নির্বাচন শেষে ঐক্য সরকারে আগ্রহী জামায়াতে ইসলামী
১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৩
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একটি ঐক্য সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমান। বুধবার ঢাকায় নিজ কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে জামায়াতের পুনরুত্থান : জামায়াতের এই রাজনৈতিক পুনরুত্থান ঘটেছে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর। ওই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখা হয়। শেখ হাসিনার সরকার জামায়াতের কট্টর সমালোচক ছিল। তার শাসনামলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন কথিত যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের একাধিক শীর্ষ নেতা মৃত্যুদণ্ড পান। উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরোধিতা করেনি- এ কারণে দলটি বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল।২০১৩ সালে আদালতের রায়ে জামায়াতের গঠনতন্ত্র সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির পরিপন্থী বলে ঘোষিত হলে দলটির নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল করা হয়। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের আগস্টে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।ভারত ও পাকিস্তান নিয়ে অবস্থান : ভারতের সাথে সম্পর্ক প্রসঙ্গে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, চলতি বছর তিনি একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সাথে বৈঠক করেছেন, যদিও ওই বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ‘আমাদের সবার সাথে খোলা মন নিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের বিকল্প নেই’- বলেন তিনি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও ভারতীয় সরকারের একটি সূত্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের সাথে জামায়াতের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কারো দিকে ঝুঁঁকে পড়তে চাই না। সব দেশের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্কই আমাদের নীতি।’রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে অস্বস্তির ইঙ্গিত : জামায়াতের আমির আরো বলেন, জামায়াত অন্তর্ভুক্ত কোনো সরকার বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে স্বস্তি বোধ করবে না। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সাহাবুদ্দিন। তবে চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন নিজেই মধ্যবর্তী সময়ে পদত্যাগে আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। বুধবার রয়টার্সের সাথে ফোনালাপে তিনি এ বিষয়ে নতুন করে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।রাজনীতির নতুন সমীকরণ : ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী এখন কেবল একটি ধর্মভিত্তিক দল নয়, বরং সম্ভাব্য ক্ষমতার অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে চাচ্ছে। ঐক্য সরকার, দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচি ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির বার্তা দিয়ে দলটি মধ্যপন্থী ভোটারদের দিকেও হাত বাড়াচ্ছে; যা আগামী নির্বাচনের রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
