সংবাদ শিরোনামঃ

জাতীয় ঐক্য! ** ন্যায়ের পক্ষে তুরস্ক সাথে আছে মজলুমের দোয়া : জাতির উদ্দেশ্যে এরদোগান ** সন্ত্রাস ও হতাশাগ্রস্ত যুব সমাজ ** জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল ** জঙ্গিবাদী কার্ড ও ক্ষমতাসীনদের রাজত্বের মেয়াদ ** সুন্দরবন বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ চায় জনগণ ** দলীয় সরকারের অধীনেই আগাম নির্বাচন! ** যারা জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত তারা ইসলাম ও মানবতার দুশমন ** টার্গেট না থাকায় কর্মসূচিতে স্থবিরতা ** পার্শ্ববর্তী দেশ পানি দিলে আমাদের নদীগুলো ভেসে যায়, না দিলে শুকিয়ে যায় ** জঙ্গিবাদ : মুসলমানরা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার ** দল মত নির্বিশেষে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান ** বন্যায় ভাসছে দেশ, খবর নেই তেনাদের ** ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার ধর্ম ** আইবিসিএফ এর সভা ** বন্যায় ভাসছে শাহজাদপুর॥ পানিবন্দী লাখো মানুষের দুর্ভোগ ** কুষ্টিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কার্যক্রম ** হরিপুরে গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা ** সত্যের সৈনিক মুজাদ্দিদে আলফেসানী **

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৩, ১ জিলকদ ১৪৩৭, ৫ আগস্ট ২০১৬

বিলকিস আক্তার
শেলি, বেবি, রোজী সবার জামা দেখার পর্ব শেষ। কিন্তু দীপার জামা এখনও দর্জিবাড়ি থেকে আনা হয়নি। আনা হবেই বা কি করে? দীপার বাবা দীপার জন্য সিলেট থেকে যে গজ কাপড় এনেছিল সেটা নিয়ে দর্জিবাড়ি গিয়েছিল দীপা এবং তার বাবা। দীপা এখন এত বড় হয়নি যে একা যেয়ে সেখান থেকে জামা নিয়ে আসতে পারবে। তাই তার ভীষণ মন খারাপ হচ্ছে। সবার বাসায় ঘুরে ঘুরে জামা দেখা হয়ে গেছে, কিন্তু নিজের জমাটা এখনও দেখতে পারেনি। বাবা না আসলে তো তার ঈদে নতুন জামা পরাই হবে না। এজন্যই ওর মন ভার। দীপার বাসার সামনে তারাপাশা স্টেশনের মেইন রোড। অনেক বড় রাস্তা। রাস্তার পরেই অনেক বড় একটা ঝিল। ঝিলের পরেই ট্রেন লাইন। বাসার প্রধান গেটে দাঁড়িয়ে প্রতিদিনের ট্রেন গণনা করা দীপার নিত্যদিনের কাজও বটে। আজ বাবা আসবে। বাবা সবসময় সন্ধ্যার ট্রেনেই আসে। অপেক্ষার প্রহর গুনছে দীপা। কখন বাবা আসবে। তাকে নিয়ে দর্জিবাড়ি যাবে। জামা এনে দেবে। দীপা সবাইকে জামাটা দেখাবে তবেই না ওর স্বস্তি। চারটার ট্রেন গেল রাস্তা দিয়ে কত লোকজন যাচ্ছে। কিন্তু সেখানে তার বাবার কোনো খোঁজ নেই। ট্রেন আসার শব্দ শুনেই ও বাসার গেটের সামনে এসে দাঁড়ায়। ঝিলের পাশে বড় একটা বট গাছ। বটগাছের কাছেই ট্রেনের গুদাম ঘর। গুদাম ঘরের পাশ দিয়ে রাস্তাটি নেমে এসেছে দীপাদের বাসার দিকে। চারটা রাস্তার মিলনস্থল হলো দীপাদের বাসাটা। সবকিছু বাসার সামনে থেকে দৃষ্টিগোচর হয়। বাবা ট্রেনে করে যখন তার কর্মস্থলে যায় তখন ট্রেন থেকে হাত নাড়লেও দীপা দেখতে পায়। একটু পরেই পাঁচটার ট্রেন আসবে। দীপা তাই অপেক্ষায় আছে। হয়তো বাবা ঐ ট্রেনটাতেই আসবে। কিন্তু না বাবা এই ট্রেনেও আসেনি। রাস্তার সরগরম ভাব কেটে আস্তে আস্তে নীরবতা নেমে এসেছে। এর পরের ট্রেন আসবে রাত আটটায়। দীপা অপেক্ষায় আছে। মায়ের কাছে জানতে চাইল বাবা আসছে না কেন? মা উত্তরে জানালেন আগামীকাল ঈদ তাই ভীরের জন্য ট্রেন লেট করে আসছে। দীপা একটুখানি সান্ত্বনা পেল। প্রহর গুণতে থাকলো দীপা। এক সময় ট্রেন আসলো। দীপা এবার বাসার গেট ছেড়ে একদম রাস্তার পাশে এসে দাঁড়িয়ে রইল। অনেক লোকজন রাস্তায়। দীপার চোখ বাবাকেই খুঁজছে। এক সময় দেখতে পেল দীপার বাবা চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা হাতে একটা ব্যাগ ঝুলিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আসছে। দীপা দৌড়ে বাবার কাছে চলে গেল। বাবা তাকে দেখে কোলে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। অনেক আদর করলেন। দীপার তখন কান্না পেল। বাবাকে অভিযোগের সুরে বললেন সবার জামা দেখা শেষ আর আমারটা? বাবা আদরের মেয়ের অনুযোগ/অভিযোগ বুঝে ফেললেন। বাবা তখন মেয়েকে আরো কাছে জড়িয়ে ধরে বললেনÑ আমরা এখনই যাব দর্জি বাড়ি। তুমিও আমার সাথে যাবে। দীপাকে কোলে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করলেন বাবা। হাতের ব্যাগটা রেখে মেয়েকে নিয়ে রওনা দিলেন দর্জি বাড়ির দিকে। যাই হোক, এক সময় জামা নেয়া হলো। মেয়ের সব বায়না মিটালেন বাবা। জামার সাথে মিল করে পুঁতির মালা, চুড়ি, লিপস্টিক, কাজল, জুতা, ক্লিপ অনেক কিছু কিনে নিলেন। মেয়ের মুখের হাসির চাইতে তার কাছে আর কোনো কিছুই দামী নয়। মেয়েকে বাবা অনেক ভালোবাসেন।দীপা বলল- বাবা আমি তোমার সাথে ঈদের মাঠে যাব। বাবা বললেন- ঠিক আছে, তাই হবে।গল্প করতে করতে একসময় বাসায় পৌঁছে গেলেন দু’জন। অনেক পরিকল্পনার মধ্যদিয়ে রাত কেটে গেল। সকাল বেলা বাপ-মেয়ে দু’জনেই ঈদের মাঠে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। মা রান্না করছে। বাবাই সব গুছিয়ে দিলেন মেয়ের। তারপর রওনা হলেন বিখ্যাত সোয়া লাইখ্যার মাঠের উদ্দেশ্যে। দীপাদের বাসা থেকে ট্রেন লাইন ধরে হাঁটলে খুব বেশি একটা দূর নয় মাঠ। আবার এতটা নিকটেও নয়। বাবা দীপার হাত ধরে হাঁটতে শুরু করলেন। “শম্ভুগঞ্জের ব্রিজ’’ এটার উপর দিয়ে ট্রেন চলে লোকজনও যাতায়াত করে। দীপার বাবা দীপাকে কোলে তুলে নিলেন। বাবা দীপাকে নিয়ে হাঁটছেন। দীপা বাবার কোল থেকে নিচের দিকে তাকালো। সবুজ পানি দেখা যাচ্ছে। দীপার ভয়ও হচ্ছে। যদি পড়ে যায়। এই ভেবে আবার যদি ট্রেন চলে আসে এই ভাবনাও আছে তার মনে। অবশেষে ব্রিজ পার হয়ে রাস্তায় নামলো তারা। এত ভিড় ফকির-মিসকিনের কোনো অভাব নেই। কালো বোরখা পড়ে মহিলারা রাস্তার পাশে লাইন ধরে বসে কুরআন শরিফ পড়ছেন। নামাজীরা সবাই তাদের টাকা দিচ্ছেন। কানা, খোঁড়া  ভিক্ষুক দেশ-দেশান্তর থেকে চলে আসে ট্রেনে করে এই মাঠে। দুটো ঈদেই এখানে দেশ-বিদেশ থেকে যেমন মানুষ ঈদের নামাজ পড়তে আসে তেমনি রোজগার করতেও আসে।  বাবার সাথে মাঠে পৌঁছে একপাশে নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন তারা। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তার আশেপাশে অনেক খোলা দোকানের মতো দেখা যাচ্ছে। দীপা মনোযোগ দিলেন সেই দিকে। চুড়ি, ফিতা, আংটি, চড়কি, মাটির হাঁড়িপাতিলসহ রকমারি সব জিনিসের পসরা বসিয়ে দোকানিরা যার যা প্রয়োজন বা ইচ্ছে তাই কিনছে। এক সময় বাবা দীপাকে একটা টুপি দেখিয়ে বললেন নিবে কি না। দীপা মাথা কাত করে  সম্মতি জানালো। বাবা কাগজের রঙিন টুপিটা কিনে দীপার মাথায় পড়িয়ে দিলেন। তার পর হাঁটতে শুরু করলেন। এক সময় ব্রিজের কাছে চলে আসলেন। বাবা দীপাকে কোলে তুলে নিলেন। দীপা আজ খুব খুশি বাবার সাথে তার খুব ভালো লাগছে। বাবা সব সময়ই দীপার ইচ্ছেগুলো পূরণ করে। হঠাৎ এক ঝটকা বাতাসে দীপার মাথার টুপিটা উড়ে চলে গেল। দীপা দেখছে লাল সবুজের দাগ টানা কাগজের টুপিটা উড়তে উড়তে এক সময় নদীর পানিতে পড়ে ভাসতে লাগলো। দীপার মুখে কোনো কথা সরছে না। বাবা তখন দীপাকে বললেন। আবার একটা চুপি কিনে দিবেন। কিন্তু  সত্যিকার অর্থে সেই কাগজের রঙিন টুপি বাবা তাকে কিনে দেয়নি। আর দীপা এখনও সেই কাগজের রঙিন টুপির কথা ভুলতে পারেনি। দীপা ভুলতে চায় না সেই স্মৃতি। ঈদ আসে, ঈদ চলে যায়। ঈদ হাসতে শেখায়, ভালোবাসতে শেখায়, ত্যাগের মহিমা শেখায়।

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com