সংবাদ শিরোনামঃ

জাতীয় ঐক্য! ** ন্যায়ের পক্ষে তুরস্ক সাথে আছে মজলুমের দোয়া : জাতির উদ্দেশ্যে এরদোগান ** সন্ত্রাস ও হতাশাগ্রস্ত যুব সমাজ ** জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল ** জঙ্গিবাদী কার্ড ও ক্ষমতাসীনদের রাজত্বের মেয়াদ ** সুন্দরবন বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ চায় জনগণ ** দলীয় সরকারের অধীনেই আগাম নির্বাচন! ** যারা জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত তারা ইসলাম ও মানবতার দুশমন ** টার্গেট না থাকায় কর্মসূচিতে স্থবিরতা ** পার্শ্ববর্তী দেশ পানি দিলে আমাদের নদীগুলো ভেসে যায়, না দিলে শুকিয়ে যায় ** জঙ্গিবাদ : মুসলমানরা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার ** দল মত নির্বিশেষে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান ** বন্যায় ভাসছে দেশ, খবর নেই তেনাদের ** ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার ধর্ম ** আইবিসিএফ এর সভা ** বন্যায় ভাসছে শাহজাদপুর॥ পানিবন্দী লাখো মানুষের দুর্ভোগ ** কুষ্টিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কার্যক্রম ** হরিপুরে গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা ** সত্যের সৈনিক মুজাদ্দিদে আলফেসানী **

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৩, ১ জিলকদ ১৪৩৭, ৫ আগস্ট ২০১৬

অধ্যাপক আশরাফ জামান
শেখ আহমদ মুজাদ্দিদে আল ফেসানী (র.) ১৫৬৪ ঈসায়ী সালের ২৬ মে শুক্রবার ভারতের পূর্ব পাঞ্জাবের অন্তর্গত সারহিন্দ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম আবু আল বারাকাত বাদব আল-দীন। তিনি ইসলাম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) বংশধর। তাঁর পিতার নাম শেখ আব্দুল আহাদ।অল্প বয়সে শেখ আহাদ কুরআনে হাফেজ হন। তারপর বিখ্যাত আলিমের কাছে গিয়ে কুরআনের তাফসীর, হাদীসসহ ইসলামী জ্ঞান অর্জন করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি অধ্যাপনা শুরু করেন। দীর্ঘ সময় আগ্রা শহরে বসবাস করেন। বাদশাহ আকবরের সভাসদ ফৈজী ও আবু আল ফাদল এর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। কিন্তু দরবারে ইসলাম বিরোধী মনোভাবের পরিচয় পেয়ে শেখ আহমদ তাদের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেন।আগ্রা থেকে জন্মস্থান সারাহিন্দো ফিরে তিনি পিতার কাছে সূফীবাদে দীক্ষা নেন।বাদশাহ আকবর দীনই ইলাহী নামে দরবারে এক নতুন ধর্মের প্রবর্তন করেন। যা ইসলাম বিরোধী। এছাড়া রাজ্যে ইসলামের আকিদা ও বিশ্বাসকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে নানা জাতীয় আইন-কানুন প্রবর্তন করেন। এমনকি আকবরের দীনই ইলাহীর প্রতি মুসলমান সমাজের কিছু লোকও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।শেখ আহমদ (র.) আকবরের ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ ও প্রবর্তিত নতুন ধর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। তাঁর সঙ্গে অনেক মুরীদও এসে যোগ দেন। ফলে মুসলিম সমাজে এক নতুন চেতনার উদ্ভব হয়। বাদশাহ আকবর তার নতুন ধর্মপ্রচারে বাধাগ্রস্ত হন।বাদশাহ আকবরের মৃত্যুর পর তার পুত্র জাহাঙ্গীর সিংহাসনে বসেন। পিতার প্রবর্তিত ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ তার শাসনামলেও অব্যাহত ছিল। তাঁর দরবারে বাদশাহকে সিজদা  করার প্রচলন ছিল। শেখ আহমদ এই শেরেকী প্রথা বন্ধ করার জন্য রাজপুরুষ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রচার শুরু করলে তাঁর ডাকে অনেক সিপাই ও রাজপুরুষ আকৃষ্ট হলেন।বাদশাহ জাহাঙ্গীর প্রধান উজীর আসাফ খানের প্ররোচণায় শেখ আহমদকে দরবারে ডেকে আনলেন। দরবারে প্রবেশ করে শেখ আহমদ প্রথা অনুসারে বাদশাহকে সিজদা করতে অস্বীকার করলেন। অমাত্যবর্গের কথার উত্তরে তিনি জবাব দিলেন, “এই মস্তক আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছে নত হবে না।”বাদশাহ জাহাঙ্গীর একথা শুনে ক্ষেপে গিয়ে স্বয়ং আদেশ দিলেন সিজদা করার জন্য। কিন্তু তাতেও নির্ভীক কণ্ঠে তিনি উত্তরে একই জবাব দিলেন। বাদশাহ ক্ষীপ্ত হয়ে শেখ আহমদকে গোয়ালিয়া দুর্গে বন্দী করে রাখলেন।শেখ আহমেদের বন্দী হবার খবর পেয়ে কাবুলের শাসনকর্তা মহাব্বত খান সৈন্যসামন্ত নিয়ে রাজধানী আক্রমণ করতে চাইলেন। কিন্তু এ খবর পাবার পর পত্র দ্বারা তাদের নিরস্ত্র করলেন শেখ আহমদ।শেখ আহমদের জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পেতে থাকলো। তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তা আল্লাহর প্রতি ঐকান্তিকতা, অকুণ্ঠ আত্মত্যাগ তাঁকে মহান পুরুষ হিসেবে খ্যাতি এনে দিল। তাঁকে মুজাদ্দিদ বা ধর্ম সংস্কারক এর আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়। এজন্য তিনি মুজাদ্দিদে আল ফেসানী হিসেবে সর্বত্র পরিচিত হন।কথিত আছে, একদিন আকস্মিকভাবে সম্রাট জাহাঙ্গীর সিংহাসন থেকে মাটিতে পড়ে যান। এতে ভীত ও পীড়িত হয়ে পড়লেন। কবিরাজের ঔষধপথ্য সকল কিছু ব্যর্থ হলো। তখন মনে তার ভয় জাগলো, মুজাদ্দিদের প্রতি অবিচার জুলুম করার জন্য। তখন তিনি মুজাদ্দিদকে মুক্তিদান করেন, তাঁকে সসম্মানে দিল্লিতে আনা হলো। শাহজাদা শাহজাহান ও আজম আসফ খান রাজধানীর তোরনে এসে তাঁকে অভ্যর্থনা করে নিয়ে গেলেন। রাজপ্রাসাদে গিয়ে প্রথম তিনি বাদশাহকে তাওবা করালেন। তারপর আল্লাহতায়ালার দরবারে দোয়া করলেন। অচিরেই বাদশাহ আরোগ্য লাভ করলেন।শেখ আহমদের ইচ্ছানুসারে রাজ দরবারে সিজদাপ্রথা বাতিল করা হলো। মুসলমানদের জন্য মসজিদ, মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হলো। ধর্মীয় বিধিনিষেধ বাতিল করা হলো যা ছিল ইসলাম বিরোধী। দরবার সংলগ্ন একটি সুন্দর মসজিদ নির্মাণ করা হলো। বাদশাহ ও তার মুসলিম অমাত্যবর্গ মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়া শুরু করলেন। মুজাদ্দিদের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্রাট রাজ্যে নানাবিধ ইসলামী রীতিনীতি প্রচলন করলেন। ১৬২৪ ঈসায়ী সালের ৩০ নভেম্বর সারহিন্দে শতাব্দীর অগ্নি পুরুষ ইসলামী চিন্তাবিদ ও দার্শনিক মুজাদ্দিদে আল ফেসানী ইন্তিকাল করেন।

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com