প্রসঙ্গ: ‘নো হাংকি পাংকি’

সোনার বাংলা অনলাইন
১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৩:২১

শহীদ সিরাজী

সম্প্রতি রাজনীতির মাঠে ভাইরাল হয়েছে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা: তাহেরের বক্তব্য ‘নো হাংকি পাংকি’। আগেপিছে অবশ্য আরো কথা রয়েছে। এই বক্তব্য নিয়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বাস্তবতা হচ্ছে এ বক্তব্য অনেকটা নতুন, অনেকটা অচেনাও। অর্থও জানা নেই। জানলে হয়তো এ ধরনের কথা বলার রহস্য উদঘাটন করা যাবে।

গুগল সার্চ করে পেলাম Hanky-panky ইংরেজি শব্দ। অর্থ হলো ‘অনাকাঙ্ক্ষিত বা প্রতারণামূলক কার্যকলাপ’। আর ‘নো হাংকি পাংকি’ একটি বাগধারা যার অর্থ ‘কোনো অনৈতিক বা প্রতারণামূলক কার্যকলাপ নেই’।
তবে যাই হোক নানা মুনির নানা মতে এখন আসর সরগরম।

ডা: তাহেরের পুরো বক্তব্য কি ছিল? –
সম্প্রতি জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সোজা আঙুলে যদি ঘি না উঠে তাহলে আঙুল বাঁকা করব। কিন্তু ঘি আমাদের লাগবেই। সুতরাং যা বোঝাতে চাই বুঝে নিন। নো হাংকি পাংকি। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট লাগবেই।

গত ৬ নভেম্বর ‘২০২৫ এর ঘটনা।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বরে ১.গণভোট ও ২. জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারিসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি প্রদানের আগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে ডা: তাহের এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে আবার জীবন দেব। জুলাইয়ের চেতনা ভুলুণ্ঠিত হতে দেব না। আমরা আপনাদের চালাকি বুঝি। আপনাদের চালাকির ভিত্তিতেই দাবি আদায়ের পন্থাও আমরা আবিষ্কার করব। আমরা এখনও নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনে আছি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই-আগস্টের রক্তই হবে শেষ রক্তদান। এই সময়ের শাহাদাতই হবে শেষ শাহাদাত। আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই বিপ্লবের পরে দাবি আদায়ে আর রাজপথে নেমে আসতে হবে না। কিন্তু আমরা আশাহত হয়েছি। অল্প সময়ের ব্যবধানেই আমাদের রাজপথে আসতে হয়েছে।”

স্বীকার করতেই হয়, এ বক্তব্য অনেকটা
বক্র, তির্যক এবং চ্যালেঞ্জিং। তবে বুঝতে অসুবিধা নেই তিনি বলেছেন আর ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট লাগবেই’।
এটাই ঘি; এটা তাদের লাগবে। এ ব্যাপারে কোন হানকি পাংকি চলবে না। মানে এ কাজে কোন অস্বচ্ছতা চলবে না। চলবে না কোনরকম প্রতারণাও।

এ বক্তব্য নিয়ে হচ্ছে বিস্তর সমালোচনা পর্যালোচনা‌। টিভি টকশোতে চলছে এর পক্ষে বিপক্ষে নানা কথা। কেউ কেউ বলছেন ‘নো হাংকি পাংকি’ কোন রাজনৈতিক দলের ভাষা হতে পারে না।

আসলে এ কথাগুলো কি কোন অযৌক্তিক কথা নাকি কোন হুমকি? বরং তিনি জুলাই গণবিপ্লবকে ধারণ করে শত শত শহীদের রক্তের ঋণ আদায়ের পক্ষে কথা বলেছেন।
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সরকারকে চাপ দেওয়ার জন্য এমন কথা বলেছেন।

অনেকে বলছেন এ কথা শুনতে কেমন কেমন লাগছে, এত বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমন কথা বলা শোভনীয় নয়। আবার অনেকে বলছেন এসব বলার যৌক্তিক কারণ আছে।
এ দেশের রাজনীতিতে আঙুল বাঁকা করার ইতিহাস রয়েছে। গত ৫৩ বছরে এদেশে আঙুল বাঁকা করার অনেক ঘটনা রয়েছে।
যেমন ১৯৯৬ সালে আঙুল সোজা রেখে কোনো ফল না হাওয়ায় বাঁকা করতে হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছিল। তার আগেও দেশের স্বাধীনতা এসেছিল আঙুল বাঁকা করার ফলে। ড. ইউনূসের সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আঙুলও সোজা ছিল না। এ বিপ্লবে অসংখ্য লোক মারা গিয়ে দেশে গণবিপ্লব হয়েছে। আঙুল সোজা থাকলে এ গণবিপ্লব হতো না। কী কারনে তিনি একথা বলেছেন তা অনেকটা এখন বোঝা যাচ্ছে।

২৪’ জুলাই বিপ্লবের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। খুনি স্বৈরাচারী সরকারকে বিতাড়িত করে অন্তর্বর্তীকালীন বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে সরকার বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। তখন গঠন হয়েছিল ১১ সংস্কার কমিশন। তাদের সুপারিশসমূহ বিবেচনা ও গ্রহণের উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাত সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছিল; কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছিল। কমিশন তিন দফায় মোট ৭২ দিন রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছিল। আলোচনায় উত্থাপিত অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। এ নিয়ে প্রকাশ হয়েছিল জুলাই সনদ। পরে সকল পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরও করেছিল। স্বাক্ষর পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিতে গণভোটের সম্ভাবনা সংক্রান্ত আলোচনা কমিশনে বিবেচিত হয়েছিল।

তবে ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর দীর্ঘ ৮/৯ আলোচনার পরে এখন দেখা যাচ্ছে বিষয়টা এখন অশ্বডিম্ব প্রসব করেছে। এত মিটিং সিটিং বৈঠক সবকিছুই কেবল সময় ক্ষেপণ।
যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা কেউ কেউ মানতে রাজি নয়। গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশের ব্যাপারে একমত নয়‌।
তারা মনে করছে সংবিধানের ভিত্তিতেই আগের মত নির্বাচন হবে। ২৪ জুলাই গণ বিপ্লব একটা আবেগের প্রকাশ। আবার তাদের কেউ কেউ বলছেন এটা একটা দুর্ঘটনা, মব ভায়োলেন্স।

এত তাড়াতাড়ি কি আমরা জুলাই ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানকে ভুলে গেলাম! সেই গণবিপ্লবের রক্তের দাগ এখনো তো শুকায়নি! কোন প্রেক্ষাপটে এই অভ্যুত্থান ঘটেছিল কিভাবে তা আমরা ভুলতে পারি?

বাস্তবতা হলো, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার হেন অপরাধ নাই যে করেনি। বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে মিথ্যা বিচার ও মিডিয়াট্রাইলের মাধ্যমে নিরাপরাধ মানুষকে তারা খুন করেছে। অনেককে বছরের পর বছর জেলে আটকে রেখেছে। নির্বাচন কমিশনকে ধ্বংস করে তিন তিন বার ভুয়া নির্বাচন করেছে। বিডিআর ম্যাসাকারে দেশপ্রেমিক সেনাদের হত্যা করে দেশকে করদ রাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করেছে। ক্রসফায়ারের নাটক করে শত শত বিরোধী শিবিরের লোককে হত্যা করেছে।

ক্ষমতায় থাকার জন্য অসংখ্য মানুষকে খুন করেছে, অনেককে গুম করে বছরের পর বছর আয়না ঘরে নির্যাতন করেছে। মিছিল মিটিংয়ে পাখির মত গুলি করে গণতান্ত্রিক দেশে ছাত্র-জনতাকে পেটোয়া বাহিনী দিয়ে হত্যা করেছে। হত্যা করে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে নিরাপরাধ জনগণের উপর গুলি পর্যন্ত ছুড়েছে।
দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে। ব্যাংক লুট করেছে, বিদেশে বেগম পাড়া বানিয়েছে। সরকারের অনেক সচিব, মন্ত্রী, বড় বড় ব্যবসায়ীরা দেশের বাইরে গিয়ে শতশত ফ্লাট কিনেছে, সুইস ব্যাংকে টাকা জমিয়েছে। উন্নয়নের নামে নানা প্রজেক্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুট করেছে।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য তারা নাস্তিক্য শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিল, শিক্ষার মাধ্যমে কচি বয়সের ছেলেদের মধ্যে যৌনতা ছড়িয়ে দিয়েছিল। ধর্ষণ, হোস্টেলের ছাত্রীদের সাথে জোরপূর্বক মেলামেশা ছিল দলীয় ক্যাডারদের নিয়মিত কর্মসূচি। ধর্ষণ করে তারা ধর্ষণ সেঞ্চুরি পর্যন্ত পালন করেছিল।
দেশের মানুষের ছিল না কোন ধরনের অধিকার। গণতন্ত্রকে তারা দেশ থেকে পুরোপুরি নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। এভাবেই তারা দেশটাকে সন্ত্রাসী মাফিয়া রাষ্ট্র পরিণত করেছিল।

এহেনো রাষ্ট্রে ঘটেছিল ‘২৪ এর গণঅভ্যুত্থান।
এই গণঅভ্যুত্থানে ঘটেছিল বিস্ময়কর ঘটনা। দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদের সকল সদস্যই হাওয়াই মিলে গিয়েছিল। কেউ দেশ ত্যাগ করেছিল। কেউ আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল। আরো বিস্ময়ের ব্যাপার, স্বৈরাচারী সরকারের নিয়োগকৃত প্রধান মসজিদের ইমাম পর্যন্ত দেশ ত্যাগ করেছিল। এমন ঘটনা পৃথিবীতে বিরল।

এমন বিরল গণঅভ্যুত্থানকে ধারণা না করা কিংবা অস্বীকার করা বা গুরুত্ব না দেওয়া জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এখন দেখা যাচ্ছে মাসের পর মাস ঐক্যমত কমিটির মিটিং আলোচনা, পর্যালোচনা করা সবকিছুই এখন অর্থহীন। কেবল সময় ক্ষেপণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে যে ফ্যাসিবাদ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছিল তারা আবার ফিরে আসবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

এমন পরিস্থিতি কি দেশের জন্য ভয়াবহ নয়? এ পরিস্থিতিতে সকলকে সতর্ক করে দেয়ার জন্যই ডা. তাহের বলেছেন ‘নো হাংকি পাংকি’। মানে জুলাই ‘২৪ গণঅভ্যুত্থানের ব্যাপারে কোনো অনৈতিক বা প্রতারণামূলক কার্যকলাপ চলবে না। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে জামাতসহ ৮ দলের দাবি জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে হবে।

বিএনপি জোট এটা মানতে রাজি নয়। গোল বেধেছে এখানেই। যারা ‘আগে গণভোট’ মানতে রাজি নয় তাদের উদ্দেশ্যে কেউ কেউ আবার রসিকতা করে বলছে, বিয়ের কাবিননামায় (জুলাই সনদ) স্বাক্ষর করে এখন আবার না বলার সুযোগ কোথায়! বাস্তবতা হচ্ছে গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে তো হবে জাতীয় নির্বাচন। একদিনেই গণভোট হলে গণভোটের আর কী গুরুত্ব থাকে? তাছাড়া এই জাতীয় নির্বাচন কিসের ভিত্তিতে হবে ? দেশে এখন কোন সংবিধান চালু নেই। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সংবিধানের কার্যকারিতা হারিয়েছে। এখন চলছে গণবিপ্লবের মাধ্যমে জনগণের চূড়ান্ত ও একমাত্র অভিপ্রায়ের সরকার। এটা সংবিধানে সংযুক্ত করতে হবে। অন্যথায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং তাদের সমস্ত কার্যক্রম অসংবিধানিক হয়ে পড়বে।
এই কারণে ‘গণভোট’ আগে দিতে হবে।

গণভোটের ব্যাপারে বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, ‘সংবিধানে গণভোট সম্ভব না এমন বক্তব্য যারা দিচ্ছেন তারা বুঝতে পারেন না গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট কাকে বলে, তারা আন্ডারমাইন্ড করেন গণ-অভ্যুত্থানকে। একটা ভুল রিডিং হচ্ছে। ট্র্যাডিশনিলিজিম আর প্রাগমেটিজম। ট্র্যাডিশনাল ব্যাখ্যা যদি আপনি দেন, এই চোখে যদি আপনি দেখেন, এই চশমা যদি আপনার চোখে থাকে, আপনি ব্যাখ্যা দেবেন ট্র্যাডিশনাল। আর যদি প্রাগমিটিক হন, কনটেক্সটকে বিবেচনা করেন, তাহলে আপনি ব্যাখ্যা দেবেন উইথ দি কনটেক্সট, কোনো একটা কনটেক্সট কোনো একটা ডকুমেন্টের বাইরে পড়লে ভুল হয়, আপনি আজকের কাজ বা সকল আয়োজন ৫ আগস্টের বাইরে গিয়ে পড়লে ভুল হবে, ৫ আগস্টকে সরিয়ে দিলে আমরা কেউ থাকব না। কনটেক্সট চেঞ্জ হয়ে যাবে। এখানে একটা ভুল ইন্টারপ্রিটেশন কেউ কেউ দিচ্ছেন।’

তার বক্তব্য থেকে বেরিয়ে আসছে গণভোটের মূল স্পিরিট হচ্ছে পাঁচই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান। এবং এটাই বাস্তবতা। তিনি আরও বলেন, ‘তারা (বিএনপি) মনে করছেন যে বাংলাদেশে একটা নিয়মতান্ত্রিক ইলেকশন হতে যাচ্ছে। একটা নিয়মতান্ত্রিক সরকার পরিবর্তন হচ্ছে, সুতরাং যা কিছু হবে সবকিছুই হবে দুই দুই চার নিয়মের মধ্যে। তারা আন্ডারমাইন্ড করেন গণ-অভ্যুত্থানকে। তারা বুঝতে পারেন না গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট কাকে বলে আর তার ফোর্স কত শক্তিশালী। এটা বুঝতে না পারার কারণে লেটারিক ইন্টারপ্রিটেশন দেন। যা লেখা আছে তাই দেখেন। পেছনে কী ঘটেছে তা আর দেখতে পান না।”
আসলে এই বুঝতে না পারা কিংবা কোন স্বার্থ বা উদ্দেশ্যে বুঝতে না পারার ভান করাটা জাতির জন্য সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। যা ভবিষ্যতে দেশকে বড় ধরনের বিপদে ফেলবে। এমনকি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হতে পারে।

প্রকৃত অর্থে কোন দেশপ্রেমিক জুলাই ‘২৪ বিপ্লবকে অবহেলা করতে পারেন না। কেবল কোন গোষ্ঠী বা কোন রাজনৈতিক দলের ইচ্ছা বা অভিপ্রায়ে ‘জুলাই ‘২৪ গণবিপ্লব হয়নি বরং পুরো দেশবাসীর ইচ্ছা বা অভিপ্রায় এই গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে।
অতীতের রেকর্ড থেকে দেখা যায় দেশে বিএনপি বা তাদের জোটের ভোটের পরিমাণ +/- ৩০% . তাহলে বাকি ৭০% জনতার অবস্থান কি? তারা কি জুলাই সনদ এর পক্ষে না বিপক্ষে। বিএনপি যেহেতু বেশ কিছু বিষয়ে নোট অফ রিসেন্ট দিয়ে রেখেছেন এবং বলছেন যে জুলাই সনদ তথা জুলাই গণবিপ্লব চাচ্ছেন না; তাহলে ৭০% জনতার মতামত তাদের নোট অফ ডিসেন্টকে হা অথবা না বলবে। গণভোটের ভয় কেন? এজন্যই তো গণভোটের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরী। এ কারণেই গণভোটের প্রয়োজন। আর এ কারণে ড: তাহের জামায়াতে ইসলামীসহ ৮
গুরুত্ব বুঝতে পেরেই দাবি করছেন জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের।

বাস্তবতা হচ্ছে ৩০% লোকের মতামতের কারণে ৭০% লোকের মতামতকে সরকার উপেক্ষা করতে পারেন না। সুতরাং সবার আগে মানে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি যৌক্তিক দাবি এবং তা দেওয়া উচিত।

যেখানে দীর্ঘ ৮/৯ মাস ধরে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সাথে আলোচনার পরও সকলে একমত হতে পারছে না ; সেখানে সন্দেহ হতেই পারে, উপরে সকলে স্বীকার করলেও তলে তলে এ গণঅভ্যুত্থানকে মানতে নারাজ। তাদের কার্যক্রমই এমন প্রমাণ করে। এজন্য জাতীয় ঐক্যমত কমিটির এতদিনের সকল কার্যক্রম এখন কেবল অশ্বডিম্বই প্রসব করছে‌‌।
দুর্ভাগ্যের বিষয় জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সাথে দীর্ঘ নয় মাসের অসংখ্য মিটিং ও নানা যুক্তিতর্ক পর্যালোচনার পরেও কোন ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমতাবস্থায় দেশের আকাশে
কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে। ক্রমেই পরিস্থিতি এমন হচ্ছে যেন আবারো দেশ ফ্যাসিবাদের শিকার হতে চলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে কোন দেশপ্রেমিক নাগরিক, দল বা গোষ্ঠী চুপ করে থাকতে পারে না। যদি তারা প্রতিবাদ করে, দাবি আদায় সোচ্চার হয় তাহলে কি তাদের সে কার্যক্রম ভুল হবে? বরং এমন কর্মসূচি না দিলে বা দাবী না করলে দেশে আবার স্বৈরাচার ফিরে আসবে। এহেনো অবস্থার প্রেক্ষিতেই দেশ প্রেমিক নাগরিক হিসাবে ডা: তাহের একথা বলেছেন।
জনগণের অভিপ্রায়ের এ সরকাররের নিকটে দেশের অস্তিত্ব ও স্বাধীনতার রক্ষার জন্য আর কোন বিকল্প পথ নাই বিধায় গণভোটের ব্যবস্থা করতে এবং তার আলোকে জাতীয় নির্বাচন হবে জোরালোভাবে এ দাবি তুলেছেন। জোর দিয়ে বলেছেন এ ব্যাপারে ‘নো হাংকি পাংকি’। মানে গণভোট প্রদানের ব্যাপারে কোন কোনো অনৈতিক বা প্রতারণামূলক কার্যক্রমের সুযোগ নেই।

আদতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন জুলাই বিপ্লবের পর দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জনগণের ইচ্ছা বা অভিপ্রায়ের সরকার। এই সরকারকেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান করতে হবে। আর দেশে যেহেতু প্রচলিত সংবিধান কার্যকরী নাই এজন্য এই সরকারকেই জাতীয় নির্বাচনের আগেই বিশেষ আদেশের মাধ্যমে তা কার্যকরী করতে হবে। এ বিষয়ে যেহেতু সকল রাজনৈতিক দল একমত হতে ব্যর্থ হয়েছে তাই রাজনৈতিক দল নয় বরং দেশের জনগণই সিদ্ধান্ত নিবে। গণভোটের প্রয়োজন এ কারণেই। যদি তা না করা হয় তাহলে যারা এ বিপ্লব বাস্তবায়ন করেছে তারা বিপদে পড়বে। এমনকি এই সরকার যারা এখন সরকার পরিচালনা করছে তারাও বৈধতা হারাবে।

জামায়াতের নায়েবে আমির ডা: তাহেরের বক্তব্য অনেকটা অপ্রচলিত, অচেনা শব্দের বলে অনেকেই বুঝতে পারেননি। বুঝতে না পেরে সমালোচনা করছেন। মূলত এটি একটা ইংরেজি  বাগধারা। আর বাগধারা এমনই হয়। বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত শব্দ বা বাক্যাংশের বিশেষ প্রকাশভঙ্গি বা কথার ঢং ই বাগধারা। এতে এক বা একাধিক শব্দ একটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, যা শব্দগুলোর আক্ষরিক অর্থের চেয়ে ভিন্ন হয়। এ বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে ডা: তাহের মূলত গণভোটের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। না হলে দেশ আবার ভয়ংকর বিপদে পড়বে বলে সকলকে সতর্ক করেছেন। লেখক: কবি

প্রসঙ্গ: ‘নো হাংকি পাংকি’