গণভোটের রায়ে অনীহা : সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নিল না বিএনপি

সংস্কার প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা


১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২০

॥ ফারাহ মাসুম ॥
সংবিধান ও রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত সংসদভিত্তিক ‘সংস্কার পরিষদ’-এ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অনীহা দেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এনে দিয়েছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর যে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংস্কার কমিশনগুলো কাজ শুরু করেছিল, তার বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সংসদীয় শক্তিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল একটি মৌলিক শর্ত। সেখানে বিএনপির এ অবস্থান প্রশ্ন তুলছে- সংস্কার কি ঐকমত্যের পথে এগোবে, নাকি রাজনৈতিক কৌশলের দ্বন্দ্বে থমকে যাবে?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি কেবল একটি শপথ বা আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ক্ষমতার কাঠামো, বৈধতা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সমীকরণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কারণ ‘সংস্কার পরিষদ’ কার্যত সংসদের ভেতরে একটি বিশেষ ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সাংবিধানিক সংশোধন, নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিবর্তন, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মতো মৌলিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে এখানে কারা থাকবে, কারা থাকবে না- সেটিই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার চরিত্র নির্ধারণ করতে পারে।
শপথ নিয়ে আপত্তির রাজনৈতিক যুক্তি
বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট- সংস্কারের নামে এমন কোনো প্রক্রিয়ায় তারা অংশ নেবে না, যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব বা রাজনৈতিক সমতার প্রশ্নে আপস করতে হয়। দলটির নেতারা বলছেন, সংস্কার পরিষদে শপথ নেওয়া মানে এমন একটি কাঠামোকে বৈধতা দেওয়া, যা পুরোপুরি গণভোট বা সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তাদের যুক্তি তিনটি স্তরে দাঁড়ানো : প্রথমত, সংসদই সর্বোচ্চ আইনপ্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। আলাদা ‘পরিষদ’ তৈরি করলে সংসদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়। দ্বিতীয়ত, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গঠিত কোনো প্রক্রিয়া ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তৃতীয়ত, সংস্কার প্রক্রিয়া রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ না হলে তা নির্বাচনী মাঠে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করবে।
বিএনপির কৌশলবিদদের ভাষায়, ‘সংস্কার হোক, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর সমঅধিকার ও গণম্যান্ডেট ছাড়া নয়।’
সংসদীয় বাস্তবতা ও কাঠামোগত গুরুত্ব
সংস্কার পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা জাতীয় সংসদ ভবনে, যা কেবল একটি ভবন নয়, রাষ্ট্রীয় বৈধতার প্রতীক। এ স্থানেই অতীতে সংবিধান সংশোধন, রাষ্ট্রপতি শাসন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারÑ সব বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে এখান থেকে গৃহীত যেকোনো সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
সংস্কার পরিষদের প্রস্তাবিত ক্ষমতা বিস্তৃত : সংবিধানের নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ সংশোধনের সুপারিশ; নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন; বিচার ও প্রশাসনিক সংস্কার; রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও অর্থায়ন কাঠামোয় পরিবর্তন; গণভোটের বিধান সক্রিয়/নিষ্ক্রিয় করার প্রস্তাব। এমন একটি প্ল্যাটফর্মে প্রধান রাজনৈতিক শক্তির অনুপস্থিতি প্রক্রিয়াটির গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
অনীহার তাৎক্ষণিক প্রভাব
বিএনপির অংশগ্রহণ না থাকলে তিনটি সরাসরি প্রভাব দেখা দিতে পারে।
১. ঐকমত্যের সংকট : সংস্কারকে টেকসই করতে হলে সর্বদলীয় ঐকমত্য জরুরি। বড় দল অনুপস্থিত থাকলে তা ‘একতরফা সংস্কার’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। আর প্রধান সংসদীয় দল হিসেবে বিএনপি না থাকা মানে এ সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগ কার্যকরভাবে শুরুই হবে না।
২. বৈধতার প্রশ্ন : বিএনপি একতরফাভাবে সংস্কারের নামে কিছু করতে চাইলে ভবিষ্যৎ সরকার ক্ষমতায় এসে বলতে পারে- ‘এই সংস্কার আমাদের অংশগ্রহণ ছাড়া হয়েছে, তাই পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।’ ফলে সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
৩. রাস্তামুখী রাজনীতি : সংসদের ভেতরের আলোচনা ব্যর্থ হলে আন্দোলন ও চাপ-রাজনীতি বাড়বে। এতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
কৌশল না নীতিগত অবস্থান?
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির অবস্থান পুরোপুরি নীতিগত নয়; এতে কৌশলগত হিসাবও আছে। অন্তর্বর্তী সরকার সুচিত সংস্কার সফল হলে নতুন রাজনৈতিক শক্তি জনসমর্থন পেতে পারে, যা বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার ব্যর্থ হলে তারা বলতে পারবে, ‘আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম।’ অর্থাৎ অংশ না নিয়ে দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে রাজনৈতিক দায় এড়ানোর সুযোগও তৈরি হয়। বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে সেই কৌশল গ্রহণ করেছে, যা তাদের আন্দোলনভিত্তিক রাজনীতির ধারার সঙ্গে সবসময় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সংস্কারের গতিপথে সম্ভাব্য দৃশ্যপট
পরিস্থিতি সামনে তিনভাবে এগোতে পারে।
দৃশ্যপট-১: বিএনপি শেষ পর্যন্ত সংস্কার পরিষদে যোগ দেয়: রাজনৈতিক চাপে পড়লে সমঝোতার মাধ্যমে এটি করতে পারে। এজন্য প্রয়োজনে সংসদে একটি প্রস্তাব পাস করে নিতে পারে। এতে প্রক্রিয়ার বৈধতা বাড়বে।
দৃশ্যপট-২: আংশিক অংশগ্রহণ- শপথ না নিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এতে দায়ও কম, প্রভাবও থাকে।
দৃশ্যপট-৩: সংস্কার পরিষদেও বিষয়টি ডিপ ফ্রিজে পাঠানো। এতে পরিষদ অকার্যকর হবে, সংস্কার বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হবে, ভবিষ্যতে পাল্টে দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
জনমতের প্রতিক্রিয়া
শহরাঞ্চলের শিক্ষিত ভোটারদের বড় অংশ দ্রুত সংস্কার চায়- দুর্নীতি কমানো, নির্বাচন স্বচ্ছ করা, বিচারব্যবস্থা স্বাধীন করা। তারা দলীয় কৌশলের চেয়ে ফলাফলকে গুরুত্ব দেয়। ফলে বিএনপির এই অনীহা যদি সংস্কার বিলম্বিত করে, জনমতের চাপ তাদের বিপরীতেও যেতে পারে। গ্রামাঞ্চলে আবার দলীয় আনুগত্য বেশি, সেখানে বিষয়টি ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অনেক দেশে বড় সাংবিধানিক পরিবর্তনের সময় বিরোধী দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, নেপাল, তিউনিশিয়ার উদাহরণ দেখায়, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা দেয়। একতরফা সংস্কার পরে বাতিল বা পরিবর্তিত হয়েছে, লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশে তার নজির আছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তাই অংশগ্রহণই বেশি কার্যকর কৌশল হতে পারত- এমন মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিএনপি সেটি চাইছে কিনা তাতে সংশয় রয়েছে।
বিএনপি : ‘পার্লামেন্টারি সার্বভৌমত্ব’ বক্তব্যের রাজনৈতিক বার্তা কী?
বিএনপির এ সিদ্ধান্ত দুটি বার্তা দিচ্ছে- প্রথমত, তারা নিজেদের সংসদীয় সার্বভৌমত্বের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরতে চায়। দ্বিতীয়ত, বিরোধী পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়, যেন তাদের শর্ত মানা হয়। অর্থাৎ এটি একই সঙ্গে নীতিগত অবস্থান ও রাজনৈতিক দরকষাকষি।
বিএনপি সাধারণত গণভোটের বিধান সীমিত বা বাতিল রাখার পক্ষে। বড় সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত সংসদের মাধ্যমেই নেওয়া উচিত- এটাই তাদের মূল যুক্তি। তারা চায় সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সিদ্ধান্ত নেবে; তারা উল্লেখ করে, গণভোটে আবেগ/পপুলিজম প্রভাব ফেলতে পারে; সামরিক বা অগণতান্ত্রিক শক্তি গণভোটকে ‘ম্যানিপুলেট’ করতে পারে; রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি থাকে।
কৌশলগতভাবে বিএনপি বিশ্বাস করে: সংসদে শক্তিশালী উপস্থিতি থাকলে নীতিনির্ধারণে নিয়ন্ত্রণ থাকবে; রাস্তাভিত্তিক আন্দোলনের বদলে প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি শক্তিশালী হবে।
অন্যদিকে জামায়াতের অবস্থান ‘জনমতের সরাসরি অনুমোদন’ অগ্রাধিকার দেয়া। জামায়াত গণভোটের বিধান সক্রিয় রাখার পক্ষে। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বা সাংবিধানিক প্রশ্নে সরাসরি জনগণের মতামত নেওয়ার দাবি করে দলটি।
এক্ষেত্রে জামায়াতের যুক্তি হলো, সংবিধান অনুসারে ‘জনগণই সার্বভৌম’- সরাসরি ভোটে বৈধতা বেশি; নৈতিক/ধর্মীয়/সংবিধান সংশোধনের মতো বড় বিষয়ে গণভোট প্রয়োজন; সংসদ একচেটিয়া হলে দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য পায়।
এক্ষেত্রে জামায়াতের কৌশলগত হিসাব হলো, মাঠভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী করা, যাতে গণভোটে জনমত সংগঠিত করা সহজ হয় এবং সংসদে আসন কম হলেও জাতীয় ইস্যুতে প্রভাব বিস্তার সম্ভব হয়।
এক্ষেত্রে বিপরীত অবস্থানের রাজনৈতিক প্রভাব নানামুখী হতে পারে।
১. জোট রাজনীতিতে টানাপড়েন : বিএনপি-জামায়াত ঐতিহাসিকভাবে নির্বাচনী মিত্র হলেও গণভোট বাস্তবায়ন প্রশ্নে নীতিগত বিভাজন সংসদীয় ঐকমত্যের রাজনীতিকে দুর্বল করতে পারে।
২. সংবিধান সংস্কারে দ্বন্দ্ব : ‘জুলাই সনদ’ বা গণভোট বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে বিএনপি আপত্তিতে ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কার কঠিন হবে।
৩. ক্ষমতার ভারসাম্য বদল হতে পারে : গণভোট বাস্তবায়ন প্রশ্নে সংসদের বিরোধী জোটের সাথে টানাপড়েনে বিএনপি রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করে নতুন ভারসাম্যের বিষয়ে ভাবতে পারে।
৪. আন্দোলন বনাম প্রতিষ্ঠান : বিএনপির কারো কারো ধারণা গণভোট বাস্তবায়ন হলে আন্দোলনমুখী রাজনীতি বাড়বে তা না থাকলে সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতি জোরদার হবে।
৫. রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বনাম অংশগ্রহণ : বিএনপি স্থিতিশীলতা চায়; আর জামায়াত অংশগ্রহণমূলক বৈধতা চায়। এই দুই দর্শনের সংঘাত ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণ করবে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুসারে গণভোটের বিধান বাস্তবায়ন আসলে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করছে: সার্বভৌম ক্ষমতার কেন্দ্র কোথায়- সংসদ না জনগণের সরাসরি ভোট? দ্বিতীয়ত, বড় দল বনাম সংগঠিত সামাজিক শক্তি- কার প্রভাব বেশি হবে? তৃতীয়ত, বিপ্লব-উত্তর বাংলাদেশ কি ‘প্রতিনিধিত্বমূলক’ হবে নাকি ‘অংশগ্রহণমূলক’ গণতন্ত্রে যাবে?
ভবিষ্যতের পথ
বাস্তবতা হলো, সংস্কার ছাড়া নতুন সংসদ বিশ্বাসযোগ্যতা পাবে না, আর প্রধান বিরোধীদল ছাড়া একতরফা সংস্কার বিশ্বাসযোগ্য হবে না। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য না এলে সংকট বাড়বে।
সম্ভবত এর সমাধান হতে পারে: সর্বদলীয় আলোচনায় পরিষদের কাঠামো পুনর্বিন্যাস; সিদ্ধান্তে দুই-তৃতীয়াংশ বা সর্বসম্মতি বাধ্যতামূলক করা; গণভোট বা জনশুনানির মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং শপথের ভাষা রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ করা।
সংস্কার পরিষদে শপথ নেওয়া বা না নেওয়া- এটি আপাতদৃষ্টিতে একটি প্রক্রিয়াগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশ। এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলে বিএনপি সংস্কারের দিকনির্দেশনায় সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারত; প্রক্রিয়াটি বর্জন করলে তারা চাপ-রাজনীতির পথ বেছে নিতে পারে।
এ মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই রাজনীতি কি পারস্পরিক সন্দেহে আটকে থাকবে, নাকি যৌথভাবে একটি টেকসই রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার পথে পক্ষগুলো অগ্রসর হবে? বাংলাদেশের সংস্কারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে এ সিদ্ধান্তের ওপর। কারণ গণতন্ত্রে শেষ পর্যন্ত বৈধতা আসে অংশগ্রহণ থেকেই- সংঘাত বা অনুপস্থিতি থেকে নয়।
গণভোটের বিধান কার্যকর করা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (জামায়াত)-এর বিপরীত অবস্থান শুধু একটি সাংবিধানিক বিতর্ক নয়; এটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো, সংসদীয় কর্তৃত্ব, ইসলামপন্থী রাজনীতির ভূমিকা এবং আন্দোলন-উত্তর ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্নকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।