দেশ ও জাতির জন্য শক্তিশালী নেতৃত্ব তৈরি হওয়া জরুরি
১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:৫৬
সরদার আবদুর রহমান
যেকোনো স্বাধীন দেশের প্রকৃত সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে যেমন প্রয়োজন নাগরিকদের মানসিক একাত্মতা ও ঐক্যবদ্ধতা। তেমনি প্রয়োজন এ একাত্মতা ও ঐক্যবদ্ধতাকে সুসংহত রাখতে শক্তিশালী নেতৃত্ব। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও আদর্শগত ভিন্নতা ও মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ও সার্বভৌম অবস্থান বজায় রাখতে শক্তিশালী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। আর বাংলাদেশের মতো প্রায় চারপাশজুড়ে ‘অবন্ধু’ দেশের অবস্থান এ দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের প্রয়োজনকে অপরিহার্য করে তুলেছে।
বিশেষত দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে থাকা প্রতিবেশী ভারত সেই সাতচল্লিশ থেকে একাত্তর এবং একাত্তর থেকে চব্বিশ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও পরে বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রগুলোয় প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণমূলক কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চেয়েছে। এসব বিষয়ে তেমন রাখঢাক ছিল না। তারা তাদের কর্তৃত্বমূলক অবস্থান বজায় রাখার জন্য কিছু ‘গোলাম’ বা ‘সেবাদাস’ গোষ্ঠী সৃষ্টি করে তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কাগুজে ‘স্বাধীন’ দেশে পরিণত করেছিল। সেদেশের রাজনীতিক ও কূটনীতিকরা প্রকাশ্যেই বলে থাকেন যে, ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোয় কারা শাসন ক্ষমতায় আছে বা আসছে, সেটি দেখার ও মেনে নেয়ার বা না মানার অধিকার আছে। এটি হলো ভারতের নীতিগত অবস্থান। এক্ষেত্রে তারা অন্য দেশের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করাকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গণ্য করছে। যদি তাই হয়, তাহলে তো ভারতের বাকি প্রতিবেশীদেরও অধিকার আছে ভারতে কারা ক্ষমতায় আসছে, না আসছে সে বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখার। ভারত এটি করছে তাদের মানচিত্রের বড়ত্ব ও জনসংখ্যার বিশালত্ব নিয়ে দাদাগিরির মনোভাব থেকে। মূলকথা হলো আন্তর্জাতিক শক্তির যেকোনো চাপ মোকাবিলা করতে সক্ষম এমন নেতৃত্ব সবচেয়ে জরুরি।
বাংলাদেশের জন্য এ শক্তিশালী নেতৃত্ব এজন্য আরো জরুরি যে, বিগত কয়েক বছরে দেশকে দুর্নীতি আর অসততার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়। এ অবস্থা থেকে উদ্ধার পাওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সততা, দৃঢ়তা ও সৎ সাহসী নেতৃত্ব খুবই প্রয়োজন।
নেতৃত্ব কী?
শক্তিশালী নেতৃত্বের কথা কেন উঠছে? সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে একটা ধারণা থাকা দরকার। নেতৃত্ব হলো ব্যক্তির সেই সক্ষমতা যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করার জন্য দল, গোষ্ঠী বা সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে প্রভাবিত করা ও পরিচালিত করা সম্ভব হয়। নেতৃত্ব শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো লিডারশিপ। নেতৃত্বের মূল কাজ হলো আওতাভুক্ত ব্যক্তিবর্গকে প্রভাবিত করাÑ যাতে তারা নেতার নির্দেশ মেনে নেয় ও সে মোতাবেক কাজ করে। সংস্থা বা সংগঠনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণ প্রভাবিত করার দক্ষতাকে বলা হয় নেতৃত্ব। নেতৃত্ব হলো এমন এক প্রক্রিয়া, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নির্দেশনা, পরামর্শ ও কৌশল দ্বারা অপরকে নিয়ন্ত্রণ কিংবা আচার-আচরণ ও মনোভাবের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। নেতৃত্ব হচ্ছে নেতা কর্তৃক প্রভাব বিস্তারের একটি সামাজিক প্রক্রিয়াÑ যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্বেচ্ছায় কাজে অংশগ্রহণ করে এবং জনগণকে প্রভাবিত করার এমন একটি কৌশলÑ যাতে তারা দলীয় লক্ষ্য অর্জনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্বুদ্ধ হয়। এটি হচ্ছে লক্ষ্য নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত একটি সংগঠিত দলের কার্যাবলিকে প্রভাবিত করার প্রক্রিয়া। কোনো গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য যোগ্য নেতৃত্ব বা লিডারশিপও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উপরোক্ত ধারণা লাভের পর এটি আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে যে, বাংলাদেশ বহুবার রাজনৈতিক কারণে হুমকির মধ্যে পড়েছে। কিন্তু সময়ের দাবি পূরণ করতে সেরকম নেতৃত্ব চলেও এসেছে। হয়তো সেই নেতৃত্ব সার্বিকভাবে সফল হয়নি বা বেশি সময় কার্যকর থাকেনি। তবে সময়ের তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণে অনেক আশাবাদ তৈরিতে সক্ষম হয়েছে।
নেতৃত্বের বিকাশ
এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, দেশকে ‘অবন্ধু’ ও তাঁবেদারদের কবল থেকে রক্ষা করতে হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ নেতৃত্বকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। এ নেতৃত্ব কেবল নিজেই নেতা হবেন না, ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ব্যক্তিত্ব তৈরি করবেন। দলে যদি বন্ধ্যত্ব সৃষ্টি হয়, তাহলে সহসা সেই দল বিলুপ্তির পথে হাঁটতে শুরু করবে। এখনকার সময় একমাত্র এ কাজের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। সময়ের দাবি হলো যে দেশপ্রেমিক ও কল্যাণমুখী রাজনীতি মাঠে থাকুক এবং অনুশীলনের মাধ্যমে শক্তিশালী নেতৃত্ব গড়ে উঠুক।
এ কথা সবসময় স্মরণে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের প্রায় চারপাশজুড়েই ভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শক্তির অবস্থান। তারা সহজেই হাল ছেড়ে দেবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। একজন বিশ্লেষক বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঝাঁকুনির মধ্য দিয়ে দেশ এখন আত্মসচেতনতার পথে অগ্রসর হচ্ছে। এ কারণে মানবিক গুণহীন নেতৃত্ব তার পদে অধিষ্ঠিত থাকার যতই চেষ্টা করুক, জাতিকে তার বা তাদের পক্ষে পরিচালনা অসম্ভব হয়ে উঠছে। এখন গায়ের জোরে নেতৃত্বের আসনে উপবিষ্ট থাকার কোনো সুযোগ অবশিষ্ট থাকছে না।
নেতার জন্য প্রথম আবশ্যিক বিষয় হলো ‘নিরপেক্ষ’ হওয়া। নেতাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, কোনোভাবেই যেন দল-গোষ্ঠী কিংবা মত বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগ না দেওয়া হয়; বরং প্রশাসক নিয়োগ হবে আল্লাহভীরুতা, জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তিতে। আর এসব কিছুর ক্ষেত্রে সততা হবে প্রধান পলিসি। এ ব্যাপারটি যদি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে অতিদ্রুতই হারিয়ে যাওয়া নৈতিকতা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ ফিরে আসবে। নেতা ভালো হলে দেশ ভালো হয়ে যায়। নেতা খারাপ হলে সে দেশ কখনো এগোতে পারে না। নাগরিক অধিকারের অংশ হিসেবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবারই ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে হবেÑ এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এটিও মাথায় রাখতে হবে যে, বাংলাদেশ যেহেতু একটি মুসলিমপ্রধান দেশ, সে কারণে তাদের আদর্শকে অগ্রাধিকার প্রদান করাই স্বাভাবিক চেতনার অংশ। এর আলোকে বুঝতে হবে যে, যার ‘তাকওয়া’ তথা আল্লাহভীতি বেশি, সে-ই সমাজের সবচেয়ে মর্যাদাবান মানুষ হবে। যখন সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ে নিরপেক্ষ ও সততার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করা হবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সব মানুষকে সমান বিবেচনা করে সমান সেবা দেয়া হবে। সেখানে কেউ তদবিরের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ পাবে না। সরকারি সেবার জন্য সাধারণ মানুষকে ঘুষের আশ্রয় নিতে হবে না। বাজারে কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। ভেজালের কায়-কারবার এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।
বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব
গবেষকরা বলেন, ব্যক্তিত্বের গুণাবলি বিশ্লেষণ করলেই উন্নত মানুষের সামগ্রিক দিক ফুটে ওঠে। চরিত্র, বিশ্বাস, অনুশীলন, দেশপ্রেম প্রভৃতি নেতৃত্বের প্রধান গুণ। সততা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষভাবে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য হবে, তিনি তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিটি কর্মীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলবেন। তিনি একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ নেতা হবেন, যিনি নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন, তিনি জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবেন। তিনি দূরদর্শী হবেন, ভবিষ্যতের জন্য ভালো-মন্দ আঁচ করতে পারবেন। সে মোতাবেক সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে পারবেন, যেটি হবে একটি শক্তিশালী নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান গুণ। নেতৃত্ব তার দল বা দেশকে একটি সাধারণ লক্ষ্যের দিকে অনুপ্রাণিত ও সংগঠিত করতে সক্ষম হবেন। তিনি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবেন এবং তাদের কল্যাণে কাজ করাকে অপরিহার্য ভাববেন। দেশ ও জাতির সমস্যা ও সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কর্মসূচি প্রদান করাও নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। একজন নেতা হিসেবে তিনি ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমগ্র জাতির জন্য কাজ করবেন। প্রয়োজনে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবেন না। এ ধরনের নেতৃত্ব তৃণমূল থেকে শীর্ষস্থান পর্যন্ত গড়ে তুলতে হবে।
দেশ ও জাতির জন্য শক্তিশালী নেতৃত্ব হলো এমন এক নেতৃত্বের ধরন যা জনগণকে অনুপ্রাণিত করে, সঠিক নীতি গ্রহণ করে এবং জাতীয় উন্নয়নে নেতৃত্ব দেয়। শক্তিশালী নেতৃত্বের জন্য দূরদৃষ্টি, সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা অপরিহার্য। এর মাধ্যমে জাতি অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করতে পারে।
বিভাজন আর নয়
দীর্ঘদিন যাবত এদেশের বাম ও ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা জাতিকে ভাগ করে রেখেছিল তাদের বিদেশি প্রভুর প্রয়োজনে। কিন্তু সেই বিভাজন আর নয়। কাউকে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তি আখ্যা দেয়া কিংবা কাউকে পাকিস্তানের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করার রাজনীতি জনগণের কাছে গৃহীত হয়নি। ‘একটা একটা শিবির ধর, ধরে ধরে জবাই কর’ এই কসাইগিরি মার্কা স্লোগানও ছাত্র-জনতা চব্বিশ জুলাইয়ের পর ভাগাড়ে নিক্ষেপ করেছে। কাউকে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী আখ্যা দেয়া কিংবা কাউকে পাকিস্তানের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করার রাজনীতি জনগণের কাছে গৃহীত হয়নি। দেশপ্রেমিক শক্তি আর কোনোভাবেই স্বার্থবাদী ও বিদেশি প্রভুর শাসন যেমন চায় না, তেমনি তাদের বিষ্ঠালিপ্ত পদক্ষেপকেও আর মাড়াতে চায় না। এ মনন ও মানসিকতাসম্পন্ন শক্তিশালী নেতৃত্বকে সাধারণ মানুষ সাদরে গ্রহণ করার জন্য অপেক্ষা করছে।
একটি শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন এ কারণে যে, এটি একটি দল বা জাতিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, কর্মীদের অনুপ্রাণিত ও সংঘবদ্ধ করতে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। নেতৃত্ব ছাড়া কোনো সংগঠন বা জাতি কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে না এবং উন্নতি লাভ করতে পারে না, যা সামগ্রিক সাফল্য ও প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
এক্ষেত্রে কেবল ভাবাবেগ দিয়ে সমাধান করলে চলবে না। বাংলাদেশের জন্য সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী, দূরদর্শী ও সৎ নেতৃত্ব অপরিহার্য। এটি একাধারে দুর্নীতিরোধ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আধুনিকীকরণ এবং জনগণের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখবে। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, সততা, প্রজ্ঞা, ঝুঁকি নেয়ার ক্ষমতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো গুণাবলি, যা তরুণ প্রজন্মসহ সকল স্তরের মানুষের মধ্যে গড়ে তোলা সম্ভব।
শক্তিশালী নেতৃত্বের কাজ
শক্তিশালী নেতৃত্বের কাজ বহুমুখী। বহিঃশক্তির বেলায় তাকে নিতে হবে কৌশলগত অবস্থান। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব দরকার। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা; যেমন- দুর্নীতি দমন, যে সব বিষয়কে ‘অসামাজিক’ কার্যকলাপ বলে চিহ্নিত করা হয় সেগুলোর শিকড় উপড়ে ফেলা এবং আঞ্চলিক ও আন্তঃসম্প্রদায়গত বৈষম্য দূর করার জন্য শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন। এজন্য জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। জনগণের সার্বিক সমস্যা সমাধান এবং তাদের সমস্যা বোঝার মাধ্যমে আস্থা তৈরি করতে পারেÑ এমন নেতৃত্বই জাতির জন্য প্রয়োজন। বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সামরিক প্রবণতা বুঝতে পারা এবং কৌশলগত পরিকল্পনা করার ক্ষমতা থাকতে হবে। নিজেদের পাশাপাশি অন্যদের আবেগ ও প্রয়োজন বুঝতে এবং কার্যকরভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যক্তির প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা এবং ইতিবাচক অভিজ্ঞতা থাকা উচিত। জনগণের সাথে সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কেবল নিজের অনুসারী সৃষ্টি করা নয়, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করাও নেতৃত্বের জন্য জরুরি। আত্মশক্তি ও আত্মমর্যাদার ওপর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত না হলে অন্যরা সুযোগ গ্রহণ করবে এবং সে নেতৃত্বকে নতজানু করে তুলতে পারে। সমস্যা মোকাবিলার ব্যাপারে দৃঢ়প্রত্যয়ী না হতে পারলে দেশে সংকট ঘনীভূত করে তোলাই হবে সার। সমস্যা সংকট তো থাকবেই, কিন্তু তা সমাধান করাই নেতৃত্বের সার্থকতা। যে কোনো সমস্যা সমাধানকল্পে যখন নিজের বুদ্ধি-বিবেচনা, কৌশল-পরিকল্পনা, সাহস-বিচক্ষণতা ইত্যাদির অভাব দেখা দেয়, তখন বহিঃশক্তি সেখানে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পায় এবং গোটা বিষয়টিকে আরো সংকটাপন্ন করে তোলে। এমন নজির দূর ও নিকট অতীতে আছে বিস্তর। মোদ্দাকথা, নেতাকে পরিস্থিতি সামলাবার মতো মানসিক জোর, সাহস ও প্রজ্ঞা এবং সর্বোপরি দৃঢ়চেতা হতে হবে। এটি হচ্ছে একজন সার্থক বা সফল নেতা কিংবা নেতৃত্বের পরিচায়ক।