অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি পাসের সুপারিশ থাকলেও মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এসব অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিল পাসকে তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব অধ্যাদেশ কার্যকর হলে মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং সরকারের জবাবদিহি বৃদ্ধি পেতো। কিন্তু তা না হওয়ায় পূর্বের মতোই এসব প্রতিষ্ঠান অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া তথ্য অধিকার (সংশোধন) ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বিলম্বিত করাকেও হতাশাজনক বলে উল্লেখ করা হয়। নাগরিকরা এসব অধ্যাদেশ দ্রুত আইন আকারে পাসের দাবি জানিয়ে সতর্ক করেন, অন্যথায় জনগণ আবারও প্রতিবাদে সোচ্চার হবে।
তারা আরও বলেন, দেশের সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এসব অধ্যাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কাঠামো এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যা এসব অধ্যাদেশের মাধ্যমে আরও সুসংহত হতে পারতো। কিন্তু এগুলো বাতিল বা পাস না হওয়ায় নীতিগত সংস্কারের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
নাগরিকরা জানান, এসব অধ্যাদেশ দ্রুত পুনর্বিবেচনা করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইন হিসেবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। তারা সতর্ক করে বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অগ্রগতি না হলে নাগরিক সমাজ আরও সংগঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ৩১ জন বিশিষ্ট নাগরিক আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে যাতে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও বিচারিক স্বচ্ছতা আরও শক্তিশালী হয়।
তারা বলেন, এটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এই বিষয়ে দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে জন-অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেন। তারা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।