বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৪
পরিবহন খাতে রাজধানীতে দিনে ৫ কোটি টাকার চাঁদাবাজি
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসা গুটিয়ে নেব- ঢাকা চেম্বার, ঝুঁকিতে ব্যবসায়ীরা
॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
চাঁদাবাজি যেন থামছেই না। পরিবহন, ফুটপাত, রিয়েল এস্টেটসহ সব সেক্টরেই চলছে সমানতালে চাঁদাবাজি। খোদ রাজধানী ঢাকায় পরিবহন খাতে দৈনিক প্রায় ৫ কোটি টাকার বেশি চাঁদাবাজি হয়। ফুটপাতেও বন্ধ নেই চাঁদাবাজের থাবা। বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ আসছে ক্ষমতাসীন বিএনপি দলীয় বিভিন্ন গ্রুপের বিরুদ্ধে। গ্রাম্য ইউনিয়ন কিংবা নগরীর ফুটপাত থেকে রিয়েল এস্টেট সব জায়গাই চলছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজির মচ্ছব। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন।
জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী গণআন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পলায়ন তৈরি করে নতুন এক বাংলাদেশ। জাগরণ তৈরি হয় চাঁদাবাজি, রাহাজানি আর বৈষম্যমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশের। ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেলেও নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তাদের যোগসাজশে বিভিন্ন গ্রুপ-গোষ্ঠীর চাঁদাবাজির ঘটনা সরকারের শুরুতেই বেকায়দায় ফেলছে। প্রশ্নবিদ্ধ করছে নতুন সরকারের কর্মকাণ্ড।
রাজধানীতে পরিবহনে দৈনিক ৫ কোটি টাকার চাঁদাবাজি
পরিবহন খাতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে শ্রমিকদের নানা ফান্ডের নামে চাঁদাবাজি যেন এ সেক্টরের নিয়তি। নিয়মিত বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায় হলেও তার সুফল পায় না শ্রমিকরা কোনোকালেই। পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের কল্যাণের কথা বলে তোলা এ অর্থের স্বচ্ছ হিসাব নেই। একটি পুরো অংশ সংগঠনের দলীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়।
নিয়মিত কল্যাণ তহবিলের চাঁদার পাশাপাশি নানা খাতে অঘোষিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে চাঁদার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আইনভঙ্গের পাশাপাশি ঘটছে অপরাধ কার্যক্রম ও রক্তক্ষয়ী সহিংসতাও। মহাসড়কে চাঁদাবাজি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। মন্ত্রী সেদিন বলেন, মালিক ও শ্রমিক সমিতি সমঝোতার ভিত্তিতে অর্থ তুলে বলে তাকে তিনি চাঁদাবাজি মনে করেন না। জোরপূর্বক অর্থ আদায় হলে তাকে চাঁদাবাজি বলা যায়। এ নিয়ে সামাজিকমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহল থেকে মন্ত্রীর এ মন্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে।
পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, চাঁদার নির্ধারিত অঙ্কের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। সময়মতো চাঁদার অর্থ পরিশোধ না করলে গাড়ি আটকে রাখাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হয়। বাস-ট্রাকের পাশাপাশি সিএনজি, অটো এবং টেম্পুসহ অন্যান্য পরিবহনও এসব চাঁদাবাজির শিকার।
যেভাবে চাঁদা তোলা হয়
ভুক্তভোগী পরিবহন শ্রমিকরা জানান, রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়ার সময় টার্মিনাল টোল, শ্রমিক কল্যাণ, মসজিদ বা ধর্মীয় খাত, চেইন মাস্টার, কলার বয় ও মালিক সমিতি ফিসহ বিভিন্ন নামে ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বাসপ্রতি আদায় করা হয়। নগরীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনা সার্ভিস স্ট্যান্ডগুলো থেকেও প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা ‘লাইন খরচ’ নেওয়া হয়। দূরপাল্লার যাত্রায়ও বিভিন্ন স্থানে অর্থ আদায়ের কথা জানান চালকরা। শ্রমিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি এসব চাঁদাবাজিকে প্রচ্ছন্নভাবে সহায়তা দেয় স্থানীয় থানা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানী ঢাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে ১৮ হাজার। এসব থেকে দৈনিক গড়ে চাঁদা তোলা হয় ১শ টাকা। এ হিসাবে ঢাকার সিএনজি অটোরিকশা থেকে দৈনিক মোট চাঁদা তোলা হয় প্রায় ১৮ লাখ টাকা। চট্টগ্রামে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে ১৫ হাজার। সেসব রিকশা থেকে দৈনিক গড়ে চাঁদা আদায় করা হয় ৮০ টাকা করে। এ হিসাবে সেখান থেকে দৈনিক চাঁদা আদায় হয় ১২ লাখ টাকা।
একইভাবে চাঁদা আদায় করা হয় রাজধানী ঢাকায় চলাচল করা প্রায় ১০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে। দৈনিক গড়ে এলাকাভেদে গড়ে ৩০ টাকা হতে ৪০ টাকা করে চাঁদা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ এ খাত থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। পাশাপাশি রাজধানীর বাইরে দেশজুড়ে চলাচল করে আরও প্রায় ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা। এসব অটোরিকশা থেকে গড়ে ৪০ টাকা হতে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি চাঁদা আদায় করা হয় ট্রাক থেকে। সারা দেশে দৈনিক চলাচলকারী ট্রাকের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। দৈনিক গড়ে ৫শ টাকা করে প্রায় ২০ কোটি টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া টেম্পো, লেগুনাসহ এই শ্রেণির যানবাহন রয়েছে ৮ হাজারের বেশি। এসব পরিবহন থেকে দৈনিক গড়ে ৩শ’ হতে ৫শ’ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। অর্থাৎ সব খাত মিলিয়ে প্রতিদিন পরিবহন সেক্টর থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো কোটি কোটি টাকা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবদুর রহিম বখশ দুদু বলেন, ‘মালিকরা কল্যাণ তহবিলের নামে যে টাকা তোলেন, তা বাস্তবে শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যবহার হয় না। যেটুকু দেওয়া হয়, তা খুব সীমিত এবং মূলত মালিকদের সুবিধার জন্য। চাঁদার টাকা মূলত মালিকদের আত্মীয়-স্বজন বা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে চলে যায়। আমরা জানি, শ্রমিক মারা গেলে বা অসুস্থ হলে যে অর্থ দেওয়া হয়, তার অঙ্কও সীমিত। এছাড়া ঢাকার বাইরে সাধারণত সেই সুবিধা পাওয়া যায় না। তাই কল্যাণের নামে তোলা অর্থ শ্রমিকদের কাজে আসে না।’ তিনি আরও বলেন, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি, অনেক রুটেই আগের মতোই চলছে।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, ‘মহাসড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না। কোথাও এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছাই মূল সমাধান। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা ও দৃশ্যমান শাস্তি, টার্মিনালে সরকারি নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’
পরিবহন খাতের কারিগরি দিক এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক। এ খাতে চাঁদাবাজি বন্ধে সমাধান কী হতে পারে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি নতুন কোনো সমস্যা নয়, এটি দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল এবং এখনো আছে। এটি মূলত রাজনৈতিক আশ্রয় ও প্রশাসনের চুপচাপ সমর্থনের কারণে গড়ে উঠেছে। এ সমস্যার সমাধান সম্ভব, তবে তা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে সরকার ও উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। চাঁদাবাজি নির্মূল করা গেলে পরিবহনব্যবস্থা অনেক পরিচ্ছন্ন ও নিয়ন্ত্রিত হবে।’
ফুটপাতে চাঁদাবাজি অব্যাহত
জানা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপগুলো রাজনৈতিক পরিচয়ের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছে। যাদের পেছনে বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপির বিভিন্ন নেতাদের এবং পলাতক বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম শোনা যাচ্ছে। এর মাঝে নিউমার্কেট এলাকা নিয়ন্ত্রণে শীর্ষ সন্ত্রাসী বিএনপিপন্থী ইমন এবং তার রাজনৈতিক গুরুর নাম শোনা যায়। আজিমপুর, ইডেন কলেজ, নীলক্ষেত, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, সায়েন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবনসহ আশপাশের এলাকার ফুটপাতের প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার দোকানের নিয়ন্ত্রণ এখন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন গ্রুপের হাতে। আগে এসব এলাকায় ১৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম ইবু, নুর ইসলাম, সাত্তার মোল্লা, মনির, সৈয়দুর চৈয়্যা, কালা সিরাজ চাঁদা ওঠানোর দায়িত্বে ছিল। অভিযোগ রয়েছে সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট ও এলিফ্যান্ট রোডের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন নিউমার্কেট থানা যুবদলের এক নেতা। এছাড়া কফি হাউসের গলি ও বাটা সিগন্যাল এলাকাও তার নিয়ন্ত্রণে। নিউমার্কেট থানার আরেক যুবদল নেতা সায়েন্সল্যাব ও এলিফ্যান্ট রোড এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন।
নগরীর গোলাপশাহ মাজারের সামনে থেকে ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত লাইনম্যান ছিলেন যুবলীগের হান্নান। এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আরেক নেতা। বঙ্গবাজার থেকে সিটি প্লাজা হয়ে গোলাপশাহ মাজার পর্যন্ত তাঁর কবজায়।
আর বর্তমানে ফার্মগেট এলাকার সিংহভাগ চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন বিএনপিপন্থী সুইডেন আসলামের গ্রুপ। মতিঝিল ব্যাংকপাড়ার ফুটপাত শীর্ষ সন্ত্রাসী নাসির উদ্দিন ওরফে ফেন্সি নাসিরের কবজায়। আর তাকে রাজনৈতিক প্রশ্রয় দিচ্ছেন ব্রাদার্স ক্লাব সংশ্লিষ্ট বিএনপির রাজনৈতিক নেতা। রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় হকার বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা তোলা হয়। এখানেও অভিযোগ স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
সদরঘাট থেকে রায়সাহেববাজার মোড় আর ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে সোহরাওয়ার্দী কলেজ পর্যন্ত সবজি, ফার্স্টফুড, জামাকাপড়, জুতাসহ নিত্যপণ্যের প্রায় তিন হাজার দোকান আছে। এসব দোকান থেকে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা ওঠে। লাইনম্যান ফিরোজ আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়ে থাকলেও গণঅভ্যুত্থানের পর এখন স্থানীয় বিএনপি ও কলেজ ছাত্রদল নেতাদের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করেন।
বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি এম এ কাশেম এ প্রসঙ্গে জানান, ‘ফুটপাত মানেই টাকার খেলা। যেখানেই হকার, সেখানেই আছে লাইনম্যান-চাঁদাবাজ। আর লাইনম্যানদের অধিকাংশই চাঁদাবাজ আর পুলিশের সোর্স। গণঅভ্যুত্থানের পরও এই ধারা পাল্টায়নি। লাইনম্যান বেশিরভাগ জায়গায়ই আগের জনই আছেন, শুধু রাজনৈতিক শক্তির বদল হয়েছে।’
বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাসিম কবির জানান, ‘অভ্যুত্থানের পরও ফুটপাতে যে যার মতো করে নতুন দোকান বসাচ্ছে। আগের চেয়েও দোকানের সংখ্যা বেড়েছে। আর এতে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছে কয়েকটি পক্ষ।
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসা গুটিয়ে নেব : ডিসিসিআই
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসা পরিচালনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি এমন মন্তব্য করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) জানিয়েছে, চাঁদাবাজি বন্ধ করা না গেলে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। নবগঠিত সরকারের কাছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, রাজস্বব্যবস্থার সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চাঁদাবাজি ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত উল্টো বেড়েছে। চাঁদাবাজিকে শক্ত হাতে দমন করা না গেলে কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে না। প্রয়োজনে চাঁদাবাজদের শনাক্ত করতে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে ব্যবসায়ী সমাজ। তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশ, সিটি করপোরেশন, আয়কর দপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় আনুষ্ঠানিক অর্থ ও চাঁদা দিতে হয়।
চাঁদাবাজি নিয়ে জামায়াত আমীরের ফেসবুক স্ট্যাটাস
তাহলে কি নবগঠিত সরকারের সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর মাধ্যমে চাঁদাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলো এমন শিরোনামে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান তার ফেসবুক পেজে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি লেখেন, তাহলে কীভাবে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে? ব্যাকরণ কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সূচনাতেই বাংলাদেশ কোনদিকে যাচ্ছে? প্রিয় জনগণ, চাঁদার কালো থাবা থেকে বাঁচতে হলে লড়তে হবে। এ লড়াইয়ে আপনাদের সঙ্গে আমরা আছি, ইনশাআল্লাহ।