বিডিআর ম্যাসাকার

আওয়ামী লীগ ও জড়িতদের বিচার শুরু করা হোক

প্রিন্ট ভার্সন
১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৫৯

শহীদ সেনা সদস্যদের কফিন এবং কফিন কঁধে কান্নারত একজন সেনাকর্মকর্তা ফাইল ছবি

॥ জামশেদ মেহদী॥
বিডিআর ম্যাসাকার বা বিডিআর গণহত্যা সংঘটিত হয় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি। তার পর থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের ওপর অনেক লেখালেখি এবং অনেক টকশো হয়। শেখ হাসিনার সেই ভয়াবহ স্বৈরাচার ও কর্তৃত্ববাদী আমলেও সাহস করে অনেকে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে তৎকালীন আওয়ামী সরকার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন উ আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) তারেক সিদ্দিকী, শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইপো সাবেক এমপি এবং ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী নেতা এবং শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও এমপি শেখ সেলিম, আওয়ামী নেতা মির্জা আযম, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম শেখ সাহারা খাতুন প্রমুখ জড়িত ছিলেন বলে সেই সময় অনেক লেখালেখি হয়েছিলো। সেদিন মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার কণ্ঠরোধ করা পরিবেশের মধ্যেও অভিযোগ উঠেছিল যে, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে সরাসরি জড়িত রয়েছে ভারত। ১৬ বছর আগে সংঘটিত এ গণহত্যার ওপর দুটি তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়েছিল। দুটি কমিটিই তাদের রিপোর্ট দাখিল করেছিল। একটি তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। কিন্তু এসব রিপোর্ট বিগত ১৬ বছরেও দিনের আলোর মুখ দেখেনি।
উল্টো যারা বিডিআর ম্যাসাকারের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছিলেন, তাদের অনেকের চাকরি খাওয়া হয়েছে। অনেককে গ্রেফতার করে বহুদিন কারাগারে রাখা হয়েছে। অসংখ্য নিরীহ বিডিআর জওয়ানকে বিচারের নামে হত্যা করা হয়েছে। তারপর থেকে ১৫ বছর শেখ হাসিনা এক নাগাড়ে ক্ষমতায় ছিলেন। এ ১৫ বছর বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কেঁদেছে।
অবশেষে জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনা সদলবলে ভারতে পালিয়ে গেলে জুলাই ম্যাসাকারের নেপথ্য ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটিত হবে বলে সর্বমহলে বিপুল আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। অবশেষে অন্তর্বর্তী সরকার এ ভয়াবহ গণহত্যার নেপথ্য কুচক্রীদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে। এ কমিশনের প্রধান করা হয় মেজর জেনারেল (অব.) আ.ল.ম ফজলুর রহমানকে। জেনারেল ফজলুর রহমান একসময় বিডিআরের প্রধান ছিলেন। ইনিই সেই ফজলুর রহমান, যিনি পদুয়া এবং রৌমারী বড়াইবাড়িতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) হামলা করলে পাল্টা আঘাত করেন এবং ভারতীয় হানাদারদের পিছু হটতে বাধ্য করেন। শুধু তাই নয়, বিডিআরের পাল্টা আঘাতে বিএসএফের বেশ কয়েকজন হানাদার নিহত হয়।
জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমানের এ অসীম সাহসিকতার জন্য যেখানে পুরস্কৃত হওয়ার কথা, সেখানে এ ঘটনার কয়েকদিন পর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমানকে বিডিআর থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তার কয়েকদিন পর তাকে অবসর দেওয়া হয়। এহেন দুঃসাহসী ফজলুর রহমানকে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ওপর গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রধান করা হলে জনগণের মধ্যে বিপুল আশাবাদ সৃষ্টি হয়। জনগণ মনে করেন যে, এবার এ ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের পেছনের ষড়যন্ত্র বেরিয়ে আসবে।
জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান জনগণের বিশ্বাস এবং আশাবাদের মূল্য দিয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঐ তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছিল। গত ৩০ নভেম্বর ফজলুর রহমানের তদন্ত কমিশন তাদের রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টার নিকট দাখিল করেছে। ৩৬০ পৃষ্ঠার এ বিশাল রিপোর্ট দাখিল করতে তাদের সময় লেগেছে ১১ মাস। রিপোর্ট দাখিল করার পর তার কমিশনের সমস্ত সদস্যকে নিয়ে চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন যে, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা এত বড় কাজ ছিল যে, ১১ মাস তো দূরের কথা, ২২ মাসেও এটি সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু তিনি এবং কমিশনের প্রতিটি সদস্য এ কাজকে তাদের ইমানের একটি অঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে এ দুরূহ কাজটি তারা সম্পন্ন করেছেন।
৩৬০ পৃষ্ঠার এ তদন্ত রিপোর্ট একাধিক সংবাদপত্রের হাতে পৌঁছেছে। কোনো কোনো সংবাদপত্র রিপোর্টটির অংশবিশেষ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশও করেছেন। ঐসব রিপোর্টে উল্লেখযোগ্য অংশ আমি নিচে তুলে ধরছি।
১. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির বলেন, আমরা সাড়ে ১২টা থেকে দেখলাম ভারতীয় দুটি চ্যানেলে প্রথম খবর দেয়, ডিজি তার স্ত্রী ও কর্নেল মুজিব সেক্টর কমান্ডার (ঢাকা) তাদের হত্যা করা হয়েছে। ২টার দিকে দেখলাম হাজারীবাগের সুয়ারেজ ড্রেন দিয়ে দুটি লাশÑ কর্নেল এনায়েত ও কর্নেল মুজিবের লাশ বেরিয়ে আসলো। ৩টার সময় দেখলাম স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কিলারের সঙ্গে মিটিং করছেন যমুনাতে। ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহ শেষ হলো। ধীরে ধীরে আমরা সংখ্যাটা জানতে পারলাম। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস ৫৭ অফিসারকে পরিকল্পিতভাবে পিলখানায় নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সর্বমোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
২. কমান্ডো এনএসজিসহ ২৪ ভারতীয় অংশ নিয়েছিল। শেখ সেলিম কিলিং পরিকল্পনায় ছিলেন। তাপস কিলিং মিশনের মূল সমন্বয়কারী কিলারদের নিরাপদ প্রস্থানের দায়িত্বে ছিলেন। কিলিং পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত ছিলেন ৪৪ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের কর্নেল শামস। হাসিনা মনিটরিং করেন। মিশন ফেল করলে হাসিনাকে উদ্ধারে ত্রিপুরার বিমানঘাঁটি এবং কলকাতায় কমান্ডো প্লাটুন প্রস্তুত রেখেছিলো ভারত।
৩. তদন্ত কমিশন বলেছে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে দলগতভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ। আর মূল সমন্বয়কারী ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
৪. ক্যাপ্টেন তানভীর হায়দার নূরের স্ত্রী তাসনুভা মাহা ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর ক্যাপ্টেন তানভীরের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার সময় ক্যাপ্টেন তানভীর তাকে পিলখানার ভেতরে ভারতীয় সংস্থা  national security guard (NSG) -এর নাম বলেন।
বেগম তাসনুভার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘২৫ তারিখ তানভীরের সঙ্গে যখন আমার শেষ কথা হচ্ছে, তখন আমি ছিলাম খাটের নিচে। বাচ্চাদের নিয়ে তখন আমি লুকিয়ে ছিলাম, সেখান থেকে আমি আবার ওয়ারড্রবের মধ্যে লুকাই। কারণ বুঝতে পারছিলাম পাশেই কোথাও বিডিআর সদস্যরা ঘোরাফেরা করছেন। তানভীরের সঙ্গে শেষ ফোনালাপে তানভীর আমাকে বলেন, লীগের নেতারা অন্য পোশাকে এসেছেন। ওর মুখে আমি এনএসজি নিয়ে কিছু কথা শুনেছি। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না যে এনএসজি কী ও আমাকে কী বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। আমি দুবার তাকে জিজ্ঞেস করেছি, এনএসজি কী? তখন একপর্যায়ে তিনি বেশ বিরক্ত হয়ে বলেন, Indians! Indians.
৫. তদন্ত কমিশনে প্রদত্ত সাক্ষ্যে ১৭ নম্বর সাক্ষী মেজর জেনারেল ইমরুল কায়েস বলেন, শুরুতেই ব্যবস্থা নিলে ফল ভিন্ন হতে পারত। তিনি ডিজি লে. জে. মোল্লা আকবরকে কয়েকবার বলেছিলেন তাকে ট্যাংকসহ এগিয়ে দিতে। কিন্তু বার বার ডিজি ডিজিএফআই তাকে থামিয়েছেন। মেজর জেনারেল ইমরুল কায়েস বিশ্বাস করেন যে, ট্যাংক ব্যবহার না করা একটি মারাত্মক ভুল ছিল।
৬. শেখ ফজলে নূর তাপস ফোনে নির্দেশ দিয়েছিলেন একটি ছেলেকে মিছিল সংগঠিত করে বিডিআরে প্রবেশ করাতে। ফোন কলটি ডিজিএফআই রেকর্ড করেছিল। পরবর্তীতে হাজারীবাগের একটি বাসা থেকে ছেলেটিকে ধরা হয়।
এ সাক্ষী কমিশনকে আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছেলেটি স্বীকার করে যে তাপসের নির্দেশেই সে মিছিল নিয়ে ভেতরে ঢুকেছিল। প্রথমে তার সঙ্গে বেশি লোক না থাকলেও বের হওয়ার সময় অনেক লোক ছিল। জুয়েল জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছিল যে, মিছিলে যুবলীগের লোকজন অংশ নিয়েছিল।
৭. তদানীন্তন সরকারপ্রধানের অবৈধ আদেশ মোতাবেক তার দপ্তরে বাহিনী প্রধানগণ সারাদিন বসে বসে সময় ক্ষেপণ করে কর্তব্য পালন না করার জন্য কেন আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না?
তদানীন্তন সেনাপ্রধানের নিকট অধীনস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ বিডিআরের এ হত্যাকাণ্ড প্রতিহত করার অনুমতি চাওয়া সত্ত্বেও সেনাপ্রধান তাদেরকে অনুমতি না দেওয়ার জন্য কেন তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না?
সেনাবাহিনীর যে সকল চাকরিরত কর্মকর্তা তদানীন্তন সরকারপ্রধানের কাছে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিল, তাদেরকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেনাপ্রধানের তরফ থেকে তার কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি। এজন্য তদানীন্তন সেনাপ্রধানকে আইনের সম্মুখীন করতে হবে।
৩৬০ পৃষ্ঠার এই স্বাধীন তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট ওপরে প্রদত্ত ৮টি প্রমাণের মতো ছত্রে ছত্রে অসংখ্য প্রমানে ভরা। যাদের এ বিশাল রিপোর্টটি সম্পূর্ণ পড়ার সুযোগ হয়েছে তাদের কাছে বিন্দুমাত্র সন্দেহের আর কোনো অবকাশ নাই যে, বিডিআর ম্যাসাকার ছিলো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ হত্যাকাণ্ড ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তাৎক্ষণিক উত্তেজনাপ্রসূত কোনো ঘটনা নয়। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই এ পরিকল্পনা রচনা করা হচ্ছিলো। এ ধরনের একটি ম্যাসাকার ঘটাবার জন্যই ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ইলেকশনে আওয়ামী লীগকে ভারত ক্ষমতায় নিয়ে আসে। ভারতের একমাত্র চাহিদা ছিল, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ধ্বংস করা। বিনিময়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা। এমন একটি পুতুল সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে পারলে বাংলাদেশকে তারা শুধুমাত্র একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রই বানাবে না, বরং এ দেশকে তারা তাদের উপনিবেশে পরিণত করবে। শেখ হাসিনার পরবর্তী ১৫ বছরের শাসন ওপরে বর্ণিত বক্তব্যেরই জ¦লন্ত প্রমাণ। স্পষ্টত বিডিআর ম্যাসাকারে জড়িত হয়ে যাদের নাম প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা সকলে চরম রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা High treason করেছেন। দল হিসেবে আওয়ামী লীগও এ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে অপরাধী।
সুতরাং আর কালবিলম্ব না করে এ রিপোর্টের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করা হোক। এ সরকার আর সর্বোচ্চ ৩ মাস ক্ষমতায় আছে। ৩ মাস পর ইলেকশন হলে যে সিভিলিয়ান সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা দেশি-বিদেশি শক্তির প্রবল চাপে মামলা করতে পারবে কিনা, সেটা নিয়ে জনমনে অনেক সন্দেহ রয়েছে। একটি সেনাবাহিনীর ৫৭ জন চৌকস অফিসার নৃশংসভাবে নিহত হলেন, অথচ দেশি-বিদেশি কোনো ঘাতকের বিচার হলো না। এটাই তো প্রমাণ করে যে, যারা ১৫ বছর এটিকে কার্পেটের নিচে চাপা দিয়ে রেখেছিল, তারা আগামী দিনেও সিভিলিয়ান সরকারের সময় আবার চাপা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে। হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে ড. ইউনূস সরকার প্রমাণ করেছেন যে, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন। কিন্তু সেই ধরনের দুঃসাহসী ও নিরপেক্ষ বিচারের জন্য চাই একটি নিরপেক্ষ ও দুঃসাহসী সরকার।
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরবর্তী সিভিলিয়ান সরকারকে সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে প্রথমে তাদের প্রয়োজন হবে প্রবল ইচ্ছাশক্তি। আর দ্বিতীয় হলো, চাপ সহ্য করার সাহস।
তাই জনগণ চান, শুরুটা ড. ইউনূস সরকার করে যান। পরেরটা পরে দেখা যাবে। Email:[email protected]