পাক উপপ্রধানমন্ত্রীর সফর ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক দৃঢ় করবে কি?
২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৩:০২
॥ জামশেদ মেহদী ॥
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দুদিনের সফর সমাপ্ত করে ইসলামাবাদ ফিরে গেছেন। দীর্ঘ ১৩ বছর পর বাংলাদেশে পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রথম সফরে এসেছিলেন। ইসহাক দারের বাংলাদেশে আগমনের ২ দিন পূর্বে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান ৪ দিনের সফরে ঢাকা এসেছিলেন। ইসহাক দার শুধুমাত্র সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীই নন, তিনি উপপ্রধানমন্ত্রীও বটে। তার সফরের কারণে দুই দেশের সম্পর্কের অনেক উন্নতি ঘটবে এটা একশ্রেণির রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেটি হয়নি। অদূর ভবিষ্যতে এ সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে অথবা পাক-বাংলা সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হবে- এমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
ইসহাক দারের এ সফরে বাংলাদেশের চেয়েও পাকিস্তানের তরফ থেকে অনেক বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে এ সফরের আগে এ সম্পর্কে বলে, Deputy Prime Minister and Foreign Minister Senator Mohammad Ishaq Dar (50), embarks upon a historic visit to Bangladesh. In Dhaka he will hold important meetings with Bangladeshi leaders. The visit is a significant milestone in Pakistan-Bangladesh relations as a Pakistani Foreign Minister is visiting Bangladesh after a gap of around 13 years. অনুবাদ : পাকিস্তানের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশে এক ঐতিহাসিক সফরে যাচ্ছেন। ঢাকায় তিনি বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন। পাক-বাংলার ইতিহাসে এ সফর একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। কারণ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৩ বছর পর বাংলাদেশে যাচ্ছেন।
পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরের যে নিট ফলাফল অর্জিত হয়েছে, সেটি হলো- বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীরা বিনা ভিসায় পাকিস্তান সফর করতে পারবেন। অনুরূপভাবে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীরা বিনা ভিসায় বাংলাদেশ সফর করতে পারবেন। এছাড়া যেসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো হলো- দুই দেশের বাণিজ্য বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, সংস্কৃতি বিনিময়, দুই দেশের মধ্যে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, দুই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সঙ্গে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইপিআরআই) মধ্যে সহযোগিতা।
এ সফরকালে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর ২টি বৈঠক রাজনৈতিক সমীক্ষকদের নজর এড়ায়নি। তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অফিসারদের সাথে বৈঠক করেছেন। কিন্তু এসবের বাইরেও তিনি বাংলাদেশের দুজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার সাথে দেখা করেছেন। এরা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। পরে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর কর্মতৎপরতা সম্পর্কে যা কিছু বলা হলো, তার বাইরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের পথে বিরাজমান অন্তরায় গণমাধ্যমে অনেক বেশি ফোকাস পেয়েছে।
বাংলাদেশে পাকিস্তান সরকারের কোনো মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কেউ এলে সাথে সাথেই তিনি বা তারা একঝাঁক প্রশ্নের সম্মুখীন হন। জিজ্ঞাসা করা হয়, ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী এদেশে যা করেছিলো, তার জন্য তারা ক্ষমা চাইবে কিনা। এর বেশ কয়েক মাস আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমানা বেলুচ বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনিও এ প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিলেন। তখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিন বলেছিলেন যে, সম্পর্ক আরো বেশি এগিয়ে নিতে গেলে পাকিস্তানকে প্রথমে ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে যেসব বিহারী আছে, তাদের ফেরত নিতে হবে। তৃতীয়ত, পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের অনেক টাকা পাওনা আছে। এসব টাকা-পয়সার লেনদেনের একটি চূড়ান্ত ব্যবস্থা করতে হবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিনের বক্তব্য সমর্থন করে এসব ইস্যুতে সরকারি অবস্থান জানান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমানা বেলুচ ফিরে যান। সেখানে অর্থাৎ ইসলামাবাদে সাংবাদিকরা তার বাংলাদেশ সফরের ফলাফল সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি সযত্নে ঐসব প্রশ্ন এড়িয়ে যান। এরপর পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। এ পরিবর্তনকে অনেকেই দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের জন্য একটি নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন। পাকিস্তান সরকারও এ সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহী।
দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ও শিপিং লাইন চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি শুধু বাণিজ্য নয়, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং পর্যটন বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে।
দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং ছাত্র বিনিময়ের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার সফরকালে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৫শত ছাত্রকে বৃত্তি দিয়ে পাকিস্তানে পড়ানো হবে। অর্থাৎ প্রতি বছর ১০০ ছাত্রকে পাকিস্তানে পড়াশোনা করার জন্য বৃত্তি দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ মূলত তৈরি পোশাক (Ready-Made Garments), গৃহস্থালি পণ্য (Home Textiles), পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, ওষুধ এবং সবজি পাকিস্তানে রপ্তানি করে। তৈরি পোশাক রপ্তানি এ বাণিজ্যের একটি বড় অংশ। পাকিস্তান বাংলাদেশের পোশাকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে প্রধানত তুলা, সুতা, সিনথেটিক ফাইবার, প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং সিমেন্ট আমদানি করে। পাকিস্তানের তুলা এবং বস্ত্রশিল্প বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য কাঁচামালের একটি বড় উৎস।
দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্য প্রায় ৮৬৫ মিলিয়ন (৮৬.৫ কোটি মার্কিন ডলার)। এর মধ্যে বাংলাদেশ পাকিস্তানে প্রায় ৬০ মিলিয়ন (৬ কোটি মার্কিন ডলার) রপ্তানি করে এবং পাকিস্তান থেকে প্রায় ৮০৫ মিলিয়ন (৮০.৫ কোটি মার্কিন ডলার) আমদানি করে। এর ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৭৪৫ মিলিয়ন (৭৪.৫ কোটি মার্কিন ডলার)।
এ বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির প্রধান কারণ হলো, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের প্রধান আমদানি পণ্য তুলা। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য প্রচুর পরিমাণে তুলার প্রয়োজন হয়, যা পাকিস্তান সরবরাহ করে। অন্যদিকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যগুলোর চাহিদা পাকিস্তানে তুলনামূলকভাবে কম।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ আছে। ওষুধ, সিরামিক, ইলেকট্রনিক পণ্য, কৃষি পণ্য এবং আইটি খাতের পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানি করে বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কমানো যেতে পারে।
বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক যতখানি উন্নতি হওয়ার কথা ছিলো, সে তুলনায় তেমন কিছুই ঘটেনি। এর প্রধান কারণটি হলো রাজনৈতিক। আর পাক-বাংলা সম্পর্ককে অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে তার পথে প্রধান বাধা হলো ভারত। ভারতের রেডিও, টেলিভিশিন, পত্রপত্রিকা এবং একশ্রেণির রাজনীতিবিদ প্রকাশ্যে বলছেন যে, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি; বিশেষ করে বিশ্বসভায় ভারতের মহাশক্তি হিসেবে উত্থানের জন্য আবশ্যকীয় প্রয়োজন হলো বাংলাদেশকে তার হাতে রাখা। ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির কর্নার স্টোন হলো তার সেভেন সিস্টার্সে শান্তি বজায় রাখা। এ ব্যাপারে তাদের উদ্বেগ হলো ২টি দেশকে নিয়ে। একটি হলো চীন এবং অপরটি হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সাথে সেভেন সিস্টার্সের একাধিক প্রদেশের অভিন্ন সীমান্ত রয়েছে। বাংলাদেশে যদি ভারতবান্ধব সরকার না থেকে বরং চীনবান্ধব সরকার থাকে, তাহলে তার সেভেন সিস্টার্সের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়।
বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক শুধুমাত্র বন্ধুত্বের নয়, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের ভাষায়, ‘দুই দেশের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো’। শেখ হাসিনা তো নিজেই বলেছেন যে, ‘ভারতকে আমরা যা দিয়েছি, তা ভারতকে চিরদিন মনে রাখতে হবে’। ভারতও সেটি মনে রেখেছে এবং এবারে অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হলে কোনো দেশ যখন শেখ হাসিনাকে গ্রহণ করতে রাজি হয়নি, তখন ভারত শুধুমাত্র শেখ হাসিনাকেই গ্রহণ করেনি, সেই সাথে লক্ষাধিক আওয়ামী নেতাকর্মীকেও আশ্রয় দিয়েছে।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার ১৫ বছরে পাকিস্তান নামটি নেওয়াও অপরাধ ছিলো। কোনো ব্যক্তি যদি পাকিস্তান সফর করে থাকেন এবং তার পাসপোর্টে যদি পাকিস্তানি ভিসার সিল-ছাপ্পর থাকে, তাহলে ভারতে প্রবেশ তার জন্য হারাম হয়ে যেত। আর শেখ হাসিনার তো পলিটিক্যাল টার্গেটই ছিলো পাকিস্তান। বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি টিটকারী মেরে বলতেন, ‘মেরে পেয়ারে পাকিস্তান’।
পক্ষান্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ভারত বাংলাদেশকে আওয়ামী লীগের মতো করদরাজ্য বানানো তো দূরের কথা, ফারাক্কা ইস্যুটি শহীদ জিয়া জাতিসংঘ পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন।
হাসিনার পলায়নের পর একটি সুযোগ এসেছিলো পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এ সরকারে একটি মহল রয়েছে, যারা পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের কথা উঠলেই কিছু বিব্রতকর প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে আসেন। এবারও তাই করা হয়েছিলো। ঐসব বিব্রতকর প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, ধর্ম যা বলে, ইসলামী শিক্ষা যা বলে, পবিত্র কুরআন যা বলে, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ যা বলে, তা হলো আমাদের পরিস্কার মন থাকা উচিত। আমরা একটি পরিবার এবং আমাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। আমাদের মধ্যে দুর্দান্ত সম্ভাবনা রয়েছে’।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘১৯৭১ সালের অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনায় তোলা হয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে দু’পক্ষ একমত হয়েছে।’
তবে বাংলাদেশের সঙ্গে ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসহাক দার বলেন, ‘অমীমাংসিত ইস্যু ১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো নিষ্পত্তি হয়েছে। ওই সময়ের দলিলটি দুই দেশের জন্য ঐতিহাসিক। এরপর ২০০০ সালের শুরুতে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি জেনারেল পারভেজ মোশাররফ বাংলাদেশে এসে প্রকাশ্যে ও খোলামনে বিষয়টির সমাধান করেছেন। তবে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের এমন বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন। তাই অবস্থা দেখেশুনে মনে হচ্ছে, পাকিস্তানের সাথে বন্ধুত্বের ট্র্যাজেক্টরি বেশি দূর এগোবে না। যেটুকু এগোবে, সেটিও আঁকাবাঁকা পথে।
তবে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন যে, ভারতীয় প্রভুত্বের নিগঢ় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে চাইলে কৌশলগত কারণে পাকিস্তান এবং চীনের সাথে সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের সামনে আর কোনো পথ খোলো নেই।
Email:[email protected]