পুরানো রাজনীতি বাংলাদেশকে জিঞ্জির দিয়ে আটকে রেখেছে,আগাতে দেয়নি : ডা. শফিকুর রহমান

সোনার বাংলা অনলাইন
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:১২

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান – ফাইল ছবি

বাংলাদেশ এখন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস চায় উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,বাংলাদেশ আর পুরানো রাজনীতিতে ফিরে যেতে চায় না। এই পুরনো রাজনীতি বাংলাদেশকে আগাইতে দেয় নাই। পায়ের জিঞ্জির দিয়ে আটকে রেখেছে— সামনে দৌড়ানোর সুযোগ দেয় নাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশকে আল্লাহর ওপর ভরসা করে পাল্টে দিতে চাই। এই সুযোগই আগামী ১২ তারিখ। গণভোটের মাধ্যমে পুরনো বন্দোবস্ত রাজনীতির যা আছে এটাকে বলা হবে— তুমি না, বিদায় নাও। এবং নতুন রাজনীতিকে বলা হবে— হ্যাঁ।

আমীরে জামায়াত বলেন, হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গুলামি। আজাদি না গুলামি? ইনশাল্লাহ আমাদের প্রথম ভোট পড়বে আজাদির পক্ষে, ইনশাল্লাহ হ্যাঁ-র পক্ষে। দুই নম্বর ভোট— যারা সরকারে গিয়ে দেশটাকে ইনসাফের ভিত্তিতে পরিচালনা করবেন। সমাজে আর কোনো বৈষম্য হবে না, চাঁদাবাজি থাকবে না, দুর্নীতি চলবে না, মামলাবাণিজ্য হবে না, নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হবে না, মায়ের গায়ে হাত পড়বে না।

শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল সোয়া ৫টায় নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নড়াইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও নড়াইল-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু’র সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল টিম সদস্য ও নড়াইলের সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আশেক ইলাহী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নড়াইল-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মো. ওবায়দুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় নির্বাচনী জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাস্টার জাকির হোসাইন, জামায়াত নেতা মো. শামসুর রহমান, খেলাফত মজলিস নেতা হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা মহসিন হোসাইন,মাওলানা আব্দুল হান্নান সর্দার,ডা. পতিত পাবন বিশ্বাস, এনসিপি নেত্রী মাহমুদা সুলতানা রিমি,ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেই বাংলাদেশটা আমরা গড়তে চাই। সকলের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ, সকলের জন্য গর্বের বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। সকলের জন্য ন্যায়বিচার আমরা কায়েম করতে চাই। সেই ন্যায়বিচারটা— যে অপরাধ করলে একজন সাধারণ মানুষের বিচারে একটা শাস্তি হবে, একই অপরাধ যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্ট করেন, তাদেরকেও ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। তাদেরকেও কোনো দায়মুক্তি দেয়া হবে না। বিচারের আওতায় আসতেই হবে। অপরাধ অপরাধী, যিনিই করেছেন তিনিই অপরাধী। তার অপরাধের শাস্তি তাকে পেতে হবে।

দেশ গড়ায় যুবকদের সম্পৃক্ত করা হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য যুবকদের হাতে বাংলাদেশের চাবি তুলে দেওয়ার জন্য ১২ তারিখ আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। প্রথম ভোটটি হ্যাঁ, দ্বিতীয় ভোটটি ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাসহ ১১ দলের যার যেখানে যে প্রতীক আমরা হাতে তুলে দিয়েছি সেই প্রতীক। এটা কোনো দলের প্রতীক নয়, এটা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতীক। আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সরকার গড়তে চাই না। আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ও চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি ধর্ম দল মত নির্বিশেষে সব কয়টি নাগরিকের বিজয় চাই। সেই বিজয়ের লড়াই আগামী ১২ তারিখ ইনশাল্লাহ। আপনারা ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবেন? এখানে যেহেতু অন্য কোনো প্রতীক নাই এ জন্য আমি এটা বললাম। অন্য জায়গায় যেটা আছে সেখানে তাই বলব ইনশাল্লাহ। এবার আমি এই প্রতীক দাঁড়িপাল্লা প্রতীক আমি এক এক করে দুই আসনের ভাইদের হাতে তুলে দেব। আপনারা দোয়া করবেন, আপনারা আল্লাহর সাহায্য চাইবেন এবং এই লড়াইয়ে ইনশাল্লাহ আমি বিশ্বাস করি আপনারা বিজয়ী হবেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় জন্মস্থান এমন একটা সুন্দর দেশ, যেই দেশের মাটির উপরে সবুজ গালিচা। যে দেশের মাটির উপরে বিভিন্ন ধরনের ফসল এবং ফল উৎপাদন হয়। যে দেশের মাটির নিচে আল্লাহতায়ালা বিপুল খনিজ সম্পদ দান করেছেন। যে দেশের পাশে একটা ভালো সমুদ্র আমরা পেয়ে গেছি। এখন ব্লু ইকোনমি। সমুদ্রের পানির নিচের সম্পদ নিয়ে সমস্ত দুনিয়ার দেশগুলো এগিয়ে যাচ্ছে হু হু করে। আমাদেরও বঙ্গোপসাগরের নিচে বিপুল পরিমাণ সম্পদ আছে।

আমীরে জামায়াত বলেন, আমাদের মাটিতে সম্পদ, মাটির উপরে সম্পদ, নিচে সম্পদ, পানিতে সম্পদ, পানির নিচে সম্পদ। তাহলে কোন সম্পদের অভাব আমাদেরকে পিছে রেখে দিয়েছে? একটা মাত্র সম্পদ। এটি হচ্ছে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যারা আছেন তাদের চারিত্রিক সম্পদের অভাব। তাদের মধ্যে সততার অভাব। দক্ষতার অভাব আমি বলবো না, বরঞ্চ দক্ষতার সাথে অসৎ কাজ করতে পারে বেশিরভাগ মানুষ। সেই বেশিরভাগ মানুষ কারা? সাধারণ জনগণ? নো। সাধারণ জনগণ এই দেশের কোনো ক্ষতি করে না। সাধারণ কৃষক মাঠে ফসল ফলায়। রক্ত ঝরানো ঘাম ঝরিয়ে আমাদের মুখে খাবার তুলে দেয়। মাঝি চলে যায় নদীতে কিংবা সাগরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখান থেকে মৎস্য সম্পদ আহরণ করে সেইটাও আমাদের মুখে তুলে দেয়। কামার, কুমার, তাঁতী যারা আছেন তারা আমাদের জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলা তৈরি করে দেন।

সমস্যাটা অন্য জায়গায়। সমস্যাটা মাথায়। আমাদের সমাজের মাথা পচে আছে। মূল জায়গাটা হইলো রাজনৈতিক নেতৃত্ব। রাজনৈতিক নেতৃত্বের যদি সততা এবং সদিচ্ছা থাকে একটা সমাজ পাল্টাতে সময় লাগে না। কিন্তু যদি রাজনৈতিক নেতৃত্বই অসৎ হয় এবং সদিচ্ছার অভাব হয় এই সমাজের দুর্গতি দিনের পর দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে।

তিনি বলেন, আমাদের দুই দুইবার স্বাধীনতা— ৪৭-এ একবার, ৭১-এ আরেকবার। দুই স্বাধীনতার পরেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। এখন একজন শিশু, যুবক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, শ্রমিক, রিকশাচালক, কৃষক কেউই ভালো নেই।

আমীরে জামায়াত বলেন, কৃষককে যদি জিজ্ঞেস করা হয় আপনি কেমন আছেন? তিনি বলেন আমিও ভালো নাই। কেন আপনি ভালো নাই? বলে যে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে আমি যখন ফসল ফলাতে যাই তখন আমার উৎপাদন খরচ— বিক্রি খরচের সাথে আমি তাল মিলাইতে পারি না। আমার জমিতে ফসল ফলে সেই ফসলের প্রসেসিং এবং এখানে সংরক্ষণাগার না থাকার কারণে আমাকে হড়াহড়ি করে সব বিক্রি করে দিতে হয়। আবার কোনো কোনো জায়গায় সুদ ব্যবসায়ীদের খপ্পরেও মানুষ পড়ে যায়। বলে আমি ভালো নাই, আমার নুন আনতে পান্তা ফুরায়। আমার সারের দাম বেশি, আমি কীটনাশক পাই না মানসম্মত। আমাকে সরকারের কৃষি বিভাগ থেকে পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেওয়া হয় না, প্রযুক্তিগত আমাকে সহযোগিতা করা হয় না। আমি ভালো নাই।

যদি একজন জেলেকে জিজ্ঞেস করেন তুমি কেমন আছো? বলে যে আমিও ভালো নাই, সমুদ্রে গিয়ে আমাকে চাদাঁবাজরা আমার ঘাড়ে ধরে।

মুদির দোকানকে জিজ্ঞেস করেন আপনি কেমন আছেন? বলবে আমি ভালো নাই সকাল-বিকাল চান্দা চায়। অবশ্য নড়াইলে এগুলা নাই। এখানে আছে? আমি জানতাম নড়াইলের মানুষ শান্তিপ্রিয়, শিক্ষিত, ভদ্র, মার্জিত। এখানেও এই বিপদ আসে! আল্লাহু আকবার। যদি একজন নাগরিক পরিষেবা নেওয়া একজন নাগরিককে জিজ্ঞেস করি, আপনি কেমন আছেন? কয় আমি ভালো নাই। কেন ভালো না? বলেছে অফিস আদালতে গেলে টেবিলের উপরে একটা নিচে আর একটা আমাকে দিতে হয়।

একজন বাসচালক অথবা একজন ট্রাকচালক ভাইকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আপনি কেমন আছেন? বলে আমি ভালো নাই। কেন? বলে যে নড়াইল থেকে আমি যখন পণ্য বোঝাই করে ঢাকার দিকে রওনা করি, ঘাটে ঘাটে ভিক্ষুকের মতো চাঁদাবাজরা দাঁড়ায়ে থাকে। অনেক সময় চাদা দিতে অস্বীকার করলে আমার জীবনের ওপর অথবা আমার যানবাহনের জীবনের ওপর কেয়ামত নেমে আসে। আমি ভালো নেই। এভাবে সমাজের সকল মানুষকে জিজ্ঞেস করলে বলে আমি ভালো নেই। স্বাধীনতার ৫৪ বছর হয়ে গেল এখনও কেন আমাদেরকে শুনতে হয় আমি ভালো নেই?-প্রশ্ন তোলেন আমীরে জামায়াত।

সাংবাদিকদের অসহায়ত্বেরবিষয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের যদি নীরবে নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয় আপনি কেমন আছেন? বলে আমি ভালো নেই। কেন আপনি ভালো নেই? বলে যে আমি আমার বিবেক দিয়ে যা তুলে আনতে চাই মিডিয়া সেটা আমাকে তুলে আনতে দেওয়া হয় না। আমাকে হুমকি দেওয়া হয় ধমক দেওয়া হয়। সত্য খবর ছাপার জন্য আমার জীবনের ওপর অভিশাপ নেমে আসে। আমি ভালো নেই।

আমীরে জামায়াত বলেন, সমাজে এখন বলতে গেলে কেউ ভালো নেই। এই ভালোর জায়গাটা কে তৈরি করবে? এই ভালোর জায়গাটা সেই তৈরি করবে যার সমাজের প্রতি দরদ, দায় এবং ভালোবাসা আছে। যে সমাজের উপর জুলুম করে সে এটা পারবে না। যে কথা বলতে গেলে মিথ্যা কথা বলে, ওয়াদা করলে মানুষের সাথে ওয়াদা ভঙ্গ করে, আমানত রাখলে খেয়ানত করে এবং রাজনীতিকে যারা ব্যবসার পণ্য মনে করে, এরা জীবনেও বাংলাদেশ গড়ে দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, সব বঞ্চনা নিয়েই ২৪ সালের জুলাই মাস আমাদের গর্বের সন্তানেরা তারা বিষ্ফোরিত হয়েছিল। প্রথম বিষ্ফোরণটা ঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই মাসের ১৫ তারিখ। সেদিন আমাদের কলিজার টুকরা ছাত্রী আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছিল। লাঠি এবং মুগুর পেটা করা হয়েছিল। ওই রাতেই আল্লাহর মেহেরবানিতে সারা বাংলাদেশ জ্বলে উঠেছিল।

এখান থেকেই আন্দোলন শক্তি পেয়েছিল তাদের। এর পরের দিন ১৬ তারিখ উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র বীর মায়ের সন্তান আবু সাঈদ রাস্তায় নেমে বলেছিল হয় আমাকে অধিকার দেন না হয় আমাকে একটা গুলি দেন। সে ডানা মেলে বলেছিল বুকের ভেতরে তুমুল ঝড় বুক পেতেছি গুলি কর। তার আস্থা ছিল তাকে কেউ গুলি করবে না, সে তার অধিকার পাবে। কিন্তু না, এক-দুই-তিন তার বুকে তিনটা গুলি ছোড়া হলো।

সেই ছেলেটা সেদিন কিন্তু পিঠে কোনো গুলি নেয় নাই। বুকে গুলি নিয়েছে। পিঠে গুলি নেয় কাপুরুষ, বুকে গুলি নেয় জাতির জন্য বীর পুরুষ।

আমীরে জামায়াত বলেন, একদিনে ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছিল। রংপুর থেকে চট্টগ্রাম, ঢাকার রাজধানী— কোনো জায়গা বাদ পড়ে নাই। সম্মানিত ভাইয়েরা, এরপরে এই আন্দোলন আস্তে আস্তে মোমেন্টাম পায়। এই আন্দোলন যখন মোমেন্টাম পায় একটা পর্যায়ে গিয়ে সরকার অনেক কিছু করেছে। ১৪০০ মানুষ খুন হয়েছে। শুধু ছাত্র না, ছাত্র তো মাত্র ৩২%, বাকি সব সাধারণ মানুষ। এবং যারা নিহত হয়েছে তার মধ্যে ৬২ ভাগ মানুষ হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ, দিন আনে দিন খায়। সেই লোকগুলো, তাদের জীবনের সবচাইতে মূল্যবান সম্পদ রক্ত, জীবন উপহার দিয়ে জাতির জন্য চলে গেছেন। আল্লাহ তাদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। আমরা তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি কথা দিচ্ছি, আপনারা যদি আমাদের ওপর আস্থা রাখেন, ইনশাল্লাহ আমরা যদি সরকার গঠনে সক্ষম হই, আমরা ইনশাল্লাহ আপনাদের আস্থার প্রতিদান দেব। আজকে যে দাবিগুলো এখানে উচ্চারিত হয়েছে একটি সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আমি কথা দিচ্ছি আপনাদের সাথে ইনশাল্লাহ আমরা বে-ইনসাফি করব না। এই ক্ষেত্রে আমরা ইনসাফ করব ইনশাল্লাহ।তারিখ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি. প্রেস বিজ্ঞপ্তি

জামায়াতে ইসলামী

সম্পর্কিত খবর