ট অযোগ্য, অসুস্থ এবং উন্মাদ। তার বক্তব্য ও আচরণ কেবল উদ্বেগজনক নয়, বরং অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ এনএএসিপি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘যখন সর্বোচ্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সত্য, স্থিতিশীলতা এবং আমেরিকান জনগণের কল্যাণের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেন, তখন তা পুরো জাতি এবং বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ট্রাম্পকে অবিলম্বে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে হবে।’
বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে তেলের দাম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে ঘোষণা দেন যে, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন। একইসঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির দিকেও অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের ওপর হামলা বন্ধ হলে তারাও পাল্টা হামলা বন্ধ করবে। এছাড়া ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা হবে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
হরমুজ প্রণালী খুলে দিচ্ছে ইরান
ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড় ধরনের হামলা অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। আল-জাজিরার খবর জানায়, যুদ্ধবিরতির শর্তানুযায়ী, হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি হয়েছে তেহরান। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায়, পূর্বঘোষিত হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, ইরানে বড় ধরনের হামলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন তিনি। আর এই সমঝোতায় মধ্যস্থতা করার জন্য পাকিস্তানকে কৃতিত্ব দেন তিনি। তবে শর্ত দেন, ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে হবে।
যুদ্ধবিরতির খবরে সড়কে নেমে উল্লাস করছেন ইরানিরা
পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধে আপাতত বিরতি নিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আর এ খবরে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) তেহরানের পথে নেমে আসে মানুষ। উচ্ছ্বাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির খবর উদযাপন করেন তারা। আল-জাজিরার খবর জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি কাজ করে। তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই মানুষ রাস্তায় নেমে উল্লাস করে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষজন ইরানের পতাকা ও প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি নিয়ে রাজপথে নামে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
যুদ্ধবিরতি পাকিস্তানের প্রতি ইরানের কৃতজ্ঞতা
এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ‘আমার প্রিয় ভাই’ সম্বোধন করে ‘অক্লান্ত পরিশ্রমের’ জন্য তাঁদের গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরাগচির সেই বার্তাটি নিজের মালিকানাধীন ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ শেয়ার করেছেন, যা শান্তি আলোচনায় ইসলামাবাদের ভূমিকার প্রতি ওয়াশিংটনের সম্মতিরই ইঙ্গিত দেয়।
এর পরপরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে লিখেছেন, ‘অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে আমি ঘোষণা করছি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের নিয়ে লেবাননসহ সব জায়গায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা এখনই কার্যকর হবে।’
শাহবাজ শরীফ এই দূরদর্শী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের দেশের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চূড়ান্ত আলোচনার লক্ষ্যে ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) উভয় দেশের প্রতিনিধিদলকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানান। শরিফ আশা প্রকাশ করেন, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ টেকসই শান্তি অর্জনে সফল হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল মুনিরের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল মুনির রাতভর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।
তবে ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক সাফল্যের মধ্যে একটি ছোট ভুল বিতর্ক তৈরি করেছে। শাহবাজ শরিফ প্রথমে একটি পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তিনি ট্রাম্পকে সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানান। সেই পোস্টে ভুলবশত লেখা ছিল, ‘ড্রাফট-এক্স-এ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা।’ পরে এটি সংশোধন করা হলেও স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে এবং দাবি করা হয়, পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী হোয়াইট হাউসের পাঠানো বার্তা ‘কাট-পেস্ট’ করেছেন।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা
যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আজ রাতে পুরো সভ্যতা মারা যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’ তাহলে ওয়াশিংটন ও তেহরান কীভাবে একমত হলো? এর উত্তর হলো, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল মুনিরের দক্ষ কূটনীতি।
ইসলামাবাদ মার্চ মাসের শেষ দিক থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তির জন্য চেষ্টা করছিল। গত ২৯ মার্চ তারা তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি বৈঠক করে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যখন দুই পক্ষই একটি সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছিল, তখন পাকিস্তান নেপথ্য আলোচনার প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। পাকিস্তানই যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দেয় এবং পরে ইরানের জবাব ওয়াশিংটনকে জানায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কেন ইসলামাবাদকে বিশ্বাস করে
মধ্যস্থতাকারী হতে হলে দুই পক্ষেরই আস্থা থাকা জরুরি। আরবের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর সম্পর্কের কারণে ইরান তাদের আর বিশ্বাস করছে না। উপরন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় কিছু দেশে হামলাও চালিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত রয়েছে।
দেশ দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান, যা আরাগচির ‘প্রিয় ভাই’ সম্বোধন থেকেই স্পষ্ট। এছাড়া ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, যা ইরানের আস্থার একটি বড় কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও গত এক বছরে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের বেশ উন্নতি হয়েছে। ইসলামাবাদ ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিয়েছে, যা গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে আসিম মুনিরকে তাঁর ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মুনিরের সঙ্গে মার্কিন ও ইরানি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের গভীর যোগাযোগ থাকায় পাকিস্তান এই আলোচনায় বাড়তি সুবিধা পেয়েছে।
পাকিস্তানের কেন এ যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন
পাকিস্তানের এই আগ্রহ কেবল ভূরাজনৈতিক নয়; বরং জীবন-মরণ সমস্যা। দেশটি তার অধিকাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে পায়। তা ছাড়া বহু পাকিস্তানি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় কাজ করে রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) পাঠান। যুদ্ধের ফলে এবং ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল, যা শাহবাজ সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করেছিল।
এছাড়া পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে বিরোধ তো আছেই। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এমনিতেই উত্তপ্ত। এর মধ্যে অন্য প্রতিবেশী ইরানের অস্থিরতা পাকিস্তানের জন্য মোটেও সুখকর নয়। দেশের ভেতরেও স্থিতিশীলতার সংকট ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবরে পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয় এবং বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান।
কেন এখনই উদযাপনের সময় আসেনি
দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি এখনো অত্যন্ত নড়বড়ে। যদি এই শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায়, তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি কোনো ভুল না থাকলেও দুই পক্ষের যেকোনো একটি পক্ষ ইসলামাবাদকে দায়ী করতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, পাকিস্তান এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার মতো শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক শক্তি নয়। যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে পাকিস্তান উভয়সংকটে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকলে দেশের ভেতরে অস্থিরতা বাড়বে আর ইরানকে সমর্থন দিলে ওয়াশিংটন ও উপসাগরীয় বন্ধুদের হারাবে।