আরও এক চাঁদ!
২৪ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:২৫
এটি কোনও নতুন সায়েন্স ফিকশন ছবির চিত্রনাট্য নয়, এই ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বের’ পিছনে হাত নেই ক্রিস্টোফার নোলানেরও। কিন্তু মনে হচ্ছে পৃথিবী নিজের জন্য আরেকটি চাঁদ খুঁজে পেয়েছে। হ্যাঁ, মহাকাশ-পর্যবেক্ষক এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হাতে এসেছে এক আকর্ষণীয় তথ্য। পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি একটি অজানা ‘কোয়াসি-মুন’ বা আধা-চাঁদ সদৃশ বস্তু আবিষ্কার করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা । নতুন গবেষণা অনুযায়ী, ছোট এই মহাজাগতিক শিলাটি গত ৬০ বছর ধরে পৃথিবীর আশেপাশে ঘুরছিল, কিন্তু কোনো টেলিস্কোপের নজরে আসেনি। নজরে আসতেই শুরু হয় পর্যবেক্ষণ। ২০২৫ সালেই এই নতুন ‘চাঁদের’ নাম রাখা হয় ২০২৫ পিএন৭। একে বৈজ্ঞানিক ভাষায় ‘কোয়াসি-মুন’-ও বলা হয়। এই গ্রহ আসলে চাঁদের মতো পৃথিবীর উপগ্রহ নয়, কারণ তা ঘোরে সূর্যের চারদিকে। পৃথিবীর মতোই ‘২০২৫ পিএন৭’- সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে এক বছর সময় নেয়। এই গ্রহের ব্যাস ১৯ মিটার। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব ওই চাঁদের উপর পড়ে না। সাধারণত ‘কোয়াসি’ শব্দের অর্থ ‘আধা’। এই গ্রহ পৃথিবীর এত কাছে সূর্যের চারিদিকে ঘোরে যে দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন পৃথিবীর চারপাশেও ঘুরছে। ২০২৪ সালে ‘২০২৪ পিটি৫’-দুই মাস ধরে পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ করে এবং ধারণা করা হয় এটি পৃথিবীর আসল চাঁদ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া খণ্ড।
‘২০২৫ পিএন৭’- হলো পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি পরিচিত কয়েকটি কোয়াসি-মুনের একটি। এর মধ্যে একটির নাম ‘কামো’ওলেওয়া’, এটিও সম্ভবত চাঁদের খণ্ড বলে মনে করা হয়। গবেষণা অনুযায়ী এই চাঁদ প্রায় কয়েক দশক ধরে সূর্যের চারিদিকে ঘুরে চলেছে। আগামী ৬০ বছর ধরে এইভাবেই ঘুরবে সূর্যের চারিদিকে, এমনটাই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীমহল। তবে এই গ্রহের প্রভাবে নেই কোনও বিপদের আশঙ্কা। বিজ্ঞানীদের মতে এই গ্রহের সঙ্গে অন্য কোনও গ্রহের সংঘর্ষেরও আশঙ্কা নেই। নিজের কক্ষপথে অবিরাম ঘুরে যাচ্ছে এই ছোট্ট গ্রহ। হাওয়াইয়ের হেলেয়াকালা আগ্নেয়গিরিতে অবস্থিত ‘প্যান-স্টারস’- মানমন্দির গত ২৯ আগস্ট ‘২০২৫ পিএন৭’-কে প্রথমবারের মতো পর্যবেক্ষণ করে।
স্পেনের মাদ্রিদের কমপ্লুটেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্লোস দে লা ফুয়েন্তে মার্কোস জানান, এত বছর ধরে বস্তুটি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের চোখ এড়িয়ে গেছে এর ক্ষুদ্র আকার ও ক্ষীণ উজ্জ্বলতার কারণে। তার এই গবেষণাপত্রটি গত ২ সেপ্টেম্বর রিসার্চ নোটস অব দ্য আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি -তে প্রকাশিত হয়।
মার্কোসের মতে, ‘এটি কেবল তখনই শনাক্ত করা সম্ভব, যখন এটি পৃথিবীর খুব কাছাকাছি আসে, যেমনটি এই গ্রীষ্মে ঘটেছিল। এর দৃশ্যমানতার সুযোগ খুবই সীমিত।’ তিনি আরও বলেন, কোয়াসি-মুন নিয়ে গবেষণা সৌরজগতের গঠন ও নিকট-পৃথিবী মহাকাশ সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচন করতে পারে।মার্কোস বলেন, চীনের তিয়ানওয়েন-২ মিশনের মতো অভিযান যদি এসব কোয়াসি-মুনে পাঠানো যায়, তবে এদের উৎস ও ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে। আগামী ২০৮৩ বছর পর্যন্ত এই চাঁদ একইভাবে পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে সূর্যের চারপাশে ঘুরে যাবে। সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া